📄 গাযওয়ায়ে বানী কুরাইযা
রাসূলুল্লাহ (সা) খন্দক থেকে ফিরে এসে অস্ত্র রেখে গোসল করেন। এ সময় জিবরীল (আ) তাঁর কাছে এসে বলেন, ‘আপনি কি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? আমরা তো এখনো অস্ত্র রাখিনি। বনূ কুরায়যার দিকে চলুন।’ রাসূলুল্লাহ (সা) তৎক্ষণাৎ সাহাবীদেরকে বনূ কুরায়যার দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন বনূ কুরায়যায় না পৌঁছে আসরের সালাত আদায় না করে।’
এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের দুর্গ অবরোধ করেন। অবরোধ পঁচিশ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শেষ পর্যন্ত তারা সা'দ ইব্ন মু'আয (রা)-এর সিদ্ধান্তের উপর আত্মসমর্পণ করতে রাযী হয়। সা'দ (রা) খন্দকের যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন। তাঁকে একটি গাধার উপর বসিয়ে আনা হয়। তিনি এসে ফায়সালা দেন যে, তাদের যুদ্ধ করতে সক্ষম সকল পুরুষকে হত্যা করা হবে, তাদের নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হবে এবং তাদের সম্পদ ভাগ করে দেওয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর ফায়সালা শুনে বলেন, ‘তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ীই ফায়সালা করেছ।’
এরপর মদীনায় গর্ত খনন করে তাদের হত্যা করা হয়। তাদের সংখ্যা ছিল ছয়শ থেকে সাতশ-এর মধ্যে।
টিকাঃ
১. বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব মারজি'ইহি (সা) মিনাল আহযাব।
📄 হিজরতের ষষ্ঠ বছর
এ বছর রাসূলুল্লাহ (সা) উমরা করার উদ্দেশ্যে চৌদ্দশ' সাহাবীসহ মক্কার দিকে রওয়ানা হন। তিনি যখন হুদায়বিয়া নামক জায়গায় পৌঁছেন, তখন কুরায়শরা তাঁকে মক্কায় প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ নামে পরিচিত।
এ সন্ধির শর্তগুলো বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের জন্য অপমানজনক মনে হলেও এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। আল্লাহ তা'আলা এ সন্ধিকে ‘ফাতহুম মুবীন’ বা ‘ সুস্পষ্ট বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
এ বছরই খায়বারের ইয়াহূদীদেরকে তাদের ষড়যন্ত্র ও চুক্তি ভঙ্গের কারণে আক্রমণ করা হয়। আল্লাহ তা'আলা এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় দান করেন এবং খায়বারের সকল দুর্গ তাদের অধিকারে আসে।
টিকাঃ
১. বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি খায়বার; মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস-সিয়ার, বাব গাযওয়াতি খায়বার।
📄 বিশ্বাসঘাতক মুনাফিকের কাজ
রাসূলুল্লাহ (সা) যখন বনূ লিহইয়ান থেকে ফিরে আসেন, তখন উয়াইনা ইব্ন হিসন ফাযারী গাতফান গোত্রের কিছু লোকসহ মদীনার চারণভূমিতে আক্রমণ করে এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর উটগুলো নিয়ে যায়। সে পাহারাদারকে হত্যা করে এবং তার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) তাদেরকে ধাওয়া করেন এবং তাদের সাথে একাই যুদ্ধ করতে থাকেন। পরে রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর সাহাবীদেরসহ তাঁর সাথে মিলিত হন। তারা উটগুলো উদ্ধার করেন এবং শত্রুদেরকে তাড়িয়ে দেন।
এ যুদ্ধকে ‘গাযওয়ায়ে যী-কারাদ’ বলা হয়।
📄 রাজাদের নিকট চিঠি-পত্র প্রেরণ
রাসূলুল্লাহ (সা) যখন হুদায়বিয়া থেকে ফিরে আসেন, তখন তিনি বিশ্বের বিভিন্ন রাজা-বাদশাহদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি প্রেরণ করেন। তিনি পারস্যের বাদশাহ কিসরা, রোমের বাদশাহ কায়সার, মিসরের শাসক মুকাউকিস, হাবশার বাদশাহ নাজাশী এবং অন্যান্য শাসকদের কাছে দূত প্রেরণ করেন।
দাহিয়া কালবী (রা)-কে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে, আবদুল্লাহ ইব্ন হুযাফা সাহমী (রা)-কে পারস্য সম্রাট কিসরার কাছে, হাতিব ইব্ন আবূ বালতা'আ (রা)-কে মিসরের শাসক মুকাউকিসের কাছে, আমর ইব্ন উমাইয়া দামরী (রা)-কে হাবশার বাদশাহ নাজাশীর কাছে, শুজা' ইব্ন ওয়াহব আসাদী (রা)-কে গাসসানী শাসক হারিস ইব্ন আবূ শিমরের কাছে এবং সালীত ইব্ন আমর (রা)-কে ইয়ামামার শাসক হাওযা ইব্ন আলীর কাছে প্রেরণ করেন।
তাদের মধ্যে নাজাশী ও মুকাউকিস রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দূতের সাথে ভাল ব্যবহার করেন এবং উপহারসহ বিদায় দেন। হিরাক্লিয়াসও ইসলামের সত্যতা উপলব্ধি করেন, কিন্তু তাঁর রাজ্যের ভয়ে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু কিসরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চিঠি ছিঁড়ে ফেলে এবং তাঁর দূতকে অপমান করে। রাসূলুল্লাহ (সা) এ খবর শুনে বলেন, ‘আল্লাহ তার রাজ্যকে ছিন্নভিন্ন করে দিন।’ তাঁর এ ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল।