📄 শুরু হলো আল্লাহর দিকে আহ্বান
নবি ও রাসূল হিসেবে নিজের দায়িত্বগুলো দৃঢ় প্রত্যয়ে পালন করতে তৈরি হন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উক্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকেই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে আল্লাহর প্রতি, ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেওয়া আরম্ভ করে দেন। যেহেতু আরব জাতি মূর্তিপূজারি, অগ্নিপূজারি ছিল, নিজ পূর্বপুরুষদের ভ্রান্ত রীতি-নীতিকেই নির্ভুল ও সঠিক মনে করত, তাদের অহংকারও ছিল খুব বেশি, সামান্য বিষয়েই খুনাখুনি ও রক্তপাত করা ছিল তাদের বৈশিষ্ট্য-এই সব বিষয় সামনে রেখেই আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দাওয়াতের কাজ গোপনে গোপনে করার নির্দেশ দেন। শুধু তাদেরই দাওয়াত দেওয়ার জন্য আদেশ করেন, যারা সত্য গ্রহণে আগ্রহী এবং যাদের নিকটে ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এ জন্যে নবি সর্বপ্রথম নিজ পরিবার, গোত্র এবং কাছের বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াত দিতে থাকেন।
📄 সর্বপ্রথম ঈমান আনলেন যাঁরা
স্বামী মুহাম্মাদ যে আল্লাহর রাসূল ও নবি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, এ কথা সবার আগে বিশ্বাস করে নেন নবিজির স্ত্রী খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)। আসলে সবচেয়ে কাছের মানুষ হিসেবে তিনিই সবচেয়ে ভালো করে জানতেন যে, মুহাম্মাদ ﷺ কোনও যেনতেন ব্যক্তি নয়। তাঁর সুমহান চরিত্র ও স্বভাবজাত নৈতিকতা তাঁকে সমাজের আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা করেছে। আল্লাহর অনাগত শেষ রাসূলের আবির্ভাবের ব্যাপারে কিছু কথাবার্তা তিনি আগেই শুনেছিলেন। আবার তিনি মুহাম্মাদ ﷺ-এর সাথে ঘটা কিছু অলৌকিক ঘটনার কথাও অন্যদের মাধ্যমে জেনেছিলেন। তা ছাড়া ওয়ারাকা ইবনু নাওফালের কথাগুলো তো তিনি সামনাসামনিই শুনেছেন। সর্বোপরি, সূরা মুদ্দাসসির নাযিল হওয়ার সময় তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং তিনিই যদি সর্বপ্রথম ইসলাম-গ্রহণকারী না হন, তাহলে আর কে হবে!
আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) খাদীজা (রদিয়াল্লাহ আনহা)-এর পর সর্বপ্রথম ইসলাম কবুল করেছেন। তিনি এই উম্মাহর প্রথম মুমিন পুরুষ। সূরা মুদ্দাসসিরের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পরই রাসূল ﷺ আবু বকরের কাছে ছুটে যান। তিনি তখন মক্কার একজন প্রধান ব্যবসায়ী। নিজ গুণেই যথেষ্ট প্রভাবশালী লোক। নবি ﷺ-এর চেয়ে মাত্র দু-বছরের ছোট। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে মুহাম্মাদ ﷺ-এর সত্যবাদিতা ও অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে তিনি ভালোই অবগত। আল্লাহর রাসূলের মুখে পুরো ঘটনা শোনার পর তিনি এতটুকুও সন্দেহ করলেন না। সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম কবুলের ঘোষণা দিলেন। আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণ করাই মুহাম্মাদ ﷺ সত্য হওয়ার অনেক বড় একটি প্রমাণ। কারণ, তিনি তাঁর ছোটবেলা থেকেই প্রকাশ্য-গোপন সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতেন।
মুহাম্মাদ ﷺ-এর মিশন শুরু হওয়ার সময় আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু) একেবারেই অল্পবয়সি বালক। কিছু সূত্র থেকে জানা যায়, মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি ইসলাম কবুল করেন। তাঁর বাবা আবূ তালিব প্রত্যেক সন্তানের ব্যয়ভার বহন করতে অপারগ হওয়ায় আলি থাকতেন মুহাম্মাদ ﷺ-এর তত্ত্বাবধানে। আর জা'ফার ছিলেন তার আরেক চাচা আব্বাস-এর দায়িত্বে। অভিভাবক মুহাম্মাদ ﷺ-কে আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) নির্দ্বিধায় ও সন্তুষ্টচিত্তে নবি হিসেবে মেনে নেন। ছোটদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী।
শুরুর দিকের আরেকজন মুসলিম যাইদ ইবনু হারিসা ইবনি শারাহীল (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি মুহাম্মাদ ﷺ-এর মুক্ত করা একজন দাস। প্রাক-ইসলামী যুগে তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়েছিল। হাকীম ইবনু হিযাম তাকে ক্রয় করে নিজ ফুপু খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-কে উপহার হিসেবে দেন। খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা) তাকে নবি-এর খিদমাতে পেশ করেন। পরবর্তী সময়ে একসময় তাঁর আত্মীয়রা জানতে পেরে মুহাম্মাদ ﷺ-এর কাছ থেকে তাঁকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দিতে চায়। কিন্তু তিনি নিজেই নবিজিকে ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। কিছুকাল তিনি যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ নামে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু পালকপুত্রকে পালকপিতার নামে পরিচিত করানোর প্রথাকে হারাম ঘোষণা করে বিধান নাযিল হয়। ফলে তাঁকে তাঁর পূর্বোক্ত আসল নামেই ডাকা শুরু হয়। কিন্তু নবিজির প্রতি যাইদের ভালোবাসা ছিল অন্তরের গভীরে প্রোথিত, নামের পরিবর্তনে যার কোনোই হেরফের হয় না।
সূরা মুদ্দাসসির নাযিল হওয়ার দিনেই এই চার জন ইসলাম গ্রহণ করেন। যে ক্রমে তাঁদের কথা উল্লেখ করা হলো, ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায় যে, তাঁদের ইসলাম গ্রহণের ক্রমও এটাই।
এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে তাঁদের জীবন। নিজে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর অন্যদেরও মূর্তিপূজা ত্যাগ করতে উৎসাহিত করতে থাকেন আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, দানশীলতা ও বুদ্ধিমত্তার জন্য খ্যাত আবু বকরের কথা আরবদের কাছে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কাউকে সত্য গ্রহণে আগ্রহী মনে হলে তিনি তার সাথে ইসলাম নিয়ে কথা বলতেন। নিয়ে যেতেন মুহাম্মাদ ﷺ-এর কাছে। আবূ বকরের মাধ্যমে যারা মুসলিম হন তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, উসমান ইবনু আফফান উমাবি, যুবাইর ইবনুল আওয়াম আসাদি, আবদুর রহমান ইবনু আওফ যুহরি, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস যুহরি এবং তালহা ইবনু উবায়দিল্লাহ তাইমি (রদিয়াল্লাহু আনহুম)।
কুরাইশদের মধ্যে আরও অনেকে একে একে মুসলিম হন। এদের মাঝে রয়েছেন, আমীনুল উম্মাহ আবু উবাইদা আমির ইবনুল জাররাহ, আবূ সালামা ইবনু আবদিল আসআদ ও তাঁর স্ত্রী উম্মু সালামা, আরকাম ইবনু আবী আরকাম, উসমান ইবনু মাযঊন, তাঁর ভাই কুদামা ইবনু মাযঊন ও আবদুল্লাহ ইবনু মাযঊন, উবাইদা ইবনুল হারিস ইবনিল মুত্তালিব, সাঈদ ইবনু যাইদ ও তাঁর স্ত্রী (উমরের বোন) ফাতিমা বিনতুল খাত্তাব, খাব্বাব ইবনুল আরাত্ত, জা'ফার ইবনু আবী তালিব, তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতু উমাইস, খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনিল আস, তাঁর স্ত্রী আমিনা বিনতু খালাফ, তার ভাই আমর ইবনু সাঈদ ইবনিল আস, হাতিব ইবনুল হারিস, তাঁর স্ত্রী ফাতিমা বিনতুল মুজাল্লিল, হাতিবের দুই ভাই খাত্তাব ইবনুল হারিস ও মুআম্মার ইবনুল হারিস, খাত্তাবের স্ত্রী ফুকাইহা বিনতু ইয়াসার, মুত্তালিব ইবনু আযহার ও তাঁর স্ত্রী রামলা বিনতু আবী আওফ এবং নাঈম ইবন আবদিল্লাহ ইবনি নাহাম। রদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন।
অন্যান্য গোত্র থেকে আগত ইসলাম গ্রহণকারীরা হলেন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ হুযালি, মাসউদ ইবনু রবীআ, আবদুল্লাহ ইবনু জাহশ ও তাঁর ভাই আবূ আহমাদ ইবনু জাহশ, সুহাইব ইবনু সিনান রুমি, আম্মার ইবনু ইয়াসির আনসি, পিতা ইয়াসির ও তাঁর মাতা সুমাইয়া এবং আমির ইবনু ফুহাইরা রদিয়াল্লাহু আনহুম।
ওপরে উল্লেখিত নারী সাহাবি ছাড়াও যারা প্রথম দিকে ঈমান এনেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন, নবিজি ﷺ-এর পিতার আবিসিনিয়ান দাসী উম্মু আইমান, যার নাম বারাকাহ। শিশু মুহাম্মাদকে তিনি লালন-পালন করেছিলেন। যার আলোচনা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও আছেন নবিজির চাচা আব্বাসের স্ত্রী উম্মুল ফাল লুবাবাহ আল-কুবরা বিনতুল হারিস হিলায়্যা এবং আসমা বিনতু আবী বকর সিদ্দিক রদিয়াল্লাহু আনহুন্না।[৪৩]
অনুসন্ধান ও তালাশের মাধ্যমে জানা যায়, যারা একদম শুরুতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের মোট সংখ্যা ১৩০। তবে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা করে ইসলাম গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় নির্ণয় করাটা মুশকিল। তবে এই সংখ্যার মধ্যে নবি প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করার পর ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিগণও সম্ভবত অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
টিকাঃ
[৪৩] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/২৪৫-২৬২।
📄 ঈমানদারদের ইবাদাত ও প্রশিক্ষণ
সূরা মুদ্দাসসিরের নির্দেশনাগুলো শুধু নবিজি ﷺ-এর জন্যই ছিল না; বরং সকল মুমিনের জন্য। এ আয়াতগুলোতে জীবনযাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু মূলনীতি দেওয়া হয়। এ নিয়মগুলো আজও সকল মুসলিমের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। সূরা মুদ্দাসসির অবতীর্ণ হওয়ার পর ওহি ধারাবাহিকভাবে আসতে শুরু করে। এর পরই নাযিল হয় সূরা ফাতিহা। আল্লাহর স্তুতি বর্ণনা ও প্রার্থনা করার বেশ কিছু নিয়ম ও পদ্ধতি আলোচিত হয়েছে এখানে। আরও জানা যায় দুনিয়া ও আখিরাতে সকল কাজের প্রতিদান পাওয়ার বিষয়টিও।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হওয়ার পর তার ওপর গড়ে তুলতে বলা হয় ইবাদাতের দালান। রিসালাত-প্রাপ্তির পর সর্বপ্রথম যে আমলের নির্দেশ আসে, তা হলো সালাত। জিবরীল (আলাইহিস সালাম) নবিজি ﷺ-কে ওজু করার এবং সালাত আদায়ের নিয়ম শেখান। তারপর সকালে ও সন্ধ্যায় দু-রাকাআত করে সালাত পড়ার আদেশ করেন। [৪৪]
ওজু যেহেতু সালাতের পূর্বশর্ত, তাই পবিত্রতা হয়ে যায় মুমিনের চিহ্ন। সূরা ফাতিহাকে সালাতের আসল এবং হাম্দ ও তাস্বীহকে সালাতের অন্যান্য যিক্ হিসাবে সাব্যস্ত করা হয়। প্রতিটি নড়াচড়ার মাঝে থাকে আল্লাহ তাআলার মহিমা ও বড়ত্বের ঘোষণা। ঈমানের এই প্রধান অবলম্বনকে মুশরিকদের পূতিগন্ধ ও অত্যাচার থেকে মুক্ত রাখতে মুমিনরা তখন সালাত আদায় করতেন গিরি-উপত্যকার মতো নির্জন স্থানে। কখনও গোপন কোনও ঘাঁটি নির্বাচন করতেন সালাত আদায়ের জন্য। [৪৫]
ইসলামের প্রাথমিক সময়টাতে সালাত ছাড়া অন্য কোনও ইবাদাত কিংবা আদেশ- নিষেধ ছিল না। এ সময়ে নাযিল হওয়া ওহির মূল বক্তব্য ছিল ঈমানের বিভিন্ন বিষয় এবং তাওহীদ। সাহাবিদের মাঝে এ-সকল আয়াত আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করে। জান্নাত-জাহান্নামের স্পষ্ট বর্ণনাও দেওয়া হয়। জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব, আখিরাতের চিরস্থায়িত্ব, চিরশান্তি ও চিরশাস্তির কথা বিধৃত হয় সুসংবাদ ও সতর্কবাণীর আকারে।
নবি তাঁর প্রতি নাযিল হওয়া আয়াতগুলোর অর্থ অনুসারীদের শিখিয়ে দিতেন। আর এ নির্দেশনাগুলোর নিখুঁত বাস্তব রূপ দেখিয়ে দিতেন নিজে পালন করার মাধ্যমে। অবিশ্বাসের অন্ধকার থেকে তাঁদের নিয়ে চলেন ঈমানের আলোতে, দেখিয়ে দেন সরল পথ, আর খুব আন্তরিকভাবে নসীহত করেন আল্লাহর দ্বীনকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে। আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে দূরে থাকতে। মুখ ফিরিয়ে নিতে।
তখনো নবিজি প্রকাশ্যে দাওয়াত দেওয়া শুরু করেননি। কিন্তু কুরাইশরা তাঁর কর্মতৎপরতা আঁচ করতে পারে। কয়েকজন মুমিন প্রকাশ্যে তাঁদের নতুন দ্বীন পালন করতেন। কুরাইশরা তাদের বিদ্রূপ করতেন এবং বাধাও দিতেন, তবে তা ছিল একেবারে সামান্য। প্রথমদিকে তারা খুব একটা পাত্তা দেয়নি এই অল্প অল্প সামাজিক পরিবর্তনকে। রাসূল ﷺ-ও তখন তাদের বা তাদের উপাস্যদের কোনও বিরোধিতা করেননি এবং তাদের ব্যাপারে কোনও কথা বলেননি।
টিকাঃ
[৪৪] শাইখ আবদুল্লাহ, মুখতাসারুস-সীরাহ, ৮৮।
[৪৫] আবূ দাউদ, আল-মুসনাদ, ১৮৪; ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/২৪৭।
📄 গোত্রে গোত্রে ইসলামের দাওয়াত
প্রতি বছর আরবের তিন জায়গায় তিনটি বিরাট মেলা বসত-উকায, মাজিন্না ও যুল মাজায। সারা আরব থেকে মানুষের ঢল নামত এ জায়গাগুলোতে। নাখলা ও তায়িফের মাঝখানে অবস্থিত উকায গ্রাম। যুল-কা'দা মাসের বিশ দিন জুড়ে সেখানে মেলা চলত। তারপর সেখান থেকে লোকজন চলে যেত মাজিন্নায়। বসাত বাহারি পণ্যের দোকান। যুল-কা'দের বাকি দশদিন সেখানে মেলা থাকত। মাজিন্না হলো মক্কা থেকে একটু নিচে মাররুয যাহরান উপত্যকায়। আরাফার ময়দানে জাবালে রহমতের পেছনেই অবস্থিত যুল মাজায। যুল-হিজ্জাহ মাসের প্রথম আট দিন সেখানকার মেলায় হতো রমরমা বেচাকেনা আর অসংখ্য মানুষের ভিড়। ওখান থেকেই পরে লোকজন এসে হাজ্জের আনুষ্ঠানিকতা আরম্ভ করত।
মক্কার বাইরের বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে ইসলামের দাওয়াহ পৌঁছানোর জন্য এ সময়টি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। একে একে ইসলামের আহ্বান শুনতে পায় বানু আমির ইবনু সা'সাআ, বানু মুহারিব, বানু ফাযারা, গাসসান ও মুররা, বান্ হানীফা, বানু সুলাইম, বানু আক্স, বান্ নাসর, বানুল বুকা, কিন্দা ও কাল্ব, বানুল হারিস ইবনি কা'ব, উযরা এবং হাদারামা। এই গোত্রগুলোর কোনওটিই নবিজি ﷺ-এর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। [২১০] কিন্তু এদের একেকটির জবাব ছিল একেক ধরনের। কেউ বিনীতভাবে নাকচ করে। কেউ ক্ষমতার গন্ধ পেয়ে বায়না ধরে যে, নবিজির মৃত্যুর পর যেন তাদের এ কাজের উত্তরসূরি বানিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ অজুহাত দেয় যে, রাসূলুল্লাহর স্বগোত্রীয় ও আত্মীয়দের বেশির ভাগই তো তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি। আবার কেউ কেউ সরাসরি অপমান করে বসে। বিশেষ করে বানূ হানীফার আচরণ ছিল মাত্রাতিরিক্ত কুৎসিত। পরে একসময় নিজেকে নবি বলে দাবি করা মিথ্যুক মুসাইলিমা এ গোত্রেরই সদস্য ছিল। [২১১]
টিকাঃ
[২১০] ইবনু সা'দ, তবাকাত, ১/২১৬।
[২১১] ইবনু হিশাম, ১/৪২৪-৪২৫।