📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 গাযওয়ায়ে উহুদ

📄 গাযওয়ায়ে উহুদ


কুরায়শরা বদর যুদ্ধে তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে হারানোর পর এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। হিজরী তৃতীয় সনের শাওয়াল মাসে তারা তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে মদীনার দিকে অগ্রসর হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের মুকাবিলা করার জন্য এক হাজার সৈন্য নিয়ে মদীনা থেকে বের হন। কিন্তু পথিমধ্যে মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইব্‌ন উবাই তার তিনশ সঙ্গীসহ দলত্যাগ করে মদীনায় ফিরে যায়। ফলে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে মাত্র সাতশ সৈন্য অবশিষ্ট থাকে।
উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে উভয় দলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম দিকে মুসলমানরা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু তীরন্দাজদের একটি দল রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নির্দেশ অমান্য করে তাদের স্থান ত্যাগ করার ফলে যুদ্ধের গতি পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং মুসলমানদের বিজয় পরাজয়ে রূপান্তরিত হয়।
এ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা) আহত হন। তাঁর দাঁত শহীদ হয়, মুখমণ্ডল জখম হয় এবং মাথায় শিরস্ত্রাণের দুটি বেড়ি ঢুকে যায়। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর পতাকাবাহী মুসআব ইব্‌ন উমায়র (রা) এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চাচা হামযা ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব (রা)-সহ প্রায় সত্তরজন সাহাবী শাহাদাতবরণ করেন। অন্যদিকে, কাফিরদের মধ্যে প্রায় বাইশজন নিহত হয়।
যুদ্ধ শেষে কুরায়শরা বিজয়ের আনন্দে মক্কায় ফিরে যায়। রাসূলুল্লাহ (সা) শহীদদের দাফন করার ব্যবস্থা করেন এবং আহতদের সেবা-শুশ্রূষার জন্য মদীনায় নিয়ে আসেন।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 হিজরতের চতুর্থ বছর

📄 হিজরতের চতুর্থ বছর


এ বছর আবূ সালামা ইব্‌ন আবদুল আসাদ (রা)-এর নেতৃত্বে একটি সেনাদলকে কুতন নামক জায়গায় প্রেরণ করা হয়। এ বছরই আবদুল্লাহ ইব্‌ন উনায়সের নেতৃত্বে খালিদ ইব্‌ন সুফইয়ান হুযালীকে হত্যা করার জন্য একটি অভিযান প্রেরণ করা হয়। কারণ সে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য লোক জমা করছিল। আবদুল্লাহ ইব্‌ন উনায়স তাকে হত্যা করে তার মাথা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে ফিরে আসেন।
এ বছরই রাজী'র ঘটনা ঘটে। রাসূলুল্লাহ (সা) দশজন সাহাবীকে আযাল ও কারাহ গোত্রের কিছু লোকের অনুরোধে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। কিন্তু তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদেরকে হত্যা করে।
এ বছরই বি'রে মাউনার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রাসূলুল্লাহ (সা) সত্তরজন ক্বারী সাহাবীকে নজদবাসীর অনুরোধে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। কিন্তু বনূ সুলাইম গোত্রের লোকেরা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁদের সকলকে হত্যা করে। শুধুমাত্র আমর ইব্‌ন উমাইয়া দামরী (রা) বেঁচে যান। এ ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (সা) অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং এক মাস পর্যন্ত নামাযে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কুনূত পাঠ করেন।
এ বছরই বনূ নযীর গোত্রকে তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে অবরোধ করা হয়। তারা রাসূলুল্লাহ (সা)-কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। শেষ পর্যন্ত তারা মদীনা ত্যাগ করে খায়বার ও সিরিয়ায় চলে যেতে বাধ্য হয়।
এ বছরই রাসূলুল্লাহ (সা) উম্মু সালামা (রা)-কে বিবাহ করেন। তাঁর স্বামী আবূ সালামা (রা) উহুদ যুদ্ধে আহত হয়ে ইন্তিকাল করেছিলেন।
এ বছরই রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দৌহিত্র হাসান ইব্‌ন আলী (রা) জন্মগ্রহণ করেন।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 হিজরতের পঞ্চম বছর

📄 হিজরতের পঞ্চম বছর


এ বছর রাসূলুল্লাহ (সা) বনূ মুসতালিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধটি মুরসী'র যুদ্ধ নামেও পরিচিত। এ যুদ্ধে বনূ মুসতালিক পরাজিত হয় এবং তাদের বহু লোক বন্দী হয়। বন্দীদের মধ্যে তাদের নেতা হারিস ইব্‌ন আবূ দিরারের কন্যা জুওয়াইরিয়া (রা)-ও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁকে মুক্ত করে বিবাহ করেন। এর ফলে মুসলমানরা বনূ মুসতালিকের সকল বন্দীকে মুক্ত করে দেয়।
এ যুদ্ধ থেকে ফেরার পথেই মুনাফিকরা উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রা)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা করে, যা ‘ইফকের ঘটনা’ নামে পরিচিত। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের আয়াত নাযিল করে আয়িশা (রা)-এর পবিত্রতা ঘোষণা করেন।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 গাযওয়ায়ে আহযাব (খন্দকের যুদ্ধ)

📄 গাযওয়ায়ে আহযাব (খন্দকের যুদ্ধ)


এ বছরই খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধকে আহযাবের যুদ্ধও বলা হয়। কারণ, কুরায়শ, গাতফান, বনূ নযীর ও অন্যান্য আরব গোত্র সম্মিলিতভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ করে। তাদের সম্মিলিত সৈন্য সংখ্যা ছিল দশ হাজারের মত। অন্যদিকে, মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র তিন হাজার।
সালমান ফারসী (রা)-এর পরামর্শে রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনার চারপাশে খন্দক বা পরিখা খনন করেন। এটি ছিল আরবে একটি নতুন যুদ্ধ কৌশল। কাফিররা মদীনার কাছে এসে পরিখা দেখে অবাক হয়ে যায় এবং তা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়। তারা প্রায় এক মাস মদীনা অবরোধ করে রাখে।
এ সময় বনূ কুরায়যা গোত্র মুসলমানদের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে কাফিরদের সাথে যোগ দেয়। ফলে মুসলমানরা অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। আল্লাহ তা'আলা এ পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘যখন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে এসেছিল তোমাদের উপরের ও নীচের দিক থেকে এবং যখন তোমাদের চোখগুলো বিস্ফোরিত হচ্ছিল, তোমাদের হৃদয় কণ্ঠনালীতে পৌঁছে গিয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম ধারণা করছিলে। সেখানে মু'মিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।’ (সূরা আহযাব : ১০-১১)
শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাঁর অদৃশ্য বাহিনী দ্বারা মুসলমানদের সাহায্য করেন। তিনি কাফিরদের উপর প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বাতাস ও ফেরেশতাদের বাহিনী প্রেরণ করেন। ফলে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের শিবির তছনছ হয়ে যায়। অবশেষে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ‘আর আল্লাহ কাফিরদেরকে তাদের ক্রোধসহ ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোন কল্যাণ লাভ করতে পারেনি। আর আল্লাহ মু'মিনদের জন্য যুদ্ধের ব্যাপারে যথেষ্ট হলেন। আর আল্লাহ শক্তিশালী, মহাপরাক্রমশালী।’ (সূরা আহযাব : ২৫)

টিকাঃ
১. খন্দক যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন ইবন হিশাম, ২খ., পৃ. ২১৪-২৩৯; ইবন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৪খ., পৃ. ৯২-১২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00