📄 মিরাজের কথা
প্রশ্ন-৪৩৬. রাসূল কি তার রাত্রিকালীন ভ্রমণের কথা মক্কার লোকদের কাছে বর্ণনা করেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, পরের দিন সকাল বেলায় তিনি সকলকে ঘটনাটি বললেন।
প্রশ্ন-৪৩৭. রাসূল এর মিরাজের ঘটনায় লোকদের মধ্যে প্রথম কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: তারা হাসাহাসি ও ঠাট্টা করতে লাগল এবং বলতে লাগল এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার।
প্রশ্ন-৪৩৮. তারা রাসূল এর কাছে কী জানতে চাইল?
উত্তর: তারা জেরুসালেমে অবস্থিত 'মাসজিদুল আকসা' সম্পর্কে জানতে চাইল, কারণ তারা জানত যে, রাসূল কখনো জেরুসালেম যাননি। কিন্তু তিনি তাদেরকে জেরুসালেম ও মাসজিদুল আকসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য বর্ণনা দিয়ে তাদেরকে অবাক করে দিলেন।
প্রশ্ন-৪৩৯. মিরাজ সম্পর্কে মুসলমানদের মনোভাব কী ছিল?
উত্তর: প্রকৃত মুসলমানদের মতে রাসূল এর মিরাজ অসম্ভবের কিছুই ছিল না। তারা বিশ্বাস করত যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তাই তিনি তাঁর রাসূলকে জান্নাতে নিয়ে অলৌকিক নিদর্শনাবলী দেখানো মোটেই কঠিন কিছু ছিল না।
প্রশ্ন-৪৪০. কাফিররা যখন এ ঘটনাটি আবু বকর (রা) কে বললেন তখন তিনি উত্তরে কী বললেন?
উত্তর: তিনি নির্দ্বিধায় বললেন, "নিশ্চয় আমি তা বিশ্বাস করি" আর এ কারণে রাসূল তাকে 'সিদ্দীক' উপাধিতে ভূষিত করেন।
প্রশ্ন-৪৪১. কেন শুধুমাত্র নবীরাই আল্লাহর নিদর্শনাবলী দেখার যোগ্য?
উত্তর: নবীরাই আল্লাহর নিদর্শনাবলী দেখার যোগ্য। কারণ, তারা দ্বীনের জন্য যে কষ্টের বোঝা বহন করেন সাধারণ মানুষের জন্য তা অত্যন্ত অসহনীয় ভারী এবং তারা তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য পার্থিব সকল প্রকারের অগ্নি পরীক্ষা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য সহকারে সহ্য করেন। তাই তারাই আল্লাহর নিদর্শনাবলী দেখার যোগ্য।
📄 ইয়াসরিবের ছয় ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ
প্রশ্ন-৪৪২. হজ্বের মৌসুমে রাসূল কখন হজ্জযাত্রীদের সাথে দেখা করতেন এবং ঐ সময় কেন দেখা করতেন?
উত্তর: হজ্জের মৌসুমে রাসূলুল্লাহ সাধারণত রাত্রিবেলায় হজ্জযাত্রীদের সাথে দেখা করতেন, কারণ শত্রুরা যেন তার দাওয়াতী কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে সে জন্যই রাতে তিনি হজ্জযাত্রীদের কাছে যেতেন।
প্রশ্ন-৪৪৩. একবার তিনি কাদের সঙ্গে করে আকাবায় যান?
উত্তর: আবু বকর ও আলী (রা)-কে নিয়ে তিনি মিনায় অবস্থিত আকাবায় যান।
প্রশ্ন-৪৪৪. সেখানে তিনি কাদের সাক্ষাত পান?
উত্তর: তিনি সেখানে ছয় ব্যক্তির সাক্ষাত পান। ঐ ছয় ব্যক্তির সবাই ছিলেন ইয়াসরিব নগরীর খাযরাজ গোত্রের অধিবাসী। রাসূল তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন।
প্রশ্ন-৪৪৫. রাসূলের কথা শুনে তারা কী ভাবল?
উত্তর: তারা প্রায়ই শুনতো যে ইয়াহুদিরা বলাবলি করত যে, শীঘ্রই একজন নবীর আবির্ভাব ঘটবে এবং তারা সকলেই সে নবীর প্রতি ঈমান আনবে এবং তার অনুসরণ করবে। তাহলে এ হচ্ছে সে নবী?
প্রশ্ন-৪৪৬. ঐ হয় ব্যক্তির নাম কী ছিল?
উত্তর: তারা হলেন. ১. উকবা বিন আমির, ২. জাবির বিন আব্দুল্লাহ, ৩. আসাদ বিন যারারাহ, ৪. আওফ বিন হারিস, ৫. রাফি বিন মালিক এবং ৬. কুতবা বিন আমির (রা)।
প্রশ্ন-৪৪৭. তারা কি রাসূল এর কথা শুনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তারা রাসূল এর কথাগুলো অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনল এবং স্বাচ্ছ্যন্দে ইসলাম গ্রহণ করল।
প্রশ্ন-৪৪৮. ইয়াসরিবে ফিরে গিয়ে তারা কী করল?
উত্তর: তারা মানুষদেরকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিতে লাগলেন।
প্রশ্ন-৪৪৯. এ ঘটনায় কীসের ইঙ্গিত পাওয়া গেল?
উত্তর: ইসলামের প্রসারতা এবং কোরাইশদের হাতে মুসলমানদের নির্যাতনের মাত্রা বন্ধ হওয়ার ইঙ্গিত এ ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পেল।
📄 প্রথম আকাবার শপথ
প্রশ্ন-৪৫০. কোরাইশদের বিরোধিতা সত্ত্বেও রাসূল কীভাবে ইসলাম প্রচার চালিয়ে যেতেন?
উত্তর: যে সব লোকেরা মক্কায় হজ্ব করতে আসত তিনি সেসব লোকদের কাছে যেতেন এবং তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতেন।
প্রশ্ন-৪৫১. ইয়াসরিবের ঐ ছয়জন ব্যক্তির সাথে তিনি কখনও দেখা করতে এসেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ৬২০ খ্রিস্টাব্দে নবুওয়াতের একাদশ বছরে হজ্জের মৌসুমে রাসূল ঐ ছয় ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে আসেন।
প্রশ্ন-৪৫২. প্রথম আকাবার শপথ কী ছিল?
উত্তর: খাযরাজ গোত্রের ঐ ছয় ব্যক্তি ইয়াসরিবে ফিরে গিয়ে সেখানকার মানুষদেরকে তারা যা দেখেছে এবং যা শুনেছে তা বিস্তারিতভাবে বলল। যার ফলে পরের বছর হজ্বের মৌসুমে ইয়াসরিব থেকে এক প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ এর সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন। ঐ প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ এর কাছে তখন আনুগত্যের শপথ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটাই প্রথম আকাবার শপথ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন-৪৫৩. কখন প্রথম আকাবার শপথ অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ৬২১ খ্রিস্টাব্দে নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরের হজ্জের মৌসুমে প্রথম আকাবার শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন-৪৫৪. ঐ শপথ অনুষ্ঠানে কতজন লোক উপস্থিত ছিলেন?
উত্তর: তারা ছিলেন সর্বমোট বার জন, তাদের মধ্যে এমন পাঁচজন ছিলেন যারা আগের বছরেও এসেছিলেন।
প্রশ্ন-৪৫৫. ষষ্ঠ ব্যক্তিটির নাম কী যিনি পরের বছর আসেননি?
উত্তর: তিনি ছিলেন জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা)।
প্রশ্ন-৪৫৬. তারা কোন গোত্রের অধিবাসী ছিলেন?
উত্তর: তাদের মধ্যে ১০ জন ছিলেন খাযরাজ গোত্রের এবং ২ জন ছিলেন আওস গোত্রের অধিবাসী। ইয়াসরিবে উভয় গোত্রই ছিল বিখ্যাত।
প্রশ্ন-৪৫৭. তাদের সকলের নাম কী ছিল?
উত্তর: তারা হলেন. ১. আসাদ বিন যুরারাহ, ২. আওফ বিন হারিস, ৩. রাফি বিন মালিক, ৪. কুতবা বিন আমির, ৫. উকবা বিন আমির, ৬. মুয়ায বিন হারিস, ৭. যাকওয়ান বিন আবদ কাইস, ৮. উবাদা বিন সামিত, ৯. ইয়াযীদ বিন সালবাহ, ১০. আব্বাস বিন উবাদা (এ ১০ জন হলেন খাযরাজ গোত্রের অধিবাসী), ১১. আবুল হাইশাম বিন তাইহাম এবং ১২. উওয়াইম বিন সাইদাহ (রা) (এ ২ জন হলেন আওস গোত্রের অধিবাসী।)
প্রশ্ন-৪৫৮. রাসূল এর সঙ্গে তারা কোথায় দেখা করেন?
উত্তর: তারা গোপনে রাসূল এর সঙ্গে আকাবায় দেখা করেন।
প্রশ্ন-৪৫৯. রাসূল এর হাতে তারা কী শপথ করল?
উত্তর: তারা রাসূলের হাত ধরে শপথ করল যে, ১. আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করবে না। ২. চুরি করবে না, ৩. ব্যভিচার করবে না, ৪. তাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, ৫. মিথ্যা বলবে না এবং ৬. যে কোন ব্যাপারে রাসূলের অবাধ্য হবে না।
প্রশ্ন-৪৬০. রাসূল ইয়াসরিবে তাদের সঙ্গে কাকে পাঠালেন?
উত্তর: রাসূল ইয়াসরিবে তাদের সঙ্গে 'মুস'আব বিন উমাইরকে শিক্ষক হিসেবে পাঠালেন।
📄 দ্বিতীয় আকাবার শপথ
প্রশ্ন-৪৬১. আকাবার দ্বিতীয় শপথ কখন অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ৬২২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে নবুওয়াতের ত্রয়োদশ বছরের হজ্জের মৌসুমে আকাবার দ্বিতীয় শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন-৪৬২. আকাবার দ্বিতীয় শপথ অনুষ্ঠানে কত জন লোক এসেছিল?
উত্তর: ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা এসে আকাবায় রাসূল এর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
প্রশ্ন-৪৬৩. আকাবায় রাসূল এর সঙ্গে তখন কে ছিলেন?
উত্তর: রাসূল এর চাচা আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা)।
প্রশ্ন-৪৬৪. ইয়াসরিবের লোকদের উদ্দেশ্য করে আব্বাস কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "হে খাযরাজ গোত্রের লোকেরা! তোমরা ভালোভাবেই জান যে, মুহাম্মদ আমাদের মাঝে কোন অবস্থায় আছে। আমরা আমাদের সাধ্যানুযায়ী আমাদের লোকদের থেকে তাকে আশ্রয় দিয়েছি। সে তোমাদেরকে ছাড়া অন্য কোথাও যেতে রাজি নয়। সুতরাং তোমরা যদি মনে করো যে, তোমরা তোমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারবে এবং তাকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে, তাহলে তোমরা তোমাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পার। কেননা তোমরা যেহেতু তাকে তোমাদের শহরে আমন্ত্রণ করেছ। কিন্তু তাকে নেয়ার পর যদি তোমরা তার নিরাপত্তায় অপারগতা প্রকাশ কর এবং বিশ্বাসঘাতকতা কর, তাহলে তাকে নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ সে তার মাতৃভূমিতেই সু-রক্ষিত ও সম্মানিত।"
প্রশ্ন-৪৬৫. কা'ব বিন মালিক (রা) উত্তরে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "আমরা আপনার কথাগুলো শুনলাম, এখন ইয়া রাসূলাল্লাহ! এবার আপনি বলুন এবং আমাদের কাছে থেকে যে কোন ধরনের শপথ নিতে পারেন, যা আল্লাহ আপনাকে আদেশ করেছেন।
প্রশ্ন-৪৬৬. এরপর রাসূল কী করলেন?
উত্তর: তিনি কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করলেন এবং ইসলাম গ্রহণের জন্য তাদের সকলকে উদ্বুদ্ধ করলেন। তিনি বললেন, "তোমরা আমাকে প্রতিশ্রুতি দাও যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রী-সন্তানদেরকে যেভাবে আগলে রাখ ও রক্ষা কর আমাকেও সেভাবে রক্ষা করবে।"
প্রশ্ন-৪৬৭. বারা বিন মারুর (রা) কী বললেন?
উত্তর: তিনি রাসূল এর হাত ধরে বললেন, "অবশ্যই, যিনি আপনাকে নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন সে আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি-আমরা যেভাবে আমাদের স্ত্রীদের হেফাজত করে থাকি ঠিক সেভাবে আপনারও হেফাজত করব। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আল্লাহর কসম, আমরাই প্রকৃত যোদ্ধা এবং যুদ্ধের জন্য আমরাই যোগ্য, এটি আমাদের একটি বিশেষত্ব যা আমরা আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে পেয়েছি।"
প্রশ্ন-৪৬৮. আবুল হাইশাম বিন তাইহান (রা) কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহুদীদের সাথে আমাদের কিছু চুক্তি আছে যা এখন আমাদেরকে বাতিল করতে হবে। আল্লাহ যদি আপনাকে ক্ষমতা ও বিজয় দান করেন, তাহলে আপনি কিন্তু আমাদের ছেড়ে আপনাদের স্ব-জাতির কাছে ফিরে যাবেন না।"
প্রশ্ন-৪৬৯. রাসূল কী বললেন?
উত্তর: রাসূল মুচকি হেসে বললেন, "এমনটি কখনো হবে না; তোমাদের রক্ত হবে আমার রক্ত, জীবনে-মরণে আমি তোমাদের সাথে থাকব, তোমরা আমার সাথে থাকবে। তোমরা যাদের সাথে যুদ্ধ করবে আমিও তাদের সাথে যুদ্ধ করব এবং তোমরা যাদের সাথে সন্ধি করবে, আমিও তাদের সাথে সন্ধি করব।"
প্রশ্ন-৪৭০. মক্কার মুসলমানদের জন্য 'আকাবার দ্বিতীয় শপথ' কোন কল্যাণ বয়ে এনেছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, আকাবার দ্বিতীয় শপথের পর রাসূল মক্কার মুসলমানদেরকে মক্কা ছেড়ে দ্রুত ইয়াসরিবে গিয়ে তাদের দ্বীনি ভাইদের সঙ্গে যোগদান করতে নির্দেশ দিলেন।
প্রশ্ন-৪৭১. শপথের পর রাসূল ইয়াসরিবে ইসলাম প্রচারের জন্য যে বার জন প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন তাদের নাম কী ছিল?
উত্তর: তারা ছিলেন. ১. আসাদ বিন যুরারাহ, ২. আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা, ৩. সা'দ বিন রাবি, ৪. রাফি বিন মালিক, ৫. বারা বিন মারুর, ৬. আব্দুল্লাহ বিন আমর, ৭. উবাদা বিন সামিত, ৮. সা'দ বিন উবাদা, ৯. মুনযির বিন আমর, ১০. উসাইদ বিন হুযাইর, ১১. সা'দ বিন খায়সামাহ, ১২. রাফাহ বিন আব্দুল মুনযির (রা)।
প্রশ্ন-৪৭২. মহিলাদের কাছ থেকে কীভাবে বাই'আত নেয়া হয়েছিল?
উত্তর: মহিলাদের কাছ থেকে মৌখিকভাবেই শপথ নেয়া হয়েছিল। রাসূল অপরিচিত মহিলাদের সঙ্গে কখনো হাত মিলাননি।
প্রশ্ন-৪৭৩. এ ঘটনা শুনে কোরাইশরা কী অনুভব করল?
উত্তর: তারা খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করল যে, এ ধরনের চুক্তি অদূর ভবিষ্যতে তাদের জীবন ও সম্পদের ওপর বিভিন্ন শাখা বিস্তার করবে।
প্রশ্ন-৪৭৪. আসন্ন বিপদ রোধ করার জন্য কোরাইশরা কী করল?
উত্তর: তারা শপথের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিবাদ করার উদ্দেশ্যে ইয়াসরিবের হজ্জযাত্রীদের জন্য ক্যাম্প স্থাপন করলেন এবং তাদের উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন:
“হে খাযরাজের লোকেরা! আমরা জেনে গেছি যে, তোমরা এখানে এসেছ মুহাম্মদের সাথে একটি চুক্তি করতে এবং তাকে মক্কা থেকে নিয়ে যেতে। আল্লাহর কসম, আমরা চাই না যে, তোমাদের মাঝে এবং আমাদের মাঝে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হোক।"
প্রশ্ন-৪৭৫. ইয়াসরিব থেকে আগত পৌত্তলিক হজ্জযাত্রীগণ কী বলল?
উত্তর: পৌত্তলিকগণ কোরাইশদের সকল অভিযোগ অস্বীকার করল এবং তাদেরকে নিশ্চিত করল যে তাদের আপত্তিগুলো যথার্থ সত্য নয়। তার কারণ মুসলমানগণ রাসূল এর সঙ্গে গোপনে সাক্ষাত করতেন যা তাদের পৌত্তলিকরা জানত না এবং বাই'আত সম্পর্কেও তাদের কোন কিছু জানা ছিল না।
প্রশ্ন-৪৭৬. কোরাইশরা যখন নিশ্চিত হল যে, শপথ অনুষ্ঠান সংঘটিত হয়েছিল তখন তারা কী করল?
উত্তর: তারা হজ্জযাত্রীদের পিছনে ছুটল যারা ইতিমধ্যেই মক্কা ছেড়ে চলে গেছে। যে কোনভাবে তারা সা'দ বিন উবাদাহকে ধরে ফেলল এবং তাকে অনেক অত্যাচার করল। পরবর্তীতে মুত'ইম বিন আদি এবং হারিস বিন হারব এর সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্কের খাতিরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
প্রশ্ন-৪৭৭. আকাবার দ্বিতীয় শপথ যেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শপথ নামেও পরিচিত সেটির কী প্রভাব ছিল?
উত্তর: মক্কার ও ইয়াসরিবের মুসলমানদের মাঝে ভালোবাসার চেতনা, সাহায্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা এ শপথের মাধ্যমে জেগে উঠল।
প্রশ্ন-৪৭৮. সর্বপ্রথম কে ইয়াসরিবে হিজরত করেন?
উত্তর: তিনি হলেন আবু সালামাহ (রা)।
প্রশ্ন-৪৭৯. হিজরতের জন্য আবু বকর (রা)-ও অনুমতি চেয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে তাকে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।