📄 আবূ যার গিফারি
এই ব্যক্তিটি সুওয়াইদ ও ইয়াসের মাধ্যমে নবিজি ﷺ-এর ব্যাপারে জানতে পারেন। কৌতূহলী আবূ যার তাঁর এক ভাইকে মক্কায় পাঠান নবিজি ﷺ-এর চরিত্র সম্পর্কে আরও তথ্য বের করতে। ভাই ফিরে এসে যে তথ্য দেন, তা আবূ যারের মনঃপূত হয় না। ফলে নিজেই রওনা হন মক্কায়। কিন্তু শহরে ঢুকে প্রাণভয়ে কাউকে তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার সাহস পেলেন না। কয়েকদিন পরে আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে নবিজির কাছে নিয়ে যান। সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মুখ থেকে শোনেন ইসলামের মূল বিষয়াদি। সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে নেন ইসলাম।
এবার আবূ যারের হৃদয় ঈমান ও সাহসে পরিপূর্ণ। সোজা কা'বায় চলে গিয়ে খোলাখুলি নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। কুরাইশরা এর জবাব দেয় তাঁকে মারধর করার মাধ্যমে। নবিজির চাচা আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) বহু কষ্টে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন। পরের দিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।[২১৪] এবারে আবূ যার তাঁর গোত্র বানু গিফারে ফিরে যান। মদিনায় হিজরত করার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকেন।
টিকাঃ
[২১৪] বুখারি, ৩৫২৪, ৩৮৬১; মুসলিম, ২৪৭৩, ২৪৭৪।
📄 তুফাইল ইবনু আমর দাউসি
ইয়েমেনের শহরতলিতে বাস করত দাউস গোত্র। এখানকার গোত্রনেতা তুফাইল একজন একজন প্রখ্যাত কবি। নুবুওয়াতের একাদশ বছরে মক্কায় এসে কুরাইশদের সতর্কবাণীর মুখোমুখি হন। এ শহরে নাকি এক লোক আছে, যে কথা দিয়ে সবাইকে জাদু করে ফেলে! কা'বায় যাওয়ার আগে সতর্কতাবশত তাই তিনি কানে তুলো গুঁজে নেন। গিয়ে দেখলেন অদূরেই নবি সালাত পড়ছেন। কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে তিনি নবিজির তিলাওয়াত শুনতে লাগলেন। ভাবলেন, “আমি কবি মানুষ। কান আমার বহুকালের দক্ষ। মানুষটি সত্য বলছেন নাকি মিথ্যা, তা আমি ঠিকই বুঝতে পারব। শুনেই দেখি না!”
তিলাওয়াত শুনে অভিভূত তুফাইল নবিজি ﷺ-এর পেছন পেছন তাঁর ঘর পর্যন্ত যান। অনুরোধ করেন ইসলামের ব্যাপারে আরও জানাতে। নবি বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে দিলে তুফাইল ইসলাম কবুল করে নেন। নবিজিকে জানান যে, গোত্রের লোকদের কাছে তার কথার ওজন আছে। তিনি গিয়ে মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতে পারবেন। শুধু নবিজি যেন তাকে কোনও একটি নিদর্শন দিয়ে দেন, যা দেখে মানুষ তার কথার সত্যতা বুঝতে পারবে। নবিজি দুআ করে দেন এ ব্যাপারে। তুফাইল যখন আপন এলাকায় ফিরলেন, তখন তাঁর চেহারা থেকে একধরনের আলো ঠিকরে বেরোতে থাকে। স্বগোত্রীয়রা তেমন কেউ তখনই ইসলাম গ্রহণে আগ্রহ দেখায়নি। তুফাইলের বাবা ও স্ত্রী শুধু তৎক্ষণাৎ মুসলিম হন। কিন্তু বছর কয়েকের মাঝে পুরো গোত্রের প্রায় সত্তর-আশিটি পরিবার ইসলাম গ্রহণ করে নেয় এবং তুফাইলের সাথে মদিনায় হিজরতও করে। [২১৫]
টিকাঃ
[২১৫] ইবনু হিশাম, ১/৩৮২-৩৮৫।
📄 দিমাদ আযদি
ইয়েমেনের আযদ শানওয়া গোত্রের এই ব্যক্তিটি একজন দক্ষ ওঝা। মক্কায় এসে গুজব শোনেন যে, মুহাম্মাদ নামের একটি লোক নাকি পাগল। নবিজি ﷺ-কে খুঁজে বের করে তাঁকে চিকিৎসা করার প্রস্তাব দেন। দাওয়াহর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নবি বলেন,
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ : أَمَّا بَعْدُ
“সব প্রশংসা আল্লাহর। তাঁরই মাহাত্ম্য ঘোষণা করি, সাহায্যও চাই তাঁরই কাছে। আল্লাহ যাকে পথ দেখান, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই, তিনি একক তাঁর কোনও শরিক নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহী।”
নবিজির বক্তব্যে দিমাদ এত মুগ্ধ হন যে, নিজে নিজে তার তিনবার পুনরাবৃত্তি করেন। তারপর বলেন, “জাদুকর, গণক, কবি সবার কথাই আমার শোনা হয়েছে। কিন্তু এ-রকম কোনও কথা আমি কস্মিনকালেও শুনিনি।” নবিজির বাড়িয়ে দেওয়া হাতে হাত রেখে তখনই তিনি আনুগত্য ও অনুসরণের শপথ নেন।[২১৬]
টিকাঃ
[২১৬] মুসলিম, ৮৬৮।