📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 সুওয়াইদ ইবনু সামিত

📄 সুওয়াইদ ইবনু সামিত


তৎকালীন ইয়াসরিব (বর্তমান মদীনা) শহরের কবি সুওয়াইদ মক্কায় এসেছিলেন হাজ্জ করতে। নবিজি প্রথম তাঁকে দাওয়াত দিলে তিনি স্বরচিত কিছু পঙ্ক্তি আবৃত্তি করে শোনান। জবাবে মুহাম্মাদ ﷺ শোনান কুরআনের কিছু আয়াত। “এমন মহিমান্বিত বাণী আমি জীবনেও শুনিনি!” এই স্বীকৃতি দিয়ে ইসলামে প্রবেশ করেন সুওয়াইদ ইবনু সামিত (রদিয়াল্লাহু আনহু)। ইয়াসরিবের দুই গোত্র আওস ও খাযরাজের মধ্যকার এক যুদ্ধে তিনি শহীদ হয়ে যান। [২১২]

টিকাঃ
[২১২] ইবনু আবদিল বার, আল-ইসতীআব, ২/৬৭৭; ইবনুল আসীর, উসদুল গাবাহ, ২/৩৩৭।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 ইয়াস ইবনু মুআয

📄 ইয়াস ইবনু মুআয


তিনিও ইয়াসরিবের অধিবাসী। একটি প্রতিনিধিদলসহ তিনি মক্কায় এসেছিলেন নুবুওয়াতের একাদশ বছরে। আওস গোত্রের নেতৃস্থানীয় এই ব্যক্তিটির উদ্দেশ্য ছিল মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী খাযরাজের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক সহযোগিতা আদায়। নবি ইয়াসকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে কুরআনের কিছু আয়াত শোনান। তা শুনে তিনি সহচরদের বলেন, “আল্লাহর কসম! যে জিনিসের খোঁজে এখানে এসেছিলাম, এ দেখছি তারচেয়েও উত্তম।” তাঁর স্বগোত্রীয় আরেক ব্যক্তি আবুল হুসাইর তাঁর গায়ে নুড়িপাথর ছুঁড়ে মেরে বলে, “আরে বাদ দাও। আমরা এখানে কী উদ্দেশ্যে এসেছি তা ভুলে যেয়ো না।” তখনকার মতো ইয়াস চুপ হয়ে যান। ইয়াসরিবে ফিরে যাবার অল্পকাল পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুর আগে আল্লাহর যিক্র ও তাস্বীহ পাঠ করা থেকে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তিনি মনে মনে ইসলাম কবুল করেছিলেন।[২১৩]

টিকাঃ
[২১৩] ইবনু হিশাম, ১/৪৩৮-৪৩৯; মুসনাদ, ৫/৪২৭।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 আবূ যার গিফারি

📄 আবূ যার গিফারি


এই ব্যক্তিটি সুওয়াইদ ও ইয়াসের মাধ্যমে নবিজি ﷺ-এর ব্যাপারে জানতে পারেন। কৌতূহলী আবূ যার তাঁর এক ভাইকে মক্কায় পাঠান নবিজি ﷺ-এর চরিত্র সম্পর্কে আরও তথ্য বের করতে। ভাই ফিরে এসে যে তথ্য দেন, তা আবূ যারের মনঃপূত হয় না। ফলে নিজেই রওনা হন মক্কায়। কিন্তু শহরে ঢুকে প্রাণভয়ে কাউকে তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার সাহস পেলেন না। কয়েকদিন পরে আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে নবিজির কাছে নিয়ে যান। সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মুখ থেকে শোনেন ইসলামের মূল বিষয়াদি। সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে নেন ইসলাম।
এবার আবূ যারের হৃদয় ঈমান ও সাহসে পরিপূর্ণ। সোজা কা'বায় চলে গিয়ে খোলাখুলি নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। কুরাইশরা এর জবাব দেয় তাঁকে মারধর করার মাধ্যমে। নবিজির চাচা আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) বহু কষ্টে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন। পরের দিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।[২১৪] এবারে আবূ যার তাঁর গোত্র বানু গিফারে ফিরে যান। মদিনায় হিজরত করার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকেন।

টিকাঃ
[২১৪] বুখারি, ৩৫২৪, ৩৮৬১; মুসলিম, ২৪৭৩, ২৪৭৪।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 তুফাইল ইবনু আমর দাউসি

📄 তুফাইল ইবনু আমর দাউসি


ইয়েমেনের শহরতলিতে বাস করত দাউস গোত্র। এখানকার গোত্রনেতা তুফাইল একজন একজন প্রখ্যাত কবি। নুবুওয়াতের একাদশ বছরে মক্কায় এসে কুরাইশদের সতর্কবাণীর মুখোমুখি হন। এ শহরে নাকি এক লোক আছে, যে কথা দিয়ে সবাইকে জাদু করে ফেলে! কা'বায় যাওয়ার আগে সতর্কতাবশত তাই তিনি কানে তুলো গুঁজে নেন। গিয়ে দেখলেন অদূরেই নবি সালাত পড়ছেন। কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে তিনি নবিজির তিলাওয়াত শুনতে লাগলেন। ভাবলেন, “আমি কবি মানুষ। কান আমার বহুকালের দক্ষ। মানুষটি সত্য বলছেন নাকি মিথ্যা, তা আমি ঠিকই বুঝতে পারব। শুনেই দেখি না!”
তিলাওয়াত শুনে অভিভূত তুফাইল নবিজি ﷺ-এর পেছন পেছন তাঁর ঘর পর্যন্ত যান। অনুরোধ করেন ইসলামের ব্যাপারে আরও জানাতে। নবি বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে দিলে তুফাইল ইসলাম কবুল করে নেন। নবিজিকে জানান যে, গোত্রের লোকদের কাছে তার কথার ওজন আছে। তিনি গিয়ে মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতে পারবেন। শুধু নবিজি যেন তাকে কোনও একটি নিদর্শন দিয়ে দেন, যা দেখে মানুষ তার কথার সত্যতা বুঝতে পারবে। নবিজি দুআ করে দেন এ ব্যাপারে। তুফাইল যখন আপন এলাকায় ফিরলেন, তখন তাঁর চেহারা থেকে একধরনের আলো ঠিকরে বেরোতে থাকে। স্বগোত্রীয়রা তেমন কেউ তখনই ইসলাম গ্রহণে আগ্রহ দেখায়নি। তুফাইলের বাবা ও স্ত্রী শুধু তৎক্ষণাৎ মুসলিম হন। কিন্তু বছর কয়েকের মাঝে পুরো গোত্রের প্রায় সত্তর-আশিটি পরিবার ইসলাম গ্রহণ করে নেয় এবং তুফাইলের সাথে মদিনায় হিজরতও করে। [২১৫]

টিকাঃ
[২১৫] ইবনু হিশাম, ১/৩৮২-৩৮৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00