📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 উমর ইবনুল খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ

📄 উমর ইবনুল খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ


উমর ইবনুল খাত্তাব (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসলিম হওয়ার ঘটনা ইসলমি ইতিহাসের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায়গুলোর একটি। দীর্ঘদেহী ও বলবান এই মানুষটি পরিচিত ছিলেন কড়া মেজাজি ও কবিতাপ্রেমী হিসেবে। সেই সাথে ইসলামের সাথে ছিল তার মারাত্মক শত্রুতা। হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাত্র তিন দিন পরেই উমর ইসলাম গ্রহণ করেন।
কা'বায় নবিজি ﷺ-এর তিলাওয়াত করা কিছু আয়াত মাঝেমাঝে উমরের কানেও এসেছিল। মনেও একটু নাড়া পড়েছিল সে আয়াতগুলো শুনে। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় তাঁর হৃদয় তখনো ইসলাম ও নবি-এর শত্রুতায় বদ্ধপরিকর। এমনকি একদিন এমন অবস্থা দাঁড়াল যে, তিনি তরবারি নিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত রাসূলুল্লাহ-কে হত্যা করার জন্য। সৌভাগ্যবশত, ওই তৎপরতাকে কাজে রূপ দিতে পারেননি তিনি।
মুষ্টিতে তলোয়ার আর অন্তরে বিদ্বেষ নিয়ে চলছেন উদ্দেশ্য পূরণ করতে। মাঝপথে নুআইম ইবনু আবদিল্লাহর সাথে দেখা। নুআইম বললেন, “কোথায় যাচ্ছেন?”
“মুহাম্মাদকে যবাই করে ফেলব”, উমরের জবাব।
“বানু হাশিম আর বানু যুহরা যদি প্রতিশোধ নিতে আসে?”
কথাটা যেন উমরের কাছে চ্যালেঞ্জের মতো লাগল। রাগত স্বরে বললেন, “আপনিও বিধর্মী হয়ে গেছেন নাকি?"
নুআইম পাল্টা বললেন “আমার কথা ছাড়ুন। আপনার বোন আর বোন-জামাই-ই তো নিজ ধর্ম ছেড়ে দিয়েছে।”
রাগের চোটে উমর ভুলেই যান নবিজি ﷺ-এর কথা। ছুটে যান বোন ফাতিমা বিনতুল খাত্তাব (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে। ঠিক সেই সময় খাব্বাব ইবনুল আরাত্ত (রদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন ফাতিমার ঘরে, সূরা ত্ব-হা শেখাচ্ছিলেন তাদের। উমরের আসার শব্দ পেয়েই খাব্বাব লুকিয়ে পড়েন। সূরা লেখা পাতাগুলোও দ্রুত লুকিয়ে ফেলেন ফাতিমা।
“কী বিড়বিড় করছিলি তোরা?” সশস্ত্র উমরের জিজ্ঞাসা।
“কই? কিছু না তো! এমনি কথা বলছিলাম।”
“তোরা দু'জনই বিধর্মী হয়ে গেছিস, না?”
উমরের বোন-জামাই এবার বললেন, “আচ্ছা উমর, আপনিই বলুন। আপনার ধর্ম যদি সত্য থেকে বহু দূরে থাকে, তাহলে আর কীই-বা করার আছে?” কথা শেষ না হতেই উমর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে প্রহার করতে থাকেন। ফাতিমা বাধা দিতে এলে তাঁর মুখেও আঘাত করে রক্তাক্ত করে ফেলেন। কিন্তু উমরের বোন তখন সত্য উচ্চারণে আর ভীত নন। স্বামীর সাথে গলা মিলিয়ে তিনিও উমরের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুললেন, “উমর, সত্য যদি তোমার ধর্ম থেকে বহু দূরে থাকে, তাহলে কী করবে?”
তারপর ভাইকে শুনিয়ে দিলেন কালিমা শাহাদাত, জানিয়ে দিলেন নিজের ঈমান গ্রহণের কথা, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই, আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।”
বোনের এই দৃপ্ত ঘোষণা উমরকে লজ্জায় ফেলে দেয়। এবার একটু নরম হয়ে বললেন, “আচ্ছা, কী যেন পড়ছিলে, ওইটা একটু দেখি?”
বোন এবার কড়া স্বরে বললেন, “তুমি তো নাপাক। পাক-পবিত্র না হয়ে কেউ এটা ছুঁতে পারে না। যাও, পবিত্র হয়ে এসো।”
অনুশোচনায় দগ্ধ উমর গোসল করে এলেন। সূরা ত্ব-হা লেখা পাতাগুলো নিয়ে পড়তে আরম্ভ করলেন। অতঃপর যখন এই আয়াতে পৌঁছলেন- إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِيْ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي ﴿٤١)
“নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। অতএব, আমারই উপাসনা করো এবং আমার স্মরণে সালাত প্রতিষ্ঠা করো।”[১৫৩]
তখন বলতে লাগলেন, "এ তো অনেক উত্তম ও বড় সম্মানিত কালাম। আমাকে মুহাম্মাদের ঠিকানা বলে দাও।”
এ কথা শুনে খাব্বাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) লুকানো স্থান থেকে বেরিয়ে আসেন। বলেন, “উমর, সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আমার ধারণা নবি ﷺ-এর দুআ আপনার ব্যাপারে কবুল হয়েছে। গত জুমুআ রাতে রাসূলুল্লাহ দুআ করেছেন, 'ইয়া আল্লাহ, উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আবূ জাহল ইবনু হিশামের মধ্যে যে আপনার নিকট বেশি প্রিয় তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।”
এরপর তিনি বলে দিলেন, নবিজি সাফা পর্বতের পাশে আরকামের ঘরে অবস্থান করছেন। জানতে পেরে উমর সেখানে ছুটে যান। দরজায় টোকা শুনে একজন সাহাবি দরজার ফাঁক দিয়ে উমরকে দেখতে পান, উত্তেজিত দেহভঙ্গি, হাতে তরবারি! পড়িমড়ি করে ভেতরে ছুটে গিয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক করে দেন।
"ব্যাপার কী?” হামযা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করলেন।
“দরজায় উমর দাঁড়িয়ে আছে।” ভীত কণ্ঠে সেই সাহাবির অনুযোগ।
হামযা বললেন, “ওহ! এই ব্যাপার? যদি সে ভালো উদ্দেশ্যে এসে থাকে, তাহলে তো ভালোই। আর তা না হলে ওর তরবারি দিয়েই আজ ওকে শেষ করে দেবো।”
ঠিক সেই সময় মুহাম্মাদ-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হচ্ছিল। ওহি অবতরণ শেষে বসার ঘরে এলেন তিনি। এসেই দেখেন উমর সেখানে বসা। নিজেই এগিয়ে গিয়ে উমরের কাপড় ধরে ঝাঁকি দিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, “ওহে উমর, কেন ফিরে আসতে দেরি করছ? ওয়ালীদ ইবনুল মুগীরাকে আল্লাহ যেভাবে শায়েস্তা করেছেন, সে-রকম কিছুর অপেক্ষায় আছ? হে আল্লাহ, এই হলো উমর ইবনুল খাত্তাব! ওর মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী ও গৌরবান্বিত করুন!”
নবিজি ﷺ-এর দুআ শেষ হতেই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া আর কোনও উপাস্য নেই। আর আপনি আল্লাহর রাসূল।”
উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম উঁচু স্বরে “আল্লাহু আকবার!” বলে উঠলেন। যার ধ্বনি কা'বা প্রাঙ্গণ থেকেও শোনা গিয়েছিল।[১৫৪]

টিকাঃ
[১৫৩] সূরা ত্বহা, ২০: ১৪।
[১৫৪] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/৩৪৩-৩৪৬; ইবনুল জাওযি, তারীখু উমর ইবনিল খাত্তাব, ৭-১১।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসলিম হওয়ার ঘটনা ইসলমি ইতিহাসের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায়গুলোর একটি। দীর্ঘদেহী ও বলবান এই মানুষটি পরিচিত ছিলেন কড়া মেজাজি ও কবিতাপ্রেমী হিসেবে। সেই সাথে ইসলামের সাথে ছিল তার মারাত্মক শত্রুতা। হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাত্র তিন দিন পরেই উমর ইসলাম গ্রহণ করেন।
কা'বায় নবিজি ﷺ-এর তিলাওয়াত করা কিছু আয়াত মাঝেমাঝে উমরের কানেও এসেছিল। মনেও একটু নাড়া পড়েছিল সে আয়াতগুলো শুনে। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় তাঁর হৃদয় তখনো ইসলাম ও নবি-এর শত্রুতায় বদ্ধপরিকর। এমনকি একদিন এমন অবস্থা দাঁড়াল যে, তিনি তরবারি নিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত রাসূলুল্লাহ-কে হত্যা করার জন্য। সৌভাগ্যবশত, ওই তৎপরতাকে কাজে রূপ দিতে পারেননি তিনি।
মুষ্টিতে তলোয়ার আর অন্তরে বিদ্বেষ নিয়ে চলছেন উদ্দেশ্য পূরণ করতে। মাঝপথে নুআইম ইবনু আবদিল্লাহর সাথে দেখা। নুআইম বললেন, “কোথায় যাচ্ছেন?”
“মুহাম্মাদকে যবাই করে ফেলব”, উমরের জবাব।
“বানু হাশিম আর বানু যুহরা যদি প্রতিশোধ নিতে আসে?”
কথাটা যেন উমরের কাছে চ্যালেঞ্জের মতো লাগল। রাগত স্বরে বললেন, “আপনিও বিধর্মী হয়ে গেছেন নাকি?"
নুআইম পাল্টা বললেন “আমার কথা ছাড়ুন। আপনার বোন আর বোন-জামাই-ই তো নিজ ধর্ম ছেড়ে দিয়েছে।”
রাগের চোটে উমর ভুলেই যান নবিজি ﷺ-এর কথা। ছুটে যান বোন ফাতিমা বিনতুল খাত্তাব (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে। ঠিক সেই সময় খাব্বাব ইবনুল আরাত্ত (রদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন ফাতিমার ঘরে, সূরা ত্ব-হা শেখাচ্ছিলেন তাদের। উমরের আসার শব্দ পেয়েই খাব্বাব লুকিয়ে পড়েন। সূরা লেখা পাতাগুলোও দ্রুত লুকিয়ে ফেলেন ফাতিমা।
“কী বিড়বিড় করছিলি তোরা?” সশস্ত্র উমরের জিজ্ঞাসা।
“কই? কিছু না তো! এমনি কথা বলছিলাম।”
“তোরা দু'জনই বিধর্মী হয়ে গেছিস, না?”
উমরের বোন-জামাই এবার বললেন, “আচ্ছা উমর, আপনিই বলুন। আপনার ধর্ম যদি সত্য থেকে বহু দূরে থাকে, তাহলে আর কীই-বা করার আছে?” কথা শেষ না হতেই উমর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে প্রহার করতে থাকেন। ফাতিমা বাধা দিতে এলে তাঁর মুখেও আঘাত করে রক্তাক্ত করে ফেলেন। কিন্তু উমরের বোন তখন সত্য উচ্চারণে আর ভীত নন। স্বামীর সাথে গলা মিলিয়ে তিনিও উমরের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুললেন, “উমর, সত্য যদি তোমার ধর্ম থেকে বহু দূরে থাকে, তাহলে কী করবে?”
তারপর ভাইকে শুনিয়ে দিলেন কালিমা শাহাদাত, জানিয়ে দিলেন নিজের ঈমান গ্রহণের কথা, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই, আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।”
বোনের এই দৃপ্ত ঘোষণা উমরকে লজ্জায় ফেলে দেয়। এবার একটু নরম হয়ে বললেন, “আচ্ছা, কী যেন পড়ছিলে, ওইটা একটু দেখি?”
বোন এবার কড়া স্বরে বললেন, “তুমি তো নাপাক। পাক-পবিত্র না হয়ে কেউ এটা ছুঁতে পারে না। যাও, পবিত্র হয়ে এসো।”
অনুশোচনায় দগ্ধ উমর গোসল করে এলেন। সূরা ত্ব-হা লেখা পাতাগুলো নিয়ে পড়তে আরম্ভ করলেন। অতঃপর যখন এই আয়াতে পৌঁছলেন- إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِيْ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي ﴿٤١)
“নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। অতএব, আমারই উপাসনা করো এবং আমার স্মরণে সালাত প্রতিষ্ঠা করো।”[১৫৩]
তখন বলতে লাগলেন, "এ তো অনেক উত্তম ও বড় সম্মানিত কালাম। আমাকে মুহাম্মাদের ঠিকানা বলে দাও।”
এ কথা শুনে খাব্বাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) লুকানো স্থান থেকে বেরিয়ে আসেন। বলেন, “উমর, সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আমার ধারণা নবি ﷺ-এর দুআ আপনার ব্যাপারে কবুল হয়েছে। গত জুমুআ রাতে রাসূলুল্লাহ দুআ করেছেন, 'ইয়া আল্লাহ, উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আবূ জাহল ইবনু হিশামের মধ্যে যে আপনার নিকট বেশি প্রিয় তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।”
এরপর তিনি বলে দিলেন, নবিজি সাফা পর্বতের পাশে আরকামের ঘরে অবস্থান করছেন। জানতে পেরে উমর সেখানে ছুটে যান। দরজায় টোকা শুনে একজন সাহাবি দরজার ফাঁক দিয়ে উমরকে দেখতে পান, উত্তেজিত দেহভঙ্গি, হাতে তরবারি! পড়িমড়ি করে ভেতরে ছুটে গিয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক করে দেন।
"ব্যাপার কী?” হামযা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করলেন।
“দরজায় উমর দাঁড়িয়ে আছে।” ভীত কণ্ঠে সেই সাহাবির অনুযোগ।
হামযা বললেন, “ওহ! এই ব্যাপার? যদি সে ভালো উদ্দেশ্যে এসে থাকে, তাহলে তো ভালোই। আর তা না হলে ওর তরবারি দিয়েই আজ ওকে শেষ করে দেবো।”
ঠিক সেই সময় মুহাম্মাদ-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হচ্ছিল। ওহি অবতরণ শেষে বসার ঘরে এলেন তিনি। এসেই দেখেন উমর সেখানে বসা। নিজেই এগিয়ে গিয়ে উমরের কাপড় ধরে ঝাঁকি দিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, “ওহে উমর, কেন ফিরে আসতে দেরি করছ? ওয়ালীদ ইবনুল মুগীরাকে আল্লাহ যেভাবে শায়েস্তা করেছেন, সে-রকম কিছুর অপেক্ষায় আছ? হে আল্লাহ, এই হলো উমর ইবনুল খাত্তাব! ওর মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী ও গৌরবান্বিত করুন!”
নবিজি ﷺ-এর দুআ শেষ হতেই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া আর কোনও উপাস্য নেই। আর আপনি আল্লাহর রাসূল।”
উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম উঁচু স্বরে “আল্লাহু আকবার!” বলে উঠলেন। যার ধ্বনি কা'বা প্রাঙ্গণ থেকেও শোনা গিয়েছিল।[১৫৪]

টিকাঃ
[১৫৩] সূরা ত্বহা, ২০: ১৪।
[১৫৪] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/৩৪৩-৩৪৬; ইবনুল জাওযি, তারীখু উমর ইবনিল খাত্তাব, ৭-১১।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 উমর ؓ-এর ইসলাম গ্রহণে মুশরিকদের প্রতিক্রিয়া

📄 উমর ؓ-এর ইসলাম গ্রহণে মুশরিকদের প্রতিক্রিয়া


গায়ে-গতরে আর মন-মেজাজে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমকক্ষ কেউ নেই। মুসলিম হওয়ার পর তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল নবিজি ﷺ-এর শত্রুদের কাছে নিজের পরিবর্তনের খবরটা পৌঁছে দেওয়া। সেই দুর্ভাগাদের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই আবূ জাহল নির্বাচিত হলো একদম প্রথম ব্যক্তি হিসেবে।
আবূ জাহলের বাড়ির দরজায় করাঘাত করলেন উমর। দরজা খুলে হাসিমুখে অভিবাদন জানাল সে, "আহলান ওয়া সাহলান! কী উদ্দেশ্যে আগমন?”
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দিলেন, “এলাম একটি সংবাদ দিতে—আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের ধর্ম মেনে নিয়েছি।”
আবূ জাহলের মাথায় যেন বাজ পড়ল। সাথে সাথে দরজা লাগিয়ে দিতে দিতে বলল, “আল্লাহ তোমার অমঙ্গল করুক এবং তুমি যা কিছু নিয়ে এসেছ তারও অমঙ্গল হোক।"[১৫৫]
এরপর উমর গেলেন তাঁর মামা আসি ইবনু হিশামের ওখানে। দুঃসংবাদখানা শুনেই সে ঘরে ঢুকে দরজা আটকে গা ঢাকা দিল। [১৫৬]
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর তৃতীয় নিশানা জামীল ইবনু মুআম্মার জুমাহি। এই লোকটি কোনও মজার খবর পেলে মুহূর্তে তা রাষ্ট্র করে দিতে ওস্তাদ। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা শোনামাত্র কাজে নেমে পড়ল জামীল। চিৎকার করে বলতে লাগল, “খাত্তাবের ছেলে বিধর্মী হয়ে গেছে! খাত্তাবের ছেলে বিধর্মী হয়ে গেছে!”
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) সংশোধন করে বললেন, “এ মিথ্যে বলছে। আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি!”
জামীলের চিৎকার শুনে হুড়মুড় করে বেরিয়ে এল মানুষজন। কেউ কেউ এসে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মারতে লাগল। উমরও কম যান না। তিনিও তাদের পাল্টা মার দিতে আরম্ভ করলেন। এভাবে দুপুর পর্যন্ত মারামারি চলল। অবশেষে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন। [১৫৭]
হতবিহ্বল মুশরিকরা বলাবলি করতে লাগল কী করা যায়। সিদ্ধান্ত নিল উমরের বাসায় গিয়ে আজ মেরেই ফেলবে তাঁকে। সে উদ্দেশ্যেই দল বেঁধে রওনাও দিল সবাই।
ওদিকে আস ইবনু ওয়াইল সাহমির সাথে কথা বলছেন উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এই আসের বংশ বানু সাহমের সাথে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশ বানু আদির সম্পর্ক বেশ ভালো।
"আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এই কারণে তোমার সম্প্রদায় আমাকে মেরে ফেলতে চায়”, আসকে বললেন উমর।
“অসম্ভব!” এটুকু বলতেই আস দেখলেন উত্তেজিত জনতা এদিকেই ধেয়ে আসছে।
আস ইবনু ওয়াইল তাদের পথরোধ করে বললেন, “দাঁড়াও, কোথায় যাচ্ছো?” উত্তেজিত জনতা জবাব দিল, "আপনি শোনেননি, খাত্তাবের ছেলে তো বিধর্মী হয়ে গিয়েছে।”
আস ইবনু ওয়াইল বললেন “তার কাছে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই!” থতমত খেয়ে তাঁর দিকে তাকাল জনতা। সমীহ উদ্রেককারী গড়ন, আর পরনে ডোরাকাটা ইয়েমেনি পোশাক। কথাটার মাঝে সুপ্ত হুমকি বুঝতে পেরে সবাই নিজ নিজ বাড়ির পথ ধরল। [১৫৮]

টিকাঃ
[১৫৫] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/৩৪৯-৩৫০।
[১৫৬] ইবনুল জাওযি, তারীখু উমর, ৮।
[১৫৭] তাবারানি, আওসাত, ২/১৭২, ইবনু হিব্বান, ৯/১৬; ইবনু হিশাম, ১/৩৪৮-৩৪৯।
[১৫৮] বুখারি, ৩৮৬৪।

গায়ে-গতরে আর মন-মেজাজে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমকক্ষ কেউ নেই। মুসলিম হওয়ার পর তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল নবিজি ﷺ-এর শত্রুদের কাছে নিজের পরিবর্তনের খবরটা পৌঁছে দেওয়া। সেই দুর্ভাগাদের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই আবূ জাহল নির্বাচিত হলো একদম প্রথম ব্যক্তি হিসেবে।
আবূ জাহলের বাড়ির দরজায় করাঘাত করলেন উমর। দরজা খুলে হাসিমুখে অভিবাদন জানাল সে, "আহলান ওয়া সাহলান! কী উদ্দেশ্যে আগমন?”
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দিলেন, “এলাম একটি সংবাদ দিতে—আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের ধর্ম মেনে নিয়েছি।”
আবূ জাহলের মাথায় যেন বাজ পড়ল। সাথে সাথে দরজা লাগিয়ে দিতে দিতে বলল, “আল্লাহ তোমার অমঙ্গল করুক এবং তুমি যা কিছু নিয়ে এসেছ তারও অমঙ্গল হোক।"[১৫৫]
এরপর উমর গেলেন তাঁর মামা আসি ইবনু হিশামের ওখানে। দুঃসংবাদখানা শুনেই সে ঘরে ঢুকে দরজা আটকে গা ঢাকা দিল। [১৫৬]
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর তৃতীয় নিশানা জামীল ইবনু মুআম্মার জুমাহি। এই লোকটি কোনও মজার খবর পেলে মুহূর্তে তা রাষ্ট্র করে দিতে ওস্তাদ। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা শোনামাত্র কাজে নেমে পড়ল জামীল। চিৎকার করে বলতে লাগল, “খাত্তাবের ছেলে বিধর্মী হয়ে গেছে! খাত্তাবের ছেলে বিধর্মী হয়ে গেছে!”
উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) সংশোধন করে বললেন, “এ মিথ্যে বলছে। আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি!”
জামীলের চিৎকার শুনে হুড়মুড় করে বেরিয়ে এল মানুষজন। কেউ কেউ এসে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মারতে লাগল। উমরও কম যান না। তিনিও তাদের পাল্টা মার দিতে আরম্ভ করলেন। এভাবে দুপুর পর্যন্ত মারামারি চলল। অবশেষে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন। [১৫৭]
হতবিহ্বল মুশরিকরা বলাবলি করতে লাগল কী করা যায়। সিদ্ধান্ত নিল উমরের বাসায় গিয়ে আজ মেরেই ফেলবে তাঁকে। সে উদ্দেশ্যেই দল বেঁধে রওনাও দিল সবাই।
ওদিকে আস ইবনু ওয়াইল সাহমির সাথে কথা বলছেন উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এই আসের বংশ বানু সাহমের সাথে উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশ বানু আদির সম্পর্ক বেশ ভালো।
"আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এই কারণে তোমার সম্প্রদায় আমাকে মেরে ফেলতে চায়”, আসকে বললেন উমর।
“অসম্ভব!” এটুকু বলতেই আস দেখলেন উত্তেজিত জনতা এদিকেই ধেয়ে আসছে।
আস ইবনু ওয়াইল তাদের পথরোধ করে বললেন, “দাঁড়াও, কোথায় যাচ্ছো?” উত্তেজিত জনতা জবাব দিল, "আপনি শোনেননি, খাত্তাবের ছেলে তো বিধর্মী হয়ে গিয়েছে।”
আস ইবনু ওয়াইল বললেন “তার কাছে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই!” থতমত খেয়ে তাঁর দিকে তাকাল জনতা। সমীহ উদ্রেককারী গড়ন, আর পরনে ডোরাকাটা ইয়েমেনি পোশাক। কথাটার মাঝে সুপ্ত হুমকি বুঝতে পেরে সবাই নিজ নিজ বাড়ির পথ ধরল। [১৫৮]

টিকাঃ
[১৫৫] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/৩৪৯-৩৫০।
[১৫৬] ইবনুল জাওযি, তারীখু উমর, ৮।
[১৫৭] তাবারানি, আওসাত, ২/১৭২, ইবনু হিব্বান, ৯/১৬; ইবনু হিশাম, ১/৩৪৮-৩৪৯।
[১৫৮] বুখারি, ৩৮৬৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00