📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 আবূ তালিবের মৃত্যু

📄 আবূ তালিবের মৃত্যু


আবু তালিবের স্বাস্থ্যের অবনতি হলো। তার মৃত্যুশয্যায় নবিজি এসে পাশে বসলেন। দেখলেন উটকো ঝামেলার মতো আবূ জাহল এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবী উমাইয়া সেখানে আগেই হাজির। তাদের উপস্থিতি উপেক্ষা করেই প্রিয় চাচাকে বললেন, “চাচাজান, একটি বারের জন্য লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেন। তাহলে এর ভিত্তিতে আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য নাজাতের অনুনয় করার অধিকার পেয়ে যাব।”
পৌত্তলিক লোকদুটো চুপ থাকতে পারল না। চেঁচিয়ে উঠল, “আবূ তালিব, এই শেষ বেলায় এসে বুঝি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ছেড়ে দেবেন?”
এভাবে তারা বকবক করতেই থাকল। অবশেষে আবূ তালিবের জীবনে উচ্চারিত শেষ বাক্যটি হলো, "...আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের ওপর।”
আশার শেষ আলোকবিন্দুটি ধরে রেখে নবি প্রতিজ্ঞা করলেন, “আমাকে মানা করার আগ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে আপনার জন্য মাগফিরাত চেয়ে যাব।” অনতিবিলম্বে অবতীর্ণ হলো আল্লাহর বাণী,
مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوْا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِيْنَ وَلَوْ كَانُوْا أُوْلِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴿۳۱۱)
“কোনও পৌত্তলিকের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা নবি ও মুমিনদের জন্য শোভনীয় নয়। এমনকি তারা আপন আত্মীয় হলেও, এ কথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা জাহান্নামি।”[১৮০]
আরেক আয়াতে বলা হয়,
إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
"নিজের ভালোবাসার পাত্র বলেই কাউকে আপনি সুপথে নিয়ে আসতে পারবেন না; বরং আল্লাহ যাকে চান, তাকেই সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর সুপথপ্রাপ্তদের তিনি ভালো করেই চেনেন।”[১৮১]
আবূ তালিবের মৃত্যু হয় নুবুওয়াতের দশম বছরের রজব কিংবা রমাদান মাসে। বয়কট সমাপ্তির ছয় বা আট মাস পরে। বুক চিতিয়ে ইসলামের নবিকে নিরাপত্তা দেওয়া মানুষটি নিজে মারা যান বাপ-দাদার ভ্রান্ত বিশ্বাসকে আঁকড়ে থেকেই।
নবিজি ﷺ-এর আরেক চাচা আব্বাস ইবনু আবদিল মুত্তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু) একবার নবিজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আবূ তালিব মানুষটা আমৃত্যু তোমাকে সমর্থন জুগিয়ে গেল। শত্রুদের বিরোধিতাও করল তোমার খাতিরে। তোমার উসিলায় কি সে কিছুই পাবে না?”
নবি বলেন, "উনার স্থান হবে জাহান্নামের অগভীর একটি স্থানে। আমি না থাকলে তাঁকেও জাহান্নামের গভীর কোনও গর্তেই যেতে হতো।”[১৮২]

টিকাঃ
[১৮০] সূরা তাওবা, ৯: ১১৩।
[১৮১] সূরা কাসাস, ২৮ : ৫৬; বুখারি, ১৩৬০, ৪৬৭৫, ৪৭৭২।
[১৮২] বুখারি, ৩৮৮৩।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 খাদীজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মৃত্যু

📄 খাদীজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মৃত্যু


নুবুওয়াতের দশম বছরের রমাদান মাস। আবূ তালিবের মৃত্যুর পর মাত্র দু-মাস তিন দিন অতিবাহিত হয়েছে। এমন সময় বিদায় নিলেন মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রিয়তমা সঙ্গিনী, বিশ্বস্ত উপদেষ্টা, দুঃসময়ের সাথি ও বিশ্বাসীদের মা খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)।[১৮৩] স্ত্রীর ব্যাপারে নবি একবার বলেছিলেন,
"যখন সবাই আমায় অবিশ্বাস করেছে, তখন খাদীজা আমার প্রতি ঈমান এনেছে। যখন সবাই আমাকে মিথ্যুক বলেছে, তখন সে আমার সত্যবাদিতার স্বীকৃতি দিয়েছে। আর মানুষ যখন আমাকে অভাবে ফেলতে চেয়েছে, সে আমাকে তার সম্পদের অংশীদার বানিয়েছে। আমার স্ত্রীদের মাঝে একমাত্র তার মাধ্যমেই আল্লাহ আমাকে সন্তান দিয়েছেন।”[১৮৪]
নবি একবার ওহি লাভের মাঝপথে থাকা অবস্থায় খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর জন্য খাবার নিয়ে আসেন। ঠিক সেই সময় জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল, ওই যে খাদীজা একটি পাত্র নিয়ে আপনার কাছে আসছেন। আপনার প্রতিপালক তাঁকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং জান্নাতে তাঁর জন্য মুক্তার একটি প্রাসাদ সুসংবাদ দিয়েছেন, যাতে রয়েছে কেবলই শান্তি ও আরাম।”[১৮৫]
তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও এবং পরে একাধিক বিয়ে করা সত্ত্বেও রাসূল কখনও খাদীজাকে ভুলে যাননি। প্রায়ই তাঁর ব্যাপারে কথা বলতেন এবং আল্লাহর কাছে দুআ করতেন তাঁর মাগফিরাত ও উচ্চ মর্যাদার জন্য। কান্নাও করতেন তাঁর কথা ভেবে। কখনও কোনও উট কিংবা ভেড়া যবাই করলে খাদীজার বান্ধবীদের নিকট গোশতের একটি অংশ পাঠিয়ে দিতেন।

টিকাঃ
[১৮৩] ইবনুল জাওযি, তালকীহ, ৭।
[১৮৪] আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৬/১১৮।
[১৮৫] বুখারি, ৩৮২০।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 দুঃখের ওপরে দুঃখ

📄 দুঃখের ওপরে দুঃখ


আবূ তালিব ও খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মৃত্যুর পর বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকে মুশরিক সমাজ। জনসম্মুখে নবিজিকে অপমান করা আরম্ভ হয়। প্রতিটি আঘাত যেন আগের চেয়েও তীব্র ব্যথা নিয়ে তেড়ে আসে।
সাহস পেয়ে যাওয়া এ-রকম এক কুরাইশি লোক নবিজি ﷺ-এর মাথায় মাটি ছুড়ে মারে। তাঁর কোনও এক কন্যা এসে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে বাবার মাথা পরিষ্কার করে দিতে থাকেন। সান্ত্বনা দিয়ে নবিজি বলেন, “কেঁদো না, আম্মু! আল্লাহই তোমার বাবাকে রক্ষা করবেন।”[১৮৬]
এ সময়ই নবি বলেছেন, “আবূ তালিবের মৃত্যুর সময় পর্যন্ত কুরাইশরা আমার সাথে কষ্টদায়ক কোনও আচরণ করেনি।”[১৮৭]

টিকাঃ
[১৮৬] যাহাবি, তারীখুল ইসলাম, ১/২৩৫।
[১৮৭] ইবনু হিশাম, ১/৪১৬।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 সাওদা ও আয়িশার সাথে নবিজির বিবাহ

📄 সাওদা ও আয়িশার সাথে নবিজির বিবাহ


খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর নুবুওয়াতের দশম বছরে রাসূল বিয়ে করেন সাওদা বিনতু যামআ (রদিয়াল্লাহু আনহা)-কে। তখন শাওয়াল মাস। এর আগে সাওদার বিয়ে হয়েছিল তাঁরই জ্ঞাতিভাই সাকরান ইবনু আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে। আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী সাহাবিদের মাঝে এই দম্পতিও ছিলেন। মক্কায় ফিরে আসার পর সাকরান মারা যান। ইদ্দতের সময় শেষ হলে নবিজি ﷺ-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। কয়েক বছর পর তিনি নিজ পালা-বণ্টন আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-কে দিয়ে দিয়েছিলেন।[১৮৮]
এর এক বছর পর ১১তম বছরে শাওয়াল মাসেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে বিয়ে হয় আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর। মক্কায় সম্পন্ন হয় এই বিবাহ। বাগদানকালে আয়িশার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। তিন বছর পর হিজরি প্রথম বর্ষে বধূবেশে নবিজির ঘর আলোকিত করেন তিনি।[১৮৯] জীবিত স্ত্রীদের মাঝে তিনিই ছিলেন নবিজির সবচেয়ে বেশি প্রিয়। সেই সাথে তিনি ইসলামের শ্রেষ্ঠতম একজন আলিমা। স্বামী হিসেবে রাসূলুল্লাহর ভূমিকা এবং প্রেমময়তার কথা এই উম্মাত জানতে পেরেছে মূলত আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণনা থেকেই।

টিকাঃ
[১৮৮] বুখারি, ২৫৯৩।
[১৮৯] বুখারি, ৩৮৯৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00