📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 বন্দিদলের মুক্তিপণ

📄 বন্দিদলের মুক্তিপণ


মদীনায় পৌঁছে নবি পরামর্শসভা বসালেন বন্দিদের কী করা যায়, সে ব্যাপারে। আবু বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতে কুরাইশদের থেকে মুক্তিপণ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া উচিত। আর উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। নবি প্রথম মতটির অনুমোদন দেন। একেকজনের ক্ষেত্রে এক থেকে চার হাজার দীনার পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যারা টাকা পরিশোধে অক্ষম তবে লেখাপড়াতে সক্ষম, তাদের প্রত্যেককে দায়িত্ব দেওয়া হয় দশ জন করে মুসলিম শিশুকে লেখাপড়া শেখাতে। যারা দুটোর একটাও করতে অক্ষম, তাদের এমনিই ছেড়ে দেওয়া হয়।

যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বঘটনা ছিল নবিজি ﷺ -এর জামাতা আবুল আসের বন্দিত্ব ও মুক্তি। আবুল আসের স্ত্রী নবি-তনয়া যাইনাব (রদিয়ালাহু আনহা) তখনো মক্কায়। স্বামীর জন্য মুক্তিপণ হিসেবে তিনি একটি গলার হার পাঠান। নবিজি হারটি দেখামাত্র চিনতে পারেন। প্রয়াত খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর এই হারটি তিনি নিজেই মেয়ের বিয়েতে উপহার দিয়েছিলেন। প্রিয়তমার স্মৃতি মনে পড়ে রাসূলুল্লাহর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। বিনা মুক্তিপণে আবুল আসকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন তিনি। সাহাবিগণ সে নির্দেশ পালন করেন। তবে শর্ত হলো যাইনাবকে মদীনায় হিজরত করতে দিতে হবে। সে মক্কায় ফিরে যাওয়ার পর যাইনাব (রদিয়াল্লাহু আনহা) মদীনা চলে আসার অনুমতি পান।

টিকাঃ
২৯৪. ইবনুল জাওযি, তারীখু উমর, ৩৬।
২৯৫. আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৬/২৭৬; আবু দাউদ, ২৬৯২।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 দুই প্রদীপের ধারক

📄 দুই প্রদীপের ধারক


নবি যখন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে মদীনা ত্যাগ করছেন, সে সময় আরেক নবি-তনয়া এবং উসমান (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী রুকাইয়া (রদিয়াল্লাহু আনহা) খুবই অসুস্থ। উসমানকে মদীনায় থেকে স্ত্রীর দেখাশোনা করতে বলেন আল্লাহর রাসূল ﷺ। সেই সাথে প্রতিশ্রুতি দেন যে, মদীনায় থাকলেও তিনি যুদ্ধে যাওয়ার সাওয়াব এবং গনীমাতের ভাগ উভয়ই পাবেন।

উসামা ইবনু যাইদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কেও একই কারণে মদীনায় থেকে যেতে বলা হয়। কিন্তু নবিজি যুদ্ধ থেকে ফেরার আগেই রুকাইয়া (রদিয়াল্লাহু আনহু) ইন্তিকাল করেন। উসামা ইবনু যাইদ বলেন, “আমরা যখন বিজয়ের খবর পেয়েছি, ততক্ষণে রুকাইয়ার দাফন-কাফন শেষ।”

বিপত্নীক উসমানের সাথে এরপর নিজের আরেক মেয়ে উম্মু কুলসূম (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বিয়ে দেন রাসূল ﷺ। নবিজির দুই মেয়েকে পরপর বিয়ে করায় উসমানের উপাধি হয় যুন-নূরাইন (দুই আলোর অধিকারী)। নবম হিজরি সনের শা'বান মাসে উসমানের স্ত্রী থাকা অবস্থায়ই উম্মু কুলসূম (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মৃত্যু হয়। মাসজিদে নববির কাছে 'বাকী' নামক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

টিকাঃ
২৯৬. বুখারি, ৩৬৯৯।
২৯৭. ইবনু হিশাম, ২/৬৪৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00