📄 গোত্রে গোত্রে ইসলামের দাওয়াত
প্রতি বছর আরবের তিন জায়গায় তিনটি বিরাট মেলা বসত-উকায, মাজিন্না ও যুল মাজায। সারা আরব থেকে মানুষের ঢল নামত এ জায়গাগুলোতে। নাখলা ও তায়িফের মাঝখানে অবস্থিত উকায গ্রাম। যুল-কা'দা মাসের বিশ দিন জুড়ে সেখানে মেলা চলত। তারপর সেখান থেকে লোকজন চলে যেত মাজিন্নায়। বসাত বাহারি পণ্যের দোকান। যুল-কা'দের বাকি দশদিন সেখানে মেলা থাকত। মাজিন্না হলো মক্কা থেকে একটু নিচে মাররুয যাহরান উপত্যকায়। আরাফার ময়দানে জাবালে রহমতের পেছনেই অবস্থিত যুল মাজায। যুল-হিজ্জাহ মাসের প্রথম আট দিন সেখানকার মেলায় হতো রমরমা বেচাকেনা আর অসংখ্য মানুষের ভিড়। ওখান থেকেই পরে লোকজন এসে হাজ্জের আনুষ্ঠানিকতা আরম্ভ করত।
মক্কার বাইরের বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে ইসলামের দাওয়াহ পৌঁছানোর জন্য এ সময়টি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। একে একে ইসলামের আহ্বান শুনতে পায় বানু আমির ইবনু সা'সাআ, বানু মুহারিব, বানু ফাযারা, গাসসান ও মুররা, বান্ হানীফা, বানু সুলাইম, বানু আক্স, বান্ নাসর, বানুল বুকা, কিন্দা ও কাল্ব, বানুল হারিস ইবনি কা'ব, উযরা এবং হাদারামা। এই গোত্রগুলোর কোনওটিই নবিজি ﷺ-এর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। [২১০] কিন্তু এদের একেকটির জবাব ছিল একেক ধরনের। কেউ বিনীতভাবে নাকচ করে। কেউ ক্ষমতার গন্ধ পেয়ে বায়না ধরে যে, নবিজির মৃত্যুর পর যেন তাদের এ কাজের উত্তরসূরি বানিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ অজুহাত দেয় যে, রাসূলুল্লাহর স্বগোত্রীয় ও আত্মীয়দের বেশির ভাগই তো তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি। আবার কেউ কেউ সরাসরি অপমান করে বসে। বিশেষ করে বানূ হানীফার আচরণ ছিল মাত্রাতিরিক্ত কুৎসিত। পরে একসময় নিজেকে নবি বলে দাবি করা মিথ্যুক মুসাইলিমা এ গোত্রেরই সদস্য ছিল। [২১১]
টিকাঃ
[২১০] ইবনু সা'দ, তবাকাত, ১/২১৬।
[২১১] ইবনু হিশাম, ১/৪২৪-৪২৫।