📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 উমর ؓ-এর ইসলাম গ্রহণে মুশরিকদের প্রতিক্রিয়া

📄 উমর ؓ-এর ইসলাম গ্রহণে মুশরিকদের প্রতিক্রিয়া


গায়ে-গতরে আর মন-মেজাজে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমকক্ষ কেউ নেই। মুসলিম হওয়ার পর তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল নবিজি ﷺ-এর শত্রুদের কাছে নিজের পরিবর্তনের খবরটা পৌঁছে দেওয়া। সেই দুর্ভাগাদের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই আবূ জাহল নির্বাচিত হলো একদম প্রথম ব্যক্তি হিসেবে।
আবূ জাহলের বাড়ির দরজায় করাঘাত করলেন উমর। দরজা খুলে হাসিমুখে অভিবাদন জানাল সে, "আহলান ওয়া সাহলান! কী উদ্দেশ্যে আগমন?”
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দিলেন, “এলাম একটি সংবাদ দিতে—আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের ধর্ম মেনে নিয়েছি।”
আবূ জাহলের মাথায় যেন বাজ পড়ল। সাথে সাথে দরজা লাগিয়ে দিতে দিতে বলল, “আল্লাহ তোমার অমঙ্গল করুক এবং তুমি যা কিছু নিয়ে এসেছ তারও অমঙ্গল হোক।"[১৫৫]
এরপর উমর গেলেন তাঁর মামা আসি ইবনু হিশামের ওখানে। দুঃসংবাদখানা শুনেই সে ঘরে ঢুকে দরজা আটকে গা ঢাকা দিল। [১৫৬]
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর তৃতীয় নিশানা জামীল ইবনু মুআম্মার জুমাহি। এই লোকটি কোনও মজার খবর পেলে মুহূর্তে তা রাষ্ট্র করে দিতে ওস্তাদ। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা শোনামাত্র কাজে নেমে পড়ল জামীল। চিৎকার করে বলতে লাগল, “খাত্তাবের ছেলে বিধর্মী হয়ে গেছে! খাত্তাবের ছেলে বিধর্মী হয়ে গেছে!”
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) সংশোধন করে বললেন, “এ মিথ্যে বলছে। আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি!”
জামীলের চিৎকার শুনে হুড়মুড় করে বেরিয়ে এল মানুষজন। কেউ কেউ এসে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মারতে লাগল। উমরও কম যান না। তিনিও তাদের পাল্টা মার দিতে আরম্ভ করলেন। এভাবে দুপুর পর্যন্ত মারামারি চলল। অবশেষে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন। [১৫৭]
হতবিহ্বল মুশরিকরা বলাবলি করতে লাগল কী করা যায়। সিদ্ধান্ত নিল উমরের বাসায় গিয়ে আজ মেরেই ফেলবে তাঁকে। সে উদ্দেশ্যেই দল বেঁধে রওনাও দিল সবাই।
ওদিকে আস ইবনু ওয়াইল সাহমির সাথে কথা বলছেন উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এই আসের বংশ বানু সাহমের সাথে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশ বানু আদির সম্পর্ক বেশ ভালো।
"আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এই কারণে তোমার সম্প্রদায় আমাকে মেরে ফেলতে চায়”, আসকে বললেন উমর।
“অসম্ভব!” এটুকু বলতেই আস দেখলেন উত্তেজিত জনতা এদিকেই ধেয়ে আসছে।
আস ইবনু ওয়াইল তাদের পথরোধ করে বললেন, “দাঁড়াও, কোথায় যাচ্ছো?” উত্তেজিত জনতা জবাব দিল, "আপনি শোনেননি, খাত্তাবের ছেলে তো বিধর্মী হয়ে গিয়েছে।”
আস ইবনু ওয়াইল বললেন “তার কাছে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই!” থতমত খেয়ে তাঁর দিকে তাকাল জনতা। সমীহ উদ্রেককারী গড়ন, আর পরনে ডোরাকাটা ইয়েমেনি পোশাক। কথাটার মাঝে সুপ্ত হুমকি বুঝতে পেরে সবাই নিজ নিজ বাড়ির পথ ধরল। [১৫৮]

টিকাঃ
[১৫৫] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/৩৪৯-৩৫০।
[১৫৬] ইবনুল জাওযি, তারীখু উমর, ৮।
[১৫৭] তাবারানি, আওসাত, ২/১৭২, ইবনু হিব্বান, ৯/১৬; ইবনু হিশাম, ১/৩৪৮-৩৪৯।
[১৫৮] বুখারি, ৩৮৬৪।

গায়ে-গতরে আর মন-মেজাজে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমকক্ষ কেউ নেই। মুসলিম হওয়ার পর তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল নবিজি ﷺ-এর শত্রুদের কাছে নিজের পরিবর্তনের খবরটা পৌঁছে দেওয়া। সেই দুর্ভাগাদের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই আবূ জাহল নির্বাচিত হলো একদম প্রথম ব্যক্তি হিসেবে।
আবূ জাহলের বাড়ির দরজায় করাঘাত করলেন উমর। দরজা খুলে হাসিমুখে অভিবাদন জানাল সে, "আহলান ওয়া সাহলান! কী উদ্দেশ্যে আগমন?”
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দিলেন, “এলাম একটি সংবাদ দিতে—আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের ধর্ম মেনে নিয়েছি।”
আবূ জাহলের মাথায় যেন বাজ পড়ল। সাথে সাথে দরজা লাগিয়ে দিতে দিতে বলল, “আল্লাহ তোমার অমঙ্গল করুক এবং তুমি যা কিছু নিয়ে এসেছ তারও অমঙ্গল হোক।"[১৫৫]
এরপর উমর গেলেন তাঁর মামা আসি ইবনু হিশামের ওখানে। দুঃসংবাদখানা শুনেই সে ঘরে ঢুকে দরজা আটকে গা ঢাকা দিল। [১৫৬]
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর তৃতীয় নিশানা জামীল ইবনু মুআম্মার জুমাহি। এই লোকটি কোনও মজার খবর পেলে মুহূর্তে তা রাষ্ট্র করে দিতে ওস্তাদ। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা শোনামাত্র কাজে নেমে পড়ল জামীল। চিৎকার করে বলতে লাগল, “খাত্তাবের ছেলে বিধর্মী হয়ে গেছে! খাত্তাবের ছেলে বিধর্মী হয়ে গেছে!”
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) সংশোধন করে বললেন, “এ মিথ্যে বলছে। আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি!”
জামীলের চিৎকার শুনে হুড়মুড় করে বেরিয়ে এল মানুষজন। কেউ কেউ এসে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মারতে লাগল। উমরও কম যান না। তিনিও তাদের পাল্টা মার দিতে আরম্ভ করলেন। এভাবে দুপুর পর্যন্ত মারামারি চলল। অবশেষে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন। [১৫৭]
হতবিহ্বল মুশরিকরা বলাবলি করতে লাগল কী করা যায়। সিদ্ধান্ত নিল উমরের বাসায় গিয়ে আজ মেরেই ফেলবে তাঁকে। সে উদ্দেশ্যেই দল বেঁধে রওনাও দিল সবাই।
ওদিকে আস ইবনু ওয়াইল সাহমির সাথে কথা বলছেন উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এই আসের বংশ বানু সাহমের সাথে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশ বানু আদির সম্পর্ক বেশ ভালো।
"আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এই কারণে তোমার সম্প্রদায় আমাকে মেরে ফেলতে চায়”, আসকে বললেন উমর।
“অসম্ভব!” এটুকু বলতেই আস দেখলেন উত্তেজিত জনতা এদিকেই ধেয়ে আসছে।
আস ইবনু ওয়াইল তাদের পথরোধ করে বললেন, “দাঁড়াও, কোথায় যাচ্ছো?” উত্তেজিত জনতা জবাব দিল, "আপনি শোনেননি, খাত্তাবের ছেলে তো বিধর্মী হয়ে গিয়েছে।”
আস ইবনু ওয়াইল বললেন “তার কাছে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই!” থতমত খেয়ে তাঁর দিকে তাকাল জনতা। সমীহ উদ্রেককারী গড়ন, আর পরনে ডোরাকাটা ইয়েমেনি পোশাক। কথাটার মাঝে সুপ্ত হুমকি বুঝতে পেরে সবাই নিজ নিজ বাড়ির পথ ধরল। [১৫৮]

টিকাঃ
[১৫৫] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/৩৪৯-৩৫০।
[১৫৬] ইবনুল জাওযি, তারীখু উমর, ৮।
[১৫৭] তাবারানি, আওসাত, ২/১৭২, ইবনু হিব্বান, ৯/১৬; ইবনু হিশাম, ১/৩৪৮-৩৪৯।
[১৫৮] বুখারি, ৩৮৬৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00