📄 দুঃখের ওপরে দুঃখ
আবূ তালিব ও খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মৃত্যুর পর বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকে মুশরিক সমাজ। জনসম্মুখে নবিজিকে অপমান করা আরম্ভ হয়। প্রতিটি আঘাত যেন আগের চেয়েও তীব্র ব্যথা নিয়ে তেড়ে আসে।
সাহস পেয়ে যাওয়া এ-রকম এক কুরাইশি লোক নবিজি ﷺ-এর মাথায় মাটি ছুড়ে মারে। তাঁর কোনও এক কন্যা এসে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে বাবার মাথা পরিষ্কার করে দিতে থাকেন। সান্ত্বনা দিয়ে নবিজি বলেন, “কেঁদো না, আম্মু! আল্লাহই তোমার বাবাকে রক্ষা করবেন।”[১৮৬]
এ সময়ই নবি বলেছেন, “আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় পর্যন্ত কুরাইশরা আমার সাথে কষ্টদায়ক কোনও আচরণ করেনি।”[১৮৭]
টিকাঃ
[১৮৬] যাহাবি, তারীখুল ইসলাম, ১/২৩৫।
[১৮৭] ইবনু হিশাম, ১/৪১৬।
📄 সাওদা ও আয়িশার সাথে নবিজির বিবাহ
খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর নুবুওয়াতের দশম বছরে রাসূল বিয়ে করেন সাওদা বিনতু যামআ (রদিয়াল্লাহু আনহা)-কে। তখন শাওয়াল মাস। এর আগে সাওদার বিয়ে হয়েছিল তাঁরই জ্ঞাতিভাই সাকরান ইবনু আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে। আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী সাহাবিদের মাঝে এই দম্পতিও ছিলেন। মক্কায় ফিরে আসার পর সাকরান মারা যান। ইদ্দতের সময় শেষ হলে নবিজি ﷺ-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। কয়েক বছর পর তিনি নিজ পালা-বণ্টন আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-কে দিয়ে দিয়েছিলেন।[১৮৮]
এর এক বছর পর ১১তম বছরে শাওয়াল মাসেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে বিয়ে হয় আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর। মক্কায় সম্পন্ন হয় এই বিবাহ। বাগদানকালে আয়িশার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। তিন বছর পর হিজরি প্রথম বর্ষে বধূবেশে নবিজির ঘর আলোকিত করেন তিনি।[১৮৯] জীবিত স্ত্রীদের মাঝে তিনিই ছিলেন নবিজির সবচেয়ে বেশি প্রিয়। সেই সাথে তিনি ইসলামের শ্রেষ্ঠতম একজন আলিমা। স্বামী হিসেবে রাসূলুল্লাহর ভূমিকা এবং প্রেমময়তার কথা এই উম্মাত জানতে পেরেছে মূলত আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণনা থেকেই।
টিকাঃ
[১৮৮] বুখারি, ২৫৯৩।
[১৮৯] বুখারি, ৩৮৯৪।