📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরত (রজব, নুবুওয়াতের ৫ম বছর)

📄 আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরত (রজব, নুবুওয়াতের ৫ম বছর)


দ্বিতীয় পদক্ষেপ: উত্তরোত্তর শত্রুতা থেকে মুসলিম সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল হিজরত। নবিজি জানতে পারেন যে, আবিসিনিয়ার ন্যায়পরায়ণ খ্রিষ্টান রাজা তাঁর শাসনভূমিতে কোনও নির্যাতন বরদাশত করেন না। তাই তিনি মুসলিমদের নির্দেশ দেন আবিসিনিয়ায় গিয়ে আশ্রয় নিতে।
নুবুওয়াতের পঞ্চম বছরের রজব মাসে মুসলিমদের প্রথম দলটি হিজরত করে। বারো জন পুরুষ এবং চার জন নারীর সেই ছোট্ট কাফেলাটি লোহিত সাগর ধরে আবিসিনিয়ায় যাত্রা করেন। দলটির নেতৃত্বে থাকেন উসমান ইবনু আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর স্ত্রী নবি-তনয়া রুকাইয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। নবি ইবরাহীম ও লূত (আলাইহিমাস সালাম)-এর পর এটাই ছিল প্রথম কোনও পরিবারের ধর্মরক্ষার্থে হিজরত করা।
মুহাজিরদের দলটি রাতের অন্ধকারে নীরবে মক্কা থেকে বেরিয়ে পড়েন। পৌঁছে যান জেদ্দার দক্ষিণে অবস্থিত বিশাল সমুদ্রবন্দরে। সৌভাগ্যবশত তারা তখনই পেয়ে যান দুটো মালবাহী জাহাজ। তাতে চড়েই আবিসিনিয়া পৌঁছান তাঁরা। পেয়ে যান বহুল আকাঙ্ক্ষিত নিরাপদ আশ্রয়।
এদিকে কুরাইশরা খবর পেয়ে রাগে ফেটে পড়ে। তৎক্ষণাৎ তারা তাদের পিছু ধাওয়া করে। এই ভেবে যে, তাঁদের ফিরিয়ে এনে উচিত সাজা দেওয়া যাবে। কিন্তু ততক্ষণে মুসলিমরা সমুদ্রবন্দর ছেড়ে বহুদূর চলে গেছেন। ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে মক্কায় ফিরে আসে মুশরিকরা। আর ভেতরে ভেতরে ক্রোধে জ্বলতে থাকে।[১৪০]

টিকাঃ
[১৪০] ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ১/২৪।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ: উত্তরোত্তর শত্রুতা থেকে মুসলিম সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল হিজরত। নবিজি জানতে পারেন যে, আবিসিনিয়ার ন্যায়পরায়ণ খ্রিষ্টান রাজা তাঁর শাসনভূমিতে কোনও নির্যাতন বরদাশত করেন না। তাই তিনি মুসলিমদের নির্দেশ দেন আবিসিনিয়ায় গিয়ে আশ্রয় নিতে।
নুবুওয়াতের পঞ্চম বছরের রজব মাসে মুসলিমদের প্রথম দলটি হিজরত করে। বারো জন পুরুষ এবং চার জন নারীর সেই ছোট্ট কাফেলাটি লোহিত সাগর ধরে আবিসিনিয়ায় যাত্রা করেন। দলটির নেতৃত্বে থাকেন উসমান ইবনু আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর স্ত্রী নবি-তনয়া রুকাইয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। নবি ইবরাহীম ও লূত (আলাইহিমাস সালাম)-এর পর এটাই ছিল প্রথম কোনও পরিবারের ধর্মরক্ষার্থে হিজরত করা।
মুহাজিরদের দলটি রাতের অন্ধকারে নীরবে মক্কা থেকে বেরিয়ে পড়েন। পৌঁছে যান জেদ্দার দক্ষিণে অবস্থিত বিশাল সমুদ্রবন্দরে। সৌভাগ্যবশত তারা তখনই পেয়ে যান দুটো মালবাহী জাহাজ। তাতে চড়েই আবিসিনিয়া পৌঁছান তাঁরা। পেয়ে যান বহুল আকাঙ্ক্ষিত নিরাপদ আশ্রয়।
এদিকে কুরাইশরা খবর পেয়ে রাগে ফেটে পড়ে। তৎক্ষণাৎ তারা তাদের পিছু ধাওয়া করে। এই ভেবে যে, তাঁদের ফিরিয়ে এনে উচিত সাজা দেওয়া যাবে। কিন্তু ততক্ষণে মুসলিমরা সমুদ্রবন্দর ছেড়ে বহুদূর চলে গেছেন। ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে মক্কায় ফিরে আসে মুশরিকরা। আর ভেতরে ভেতরে ক্রোধে জ্বলতে থাকে।[১৪০]

টিকাঃ
[১৪০] ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ১/২৪।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 মুসলিম-মুশরিক লুটিয়ে পড়ে সাজদায় অদৃশ্যের ইশারায়

📄 মুসলিম-মুশরিক লুটিয়ে পড়ে সাজদায় অদৃশ্যের ইশারায়


আবিসিনিয়া হিজরতের ঘটনার পর প্রায় দু-মাস পেরিয়ে গেছে। অতি সম্প্রতি নাযিল হয়েছে সূরা নাজম। নবি ﷺ একদিন এলেন কা'বা প্রাঙ্গণে। গোত্র-নেতারাসহ কুরাইশদের বিশাল একটি দল বসা ছিল তখন। হঠাৎ নবিজি কুরাইশদের সামনে গিয়ে সূরা নাজমের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করতে থাকেন। অশ্রুতপূর্ব এই শক্তিশালী কথাগুলো স্তব্ধ হয়ে শুনতে থাকে মুশরিকরা। এতদিনের চরম শত্রু এখন তাদেরই নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে যাচ্ছেন, অথচ কারও আঙুল তুলবারও সাধ্য নেই, থামানো বা বিদ্রুপ করা তো দূরের কথা। শেষ আয়াতটি পড়ে জগৎসমূহের প্রতিপালকের উদ্দেশে সাজদায় লুটিয়ে পড়লেন আল্লাহর রাসূল, "আল্লাহর প্রতি সাজদা করো এবং তাঁরই উপাসনা করো।" [১৪১]
হঠাৎ কুরাইশ মূর্তিপূজকদের কী যেন হলো। বর্ণনাতীত এক আবেগের আতিশয্যে সবাই বে-এখতিয়ার সাজদা দিয়ে বসে! একজনও বাদ ছিল না। তবে সেখানে উপস্থিত একমাত্র উমাইয়া ইবনু খালাফ সাজদা করেনি। সাহাবি ইবনু মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) তার ব্যাপারে বলেছেন, “সে সেদিন এক মুষ্টি মাটি তুলে কপালে ঘষে বলেছিল, 'আমার জন্য এটাই যথেষ্ট।” তিনি বলেন আমি তাকে কাফির অবস্থায় বদর যুদ্ধে নিহত হতে দেখেছি।[১৪২]

টিকাঃ
[১৪১] সূরা নাজম, ৫৩: ৬২।
[১৪২] বুখারি, ১০৬৭।

আবিসিনিয়া হিজরতের ঘটনার পর প্রায় দু-মাস পেরিয়ে গেছে। অতি সম্প্রতি নাযিল হয়েছে সূরা নাজম। নবি ﷺ একদিন এলেন কা'বা প্রাঙ্গণে। গোত্র-নেতারাসহ কুরাইশদের বিশাল একটি দল বসা ছিল তখন। হঠাৎ নবিজি কুরাইশদের সামনে গিয়ে সূরা নাজমের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করতে থাকেন। অশ্রুতপূর্ব এই শক্তিশালী কথাগুলো স্তব্ধ হয়ে শুনতে থাকে মুশরিকরা। এতদিনের চরম শত্রু এখন তাদেরই নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে যাচ্ছেন, অথচ কারও আঙুল তুলবারও সাধ্য নেই, থামানো বা বিদ্রুপ করা তো দূরের কথা। শেষ আয়াতটি পড়ে জগৎসমূহের প্রতিপালকের উদ্দেশে সাজদায় লুটিয়ে পড়লেন আল্লাহর রাসূল, "আল্লাহর প্রতি সাজদা করো এবং তাঁরই উপাসনা করো।" [১৪১]
হঠাৎ কুরাইশ মূর্তিপূজকদের কী যেন হলো। বর্ণনাতীত এক আবেগের আতিশয্যে সবাই বে-এখতিয়ার সাজদা দিয়ে বসে! একজনও বাদ ছিল না। তবে সেখানে উপস্থিত একমাত্র উমাইয়া ইবনু খালাফ সাজদা করেনি। সাহাবি ইবনু মাসঊদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) তার ব্যাপারে বলেছেন, “সে সেদিন এক মুষ্টি মাটি তুলে কপালে ঘষে বলেছিল, 'আমার জন্য এটাই যথেষ্ট।” তিনি বলেন আমি তাকে কাফির অবস্থায় বদর যুদ্ধে নিহত হতে দেখেছি।[১৪২]

টিকাঃ
[১৪১] সূরা নাজম, ৫৩: ৬২।
[১৪২] বুখারি, ১০৬৭।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 মুহাজিরদের প্রত্যাবর্তন

📄 মুহাজিরদের প্রত্যাবর্তন


কুরাইশরা কুরআনের আয়াত শুনে সাজদা দেওয়ার খবর আবিসিনিয়ায়ও পৌঁছে যায়। মুহাজিরদের মাঝে কানকথা ছড়িয়ে পড়ে যে, কুরাইশরা ইসলাম গ্রহণ করেছে। ফলে তাঁরা সানন্দে জাহাজে উঠে পড়েন আরবের উদ্দেশে। কিন্তু মক্কার অদূরে এসেই খবর পান যে, সবই আগের মতো আছে। আপন বাসভূমি তখনো শত্রুতার কাঁটায় ঘেরা। চারদিক নির্যাতনে ছাওয়া। হতাশ হয়ে আবার কেউ আবিসিনিয়ায় ফিরে যান, কেউ গোপনীয়ভাবে কোথাও অবস্থান করেন, আর কেউ কেউ সরাসরি মক্কায় প্রবেশ করেন সহানুভূতিশীল কোনও অমুসলিমের কাছে আশ্রয় নিয়ে। [১৪৩]

টিকাঃ
[১৪৩] ইবনু হিশাম, ১/৩৬৪; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ১/২৪, ২/৪৪।

কুরাইশরা কুরআনের আয়াত শুনে সাজদা দেওয়ার খবর আবিসিনিয়ায়ও পৌঁছে যায়। মুহাজিরদের মাঝে কানকথা ছড়িয়ে পড়ে যে, কুরাইশরা ইসলাম গ্রহণ করেছে। ফলে তাঁরা সানন্দে জাহাজে উঠে পড়েন আরবের উদ্দেশে। কিন্তু মক্কার অদূরে এসেই খবর পান যে, সবই আগের মতো আছে। আপন বাসভূমি তখনো শত্রুতার কাঁটায় ঘেরা। চারদিক নির্যাতনে ছাওয়া। হতাশ হয়ে আবার কেউ আবিসিনিয়ায় ফিরে যান, কেউ গোপনীয়ভাবে কোথাও অবস্থান করেন, আর কেউ কেউ সরাসরি মক্কায় প্রবেশ করেন সহানুভূতিশীল কোনও অমুসলিমের কাছে আশ্রয় নিয়ে। [১৪৩]

টিকাঃ
[১৪৩] ইবনু হিশাম, ১/৩৬৪; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ১/২৪, ২/৪৪।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় হিজরত

📄 আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় হিজরত


সাজদার সেই ঘটনার পর কুরাইশদের আর কোথাও মুখ দেখানোর জো রইল না। পাছে লোকে ভেবে বসে তারা মুহাম্মাদ ﷺ-এর বার্তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই তারা পূর্বের তুলনায় শত্রুতা আরও বাড়িয়ে দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ দিল। আবার মুসলিমদের প্রতি আবিসিনিয়ার রাজার উদার আচরণের কথা জেনেও রাগে ফুঁসছিল তাদের অন্তর।
নিরাপত্তার খাতিরে মুসলিমদের আরও একটি দলকে আবিসিনিয়া পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন নবিজি । বিরাশি বা তিরাশি জন পুরুষ আর আঠারো জন নারী নিজেদের প্রস্তুত করলেন এ যাত্রায়। যদিও কাফির-মুশরিকদের পাহারার চোখগুলো আগের চেয়ে সচেতন ছিল, তবুও তাঁরা সেগুলোকে ফাঁকি দিয়ে মক্কা ছাড়তে সক্ষম হলেন।

সাজদার সেই ঘটনার পর কুরাইশদের আর কোথাও মুখ দেখানোর জো রইল না। পাছে লোকে ভেবে বসে তারা মুহাম্মাদ ﷺ-এর বার্তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই তারা পূর্বের তুলনায় শত্রুতা আরও বাড়িয়ে দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ দিল। আবার মুসলিমদের প্রতি আবিসিনিয়ার রাজার উদার আচরণের কথা জেনেও রাগে ফুঁসছিল তাদের অন্তর।
নিরাপত্তার খাতিরে মুসলিমদের আরও একটি দলকে আবিসিনিয়া পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন নবিজি । বিরাশি বা তিরাশি জন পুরুষ আর আঠারো জন নারী নিজেদের প্রস্তুত করলেন এ যাত্রায়। যদিও কাফির-মুশরিকদের পাহারার চোখগুলো আগের চেয়ে সচেতন ছিল, তবুও তাঁরা সেগুলোকে ফাঁকি দিয়ে মক্কা ছাড়তে সক্ষম হলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00