📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 দুঃখের বছর

📄 দুঃখের বছর


প্রশ্ন-৩৬৭. কেন নবুওয়াতের দশম বছরকে 'আমুল হুযন "দুঃখের বছর" বলা হয়ে থাকে?
উত্তর: কারণ এ বছর আবু তালিব ও খাদিজা (রা) উভয়ই ইন্তিকাল করেন, যারা রাসূলকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তিনিও তাদেরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাদের মৃত্যু রাসূল এর জন্য ছিল অত্যন্ত দুঃখ ও হতাশার কারন।

প্রশ্ন-৩৬৮. আবু তালিব কখন ইন্তিকাল করেন?
উত্তর: সামাজিক বয়কট চুক্তি তুলে নেয়ার ছয় মাস পর ৬১৯ খ্রিস্টাব্দে নবুওয়াতের দশম বছরের রজব মাসে তিনি ইন্তিকাল করেন।

প্রশ্ন-৩৬৯. তার মূল নাম কী ছিল?
উত্তর: তার আসল নাম ছিল 'আবদ মানাফ' কিন্তু তার বড় ছেলে তালিবের নামেই তিনি আবু তালিব (তালিবের বাবা) নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

প্রশ্ন-৩৭০. রাসূল শেষ মুহূর্তেও কি তাকে ইসলাম গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি বলেছিলেন, "চাচাজান! আপনি শুধুমাত্র একবার বলুন যা ل الله। 'আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই' তাহলে আমি আল্লাহর কাছে শপথ করে সাক্ষ্য দিব আপনি একজন মু'মিন।"

প্রশ্ন-৩৭১. আবু তালিবের মৃত্যু শয্যায় আবু জাহেল ও আব্দুল্লাহ বিন আবু উমাইয়া তাকে কী বললেন?
উত্তর: তারা তাকে আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের ওপর অটল থেকে ইসলাম পরিত্যাগ করতে বললেন।

প্রশ্ন-৩৭২. আবু তালিব কি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: না, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি।

প্রশ্ন-৩৭৩. কাফির হিসেবে আবু তালিবের মৃত্যুতে রাসূল কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম! আমি নাছোড়বান্দার মত আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে যাব, যে পর্যন্ত আমাকে তা করতে নিষেধ করা না হয়।"

প্রশ্ন-৩৭৪. এ সম্পর্কে রাসূল এর প্রতি কুরআনের কোন আয়াতটি নাযিল হয়?
উত্তর: আয়াতটি হল- مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يُسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَبُ الْجَحِيمِ .
অর্থ- আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মু'মিনদের জন্য সংগত নয় যখন এটি সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, নিশ্চয়ই তারা জাহান্নামী। (সূরা-৯ তাওবা, আয়াত-১১৩)

প্রশ্ন-৩৭৫. এ সম্পর্কে রাসূল-এর কাছে অন্য কোন আয়াতটি নাযিল হয়?
উত্তর: আয়াতটি হলো- إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ .
অর্থ- তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেও তাকে সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎপথ অনুসারীদেরকে। (সূরা-২৮ কাসাস, আয়াত-৫৬)

প্রশ্ন-৩৭৬. আবু তালিব রাসূল কে কত বছর আশ্রয় দিয়েছিলেন?
উত্তর: রাসূল এর বাল্যকাল থেকে শুরু করে আবু তালিবের মৃত্যুর পূর্বে পর্যন্ত প্রায় ৪২ বছর তিনি রাসূলকে আশ্রয় দেন।

প্রশ্ন-৩৭৭. আবু তালিবের মৃত্যুর পর কোরাইশরা কী করল?
উত্তর: তারা রাসূল এর প্রচণ্ড বিরোধিতা শুরু করে দিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে তাদের অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিল।

প্রশ্ন-৩৭৮. খাদিজা (রা) কখন ইনতিকাল করেন?
উত্তর: রাসূল এর চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর মাত্র দুই মাস পর নবুওয়াতের দশম বছরের রমজান মাসে তিনি ইনতিকাল করেন।

প্রশ্ন-৩৭৯. রাসূল এর দাওয়াতি মিশনের সময় কি তিনি কোনো দুঃখ-কষ্টের শরীক হয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছেন এবং সবসময় ধৈর্যধারণ করতেন।

প্রশ্ন-৩৮০. খাদিজা (রা)-এর প্রতি রাসূল। এর প্রশংসার উক্তি কেমন ছিল?
উত্তর: নিম্নোক্ত ভাষায় তিনি খাদিজা (রা)-এর প্রশংসা করতেন, রাসূল বলতেন "যখন সবাই আমাকে প্রত্যাখ্যান করল, তখন খাদিজাই আমার একমাত্র বিশ্বাসী ছিল; যখন অন্যরা আমাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করল, তখন সে আমাকে নবী হিসেবে মেনে নিল; যখন লোকেরা আমাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করল তখন সে আমাকে তার সমস্ত সম্পদ দিয়ে সাহায্য করল।"

প্রশ্ন-৩৮১. ঐ একই বছরে অন্য যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল তা কী?
উত্তর: ঘটনাটি হল- রাসূল এর সাথে সাওদাহ বিনতে যাম'আহ (রা)-এর বিবাহ।

প্রশ্ন-৩৮২. কখন তিনি সাওদাহ (রা)-কে বিয়ে করেন?
উত্তর: খাদিজা (রা)-এর মৃত্যুর ছয় মাস পর নবুওয়াতের দশম বছরের শাওয়াল মাসে তিনি তাকে বিয়ে করেন।

প্রশ্ন-৩৮৩. সাওদাহ (রা) কি বিধবা ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ছিলেন একজন বিধবা।

প্রশ্ন-৩৮৪. তার পূর্ববর্তী স্বামী কে ছিলেন এবং তিনি কখন ইনতিকাল করেন?
উত্তর: তার পূর্ববর্তী স্বামী ছিলেন, সাকরান বিন আমর (রা)। তিনি দ্বিতীয়বার সাওদাহর সঙ্গে আবিসিনিয়া থেকে ফেরার সময় ইনতিকال করেন।

প্রশ্ন-৩৮৫. ইসলামের কারণে সাওদাহ (রা)-কেও কি দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, তাকেও অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল।

প্রশ্ন-৩৮৬. তিনি কখন ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: দাওয়াতের সূচনালগ্নেই সাওদাহ ইসলাম গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩৮৭. তার পূর্বের স্বামীও কি ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, সাওদাহর অনুপ্রেরণায় তিনি স্বাচ্ছ্যন্দে ইসলাম গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩৮৮. ঐ একই মাসে ঘটে যাওয়া অন্য ঘটনাটি কী ছিল?
উত্তর: তাহলো, রাসূল এর সাথে আয়েশা (রা)-এর বিবাহ চুক্তি।

প্রশ্ন-৩৮৯. তখন আয়েশার বয়স কত ছিল?
উত্তর: তখন তার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর।
নোট: এ বয়স নিয়ে মতনৈক্য আছে।

প্রশ্ন-৩৯০. কখন রাসূল এর সাথে আয়েশা (রা)-এর বাসর হয়?
উত্তর: হিজরী প্রথম বছরের শাওয়াল মাসে মদিনায় হিজরতের পর তাদের বাসর হয়। তখন আয়েশা (রা)-এর বয়স ছিল নয় বছর।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 তায়েফ গমন

📄 তায়েফ গমন


প্রশ্ন-৩৯১. রাসূল কখন তায়েফ গমন করেন?
উত্তর: নবুওয়াতের দশম বছরের শাওয়াল মাসে তিনি তায়েফ গমন করেন।

প্রশ্ন-৩৯২. কেন তিনি সেখানে গেলেন?
উত্তর: মক্কার কাফিরদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তিনি তায়েফবাসীর কাছে আশ্রয়ের জন্য গেলেন।

প্রশ্ন-৩৯৩. এ ভ্রমণে তার সঙ্গী হলেন কে?
উত্তর: তার মুক্ত ক্রীতদাস যায়িদ বিন হারিছাহ (রা)।

প্রশ্ন-৩৯৪. তারা কীভাবে তায়েফ গেলেন?
উত্তর: তারা পায়ে হেঁটে তায়েফ গেলেন। যা ছিল মক্কার পূর্ব দিকে ৯০ কি.মি. দূরে।

প্রশ্ন-৩৯৫. তায়েফ পৌঁছে রাসূল কোথায় গেলেন?
উত্তর: তায়েফ পৌঁছে তিনি সর্বপ্রথম সাকীফ গোত্রের সরদারদের বাড়ি যান। তারা ছিল তিন ভাই আবু ইয়ালাইল, মাসুদ এবং হাবীব। তাদের বাবা ছিলেন আমর বিন উমাইর সাকীফী।

প্রশ্ন-৩৯৬. রাসূল তাদেরকে কী বললেন?
উত্তর: তিনি তাদেরকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিলেন।

প্রশ্ন-৩৯৭. রাসূল এর সঙ্গে তারা কীরূপ আচরণ করল?
উত্তর: তারা শুধুমাত্র অভদ্রভাবে তার দাওয়াতকেই প্রত্যাখ্যান করেনি বরং তার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করল এবং উপহাস করতে লাগল।

প্রশ্ন-৩৯৮. তারা রাসূলকে আর কীভাবে অপমান করল?
উত্তর: তারা তাদের গোলামদেরকে রাসূলের পিছনে লেলিয়ে দিল এবং বখাটে ছেলেদেরকে দিয়ে হৈ চৈ এবং পাথর নিক্ষেপ করাতে লাগল।

প্রশ্ন-৩৯৯. তিনি যখন একটি আঙ্গুর বাগানে গিয়ে আশ্রয় নিলেন তখন তার অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: তখন তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লেন এবং ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হতে লাগল। রক্তে তার জুতা ভিজে গেল।

প্রশ্ন-৪০০. তিনি কী প্রার্থনা করলেন?
উত্তর: তিনি দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! আমি আমার দুর্বলতা, সম্বলহীনতা ও জনগণের সামনে অসহায়ত্ব সম্পর্কে কেবল তোমার কাছেই ফরিয়াদ জানাই। তুমিই অসহায়দের মালিক। হে দয়াময়! তুমিই আমার রব। তুমি আমাকে কার হাতে সঁপে দিচ্ছ? আমার প্রতি বিদ্বেষ পরায়ণ শত্রুর নিকট যারা অত্যন্ত শক্তিশালী? তবে তুমি যদি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট না থাক, তাহলে আমি কোনো কিছুকে পরওয়া করি না। আমার জন্য তোমার পক্ষ থেকে নিরাপত্তাই যথেষ্ট। আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে তোমার সে জ্যোতি ও সৌন্দর্যের আশ্রয় কামনা করি, যার কল্যাণে সকল অন্ধকার দূরীভূত হয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তোমার সন্তুষ্টি কামনাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। তুমি ছাড়া আমার আর কোন শক্তি বা ক্ষমতা নেই।”

প্রশ্ন-৪০১. আঙ্গুর বাগানটির মালিক কে ছিলেন?
উত্তর: আঙ্গুর বাগানটির মালিক ছিলেন রাবি'আহ এর পুত্র উতবা ও শায়বাহ।

প্রশ্ন-৪০২. তারা রাসূল এর নিকট কী পাঠালেন?
উত্তর: তারা তাদের চাকর আদ্দাসকে দিয়ে কিছু আঙ্গুর পাঠালেন।

প্রশ্ন-৪০৩. রাসূল আঙ্গুরের দিকে হাত বাড়িয়ে কী বললেন?
উত্তর : তিনি বললেন بسم الله )আল্লাহর নামে শুরু করছি(

প্রশ্ন-৪০৪. আদ্দাস কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "এখানকার লোকেরা তো সাধারণত এ ধরনের কথা বলে না।

প্রশ্ন-৪০৫. এরপর রাসূল তার কাছে কী জানতে চাইলেন?
উত্তর: তিনি জানতে চাইলেন, তার ধর্ম ও দেশ সম্পর্কে।

প্রশ্ন-৪০৬. আদ্দাস কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, আমি একজন খ্রিস্টান এবং নিনেভার অধিবাসী।

প্রশ্ন-৪০৭. রাসূলতাকে কী বললেন?
উত্তর: রাসূল তাকে বললেন, "তুমি তো দেখছি আল্লাহর বান্দা ইউনুস বিন মাত্তার শহরের অধিবাসী।" রাসূল তাকে আরো বলেন, "ইউনুস বিন মাত্তা হলেন আমার ভাই। তিনি ছিলেন একজন নবী এবং আমিও একজন নবী।"

প্রশ্ন-৪০৮. রাসূল তায়েফে কতদিন ছিলেন?
উত্তর: তিনি সেখানে প্রায় দশদিন অবস্থান করেছিলেন।

প্রশ্ন-৪০৯. রাসূল যখন 'কারনুল মানাযিল' নামক স্থানে এসে পৌঁছলেন তখন কী ঘটেছিল?
উত্তর: আল্লাহ জিবরাঈলকে পাহাড়ের ফেরেশতাসহ রাসূলের কাছে পাঠালেন।

প্রশ্ন-৪১০. জিবরাঈল এসে রাসূলকে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "আমাকে আদেশ করুন আর আমি ঐ পাহাড় দুটোকে এক সাথে যুক্ত করে দিব এবং এতে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।"

প্রশ্ন-৪১১. আল্লাহর রাসূল কী উত্তর দিলেন?
উত্তর: তিনি বললেন, না, আমি বরং আশা করি আল্লাহ তাদের সন্তানদের মধ্য থেকে কাউকে প্রকাশ করবেন, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে।

প্রশ্ন-৪১২. এরপর তিনি কোথায় যান?
উত্তর: এরপর তিনি 'ওয়াদি নাখলায়' অবস্থান নেন।

প্রশ্ন-৪১৩. সেখানে কী ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর: নাখলায় অবস্থানকালে আল্লাহ তা'আলা একদল জ্বীন পাঠালেন যারা পবিত্র কুরআন শ্রবণ করেছিল।

প্রশ্ন-৪১৪. কুরআনের বাণী শুনে জ্বীনেরা কী বলাবলি করতে লাগল?
উত্তর: কুরআনের ভাষায়- فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا - يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَأَمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا .
অর্থ- আর তারা বলল, নিশ্চয়ই আমরা চমৎকার কুরআনের বাণী শুনেছি যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে, আমরা এর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমরা আর কখনো আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করব না। (সূরা-৭২ জ্বীন: আয়াত-১-২)

প্রশ্ন-৪১৫. মক্কায় প্রবেশের পূর্বে রাসূলুল্লাহ ﷺ কী করলেন?
উত্তর: তিনি খায'আ গোত্রের আখনাস বিন সোরাইকার কাছে নিরাপত্তার আবেদন নিয়ে একজন লোক পাঠালেন কিন্তু সোরাইকা তা প্রত্যাখ্যান করে। রাসূল দ্রুত আমর বিন সুহাইলের নিকট লোক পাঠান তাতেও কোন কাজ হলো না।

প্রশ্ন-৪১৬. অবশেষে রাসূল ﷺ কে আশ্রয় দিতে কে রাজি হন?
উত্তর: মুত'ইম বিন আদি।

প্রশ্ন-৪১৭. রাসূল ﷺ কীভাবে মক্কায় প্রবেশ করলেন?
উত্তর: মুত'ইম বিন আদির বিশাল সৈন্যবাহিনী কড়া নিরাপত্তায় তিনি মক্কায় প্রবেশ করেন।

প্রশ্ন-৪১৮. এ ঘটনায় আবু জাহেল কেমন দুশ্চিন্তায় পড়লেন?
উত্তর: আবু জাহেল ভাবলেন মুত'ইম বিন আদি ইসলাম গ্রহণ করে ফেলবে। কিন্তু যখন সে জানল যে মুত'ইম রাসূলকে আশ্রয় দিয়েছে ঠিক কিন্তু কখনো ইসলাম গ্রহণ করবে না, তখন সে দুশ্চিন্তামুক্ত হল।

প্রশ্ন-৪১৯. মক্কায় প্রবেশের পর রাসূল ﷺ কী করলেন?
উত্তর: মক্কায় গিয়ে তিনি তার কাজকর্ম পুনরায় শুরু করে দিলেন এবং উভয় গোত্রের মধ্যে ও অন্যান্য লোকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত শুরু করলেন, যা তিনি নবুওয়াতের চতুর্থ বছর থেকে করে আসছিলেন।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 ইসরা ও মিরাজ

📄 ইসরা ও মিরাজ


প্রশ্ন-৪২০. 'ইসরা' মানে কী?
উত্তর: ইসরা অর্থ হল- রাত্রিকালীন ভ্রমণ। রাসূল এর মক্কা থেকে জেরুসালেমে রাত্রিকালীন সফরকে ইসরা বলে।

প্রশ্ন-৪২১. 'মিরাজ' মানে কী?
উত্তর: মিরাজ মানে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ। জেরুসালেমের মাসজিদে আকসা থেকে জান্নাত পর্যন্ত রাসূল এর ভ্রমণকেই মিরাজ বলা হয়।

প্রশ্ন-৪২২. কখন এ অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছিল?
উত্তর: এ ঘটনাটি সংঘটিত হয় নবুওয়াতের দশম বছরের রজব মাসের ২৭ তারিখে।

প্রশ্ন-৪২৩. মিরাজ রজনীতে রাসূল কোথায় ছিলেন?
উত্তর: ঐ রাতে তিনি তার চাচাতো বোন আবু তালিবের মেয়ে হিন্দার ঘরে ছিলেন। হিন্দা উম্মে হানি নামে সুপরিচিত ছিলেন।

প্রশ্ন-৪২৪. মিরাজের শুরুতে রাসূল এর কী ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর: হঠাৎ জিবরাঈল এসে তার বুক চিড়ে রূহ বের করে আনলেন এবং তা যমযম কূপের পানি দিয়ে ভালোভাবে ধৌত করলেন। এরপর এটিকে পুনরায় যথাস্থানে রেখে দিলেন।

প্রশ্ন-৪২৫. রাসূল কীভাবে মক্কা থেকে জেরুসালেম ভ্রমণ করলেন?
উত্তর: তিনি বিদ্যুতের ন্যায় 'বোরাক' নামক স্বর্গীয় ঘোড়ায় আরোহণ করে মক্কা থেকে জেরুসালেমে ভ্রমণ করেন।

প্রশ্ন-৪২৬. এ ভ্রমণে রাসূল এর সঙ্গী হয়েছিলেন কে?
উত্তর: প্রধান ফেরেশতা জিবরাঈল।

প্রশ্ন-৪২৭. জেরুসালেমের মাসজিদুল আকসায় গিয়ে রাসূল কী করলেন?
উত্তর: তিনি ঘোড়া থেকে নামলেন, নেমে ঘোড়াটিকে মসজিদের গেইটের একটি বৃত্তের মধ্যে বাঁধলেন এবং সালাতে নবীদের ইমামতি করলেন।

প্রশ্ন-৪২৮. এরপর রাসূল কোথায় গেলেন?
উত্তর: তিনি জিবরাঈলের সঙ্গে জান্নাতে আরোহণ করলেন।

প্রশ্ন-৪২১. রাসূল এর সঙ্গে জান্নাতে অন্যান্য নবীদের কি দেখা হয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি প্রথম জান্নাতে দেখা করেন, মানব জাতির আদি পিতা আদম -এর সঙ্গে; দ্বিতীয় জান্নাতে দেখা করেন ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের সঙ্গে; তৃতীয় জান্নাতে দেখা করেন, ইউসুফ-এর সঙ্গে; চতুর্থ জান্নাতে দেখা করেন, ইদ্রিস এর সঙ্গে; পঞ্চম জান্নাতে দেখা করেন; হারুন -এর সঙ্গে, ষষ্ঠ জান্নাতে দেখা করেন; মূসা -এর সঙ্গে এবং সপ্তম জান্নাতে দেখা করেন ইবরাহীম-এর সঙ্গে।

প্রশ্ন-৪৩০. 'বাইতুল মামুর' কী এবং এটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: 'বাইতুল মামুর' হল পবিত্র কাবা ঘরের মতই একটি ঘর যা 'সিদরাতুল মুনতাহায়' অবস্থিত। মিরাজ রজনীতে রাসূল কে তা দেখানো হয়েছে যার দেখাশোনার জন্য প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছেন এবং শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত তারা এ কাজে নিয়োজিত থাকবেন।

প্রশ্ন-৪৩১. মিরাজ রজনীতে রাসূল এর ওপর প্রথম কত ওয়াক্ত সালাত ফরয হয়?
উত্তর: প্রথমে প্রতিদিন ৫০ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়।

প্রশ্ন-৪৩২. রাসূল যখন মূসাকে ৫০ ওয়াক্ত সালাতের কথা বললেন, তখন মূসা কী বললেন?
উত্তর: মূসা মুহাম্মদ কে বললেন, আপনার উম্মতরা এত ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারবে না। সুতরাং আল্লাহর কাছে ফিরে যান এবং সালাতের ওয়াক্ত কমানোর জন্য আবেদন করুন।

প্রশ্ন-৪৩৩. মুহাম্মদ কী করলেন?
উত্তর: নবী মুহাম্মদ জিবরাঈলকে সঙ্গে করে আল্লাহর কাছে গেলেন আল্লাহ দয়া করে ৫ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। রাসূল এ খবর নিয়ে মূসার কাছে আসলে মূসা বললেন, আপনার উম্মতেরা তাও পারবে না সুতরাং আপনি আবারো যান এবং সালাতের ওয়াক্ত আরো কমিয়ে দিতে বলুন। মুহাম্মদ কয়েকবার সালাতের ওয়াক্ত কমানোর জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন। তিনি মূসা এর পরামর্শে বারবার আল্লাহর কাছে গেলেন এবং শেষ পর্যন্ত যখন পাঁচ ওয়াক্তে আসল, তখনও মূসা বললেন, আপনার উম্মতরা তাও পারবে না, আপনি আবারো আল্লাহর কাছে যান এবং সালাতের ওয়াক্ত আরো কমিয়ে দিতে বলুন। কিন্তু এবার রাসূল বললেন, "আমি এখন লজ্জা পাচ্ছি যে, কীভাবে আবারো গিয়ে আল্লাহর কাছে সালাতের ওয়াক্ত কমানোর কথা বলব। যা হয়েছে আমি তা গ্রহণ করলাম এবং তাঁর ইচ্ছার ওপর বাকিটা ছেড়ে দিলাম।"

প্রশ্ন-৪৩৪. রাসূল কি আল্লাহকে দেখেছেন?
উত্তর: না, তার পূর্ববর্তী নবীদের মতো তিনিও আল্লাহকে দেখেননি।

প্রশ্ন-৪৩৫. মি'রাজ রজনীতে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাবলী কী ছিল?
উত্তর:
১. জিবরাঈল রাসূল এর বক্ষ বিদীর্ণ করে তার রূহ বের করে আনলেন এবং তা যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন এবং এরপর যথাস্থানে এটিকে স্থাপন করলেন।
২. রাসূল এর কাছে দুটি সোনার পান পাত্র আনা হলো, একটির মধ্যে ছিল দুধ ভর্তি আর অন্যটির মধ্যে ছিল মদ ভর্তি। রাসূল কে বলা হল দুটির মধ্যে যে কোন একটি পছন্দ করতে। তিনি দুধ ভর্তি পান পাত্রটি বাছাই করলেন এবং তা পান করলেন। তা দেখে জিবরাঈল বললেন, "আপনি আপনার উম্মতদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। আপনি যদি মদ বাছাই করতেন তাহলে আপনার উম্মতরা ভুল পথে পরিচালিত হতো।” তার মানে রাসূল ভালো জিনিস পছন্দ করলেন এবং মন্দ জিনিস পরিত্যাগ করলেন।
৩. রাসূল দুটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নদী দেখতে পেলেন। মনে হয় যেন দুটি প্রকাশ্য নদী নাইল ও ইউফরেটস মুসলমানেরা সবসময় কিসে ইসলামের অনুগত থাকবে তার সীমানা নির্দেশ করছে।
৪. রাসূল জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বিমর্ষ ও ভ্রূকুটি চেহারায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। তিনি এও দেখলেন যে, জাহান্নামীদেরকে তাদের পাপের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে।
৫. মুহাম্মদ কে যারা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতেন তাদের কাছে মিরাজ একটি উত্তেজনার সৃষ্টি করল। রাসূল ঐ রাতের সবকিছু খোলাখুলি বর্ণনা করলেন যা পরে নির্ভুল বলে প্রমাণিত হয়।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 মিরাজের কথা

📄 মিরাজের কথা


প্রশ্ন-৪৩৬. রাসূল কি তার রাত্রিকালীন ভ্রমণের কথা মক্কার লোকদের কাছে বর্ণনা করেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, পরের দিন সকাল বেলায় তিনি সকলকে ঘটনাটি বললেন।

প্রশ্ন-৪৩৭. রাসূল এর মিরাজের ঘটনায় লোকদের মধ্যে প্রথম কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: তারা হাসাহাসি ও ঠাট্টা করতে লাগল এবং বলতে লাগল এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার।

প্রশ্ন-৪৩৮. তারা রাসূল এর কাছে কী জানতে চাইল?
উত্তর: তারা জেরুসালেমে অবস্থিত 'মাসজিদুল আকসা' সম্পর্কে জানতে চাইল, কারণ তারা জানত যে, রাসূল কখনো জেরুসালেম যাননি। কিন্তু তিনি তাদেরকে জেরুসালেম ও মাসজিদুল আকসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য বর্ণনা দিয়ে তাদেরকে অবাক করে দিলেন।

প্রশ্ন-৪৩৯. মিরাজ সম্পর্কে মুসলমানদের মনোভাব কী ছিল?
উত্তর: প্রকৃত মুসলমানদের মতে রাসূল এর মিরাজ অসম্ভবের কিছুই ছিল না। তারা বিশ্বাস করত যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তাই তিনি তাঁর রাসূলকে জান্নাতে নিয়ে অলৌকিক নিদর্শনাবলী দেখানো মোটেই কঠিন কিছু ছিল না।

প্রশ্ন-৪৪০. কাফিররা যখন এ ঘটনাটি আবু বকর (রা) কে বললেন তখন তিনি উত্তরে কী বললেন?
উত্তর: তিনি নির্দ্বিধায় বললেন, "নিশ্চয় আমি তা বিশ্বাস করি" আর এ কারণে রাসূল তাকে 'সিদ্দীক' উপাধিতে ভূষিত করেন।

প্রশ্ন-৪৪১. কেন শুধুমাত্র নবীরাই আল্লাহর নিদর্শনাবলী দেখার যোগ্য?
উত্তর: নবীরাই আল্লাহর নিদর্শনাবলী দেখার যোগ্য। কারণ, তারা দ্বীনের জন্য যে কষ্টের বোঝা বহন করেন সাধারণ মানুষের জন্য তা অত্যন্ত অসহনীয় ভারী এবং তারা তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য পার্থিব সকল প্রকারের অগ্নি পরীক্ষা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য সহকারে সহ্য করেন। তাই তারাই আল্লাহর নিদর্শনাবলী দেখার যোগ্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00