📄 বারো নেতা
সকলের বাইআত গ্রহণ শেষে নবি বারো জন নেতা নির্ধারণ করতে বলেন সবাইকে। এরা এই মুসলিম সমাজের সার্বিক বিষয়-আশয় দেখাশোনা করবেন। খাযরাজ থেকে নয় জন এবং আওস গোত্র থেকে তিন জন নির্বাচিত হন।
খাযরাজ নেতৃবৃন্দ হলেন: সা'দ ইবনু উবাদা, বারা ইবনু মা'রূর, আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আসআদ ইবনু যুরারা, উবাদা ইবনুস সামিত, রাফি' ইবনু মালিক, মুনযির ইবনু আমর, সা'দ ইবনু রবীআ।
আর আওস নেতৃবর্গ: উসাইদ ইবনু হুদাইর, সা'দ ইবনু খাইসামা এবং রিফাআ ইবনু আবদিল মুনযির।[২২৮] রদিয়াল্লহু আনহুম আজমাঈন।
এই বারো জনকে রাসূল ﷺ বলেন, “ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর হাওয়ারিগণের মতো তোমরা তোমাদের সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল, আর আমি আমার সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল।” তখন সবাই বললেন, 'হ্যাঁ, আবশ্যই।'[২২৯]
সমাবেশ সাঙ্গ হচ্ছে, এমন সময় কোথা থেকে যেন একটি কণ্ঠ ডেকে উঠল, “এই যে তাঁবুবাসীরা, তোমরা এখনও এই মুহাম্মাদ লোকটার একটা ব্যবস্থা করছ না কেন? বদদ্বীনি ছড়িয়ে পড়ছে। সে আর তার অনুসারীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে তোমাদের সাথে লড়াই করার।” নবিজি ﷺ-এর বুঝতে বাকি রইল না যে, এ এক জিন শয়তান। তিনি পাল্টা জবাব দিলেন, “ওরে আল্লাহর শত্রু, আমি তোর জন্য শীঘ্রই অবসর হচ্ছি।” তারপর মুসলিমদের বললেন তাড়াতাড়ি যার যার শয়নকক্ষে ফিরে যেতে। ভোরের আলো ফুটতে আর বেশি দেরি নেই।
পরদিন সকালে কুরাইশরা আকাবার সমাবেশের ব্যাপারে কিছু কানকথা জানতে পারল। ইয়াসরিববাসীদের তাঁবুর দিকে ছুটে গেল প্রতিবাদ জানাতে। তারা যাকে সমাজচ্যুত ভাবে, একদল বিদেশি এসে তাঁকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মতো স্পর্ধা তারা মেনে নিতে পারছে না। এদিকে ইয়াসরিবের মুশরিকরা তো সেই সমাবেশের ব্যাপারে কিছু জানেই না। তারা জোর গলায় বলতে লাগল যে, এ-রকম কোনও কিছুই ঘটেনি। আর মুসলিমরা একদম চুপটি করে থাকলেন। কুরাইশরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাদের ইয়াসরিবি দ্বীনি ভাইদের কথা মেনে নিয়ে নিরস্ত হলো।
পরে কুরাইশরা ঠিকই টের পেয়ে যায় যে, গুজবটি আসলেই সত্যি। ক্রুব্ধ হয়ে একদল ঘোড়সওয়ার পাঠিয়ে দেয় ওই বাইআতে অংশগ্রহণকারীদের ধরে আনতে। 'আযখির' নামক স্থানে এসে সা'দ ইবন উবাদা ও মুনযির ইবনু আমরকে ধরে ফেলে তারা। মুনযির পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সা'দকে বন্দি করে মক্কায় আনা হয়। ইয়াসরিববাসীরা মক্কা আক্রমণ করে তাদের মুসলিম ভাইটিকে ছাড়িয়ে আনার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু তার আর প্রয়োজন হয়নি। সা'দের মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন মক্কার দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি মুত'ইম ইবনু আদি এবং হারিস ইবনু হারব। কারণ, ইয়াসরিবে তাঁদের কাফেলাকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন সা'দ। মুক্তি পেয়ে তিনি বাকিদের সাথে মিলিত হন। নিরাপদে বাড়ি ফেরে সবাই। [২৩০]
টিকাঃ
[২২৮] কিছু সূত্রে আবুল হাইসাম ইবনুত তাইহানের নামও আছে।
[২২৯] ইবনু হিশাম, ২/৪৪-৪৪৬।
[২৩০] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/৪৪৭-৪৫০; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ২/৫১-৫২।