📄 নুবুওয়াতের সূচনা ও ওহির অবতরণ
যথারীতি তিনি তৃতীয় রমাদানেও হেরা গুহায় একাকী আল্লাহর যিক্ ও ইবাদাত করছিলেন। তখন নবি ﷺ-এর বয়স একচল্লিশ চলছিল। হঠাৎ সেখানে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করেন এবং মুহাম্মাদ ﷺ-কে ওহি ও নুবুওয়াত দানে সৌভাগ্য-মণ্ডিত করেন। বহু হাদীসের বর্ণনাকারী আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মুখেই শোনা যাক সাধারণ এক মানুষের নবি হয়ে ওঠার মুহূর্তটি সম্পর্কে:
“নবি ﷺ-এর ওপর ওহির সূচনা হয় ঘুমের মধ্যে ভালো ভালো স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে। তিনি স্বপ্নে যা দেখতেন তা হুবহু সেভাবেই ঘটত, প্রভাতের আলোর ন্যায় (সুস্পষ্ট)। এরপর একসময় তাঁর কাছে একাকিত্ব প্রিয় হয়ে ওঠে। হেরা গুহায় গিয়ে তিনি কয়েক দিন ও রাত ধ্যান করে কাটাতেন। বেশ কিছুদিন থাকার মতো খাবার-পানি সাথে করে নিয়ে যেতেন তিনি। পরে কোনও একসময় খাদীজার কাছে ফিরে এসে আবারও জিনিসপত্র গুটিয়ে রওনা হতেন। কয়েকদিন ধরে এ-রকমই চলল। অবশেষে একদিন তিনি হেরা গুহায় থাকাকালে এক ফেরেশতা তাঁর কাছে আসেন সত্যের বাণী নিয়ে। ফেরেশতা এসে বললেন, “পড়ুন!”
"আমি পড়তে জানি না।” মুহাম্মাদ জবাব দিলেন। ফেরেশতা তাঁকে ধরে সজোরে চাপ দিয়ে সহ্যের শেষ সীমা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে আবারও বললেন, "পড়ুন!”
মুহাম্মাদ বললেন, "আমি তো পড়তে জানি না!” ফেরেশতা আবারও আগের মতো চাপ দিয়ে বললেন, “পড়ুন!”
মুহাম্মাদ একইভাবে বললেন, “আমি পড়তে পারি না!” তৃতীয়বারের মতো চাপ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর ফেরেশতা বললেন, "পড়ুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্তবিন্দু থেকে। পড়ুন! আর আপনার প্রতিপালক মহাসম্মানিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।” [৩৫]
ভীত-সন্ত্রস্ত নবিজির হৃৎপিণ্ডের গতি প্রচণ্ড বেড়ে গেছে। দ্রুত ঘরে ফিরে এসে খাদীজাকে বলতে লাগলেন, "আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও! আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও!” খাদীজা তাঁর গায়ে চাদর জড়িয়ে দিয়ে তাঁকে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করলেন, “কী হয়েছে সেটা তো বলবেন!" খানিক ধাতস্থ হয়ে নবিজি হেরা গুহায় ঘটে যাওয়া সবকিছুর বর্ণনা দিলেন। তারপর বললেন, “আমি আমার জীবন-নাশের আশঙ্কা করছি!!"
খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, “আল্লাহর শপথ! এমন কখনও হবে না। আল্লাহ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। কারণ, আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়ের বোঝা নিজে বহন করেন, গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করেন, মেহমানদের আপ্যায়ন করেন এবং ভালো কাজে সহযোগিতা করে থাকেন।”
এরপর খাদীজা (রদিয়াল্লাহু আনহা) মুহাম্মাদ ﷺ-কে তার এক জ্ঞাতিভাইয়ের কাছে নিয়ে গেলেন। তাঁর নাম ওয়ারাকা ইবনু নাওফাল। মূর্তিপূজা ত্যাগ করে তিনি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীন গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিব্রু ভাষা পড়তে ও লিখতে জানতেন। আল্লাহ তাআলার তাওফীকে হিব্রু ভাষায় ইনজিল লিপিবদ্ধ করছিলেন। সে সময় তিনি অতিশয় বৃদ্ধ এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।
খাদীজা বললেন, “ভাই, শুনুন তো আপনার ভাতিজা কী বলে।”
ওয়ারাকা বললেন “ভাতিজা, কী হয়েছে?” নবি তার কাছে পুরো ঘটনা বিস্তারিতভাবে বললেন। সব শুনে ওয়ারাকার বিস্ময়কর জবাব, “আরে! এ তো সেই একই ফেরেশতা, যাকে আল্লাহ তাআলা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাছেও পাঠিয়েছিলেন! ইস্! আমি যদি এখন যুবক থাকতাম! তোমার কওম যেদিন তোমাকে এই শহর থেকে বের করে দেবে, সে সময় পর্যন্ত আমি যদি জীবিত থাকতাম!”
"তারা আমাকে বের করে দেবে?” অবাক হয়ে বললেন মুহাম্মাদ!
“হ্যাঁ! তোমার মতো এই বিষয় যাদের কাছেই এসেছিল, তাঁদের সবাই এ-রকম শত্রুতার সম্মুখীন হয়েছেন। তুমি বহিষ্কৃত হওয়ার সময় যদি আমি বেঁচে থাকি, তাহলে অবশ্যই সর্বশক্তি দিয়ে সাহায্য করব তোমায়।” এর কিছুদিন পর ওয়ারাকার মৃত্যু হয় এবং ওহি আসা বন্ধ হয়। [৩৬]
টিকাঃ
[৩৫] সূরা আলাক, ৯৬ : ১-৫।
[৩৬] বুখারি, ০৩; মুসলিম, ১৬০।
📄 নুবুওয়াত ও ওহি সূচনার তারিখ
এই ঘটনাই ওহি অবতীর্ণ হওয়ার ও নুবুওয়াত-প্রাপ্তির সর্বপ্রথম ঘটনা। এটি সংঘটিত হয় রমাদান মাসে কদরের রাত্রে (লাইলাতুল কদর-এ)।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيْهِ الْقُرْآنُ
“রমাদান মাস, এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়।”[৩৭] আবার অন্য স্থানে বলেছেন,
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (1) “নিশ্চয়ই আমি একে অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে।”[৩৮]
বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, এই ঘটনা ঘটে সোমবার রাতের শেষ প্রহরে সূর্যোদয়ের খানিক পূর্বে। সময়টা ছিল রমাদান মাসে কদরের রাত্রি। সে বছর কদর ছিল ২১ রমাদানে। সে অনুসারে নবি ﷺ-এর নুবুওয়াতের সূচনা হয় তাঁর জন্মের একচল্লিশতম বছরের ২১ রমাদান সোমবার রাতে।[৩৯] ১০ আগস্ট ৬১০ ঈসায়ি। চন্দ্রবর্ষের হিসেবমতে তখন মুহাম্মাদ ﷺ-এর বয়স ছিল ৪০ বছর ৬ মাস ১২ দিন। আর সৌরবর্ষের হিসেবমতে ৩৯ বছর ৩ মাস ২২ দিন। সৌরবর্ষ অনুসারে নবি চল্লিশতম বছরের শুরুর দিকেই নুবুওয়াত-প্রাপ্ত হয়েছেন।
টিকাঃ
[৩৭] সূরা বাকারা, ২: ১৮৫।
[৩৮] সূরা কদর, ৯৭: ১।
[৩৯] অন্য একটি সহীহ হাদীস অনুযায়ী কুরআন অবতীর্ণের তারীখ হলো, ২৪ রমাদান (২৫তম রাতে)। আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/১০৭।
📄 ওহি-বিরতি ও পুনরাবৃত্তি
হেরা গুহার সে ঘটনার পর কোনও ওহি আসা ছাড়াই বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে যায়।[৪০] মুহাম্মাদ ﷺ-এর দুশ্চিন্তা হয় যে, আল্লাহ মনে হয় তাঁকে ত্যাগ করেছেন। কিন্তু কেন? হতাশায় মাঝেমাঝে তিনি পাহাড় থেকে লাফ দিতে চাইতেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়টায় জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর উপস্থিতি অনুভূত হতো, ফলে শান্ত হয়ে যেতেন তিনি। আসলে এই বিরতিটুকু পরেরবার ওহি লাভের কষ্ট সামলাতে মুহাম্মাদ-কে প্রস্তুত করে। ভয় দূর করে এবং নিজেকে স্বাভাবিক করে তুলতে সাহায্য করে। এ কারণে বরং তিনি ওহির প্রতি একধরনের আগ্রহ ও টান অনুভব করেন। ওহি অবতীর্ণ হওয়ার প্রতীক্ষা করতে থাকেন।
মুহাম্মাদ একদিন হেরা গুহায় ইবাদাত শেষে পাহাড় বেয়ে নামছিলেন। এমন সময় আরেকটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। তাঁর নিজের বর্ণনায় ঘটনাটি এমন: "পাহাড় থেকে নেমে উপত্যকায় আসতেই কাউকে আমাকে ডাকতে শুনলাম। ফলে আমি আমার ডানে তাকালাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। বামে তাকালাম সেখানেও কিছু নেই। সামনে তাকালাম, পেছনে তাকালাম কিন্তু কিছুই দেখলাম না। এরপর আমি মাথা তুলে দিগন্তপানে তাকালাম। দেখি হেরা গুহায় আমার কাছে যিনি এসেছিলেন, সেই ফেরেশতা। আসমান ও জমীনের মাঝে বিরাট এক চেয়ারে বসে আছেন। তাঁকে দেখে আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলাম। এরপর দ্রুতপায়ে বাসায় ফিরে খাদীজাকে বললাম, “আমায় চাদর দিয়ে ঢেকে দাও! আমায় চাদর দিয়ে ঢেকে দাও! আমাকে কম্বল পরিয়ে দাও আর আমার ওপর একটু ঠান্ডা পানি ঢালো!” ফলে সে আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দেয় এবং ঠান্ডা পানি ঢালে। অতঃপর অবতীর্ণ হতে শুরু করে-
يَا أَيُّهَا الْمُدَّشِّرُ ﴿1﴾ قُمْ فَأَنْذِرُ ﴿٢﴾ وَرَبَّكَ فَكَبِّرُ ﴿٣﴾ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ﴿٤﴾ وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ ﴿٥﴾ وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ ﴿٦﴾ وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ (۷)
“হে বস্ত্রাবৃত, উঠুন এবং সতর্ক করুন! আপনার প্রতিপালকের বড়ত্ব বর্ণনা করুন। পোশাক পবিত্র করে নিন। অপবিত্রতা পরিহার করুন। বেশি পাওয়ার লোভে দান করবেন না; বরং আপনার প্রতিপালকের জন্য ধৈর্য ধরুন।”[৪১]
এই ঘটনা সালাত ফরজ হওয়ার পূর্বেই ঘটেছিল। এরপর থেকে ওহি ধারাবাহিকভাবে নাযিল হওয়া আরম্ভ হয়।[৪২]
প্রথম ওহির মাধ্যমে মুহাম্মাদ ﷺ-কে নবি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় ওহির মাধ্যমে তাঁকে রাসূল হিসেবে নির্বাচিত করা হলো। নুবুওয়াত ও রিসালাতের মাঝে ওহি-বিরতির সময়টুকুই ব্যবধান। উক্ত আয়াতে নবি ﷺ-কে দুটো কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সে দুটি কাজের পরিণামও জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমটি হলো, فَأَنْذِرُ 'উঠুন এবং সতর্ক করুন' আদেশ করা হচ্ছে, মানুষকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জানিয়ে দিতে এবং তাদের পাপরাশির কঠোর পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করতে। তারা যে পথভ্রষ্টতা ও পাপাচারে লিপ্ত রয়েছে, গাইরুল্লাহর পূজা করছে এবং আল্লাহর সাথে তাদের শরীক করছে এর পরিণামে আল্লাহ তাদের কঠোর শাস্তি দেবেন। তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো, আপনি নিজেও আল্লাহর আদেশ-নিষেধগুলো যথাযথভাবে পালন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হোন। অন্যের জন্য নিজেকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলুন। পরবর্তী আয়াতগুলোতে এই আদেশ করা হয়েছে।
وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ -'আপনার প্রতিপালকের বড়ত্ব বর্ণনা করুন'-দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, আপনি বড়ত্ব এবং মহত্ত্ব বর্ণনার জন্য কেবল আল্লাহ তাআলাকেই নির্দিষ্ট করে নিন। এর মধ্যে অন্য কাউকে শরীক করবেন না।
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ -এই আয়াতের আক্ষরিক অর্থ হলো, 'আপনার পোশাক পবিত্র করে নিন'-যাতে আপনার কাপড়ে এবং শরীরে কোনও নাপাকি না থাকে। কারণ, আল্লাহর সামনে অপবিত্রাবস্থায় দাঁড়ানো অনুচিত। তবে গবেষকদের মতে আক্ষরিক অর্থের পাশাপাশি এটিও উদ্দেশ্য যে, আপনি আপনার অন্তরাত্মাকে পবিত্র রাখুন।
وَالرُّجْزَ فَاهْجُرُ -'অপবিত্রতা পরিহার করুন'—বলে নবি ﷺ-কে আদেশ করা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টি ও আযাবের কারণসমূহ থেকে এবং নিজ সম্প্রদায়ের মন্দ- কর্ম, অসৎ আচরণ ও অপবিত্রতা থেকে নিজেকে দূরে থাকুন।
وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ - ‘বেশি পাওয়ার লোভে অনুগ্রহ করবেন না'- অর্থাৎ পার্থিব জীবনেই কাজের প্রতিদান পেতে তাড়াহুড়া করবেন না; বরং মনে করবেন, বিপদাপদ হলো পরীক্ষার একটি পন্থা। এই জন্য নিজ সম্প্রদায়ের দ্বীন ছেড়ে দেওয়া এবং এক আল্লাহর দিকে আহ্বান করতে গিয়ে কষ্ট ও মুসীবত সহ্য করতে নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন।
وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ – 'আর আপনার প্রতিপালকের জন্য ধৈর্য ধরুন।'
টিকাঃ
[৪০] ইবনু সা'দ, তবাকাতুল কুবরা, ১/১৯৬।
[৪১] সূরা মুদ্দাসসির, ৭৪ : ১-৭।
[৪২] বুখারি, ৪৯২৬; মুসলিম, ১৬১।
📄 শুরু হলো আল্লাহর দিকে আহ্বান
নবি ও রাসূল হিসেবে নিজের দায়িত্বগুলো দৃঢ় প্রত্যয়ে পালন করতে তৈরি হন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উক্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকেই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে আল্লাহর প্রতি, ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেওয়া আরম্ভ করে দেন। যেহেতু আরব জাতি মূর্তিপূজারি, অগ্নিপূজারি ছিল, নিজ পূর্বপুরুষদের ভ্রান্ত রীতি-নীতিকেই নির্ভুল ও সঠিক মনে করত, তাদের অহংকারও ছিল খুব বেশি, সামান্য বিষয়েই খুনাখুনি ও রক্তপাত করা ছিল তাদের বৈশিষ্ট্য-এই সব বিষয় সামনে রেখেই আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দাওয়াতের কাজ গোপনে গোপনে করার নির্দেশ দেন। শুধু তাদেরই দাওয়াত দেওয়ার জন্য আদেশ করেন, যারা সত্য গ্রহণে আগ্রহী এবং যাদের নিকটে ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এ জন্যে নবি সর্বপ্রথম নিজ পরিবার, গোত্র এবং কাছের বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াত দিতে থাকেন।