📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 বক্ষবিদারণ: অলৌকিক ঘটনা

📄 বক্ষবিদারণ: অলৌকিক ঘটনা


ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনু মালিক (রদিয়াল্লাহু আনহু)। হালীমার ঘরের কাছেই একদিন মুহাম্মাদ অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে খেলছিলেন। এমন সময় ফেরেশতা জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এসে তাঁকে শোয়ান। তারপর বালক মুহাম্মাদের বুক চিরে তাঁর হৃদপিণ্ড বের করে আনেন। সেখান থেকে একটি টুকরো ফেলে দিয়ে বলেন, “আপনার মাঝে ওটা ছিল শয়তানের অংশ।” এরপর তিনি হৃৎপিণ্ডটি যামযামের পানিতে পূর্ণ একটি স্বর্ণপাত্রে রেখে ধৌত করেন। তারপর পরিচ্ছন্ন সেই অন্তর পুনঃস্থাপিত করেন মুহাম্মাদ ﷺ-এর বক্ষে।
তখন অন্য বাচ্চারা আতঙ্কে কান্না করতে করতে দৌড়ে যায় হালীমার কাছে। গিয়ে বলে, মুহাম্মাদকে হত্যা করে ফেলেছে। হারিস-হালীমা দম্পতি ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে এসে বালক মুহাম্মাদকে জীবিত দেখতে পান। কিন্তু তাঁর চেহারা ভয়ে একেবারে রক্তশূন্য ফ্যাকাসে।
আনাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন যে, মুহাম্মাদ ﷺ-এর বুক ফাড়া সেলাইয়ের দাগটা তিনি দেখেছেন। [১৫]

টিকাঃ
[১৫] মুসলিম, ১৬২।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 মায়ের কোলে প্রত্যাবর্তন

📄 মায়ের কোলে প্রত্যাবর্তন


এই অতি-অলৌকিক ঘটনার পর নবি ﷺ-কে তারা মক্কায় ফিরিয়ে দিয়ে যায়। পরের দু- বছর সেখানে তিনি মায়ের আদর, ভালোবাসা আর স্নেহ-মমতায় বেড়ে উঠতে থাকেন। তাঁর বয়স যখন ছয়, তখন তাঁকে সাথে করে নানাবাড়ি মদীনার উদ্দেশে রওনা দেন আবদুল মুত্তালিব, আমিনা ও উম্মু আইমান। নবিজি ﷺ-এর বাবার কবরও সেখানেই। মদীনায় এক মাস কাটানোর পর মক্কা-অভিমুখে ফিরতিপথের দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু পথে আমিনা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একসময় অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে আবওয়া নামক স্থানে পৌঁছে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ধূলির এই ধরা থেকে বিদায় নেন। শিশু মুহাম্মাদ মা'কে হারিয়ে এখন ইয়াতীম। অসহায়। বাবা-মা দু'জনেরই ছায়াশূন্য। আমিনাকে সেখানেই সমাধিস্থ করা হয়।[১৬]

টিকাঃ
[১৬] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/১৬৮; ইবনুল জাওযি, তালকীহু ফুহূমি আহলিল আসার, ৭।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 পিতামহের স্নেহ-ছায়ায়

📄 পিতামহের স্নেহ-ছায়ায়


বৃদ্ধ আবদুল মুত্তালিব মা-বাবা হারা নাতিকে নিয়ে মক্কায় ফিরে আসেন। নতুন এই বিপদের কারণে তাঁর হৃদয়ে এমন এক মমতার উদ্রেক হয়, যা তিনি আপন সন্তানদের প্রতিও কখনও কোনোদিন অনুভব করেননি। তিনি নবি-কে অনেক আদর করতেন এবং মর্যাদা দিতেন। শুধু তাঁর জন্য নির্মিত বিছানাতেও নবিজিকে বসাতেন, যেখানে অন্য কারও বসার অনুমতি ছিল না। অন্যান্য লোকজনের সাথে বসলেও তিনি পাশে একটি মাদুরে মুহাম্মাদ ﷺ-কে বসাতেন। তাঁর পিঠ চাপড়ে দিতেন, প্রতিমুহূর্তে খেয়াল রাখতেন। মুহাম্মাদ ﷺ-এর উঠা-বসা, চাল-চলন-আচরণ প্রতিটি বিষয়ই তাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করত এবং আনন্দ দিত।
তিনি একরকম নিশ্চিত ছিলেন যে, ভবিষ্যতে তাঁর নাতি অনেক বড় হবে। সবার মাঝে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তিনি তা দেখে যেতে পারলেন না। নবিজির বয়স যখন মাত্র আট বছর দুই মাস দশ দিন, তখন আবদুল মুত্তালিব মৃত্যুবরণ করলেন। [১৭]

টিকাঃ
[১৭] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ১/১৬৮-১৬৯; ইবনুল জাওযি, তালকীহু ফুহূমি আহলিল আসার, ৭।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 চাচার মমতাময় প্রতিপালন

📄 চাচার মমতাময় প্রতিপালন


আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে আবূ তালিব দায়িত্ব নেন মুহাম্মাদ ﷺ এর প্রতিপালনের। তিনি নবিজির আপন চাচা। তিনিও নবিজিকে অনেক আদর ও স্নেহ করতেন। আবূ তালিব ধনী ও সচ্ছল ছিলেন না। কিন্তু রাসূল ﷺ-এর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার অল্প সম্পদেও এমন বরকত হতে আরম্ভ করে যে, একজনের খাবারই পুরা পরিবারের জন্য যথেষ্ট হয়ে যেত। আর নবিজি নিজেও ধৈর্য ও অল্পেতুষ্টির ক্ষেত্রে আদর্শ ছিলেন, যা জুটত তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00