📄 নবিজির ওপর মুশরিকদের আক্রমণ ও নবিপ্রয়াণের গুজব
সেনাদলের পেছনে সাত জন আনসার ও দু'জন মুহাজিরের পাহারা-বেষ্টনীতে অবস্থান করছিলেন আল্লাহর রাসূল ﷺ। সেখান থেকে স্পষ্ট দেখতে পান খালিদ ও তার অশ্বারোহী বাহিনীর আক্রমণ। নবিজি তারস্বরে ডেকে ওঠেন, “আল্লাহর বান্দারা! আমার দিকে এসো!” শব্দ শুনে গলার আওয়াজ চিনে ফেলে কাছেপিঠে থাকা মুশরিকরা। সাহায্য চলে আসার আগেই তাঁকে হত্যা করার নেশায় আওয়াজ অনুসরণ করে ছুটে আসে কিছু শত্রু। এ দৃশ্য দেখে নবি ঘোষণা দেন, “কে আছে যে তাদের আমাদের থেকে দূরে সরাবে? তার প্রাপ্য হবে জান্নাত অথবা (বলেছেন,) সে জান্নাতে আমার ঘনিষ্ঠতম সহচর হবে।”
বারকয়েক এই ঘোষণা দেন তিনি। একের পর এক ছুটে আসতে থাকেন আনসাররা। আপন জীবন কুরবানি করে নবিজি ﷺ -কে রক্ষা করেন সবাই। এভাবে একে একে সাত জন আনসার শহীদ হন।
সপ্তম আনসারির শাহাদাতের পর নবিজির কাছে থেকে যান শুধু দুই মুহাজির তালহা ইবনু উবাইদিল্লাহ ও সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)।
এবার নবিজি ﷺ -এর দিকে মুশরিকরা পূর্ণ মনোযোগ দেয়। উড়ে আসা একটি পাথরখণ্ডের আঘাতে মাটিতে পড়ে যান নবিজি। ডান দিকের নিচের পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায়, কেটে যায় নিচের ঠোঁট, আর শিরস্ত্রাণ ভেঙে গিয়ে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে কপাল আর মাথা। আরেক মুশরিক তরবারির আঘাত হানে নবিজি ﷺ -এর চোখের ঠিক নিচের হাড়ে। শিরস্ত্রাণ ছিদ্র হয়ে এর দুটো রিং ঢুকে যায় রাসূলের চেহারায়। আরেকজন তাঁর কাধে এত জোরে আঘাত করে যে, পরে এক মাস পর্যন্ত প্রচণ্ড ব্যথা রয়ে যায়। তবে নবিজি গায়ে দুটি লৌহবর্ম পরিধান করেছিলেন। এই কারণে সেটা কাটতে সে সক্ষম হয়নি।
ওদিকে নবিজি ﷺ -এর প্রতিরক্ষায় মুশরিকদের দিকে মুহুর্মুহু তির ছুড়ছেন সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রদিয়াল্লাহু আনহু)। নিজের তৃণীর থেকে একটি একটি তির তার হাতে দিতে দিতে নবি বলেন, “ছুঁড়তে থাকো। আমার মা-বাবা তোমার প্রতি কুরবান হোক।”
আর তালহা ইবনু উবাইদিল্লাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু) তো গোটা শত্রুক্রদলের বিরুদ্ধে এমনভাবে লড়ছেন, যেন তিনি একাই একটি যুদ্ধবাহিনী। যুদ্ধশেষে তার শরীরে ৩৫ থেকে ৩৯টির মতো ক্ষত পাওয়া যায়। নবিজির দিকে তেড়ে আসা শত্রুদের তির-তরবারিকে হাত দিয়ে বাধা দিতে থাকেন তিনি। একসময় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হতে হতে অবশ হয়ে আসে আঙুলগুলো। একবার একটি তির হাতে লাগায় 'হিস' জাতীয় একধরনের শব্দ করে ওঠেন। নবি সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “যদি এ জায়গায় বিসমিল্লাহ বলতে, তাহলে ফেরেশতারা তোমাকে ওপরে উঠাত এবং মানুষজন তোমাকে দেখতে পেত।”
মানবপ্রচেষ্টা যখন আর পেরে উঠছিল না, আল্লাহ তাআলা তখন তাঁর নবির সুরক্ষার্থে অলৌকিক সাহায্য পাঠান। জিবরীল এবং মিকাইল (আলাইহিমাস সালাম) নেমে এসে নবিজির হয়ে লড়াই শুরু করেন। সুযোগ পেয়ে আরও কয়েকজন সাহাবি এগিয়ে এসে জান বাজি রেখে প্রতিরক্ষায় যোগ দেন। সবার আগে আসেন আবূ বকর, আর তার সাথে আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)। আবূ বকর দেখেন যে, নবিজির মুখমণ্ডলে শিরস্ত্রাণের রিং গেঁথে আছে। ফলে তিনি সেগুলো বের করতে চাইছিলেন কিন্তু আবু উবাইদা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পীড়াপীড়ির কারণে তাকে সুযোগ করে দেন। সুযোগ পেয়ে দাঁত দিয়ে টেনে ধাতব রিংগুলো বের করে আনেন আবূ উবায়দা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এতে তাঁর সামনের দুটি দাঁত উপড়ে যায়। তারপর দু'জনে ছুটে যান মারাত্মকভাবে জখম হওয়া তালহা ইবনু উবাইদিল্লাহর সাহায্যে।
মিত্র আর শত্রুরা সমান তালে ছুটে আসতে থাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর অবস্থান লক্ষ্য করে। স্বভাবতই তিনি তখন পুরো যুদ্ধের কেন্দ্রস্থলে। মানবঢাল হয়ে নবিজিকে সুরক্ষা দেন আবূ দুজানা, মুসআব ইবনু উমাইর, উমর ইবনুল খাত্তাব, আলি ইবনু আবী তালিব ও অন্যান্য সাহাবিগণ। রদিয়াল্লাহু আনহুম। একটু একটু করে একেবারে কাছে চলে আসা মুশরিকবাহিনীকে ঠেকিয়ে দিতে সর্বপ্রকার প্রচেষ্টা করেন সাহাবিরা। কেউ তির ছুড়ছেন, কেউ হচ্ছেন মানবঢাল, কেউ তরবারি চালাচ্ছেন, আর কেউ হাত দিয়ে ঠেকাচ্ছেন শত্রুদের তির।
মুসলিমদের পতাকাবাহী মুসআব ইবনু উমাইর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিশানা বানায় মুশরিকরা। অসংখ্য তরবারির আঘাতে একসময় তার ডান হাত দেহ থেকে বিছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন পতাকাটি বাম হাতে নিয়ে নেন মুসআব। শত্রুরা একসময় তার বাম হাতটিও কেটে ফেলতে সক্ষম হয়। তারপরও হাঁটুতে আঁকড়ে বুক আর গলার সাথে ঠেস দিয়ে পতাকা তুলে রাখেন তিনি। অবশেষে সে অবস্থাতেই আবদুল্লাহ ইবনু কামিআর তরবারির আঘাতে তিনি শহীদ হয়ে যান। নবিজি ﷺ আর মুসআব (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেহারায় ছিল দারুণ মিল। আবদুল্লাহ ইবনু কামিআ খুশিতে চেঁচিয়ে উঠে বলে যে, সে মুহাম্মাদ ﷺ -কে মেরে ফেলেছে। পৌত্তলিক বাহিনীতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গুজবটি। মুসলিমদের জন্য এটি অনেকটা শাপে বর হয়ে দাঁড়ায়। আচমকা এই সুসংবাদ শুনে স্বস্তির সুবাতাস বয়ে যায় মুশরিক শিবিরে। ফলে আক্রমণের চাপও কমিয়ে ফেলে তারা। কারণ, তাদের ধারণায় তাদের আসল উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।
টিকাঃ
৩০৭. মুসলিম, ১৭৮৯।
৩০৮. বুখারি, ৩৭২২, ৩৭২৩।
৩০৯. বুখারি, ৪০৭৫।
৩১০. বুখারি, ৪০৫৫। এটি আরবি ভাষায় অন্তরঙ্গতার গভীরতা প্রকাশের একধরনের বাচনভঙ্গি। (অনুবাদক)
৩১১. বুখারি, ৩৮১১, নাসাঈ, ৩১৫১।
৩১২. বুখারি, ৪০৫৪; মুসলিম, ২৩০৬।
৩১৩. যাদুল মাআদ, ৩/১৯৭।
৩১৪. ইবনু হিশাম, ২/৮০-৮৩; যাদুল মাআদ, ২/৯৭।
📄 মুসলিমদের মাঝে বিশৃঙ্খলা
চারদিক থেকে ঘেরাও হতে দেখে মুসলিমদের মূল বাহিনীতে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ দক্ষিণ দিকে পালিয়ে একদম মদীনা পৌঁছে যায়। কেউ পর্বতগিরির দিকে গিয়ে আশ্রয় নেয় তাঁবুতে। আর কয়েকজন যে নবিজির প্রতিরক্ষায় দৌড়ে আসেন, তা তো আগেই বলা হয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে কোনোকিছুই যেন সুচারু পরিকল্পনামাফিক হচ্ছিল না। বেশির ভাগ সেনা অবিচল থেকে লড়াই চালিয়ে গেলেও সাংগঠনিকতার অভাবে তেমন কোনও লাভ হচ্ছিল না। বিশৃঙ্খলা এমনই পর্যায়ে পৌঁছে গেল যে, নিজ দলের লোকদের চিনতে না পেরে নিজেদেরই আঘাত করতে থাকে মুসলিমরা। হুযাইফা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাবা ইয়ামান (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিহত হন মুসলিমদের হাতেই। নবিজি ﷺ -এর মৃত্যুসংবাদ কানে আসার পর তো যুদ্ধের ইচ্ছে যতটুকু ছিল, তাও উবে যায়। কেউ কেউ হাল ছেড়ে দিয়ে ময়দান থেকে চলে যান। তবে কারও প্রত্যয় আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। ঘোষণা দেন, “নবিজি যেটার জন্য প্রাণ দিলেন, চলো আমরাও সেটার জন্য জান বাজি রাখি।”
এই অবস্থাতেই হঠাৎ কা'ব ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু) নবিজি ﷺ -কে একঝলক দেখতে পান। শিরস্ত্রাণে চেহারা ঢাকা থাকলেও চোখ দেখে নবিজিকে চিনতে পারেন তিনি। চিৎকার করে বলেন, “মুসলিমরা, সুসংবাদ! এই তো নবিজি! উনি বেঁচে আছেন!"
এই খবরে মুসলিমদের মনোবল ফিরে আসে। দলে দলে সবাই ছুটে আসেন রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর দিকে। অল্পক্ষণের মাঝেই ত্রিশ জনের একটি দল আল্লাহর রাসূলের সঙ্গী হয়। নবি ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেন যুদ্ধে ক্ষান্ত দেওয়ার। সেনাসারির মধ্য দিয়ে পুরো বাহিনীকে তিনি সফলভাবে পর্বতগিরির কাছে নিয়ে আসেন। পৌত্তলিকরা বাধা দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো দু'জন সৈনিক হারায়।
পিছু হটে আসাটা মুসলিমদের জন্য লাভজনক প্রমাণিত হয়। এমনিতেই নবিজি ﷺ -এর একটি নির্দেশ অমান্য করে আজকের যুদ্ধে এই দুর্দশা। নিশ্চিত বিজয় ঘুরে গিয়ে উল্টো নিজেরাই গণহারে মারা পড়ার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু নবি তাঁর সেনাদলকে পিছু হটিয়ে এনে দক্ষ হাতে সে বিপর্যয় সামাল দেন।
টিকাঃ
৩১৫. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ২/৪৮৯।
📄 পর্বতগিরিতে আশ্রয়
অবরুদ্ধ দশা থেকে বেরিয়ে এসে মুসলিমরা গিরিখাতের নিরাপদতর আশ্রয়ে জড়ো হন। এরপর খানিকক্ষণ মুসলিম ও পৌত্তলিকদের মাঝে কিছু ছোটখাটো দাঙ্গা চলে। মুশরিকরা বড় আকারের হামলার চিন্তা বাদ দিয়ে এ-রকম ছোট ছোট আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকে যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করে নিহত মুসলিমদের খুঁজে খুঁজে তাদের লাশ বিকৃত করতে থাকে। তাদের কান, নাক, লজ্জাস্থান কেটে দেয় এবং পেট ফুটো করে ফেলে। হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর তরবারিতে আত্মীয় হারানোর শোকে উন্মাদ হয়ে ছিল আবূ সুফইয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতু উতবা। হামযার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে সে এক জঘন্য কাজ করে। তার পেট চিরে কলিজা বের করে এনে চিবুতে শুরু করে। তবে গিলতে না পেরে পরে ফেলে দেয়। সে হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নাক, কান ইত্যাদি কেটে কানের দুল ও পায়ের নুপুর বানিয়েছিল।
উবাই ইবনু খালাফ শেষ একটি চেষ্টা করে রাসূল ﷺ-কে হত্যা করার। কিন্তু তা করতে গিয়ে উল্টো নিজেই পটল তোলে। নবি ﷺ একটি বল্লম ছুড়ে মেরে তাকে ঘোড়ার পিঠ থেকে ফেলে দেন। বাহনের পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে ষাঁড়ের মতো হাঁক বেরিয়ে আসে তার মুখ দিয়ে। মক্কায় ফেরার সময় 'সারিফ' নামক স্থানে সে মারা যায়।
আবূ সুফইয়ান ও খালিদ ইবনুল ওয়ালীদের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কুরাইশি সেনা আক্রমণে আসে। বিভিন্ন দিক থেকে পাহাড়ে চড়ে মুসলিমদের পরাভূত করার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু কয়েকজন মুহাজিরকে সাথে নিয়ে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের পাল্টা আক্রমণ করে নেমে যেতে বাধ্য করেন। সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর তিরের আঘাতে সে সময় তিন মুশরিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও কিছু সূত্র থেকে জানা যায়।
শেষ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আবূ সুইয়ান ও খালিদ সিদ্ধান্ত নেন যে, এবার বাড়ি ফেরার পালা। নিজেদের বাইশ জন হারালেও শত্রুর যতটুকু ক্ষতি করা গেছে, তাতে খুশি হওয়ারই কথা। মুসলিমদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে সত্তরটি। একচল্লিশ জন শহীদ খাযরাজ গোত্রের, চব্বিশ জন আওসের, আর চার জন মুহাজির। মুসলিমদের পক্ষে যুদ্ধ করা একজন ইয়াহুদিও নিহত হন এ যুদ্ধে।
মুসলিম শিবিরে এখন বিশ্রাম নেওয়ার পালা। উহুদ অঞ্চলে ‘মিহরাস' নামক একটি জলাধার ছিল। নবিজি ﷺ বিশ্রাম নিতে বসলে আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেখান থেকে পানি নিয়ে আসেন। তবে পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় নবিজি তা পান করেননি। শুধু মুখ ধুয়ে বাকি পানিটুকু মাথায় ঢালেন। যাতে যন্ত্রণা কিছুটা লাঘব হয়। কিন্তু এতে তাঁর ক্ষতস্থান থেকে আবারও রক্তপাত শুরু হয়। কোনোভাবেই তা বন্ধ হয় না। অবশেষে ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা) চাটাইয়ের একটি টুকরা পুড়িয়ে ছাই দিয়ে ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করে দেন। ফলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহু) পরিষ্কার পানির সন্ধান পেয়ে তা নিয়ে আসেন, যা পান করে নবি তৃপ্তি লাভ করেন। আঘাতের কারণে সে বেলা বসেই যুহরের সালাত আদায় করেন আল্লাহর রাসূল । সাহাবিগণও নবিজির অনুসরণে বসেই জামাআতে শরীক হন।
সে সময় মদীনা থেকে কয়েকজন নারী সাহাবি এসে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে ছিল আয়িশা, উম্মু সুলাইম এবং উম্মু সুলাইত (রদিয়াল্লাহু আনহুন্না)। তারা আহত সৈনিকদের শুশ্রূষা করতে থাকেন। চামড়ার পাত্রে করে আহতদের কাছে পরিষ্কার পানি এনে পান করান।
টিকাঃ
৩১৬. ইবনু হিশাম, ২/৯০।
৩১৭. হাকিম, আল-মুসতাদরাক, ২/৩২৭।
৩১৮. ইবনু হিশাম, ২/৮৬।
৩১৯. যাদুল মাআদ, ২/৯৫।
৩২০. এক বর্ণনামতে, ৩৭জন।
৩২১. ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, ৭/৩৫১; ইবনু হিশাম, ২/১২২-১২৯।
৩২২. বুখারি, ৩০৩৭; ইবনু হিশাম, ২/৮৫-৮৭।
৩২৩. বুখারি, ২৮৮১; নূরুদ দীন হালাবি, আস-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ২/২২।
📄 বাগ্বিতণ্ডা ও যুদ্ধের প্রতিশ্রুতি
উভয়পক্ষই রণে ক্ষান্ত দেওয়ার মানসিকতায় আছে। পৌত্তলিকরা মক্কায় ফিরে যাওয়ার বন্দোবস্ত শেষ করলে আবূ সুফইয়ান উহুদ পাহাড়ে উঠে চিৎকার করেন, “তোমাদের মাঝে কি মুহাম্মাদ আছে?” নবি কোনও শব্দ করতে নিষেধ করায় মুসলিমদের পক্ষ থেকে কেউ কোনও জবাব দেয়নি। আবূ সুফইয়ান আবার চিৎকার দেন, “তোমাদের মাঝে কি আবূ কুহাফার পুত্র আবূ বকর আছে?” আবারও নীরবতা। তৃতীয়বার আবূ সুফইয়ানের চিৎকার, “তোমাদের মাঝে কি উমর ইবনুল খাত্তাব আছে?” এবারও কোনও সাড়াশব্দ নেই।
নীরবতায় উৎফুল্ল হয়ে আবূ সুফইয়ান ডেকে উঠেন, “আচ্ছা, চলো! ওই তিনটা থেকে অবশেষে মুক্তি পাওয়া গেছে।” উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) এবার আর চুপ থাকতে পারলেন না। গর্জে উঠলেন, "ওরে আল্লাহর শত্রু! যাদের নাম ধরে ডেকেছ, সবাই জীবিত আছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের কপালে আরও বেইজ্জতি রেখেছেন, অপেক্ষায় থাকো।”
আবূ সুফইয়ান বললেন, "তোমাদের মুর্দাদের নাক-কান কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে আমি এটার নির্দেশ দিইনি আবার মানাও করিনি।”
তারপর উঁচু স্বরে বলে উঠলেন, “হুবালের জয় হোক!”
রাসূল ﷺ -এর নির্দেশে সাহাবিরা ঘোষণা দিলেন, “আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে বড় ও মহান।"
“আমাদের সাথে উযযা মা আছেন, তোমাদের কেউ নেই!” আবূ সুফইয়ানের চিৎকার।
সাহাবিদের জবাব, "আল্লাহ আমাদের মাওলা, তোমাদের কোনও মাওলা নেই!"
“আজ দারুণ জেতা জিতেছি! এটা বদরের প্রতিশোধ। যুদ্ধ তো (কূপের) বালতির ন্যায়। একবার এর হাতে, একবার ওর হাতে।"
উমরের প্রত্যুত্তর, “এটা সমান সমান না! আমাদের মৃতরা আছে জান্নাতে, আর তোমাদের মৃতরা জাহান্নামে।”
উমরের জবাবে আবূ সুফইয়ান একটু দমে যান, পরে বলেন, “তোমরা তো এমনটাই বিশ্বাস করো। তবে বাস্তবে এমনটা হলে সত্যিই আমরা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত।” একটু পর বলেন, “উমর, আমি আল্লাহর নামে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি। সত্যি করে বলো তো, আমরা কি মুহাম্মাদকে খতম করতে পেরেছি?”
“আল্লাহর কসম! পারোনি। তোমার সব কথা নবিজি আমাদের পাশে বসেই শুনছেন।”
“ঠিক আছে। ইবনু কামিআর চেয়ে আমি তোমাকেই বেশি সত্যবাদী বলে জানি।”
তারপর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “তাহলে আগামী বছর বদরে আবার যুদ্ধের প্রতিশ্রুতি রইল।”
নবিজি ﷺ -এর অনুমোদনক্রমে এক সাহাবি জবাব দেন, "ঠিক আছে। এই সিদ্ধান্তই আমাদের এবং তোমাদের মাঝে পাকাপোক্ত হয়ে থাকল।”
টিকাঃ
৩২৪. বুখারি, ৩০৩৯; যাদুল মাআদ, ২/৯৪; ইবনু হিশাম, ২/৯৩-৯৪।
৩২৫. ইবনু হিশাম, ২/৯৪।