📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 হিজরতের পঞ্চম বছর

📄 হিজরতের পঞ্চম বছর


এ বছর রাসূলুল্লাহ (সা) বনূ মুসতালিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধটি মুরসী'র যুদ্ধ নামেও পরিচিত। এ যুদ্ধে বনূ মুসতালিক পরাজিত হয় এবং তাদের বহু লোক বন্দী হয়। বন্দীদের মধ্যে তাদের নেতা হারিস ইব্‌ন আবূ দিরারের কন্যা জুওয়াইরিয়া (রা)-ও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁকে মুক্ত করে বিবাহ করেন। এর ফলে মুসলমানরা বনূ মুসতালিকের সকল বন্দীকে মুক্ত করে দেয়।
এ যুদ্ধ থেকে ফেরার পথেই মুনাফিকরা উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রা)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা করে, যা ‘ইফকের ঘটনা’ নামে পরিচিত। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের আয়াত নাযিল করে আয়িশা (রা)-এর পবিত্রতা ঘোষণা করেন।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 গাযওয়ায়ে আহযাব (খন্দকের যুদ্ধ)

📄 গাযওয়ায়ে আহযাব (খন্দকের যুদ্ধ)


এ বছরই খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধকে আহযাবের যুদ্ধও বলা হয়। কারণ, কুরায়শ, গাতফান, বনূ নযীর ও অন্যান্য আরব গোত্র সম্মিলিতভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ করে। তাদের সম্মিলিত সৈন্য সংখ্যা ছিল দশ হাজারের মত। অন্যদিকে, মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র তিন হাজার।
সালমান ফারসী (রা)-এর পরামর্শে রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনার চারপাশে খন্দক বা পরিখা খনন করেন। এটি ছিল আরবে একটি নতুন যুদ্ধ কৌশল। কাফিররা মদীনার কাছে এসে পরিখা দেখে অবাক হয়ে যায় এবং তা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়। তারা প্রায় এক মাস মদীনা অবরোধ করে রাখে।
এ সময় বনূ কুরায়যা গোত্র মুসলমানদের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে কাফিরদের সাথে যোগ দেয়। ফলে মুসলমানরা অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। আল্লাহ তা'আলা এ পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘যখন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে এসেছিল তোমাদের উপরের ও নীচের দিক থেকে এবং যখন তোমাদের চোখগুলো বিস্ফোরিত হচ্ছিল, তোমাদের হৃদয় কণ্ঠনালীতে পৌঁছে গিয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম ধারণা করছিলে। সেখানে মু'মিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।’ (সূরা আহযাব : ১০-১১)
শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাঁর অদৃশ্য বাহিনী দ্বারা মুসলমানদের সাহায্য করেন। তিনি কাফিরদের উপর প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বাতাস ও ফেরেশতাদের বাহিনী প্রেরণ করেন। ফলে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের শিবির তছনছ হয়ে যায়। অবশেষে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ‘আর আল্লাহ কাফিরদেরকে তাদের ক্রোধসহ ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোন কল্যাণ লাভ করতে পারেনি। আর আল্লাহ মু'মিনদের জন্য যুদ্ধের ব্যাপারে যথেষ্ট হলেন। আর আল্লাহ শক্তিশালী, মহাপরাক্রমশালী।’ (সূরা আহযাব : ২৫)

টিকাঃ
১. খন্দক যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন ইবন হিশাম, ২খ., পৃ. ২১৪-২৩৯; ইবন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৯২-১২১।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 গাযওয়ায়ে বানী কুরাইযা

📄 গাযওয়ায়ে বানী কুরাইযা


রাসূলুল্লাহ (সা) খন্দক থেকে ফিরে এসে অস্ত্র রেখে গোসল করেন। এ সময় জিবরীল (আ) তাঁর কাছে এসে বলেন, ‘আপনি কি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? আমরা তো এখনো অস্ত্র রাখিনি। বনূ কুরায়যার দিকে চলুন।’ রাসূলুল্লাহ (সা) তৎক্ষণাৎ সাহাবীদেরকে বনূ কুরায়যার দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন বনূ কুরায়যায় না পৌঁছে আসরের সালাত আদায় না করে।’
এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের দুর্গ অবরোধ করেন। অবরোধ পঁচিশ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শেষ পর্যন্ত তারা সা'দ ইব্‌ন মু'আয (রা)-এর সিদ্ধান্তের উপর আত্মসমর্পণ করতে রাযী হয়। সা'দ (রা) খন্দকের যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন। তাঁকে একটি গাধার উপর বসিয়ে আনা হয়। তিনি এসে ফায়সালা দেন যে, তাদের যুদ্ধ করতে সক্ষম সকল পুরুষকে হত্যা করা হবে, তাদের নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হবে এবং তাদের সম্পদ ভাগ করে দেওয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর ফায়সালা শুনে বলেন, ‘তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ীই ফায়সালা করেছ।’
এরপর মদীনায় গর্ত খনন করে তাদের হত্যা করা হয়। তাদের সংখ্যা ছিল ছয়শ থেকে সাতশ-এর মধ্যে।

টিকাঃ
১. বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব মারজি'ইহি (সা) মিনাল আহযাব।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 হিজরতের ষষ্ঠ বছর

📄 হিজরতের ষষ্ঠ বছর


এ বছর রাসূলুল্লাহ (সা) উমরা করার উদ্দেশ্যে চৌদ্দশ' সাহাবীসহ মক্কার দিকে রওয়ানা হন। তিনি যখন হুদায়বিয়া নামক জায়গায় পৌঁছেন, তখন কুরায়শরা তাঁকে মক্কায় প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ নামে পরিচিত।
এ সন্ধির শর্তগুলো বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের জন্য অপমানজনক মনে হলেও এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। আল্লাহ তা'আলা এ সন্ধিকে ‘ফাতহুম মুবীন’ বা ‘ সুস্পষ্ট বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
এ বছরই খায়বারের ইয়াহূদীদেরকে তাদের ষড়যন্ত্র ও চুক্তি ভঙ্গের কারণে আক্রমণ করা হয়। আল্লাহ তা'আলা এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় দান করেন এবং খায়বারের সকল দুর্গ তাদের অধিকারে আসে।

টিকাঃ
১. বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব গাযওয়াতি খায়বার; মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস-সিয়ার, বাব গাযওয়াতি খায়বার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00