📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 হিজরতের ৮ম বছর

📄 হিজরতের ৮ম বছর


এ বছরই মুতার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) হারিস ইব্‌ন উমায়র আযদী (রা)-কে একটি চিঠি দিয়ে বসরার শাসকের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু মুতা নামক জায়গায় পৌঁছালে শুরাহবীল ইব্‌ন আমর গাসসানী নামক একজন শাসক তাঁকে হত্যা করে। দূত হত্যা আন্তর্জাতিক নীতিমালার চরম লঙ্ঘন ছিল। এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) যায়দ ইব্‌ন হারিসা (রা)-এর নেতৃত্বে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, যায়দ শহীদ হলে জাফর ইব্‌ন আবী তালিব (রা) সেনাপতি হবেন এবং তিনিও শহীদ হলে আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা (রা) সেনাপতি হবেন।
মুতা নামক জায়গায় রোমান ও তাদের মিত্র আরবদের প্রায় দুই লক্ষ সৈন্যের বিশাল বাহিনীর সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ হয়। এ অসম যুদ্ধে তিনজন সেনাপতিই শাহাদাতবরণ করেন। এরপর খালিদ ইব্‌ন ওয়ালিদ (রা) যুদ্ধের সেনাপতিত্ব গ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মুসলিম বাহিনীকে নিরাপদে মদীনায় ফিরিয়ে আনেন।
এ বছরই মক্কা বিজয়, হুনাইনের যুদ্ধ এবং তায়েফ অবরোধের মত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 মক্কা বিজয়

📄 মক্কা বিজয়


হুদায়বিয়ার সন্ধিচুক্তি ভঙ্গ করে কুরায়শদের মিত্র বনূ বকর গোত্র মুসলমানদের মিত্র খুযাআ গোত্রের উপর আক্রমণ করে এবং কুরায়শরা তাদেরকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। এর ফলে সন্ধিচুক্তি বাতিল হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সা) এ ঘটনার প্রতিকার করার জন্য দশ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কার দিকে যাত্রা করেন।
হিজরী ৮ম সনের রমযান মাসে মুসলিম বাহিনী মক্কার উপকণ্ঠে পৌঁছায়। কুরায়শ নেতা আবূ সুফিয়ান মুসলিম বাহিনীর বিশাল সমাবেশ দেখে ভীত হয়ে পড়ে এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চাচা আব্বাস (রা)-এর সহায়তায় রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট আত্মসমর্পণ করে ইসলাম গ্রহণ করে।
রাসূলুল্লাহ (সা) মক্কায় রক্তপাতহীন প্রবেশের সর্বাত্মক চেষ্টা করেন এবং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বলেন, “যারা আবূ সুফিয়ানের ঘরে আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ। যারা নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে, তারা নিরাপদ এবং যারা মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে, তারাও নিরাপদ।”
খালিদ ইব্‌ন ওয়ালিদ (রা)-এর সেনাদলের সাথে সামান্য সংঘর্ষ ছাড়া প্রায় শান্তিপূর্ণভাবেই মক্কা বিজিত হয়। মক্কায় প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (সা) সর্বপ্রথম কা'বা ঘরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেন। এরপর তিনি কা'বার দরজায় দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং মক্কাবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তাঁর এ মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে মক্কার অধিবাসীরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 গাযওয়ায়ে হুনাইন

📄 গাযওয়ায়ে হুনাইন


মক্কা বিজয়ের পর হাওয়াযিন ও সাকীফ গোত্র ইসলামের উত্থানে ভীত হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য হুনাইন উপত্যকায় সমবেত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) বারো হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে তাদের মুকাবিলা করার জন্য অগ্রসর হন। মুসলিম বাহিনীর বিশাল সংখ্যা দেখে কারো কারো মনে আত্মগর্বের সৃষ্টি হয়।
মুসলিম বাহিনী যখন হুনাইন উপত্যকায় প্রবেশ করে, তখন পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা শত্রুরা অতর্কিতে আক্রমণ করে। এ আকস্মিক আক্রমণে মুসলিম বাহিনীর অগ্রভাগে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং অনেকেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা) রণাঙ্গনে অটল থাকেন এবং তাঁর চাচা আব্বাস (রা)-কে উচ্চৈঃস্বরে সাহাবীদের ডাকতে বলেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) ও আব্বাস (রা)-এর ডাকে সাহাবীরা পুনরায় একত্রিত হন এবং বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে শত্রুদের পরাজিত করেন। এ যুদ্ধে মুসলমানরা বিপুল পরিমাণ গণীমতের মাল লাভ করে এবং প্রায় ছয় হাজার শত্রু সৈন্যকে বন্দী করে।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 হিজরতের নবম বছর

📄 হিজরতের নবম বছর


এ বছরটিকে ‘আমুল ওফূদ’ বা ‘প্রতিনিধি দলের বছর’ বলা হয়। মক্কা বিজয়ের পর আরবের বিভিন্ন গোত্র দলে দলে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে।
এ বছরই তাবুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) খবর পান যে, রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস মদীনা আক্রমণের জন্য এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করছে। এ খবর পেয়ে রাসূলুল্লাহ (সা) গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ ও ফসলের মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও সাহাবীদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন। প্রায় ত্রিশ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তিনি রোমানদের মুকাবিলা করার জন্য তাবুক পর্যন্ত অগ্রসর হন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখা যায় যে, রোমান বাহিনীর আগমনের খবরটি ছিল গুজব। রাসূলুল্লাহ (সা) সেখানে প্রায় বিশ দিন অবস্থান করেন এবং পার্শ্ববর্তী গোত্রগুলোর সাথে চুক্তি সম্পাদন করে মদীনায় ফিরে আসেন।
এ যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর মুনাফিকদের নির্মিত ‘মসজিদে দিরার’ ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এ বছরই রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কন্যা উম্মু কুলসুম (রা) এবং হাবশার বাদশাহ নাজাশী ইন্তিকাল করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনায় নাজাশীর গায়েবানা জানাযা পড়ান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00