📄 নুবুওয়াত ও ওহি সূচনার তারিখ
এই ঘটনাই ওহি অবতীর্ণ হওয়ার ও নুবুওয়াত-প্রাপ্তির সর্বপ্রথম ঘটনা। এটি সংঘটিত হয় রমাদান মাসে কদরের রাত্রে (লাইলাতুল কদর-এ)।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيْهِ الْقُرْآنُ
“রমাদান মাস, এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়।”[৩৭] আবার অন্য স্থানে বলেছেন,
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (1) “নিশ্চয়ই আমি একে অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে।”[৩৮]
বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, এই ঘটনা ঘটে সোমবার রাতের শেষ প্রহরে সূর্যোদয়ের খানিক পূর্বে। সময়টা ছিল রমাদান মাসে কদরের রাত্রি। সে বছর কদর ছিল ২১ রমাদানে। সে অনুসারে নবি ﷺ-এর নুবুওয়াতের সূচনা হয় তাঁর জন্মের একচল্লিশতম বছরের ২১ রমাদান সোমবার রাতে।[৩৯] ১০ আগস্ট ৬১০ ঈসায়ি। চন্দ্রবর্ষের হিসেবমতে তখন মুহাম্মাদ ﷺ-এর বয়স ছিল ৪০ বছর ৬ মাস ১২ দিন। আর সৌরবর্ষের হিসেবমতে ৩৯ বছর ৩ মাস ২২ দিন। সৌরবর্ষ অনুসারে নবি চল্লিশতম বছরের শুরুর দিকেই নুবুওয়াত-প্রাপ্ত হয়েছেন।
টিকাঃ
[৩৭] সূরা বাকারা, ২: ১৮৫।
[৩৮] সূরা কদর, ৯৭: ১।
[৩৯] অন্য একটি সহীহ হাদীস অনুযায়ী কুরআন অবতীর্ণের তারীখ হলো, ২৪ রমাদান (২৫তম রাতে)। আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/১০৭।
📄 ওহি-বিরতি ও পুনরাবৃত্তি
হেরা গুহার সে ঘটনার পর কোনও ওহি আসা ছাড়াই বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে যায়।[৪০] মুহাম্মাদ ﷺ-এর দুশ্চিন্তা হয় যে, আল্লাহ মনে হয় তাঁকে ত্যাগ করেছেন। কিন্তু কেন? হতাশায় মাঝেমাঝে তিনি পাহাড় থেকে লাফ দিতে চাইতেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়টায় জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর উপস্থিতি অনুভূত হতো, ফলে শান্ত হয়ে যেতেন তিনি। আসলে এই বিরতিটুকু পরেরবার ওহি লাভের কষ্ট সামলাতে মুহাম্মাদ-কে প্রস্তুত করে। ভয় দূর করে এবং নিজেকে স্বাভাবিক করে তুলতে সাহায্য করে। এ কারণে বরং তিনি ওহির প্রতি একধরনের আগ্রহ ও টান অনুভব করেন। ওহি অবতীর্ণ হওয়ার প্রতীক্ষা করতে থাকেন।
মুহাম্মাদ একদিন হেরা গুহায় ইবাদাত শেষে পাহাড় বেয়ে নামছিলেন। এমন সময় আরেকটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। তাঁর নিজের বর্ণনায় ঘটনাটি এমন: "পাহাড় থেকে নেমে উপত্যকায় আসতেই কাউকে আমাকে ডাকতে শুনলাম। ফলে আমি আমার ডানে তাকালাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। বামে তাকালাম সেখানেও কিছু নেই। সামনে তাকালাম, পেছনে তাকালাম কিন্তু কিছুই দেখলাম না। এরপর আমি মাথা তুলে দিগন্তপানে তাকালাম। দেখি হেরা গুহায় আমার কাছে যিনি এসেছিলেন, সেই ফেরেশতা। আসমান ও জমীনের মাঝে বিরাট এক চেয়ারে বসে আছেন। তাঁকে দেখে আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলাম। এরপর দ্রুতপায়ে বাসায় ফিরে খাদীজাকে বললাম, “আমায় চাদর দিয়ে ঢেকে দাও! আমায় চাদর দিয়ে ঢেকে দাও! আমাকে কম্বল পরিয়ে দাও আর আমার ওপর একটু ঠান্ডা পানি ঢালো!” ফলে সে আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দেয় এবং ঠান্ডা পানি ঢালে। অতঃপর অবতীর্ণ হতে শুরু করে-
يَا أَيُّهَا الْمُدَّشِّرُ ﴿1﴾ قُمْ فَأَنْذِرُ ﴿٢﴾ وَرَبَّكَ فَكَبِّرُ ﴿٣﴾ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ﴿٤﴾ وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ ﴿٥﴾ وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ ﴿٦﴾ وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ (۷)
“হে বস্ত্রাবৃত, উঠুন এবং সতর্ক করুন! আপনার প্রতিপালকের বড়ত্ব বর্ণনা করুন। পোশাক পবিত্র করে নিন। অপবিত্রতা পরিহার করুন। বেশি পাওয়ার লোভে দান করবেন না; বরং আপনার প্রতিপালকের জন্য ধৈর্য ধরুন।”[৪১]
এই ঘটনা সালাত ফরজ হওয়ার পূর্বেই ঘটেছিল। এরপর থেকে ওহি ধারাবাহিকভাবে নাযিল হওয়া আরম্ভ হয়।[৪২]
প্রথম ওহির মাধ্যমে মুহাম্মাদ ﷺ-কে নবি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় ওহির মাধ্যমে তাঁকে রাসূল হিসেবে নির্বাচিত করা হলো। নুবুওয়াত ও রিসালাতের মাঝে ওহি-বিরতির সময়টুকুই ব্যবধান। উক্ত আয়াতে নবি ﷺ-কে দুটো কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সে দুটি কাজের পরিণামও জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমটি হলো, فَأَنْذِرُ 'উঠুন এবং সতর্ক করুন' আদেশ করা হচ্ছে, মানুষকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জানিয়ে দিতে এবং তাদের পাপরাশির কঠোর পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করতে। তারা যে পথভ্রষ্টতা ও পাপাচারে লিপ্ত রয়েছে, গাইরুল্লাহর পূজা করছে এবং আল্লাহর সাথে তাদের শরীক করছে এর পরিণামে আল্লাহ তাদের কঠোর শাস্তি দেবেন। তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো, আপনি নিজেও আল্লাহর আদেশ-নিষেধগুলো যথাযথভাবে পালন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হোন। অন্যের জন্য নিজেকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলুন। পরবর্তী আয়াতগুলোতে এই আদেশ করা হয়েছে।
وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ -'আপনার প্রতিপালকের বড়ত্ব বর্ণনা করুন'-দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, আপনি বড়ত্ব এবং মহত্ত্ব বর্ণনার জন্য কেবল আল্লাহ তাআলাকেই নির্দিষ্ট করে নিন। এর মধ্যে অন্য কাউকে শরীক করবেন না।
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ -এই আয়াতের আক্ষরিক অর্থ হলো, 'আপনার পোশাক পবিত্র করে নিন'-যাতে আপনার কাপড়ে এবং শরীরে কোনও নাপাকি না থাকে। কারণ, আল্লাহর সামনে অপবিত্রাবস্থায় দাঁড়ানো অনুচিত। তবে গবেষকদের মতে আক্ষরিক অর্থের পাশাপাশি এটিও উদ্দেশ্য যে, আপনি আপনার অন্তরাত্মাকে পবিত্র রাখুন।
وَالرُّجْزَ فَاهْجُرُ -'অপবিত্রতা পরিহার করুন'—বলে নবি ﷺ-কে আদেশ করা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি ও আযাবের কারণসমূহ থেকে এবং নিজ সম্প্রদায়ের মন্দ- কর্ম, অসৎ আচরণ ও অপবিত্রতা থেকে নিজেকে দূরে থাকুন।
وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ - ‘বেশি পাওয়ার লোভে অনুগ্রহ করবেন না'- অর্থাৎ পার্থিব জীবনেই কাজের প্রতিদান পেতে তাড়াহুড়া করবেন না; বরং মনে করবেন, বিপদাপদ হলো পরীক্ষার একটি পন্থা। এই জন্য নিজ সম্প্রদায়ের দ্বীন ছেড়ে দেওয়া এবং এক আল্লাহর দিকে আহ্বান করতে গিয়ে কষ্ট ও মুসীবত সহ্য করতে নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন।
وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ – 'আর আপনার প্রতিপালকের জন্য ধৈর্য ধরুন।'
টিকাঃ
[৪০] ইবনু সা'দ, তবাকাতুল কুবরা, ১/১৯৬।
[৪১] সূরা মুদ্দাসসির, ৭৪ : ১-৭।
[৪২] বুখারি, ৪৯২৬; মুসলিম, ১৬১।
📄 শুরু হলো আল্লাহর দিকে আহ্বান
নবি ও রাসূল হিসেবে নিজের দায়িত্বগুলো দৃঢ় প্রত্যয়ে পালন করতে তৈরি হন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উক্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকেই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে আল্লাহর প্রতি, ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেওয়া আরম্ভ করে দেন। যেহেতু আরব জাতি মূর্তিপূজারি, অগ্নিপূজারি ছিল, নিজ পূর্বপুরুষদের ভ্রান্ত রীতি-নীতিকেই নির্ভুল ও সঠিক মনে করত, তাদের অহংকারও ছিল খুব বেশি, সামান্য বিষয়েই খুনাখুনি ও রক্তপাত করা ছিল তাদের বৈশিষ্ট্য-এই সব বিষয় সামনে রেখেই আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দাওয়াতের কাজ গোপনে গোপনে করার নির্দেশ দেন। শুধু তাদেরই দাওয়াত দেওয়ার জন্য আদেশ করেন, যারা সত্য গ্রহণে আগ্রহী এবং যাদের নিকটে ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এ জন্যে নবি সর্বপ্রথম নিজ পরিবার, গোত্র এবং কাছের বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াত দিতে থাকেন।
📄 সর্বপ্রথম ঈমান আনলেন যাঁরা
স্বামী মুহাম্মাদ যে আল্লাহর রাসূল ও নবি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, এ কথা সবার আগে বিশ্বাস করে নেন নবিজির স্ত্রী খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)। আসলে সবচেয়ে কাছের মানুষ হিসেবে তিনিই সবচেয়ে ভালো করে জানতেন যে, মুহাম্মাদ ﷺ কোনও যেনতেন ব্যক্তি নয়। তাঁর সুমহান চরিত্র ও স্বভাবজাত নৈতিকতা তাঁকে সমাজের আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা করেছে। আল্লাহর অনাগত শেষ রাসূলের আবির্ভাবের ব্যাপারে কিছু কথাবার্তা তিনি আগেই শুনেছিলেন। আবার তিনি মুহাম্মাদ ﷺ-এর সাথে ঘটা কিছু অলৌকিক ঘটনার কথাও অন্যদের মাধ্যমে জেনেছিলেন। তা ছাড়া ওয়ারাকা ইবনু নাওফালের কথাগুলো তো তিনি সামনাসামনিই শুনেছেন। সর্বোপরি, সূরা মুদ্দাসসির নাযিল হওয়ার সময় তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং তিনিই যদি সর্বপ্রথম ইসলাম-গ্রহণকারী না হন, তাহলে আর কে হবে!
আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) খাদীজা (রদিয়াল্লাহ আনহা)-এর পর সর্বপ্রথম ইসলাম কবুল করেছেন। তিনি এই উম্মাহর প্রথম মুমিন পুরুষ। সূরা মুদ্দাসসিরের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পরই রাসূল ﷺ আবু বকরের কাছে ছুটে যান। তিনি তখন মক্কার একজন প্রধান ব্যবসায়ী। নিজ গুণেই যথেষ্ট প্রভাবশালী লোক। নবি ﷺ-এর চেয়ে মাত্র দু-বছরের ছোট। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে মুহাম্মাদ ﷺ-এর সত্যবাদিতা ও অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে তিনি ভালোই অবগত। আল্লাহর রাসূলের মুখে পুরো ঘটনা শোনার পর তিনি এতটুকুও সন্দেহ করলেন না। সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম কবুলের ঘোষণা দিলেন। আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণ করাই মুহাম্মাদ ﷺ সত্য হওয়ার অনেক বড় একটি প্রমাণ। কারণ, তিনি তাঁর ছোটবেলা থেকেই প্রকাশ্য-গোপন সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতেন।
মুহাম্মাদ ﷺ-এর মিশন শুরু হওয়ার সময় আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু) একেবারেই অল্পবয়সি বালক। কিছু সূত্র থেকে জানা যায়, মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি ইসলাম কবুল করেন। তাঁর বাবা আবূ তালিব প্রত্যেক সন্তানের ব্যয়ভার বহন করতে অপারগ হওয়ায় আলি থাকতেন মুহাম্মাদ ﷺ-এর তত্ত্বাবধানে। আর জা'ফার ছিলেন তার আরেক চাচা আব্বাস-এর দায়িত্বে। অভিভাবক মুহাম্মাদ ﷺ-কে আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) নির্দ্বিধায় ও সন্তুষ্টচিত্তে নবি হিসেবে মেনে নেন। ছোটদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী।
শুরুর দিকের আরেকজন মুসলিম যাইদ ইবনু হারিসা ইবনি শারাহীল (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি মুহাম্মাদ ﷺ-এর মুক্ত করা একজন দাস। প্রাক-ইসলামী যুগে তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়েছিল। হাকীম ইবনু হিযাম তাকে ক্রয় করে নিজ ফুপু খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-কে উপহার হিসেবে দেন। খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা) তাকে নবি-এর খিদমাতে পেশ করেন। পরবর্তী সময়ে একসময় তাঁর আত্মীয়রা জানতে পেরে মুহাম্মাদ ﷺ-এর কাছ থেকে তাঁকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দিতে চায়। কিন্তু তিনি নিজেই নবিজিকে ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। কিছুকাল তিনি যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ নামে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু পালকপুত্রকে পালকপিতার নামে পরিচিত করানোর প্রথাকে হারাম ঘোষণা করে বিধান নাযিল হয়। ফলে তাঁকে তাঁর পূর্বোক্ত আসল নামেই ডাকা শুরু হয়। কিন্তু নবিজির প্রতি যাইদের ভালোবাসা ছিল অন্তরের গভীরে প্রোথিত, নামের পরিবর্তনে যার কোনোই হেরফের হয় না।
সূরা মুদ্দাসসির নাযিল হওয়ার দিনেই এই চার জন ইসলাম গ্রহণ করেন। যে ক্রমে তাঁদের কথা উল্লেখ করা হলো, ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায় যে, তাঁদের ইসলাম গ্রহণের ক্রমও এটাই।
এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে তাঁদের জীবন। নিজে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর অন্যদেরও মূর্তিপূজা ত্যাগ করতে উৎসাহিত করতে থাকেন আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, দানশীলতা ও বুদ্ধিমত্তার জন্য খ্যাত আবু বকরের কথা আরবদের কাছে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কাউকে সত্য গ্রহণে আগ্রহী মনে হলে তিনি তার সাথে ইসলাম নিয়ে কথা বলতেন। নিয়ে যেতেন মুহাম্মাদ ﷺ-এর কাছে। আবূ বকরের মাধ্যমে যারা মুসলিম হন তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, উসমান ইবনু আফফান উমাবি, যুবাইর ইবনুল আওয়াম আসাদি, আবদুর রহমান ইবনু আওফ যুহরি, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস যুহরি এবং তালহা ইবনু উবায়দিল্লাহ তাইমি (রদিয়াল্লাহু আনহুম)।
কুরাইশদের মধ্যে আরও অনেকে একে একে মুসলিম হন। এদের মাঝে রয়েছেন, আমীনুল উম্মাহ আবু উবাইদা আমির ইবনুল জাররাহ, আবূ সালামা ইবনু আবদিল আসআদ ও তাঁর স্ত্রী উম্মু সালামা, আরকাম ইবনু আবী আরকাম, উসমান ইবনু মাযঊন, তাঁর ভাই কুদামা ইবনু মাযঊন ও আবদুল্লাহ ইবনু মাযঊন, উবাইদা ইবনুল হারিস ইবনিল মুত্তালিব, সাঈদ ইবনু যাইদ ও তাঁর স্ত্রী (উমরের বোন) ফাতিমা বিনতুল খাত্তাব, খাব্বাব ইবনুল আরাত্ত, জা'ফার ইবনু আবী তালিব, তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতু উমাইস, খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনিল আস, তাঁর স্ত্রী আমিনা বিনতু খালাফ, তার ভাই আমর ইবনু সাঈদ ইবনিল আস, হাতিব ইবনুল হারিস, তাঁর স্ত্রী ফাতিমা বিনতুল মুজাল্লিল, হাতিবের দুই ভাই খাত্তাব ইবনুল হারিস ও মুআম্মার ইবনুল হারিস, খাত্তাবের স্ত্রী ফুকাইহা বিনতু ইয়াসার, মুত্তালিব ইবনু আযহার ও তাঁর স্ত্রী রামলা বিনতু আবী আওফ এবং নাঈম ইবন আবদিল্লাহ ইবনি নাহাম। রদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন।
অন্যান্য গোত্র থেকে আগত ইসলাম গ্রহণকারীরা হলেন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ হুযালি, মাসউদ ইবনু রবীআ, আবদুল্লাহ ইবনু জাহশ ও তাঁর ভাই আবূ আহমাদ ইবনু জাহশ, সুহাইব ইবনু সিনান রুমি, আম্মার ইবনু ইয়াসির আনসি, পিতা ইয়াসির ও তাঁর মাতা সুমাইয়া এবং আমির ইবনু ফুহাইরা রদিয়াল্লাহু আনহুম।
ওপরে উল্লেখিত নারী সাহাবি ছাড়াও যারা প্রথম দিকে ঈমান এনেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন, নবিজি ﷺ-এর পিতার আবিসিনিয়ান দাসী উম্মু আইমান, যার নাম বারাকাহ। শিশু মুহাম্মাদকে তিনি লালন-পালন করেছিলেন। যার আলোচনা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও আছেন নবিজির চাচা আব্বাসের স্ত্রী উম্মুল ফাল লুবাবাহ আল-কুবরা বিনতুল হারিস হিলায়্যা এবং আসমা বিনতু আবী বকর সিদ্দিক রদিয়াল্লাহু আনহুন্না।[৪৩]
অনুসন্ধান ও তালাশের মাধ্যমে জানা যায়, যারা একদম শুরুতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের মোট সংখ্যা ১৩০। তবে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা করে ইসলাম গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় নির্ণয় করাটা মুশকিল। তবে এই সংখ্যার মধ্যে নবি প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করার পর ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিগণও সম্ভবত অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
টিকাঃ
[৪৩] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/২৪৫-২৬২।