📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 মক্কী জীবনে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

📄 মক্কী জীবনে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা


প্রশ্ন-৩১৭. মক্কী জীবনে ইসলামের ক্রমোন্নতির পর্যায়ে, ইসলামের মৌলিক নীতিমালাগুলো কী ছিল?
উত্তর: নীতিমালাগুলো হল, 'তাওহীদ' (আল্লাহর একত্ববাদ) "সৎ কাজ করা" এবং "অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকা।” (পরিত্যাগ করা)।

প্রশ্ন-৩১৮. ইসলাম বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ইসলাম হলো আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

প্রশ্ন-৩১৯. ঈমান কী?
উত্তর: ঈমান হলো- ১. অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করা, ২. মুখে স্বীকার করা এবং ৩. বাস্তবে তা প্রয়োগ করা।

প্রশ্ন-৩২০. ঈমানের দফা কয়টি? কোন কোন বিষয়ের প্রতি ঈমান আনতে হয়?
উত্তর: ঈমানের ছয়টি দফা রয়েছে- ১. আল্লাহর প্রতি ঈমান; ২. ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান; ৩. আল্লাহর রাসূলগণের প্রতি ঈমান; ৪. আল্লাহর রাসূলদের ওপর প্রেরিত কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান; ৫. শেষ দিনের প্রতি ঈমান; ৬. তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান।

প্রশ্ন-৩২১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বলতে বোঝায়, আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং তিনিই একমাত্র রব যার হাতে রয়েছে সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ। সবকিছু তার মুখাপেক্ষী কিন্তু তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। সবচেয়ে উত্তম নামসমূহ এবং যাবতীয় সকল গুণাবলীর মালিক তিনি।

প্রশ্ন-৩২২. ফেরেশতা কারা?
উত্তর : ফেরেশতারা নূরের তৈরি। তারা আল্লাহর অনুগত দাস। তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই পালন করেন। তাদের দৈহিক কোন চাহিদা যেমন, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিবাহের প্রয়োজন হয় না।

প্রশ্ন-৩২৩. কিতাবসমূহের প্রতি এবং রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জাতির কাছেই নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। মুহাম্মাদ হলেন শেষ নবী ও সর্বশেষ রাসূল। আল্লাহ তা'আলা ধর্মগ্রন্থও পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআন হল সর্বশেষ গ্রন্থ।

প্রশ্ন-৩২৪. শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস বলতে বুঝায়, এ পৃথিবীর জন্য আল্লাহ তা'আলা নির্দিষ্ট মেয়াদকাল নির্ধারণ করেছেন। এমন একটি সময় আসবে যখন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা সকল মৃতদের জীবিত করবেন এবং পৃথিবীতে তারা কী কাজ করেছে তার হিসাব নিবেন। এরপর সবাইকে যার যার কাজ অনুযায়ী পুরস্কৃত করবেন, আবার কাউকে শাস্তি প্রদান করবেন।

প্রশ্ন-৩২৫. বিচার দিবসের শাস্তি থেকে বাঁচার উপায় কী?
উত্তর : আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইসলামের শিক্ষার প্রতি আনুগত্য করা।

প্রশ্ন-৩২৬. ঈমানের মর্মকথা কী? ঈমানের সাক্ষ্য প্রমাণস্বরূপ বাক্য কী?
উত্তর : বাক্যটি হল- لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ ٱللَّٰهِ (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল)

প্রশ্ন-৩২৭. ঈমানের সাক্ষ্য প্রমাণের শর্তাবলী কী কী?
উত্তর : ঈমানের সাক্ষ্যপ্রমাণের শর্তাবলী হলো সাতটি যেমন- ১. জ্ঞান যা অজ্ঞতা দূর করে, ২. নিশ্চয়তা বা নিঃসন্দেহতা যা সন্দেহ দূরীভূত করে, ৩. আন্তরিকতা ও বিশুদ্ধতা যা শিরক থেকে দূরে রাখে ৪. সত্যবাদিতা যা কপটতা থেকে বাঁচায়, ৫. ভালোবাসা ও ভক্তি যা আল্লাহর দ্বীনের অবাধ্যতা থেকে বাঁচায়, ৬. পরিতৃপ্ত থাকা যা পার্থিব আনন্দের জন্য লোভ ও অতিরিক্ত ধন লোভের হাত থেকে বাঁচায়, ৭. আত্মসমর্পণ যা অবাধ্যতা থেকে বাঁচায়।

প্রশ্ন-৩২৮. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী যা আল্লাহ হুকুম করেছেন?
উত্তর: তা হলো তাওহীদ, আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন।

প্রশ্ন-৩২৯. তাওহীদ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: তাওহীদ হলো একথা ঘোষণা করা যে, আল্লাহই হচ্ছেন একমাত্র রব। মূলত তিনি ইবাদতের যোগ্য এবং তাঁর নিজস্ব গুণাবলী ও রাসূলের প্রতি তাঁর দেয়া গুণাবলীর মালিক হিসেবে ঘোষণা করা।

প্রশ্ন-৩৩০. কখন সালাত ফরয হয়?
উত্তর: ওহীর সূচনালগ্নে সালাত ফরয হয়।

প্রশ্ন-৩৩১. শুরুতে সালাত কত রাকাত ছিল?
উত্তর: শুরুতে সালাত ছিল দুই রাক'আত করে যা সকাল ও সন্ধ্যায় যথাসময়ে আদায় করা হতো।

প্রশ্ন-৩৩৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন?
উত্তর: তাহলো, 'শিরক' (আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা)।

প্রশ্ন-৩৩৩. মুশরিকদের ভালো কাজগুলো কি আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে?
উত্তর: কখনো না, যখন কোনো ভালো কাজের সাথে শিরক মিশ্রিত হয় তখন তা গ্রহণ করা হয় না।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 আবু তালিব ও রাসূল ﷺ-এর সাথে কোরাইশদের বৈঠক

📄 আবু তালিব ও রাসূল ﷺ-এর সাথে কোরাইশদের বৈঠক


প্রশ্ন-৩৩৪. কোরাইশরা কেন মুহাম্মদ এর দাওয়াতী কাজে বিরোধিতা করত?
উত্তর: কারণ তিনি মূর্তিপূজা অপছন্দ করতেন এবং মানুষদেরকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে হুকুম করতেন। তিনি বিচার দিবসের প্রতিও মানুষদেরকে সতর্ক করতেন যেদিন সকল মানুষকে তাদের স্বীয় কাজের হিসাব দিতে হবে।

প্রশ্ন-৩৩৫. রাসূলকে দাওয়াতী কাজ থেকে বিরত রাখতে প্রথমে তারা কী করল?
উত্তর: তারা রাসূল এর চাচা আবু তালিবের কাছে আসল এবং বলল, “হে আবু তালিব! আমাদের মধ্যে আপনি একজন সম্মানিত লোক। আল্লাহর কসম! মুহাম্মদ আমাদের পূর্বপুরুষ, বাপদাদা ও আমাদের দেবতাদেরকে গালিগালাজ করবে এবং আমাদেরকে বিপথগামী করবে আমরা তা মোটেও সহ্য করতে পারব না। তাকে এ কাজ থেকে বিরত রাখুন না হয় আমাদের নিকট হস্তান্তর করুন। আমরা আপনাকে তার থেকে মুক্ত করে দেব। কেননা আমরা যেমন তার বিরোধী আপনিও তেমনি তার বিরোধী।

প্রশ্ন-৩৩৬. আবু তালিব কী করলেন?
উত্তর: তিনি ভদ্রভাবে তাদের সাথে কথা বলে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন।

প্রশ্ন-৩৩৭. মক্কার পৌত্তলিকগণ দ্বিতীয় বৈঠকে আবু তালিবের কাছে কী চাইলেন?
উত্তর: তারা চাইলেন তার ভাতিজার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে। নইলে তারা তার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে শক্তি প্রয়োগ করবে।

প্রশ্ন-৩৩৮. আবু তালিব কী করলেন?
উত্তর: তিনি মুহাম্মদকে ডেকে আনলেন এবং কাফিররা যা বলে গেল তা বললেন। তিনি তাকে এ কথাও বললেন, আমার উপর এমন কঠিন বোঝা চাপিয়ে দিয়ো না যা আমি সইতে পারব না।

প্রশ্ন-৩৩৯. রাসূল কী জবাব দিলেন?
উত্তর: তিনি জবাব দিলেন, "চাচাজান! আল্লাহর কসম, তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চাঁদ এনে দেয় আর এ কাজ পরিত্যাগ করতে বলে, তবুও আমি আমার কাজ পরিত্যাগ করতে পারব না। যে পর্যন্ত না বিজয় আসে প্রয়োজনে সে প্রচেষ্টায় আমি আমার প্রাণ বিসর্জন দিব।" এরপর তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে উঠে চলে গেলেন। কিন্তু আবু তালিব তাকে ডাকলেন এবং বললেন, "যাও এবং তুমি যা ভালো মনে কর তা প্রচার কর। আল্লাহর কসম আমি কখনো তোমাকে কোনো অবস্থায় পরিত্যাগ করব না।

প্রশ্ন-৩৪০. কোরাইশরা তৃতীয় বৈঠকে আবু তালিবকে কী প্রস্তাব করেছিল?
উত্তর: তারা আবু তালিবের কাছে প্রস্তাব করল. ওমর বিন ওয়ালিদের বিনিময়ে মুহাম্মদকে তাদের হাতে অর্পণ করতে এবং গোপনে তারা মুহাম্মদকে হত্যা করে ফেলবে।

প্রশ্ন-৩৪১. আবু তালিব জবাবে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "এটা আসলেই একটি অন্যায় চুক্তি যে, তোমরা তোমাদের ছেলেকে লালন পালন করতে আমাকে দিবে, আর আমি আমার ভাতিজাকে হত্যা করতে তোমাদেরকে দিব।" আল্লাহর কসম! এটা কখনো সম্ভব নয়। এটা বিস্ময়কর ব্যাপার।"

প্রশ্ন-৩৪২. কোরাইশদের পক্ষ থেকে কে রাসূল এর কাছে আপোষের প্রস্তাব নিয়ে সাক্ষাত করেছিল?
উত্তর: উতবা বিন রাবি'আহ।

প্রশ্ন-৩৪৩. রাসূলকে তিনি কী প্রস্তাব করলেন?
উত্তর: তিনি মুহাম্মদ কে বললেন, “হে মুহাম্মদ! সমগ্র গোত্রের মধ্যে তুমি হচ্ছ উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তুমি তোমার জাতিকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছ। তুমি তাদেরকে বিপথগামী ও নির্বোধ বলে আখ্যায়িত করেছ। তুমি তাদের দেবতাদের অপমান করেছ। সে জন্য আমার কথা শোন যা আমি তোমাকে পরামর্শ দিচ্ছি এবং ভেবে দেখ, যদি তার কোন একটা তোমার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। তুমি যা চাও তা যদি ধন-সম্পদ হয়ে থাকে, আমরা তোমার জন্য ধন-সম্পদ সংগ্রহ করে তোমার ভাগ্য খুলে দিব, যাতে তুমি আমাদের সকলের চেয়ে ধনবান হতে পার। আর যদি তুমি সম্মান চাও, আমরা তোমাকে আমাদের নেতা বানিয়ে দিব। আর যদি তুমি ক্ষমতা চাও, আমরা তোমাকে আমাদের বাদশাহ বানিয়ে দিবো; আর তোমাকে যদি কোন জ্বীন বা ভূত ধরে থাকে তাহলে বল আমরা আমাদের সম্পদ দিয়ে তোমার চিকিৎসা চালিয়ে যাব, যে পর্যন্ত না তুমি পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠ।

প্রশ্ন-৩৪৪. রাসূল কীভাবে উত্তর দিলেন?
উত্তর: তিনি পবিত্র কুরআনের হা-মীম-আস সাজদার ১ থেকে ১৩ নং আয়াত পর্যন্ত উতবার কাছে তিলাওয়াত করলেন।

প্রশ্ন-৩৪৫. কুরআনের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উতবার মন কি প্রভাবিত হয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি কুরআনের ভাষার সৌন্দর্যে অবাক হয়ে গেলেন।

প্রশ্ন-৩৪৬. তার মুখমণ্ডলের ভাব প্রকাশে পরিবর্তন দেখে তার সাথীরা কী বলল?
উত্তর: তারা অবাক হয়ে বলতে লাগল, “মুহাম্মদ তোমার ওপর যাদু-মন্ত্র নিক্ষেপ করেছে।”

প্রশ্ন-৩৪q. উতবা পুনরায় কী বললেন?
উত্তর: তিনি পুনরায় বললেন, “আমি এমন এক বাণী শুনে এলাম যা আমি আর কখনো শুনিনি। এটি কবিতাও নয়, যাদুও নয়, জ্যোতিষীর কথাও নয়। এখন আমি যা বলি তা কর। তাকে তার পথে অগ্রসর হতে দাও। যদি অন্য আরবরা তাকে হত্যা করে, তাহলে তোমরা তার থেকে রেহাই পেয়ে যাবে। আর সে যদি ক্ষমতা লাভ করে, তাহলে তার ক্ষমতা মানে আমাদের শক্তি।”

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 সামাজিক বয়কট

📄 সামাজিক বয়কট


প্রশ্ন-৩৪৮. কখন বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব রাসূল -এর বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কট শুরু করে এবং কখন তা শেষ হয়?
উত্তর: সামাজিক বয়কট শুরু হয়েছিল নবুওয়াতের সপ্তম বছর এবং শেষ হয় নবুওয়াতের দশম বছরে। তিন বছর যাবৎ এটি স্থায়ী ছিল।

প্রশ্ন-৩৪৯. এ বয়কটের পেছনে কী কারণ ছিল?
উত্তর: বয়কটের পেছনে কারণ ছিল, মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি, বিশেষ করে ওমর ও হামযা (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ এবং কোরাইশরা রাসূল -কে আপোষের যে প্রস্তাব করেছিল রাসূল তা প্রত্যাখ্যান করার কারণে কোরাইশরা সামাজিক বয়কটের ঘোষণা দেয়।

প্রশ্ন-৩৫০. বয়কট চুক্তিটি কী ছিল?
উত্তর: চুক্তিটি ছিল, বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব যে পর্যন্ত মুহাম্মদ -কে কোরাইশদের হাতে হস্তান্তর করতে রাজি না হবে অথবা তাকে সাহায্য করা থেকে বিরত না হবে সে পর্যন্ত তাদের সাথে ব্যবসায় বাণিজ্য, লেনদেন, বিয়ে শাদী, পারস্পরিক দেখা সাক্ষাত এমনকি কোন কথাবার্তাও নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন-৩৫১. চুক্তিনামাটি কে লিখেছিল?
উত্তর: চুক্তি নামাটি লিখেছিল বাগীদ বিন আমির।

প্রশ্ন-৩৫২. কোরাইশরা চুক্তিনামাটি কোথায় ঝুলিয়ে ছিল?
উত্তর: তারা এটি কা'বার দেয়ালে ঝুলিয়ে ছিল।

প্রশ্ন-৩৫৩. বাগীদ বিন আমিরের কী পরিণতি হল?
উত্তর: রাসূল তার ওপর আল্লাহর গযবের (অভিশাপের) দোয়া করলেন। এর ফলে সে হাতে যে চুক্তিনামাটি লিখেছিল তার সে হাতটি অবশ হয়ে গেল।

প্রশ্ন-৩৫৪. বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবসহ আবু তালিবকে কোথায় বন্দী করা হয়?
উত্তর: বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবসহ আবু তালিবকে মক্কার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত "শি'আবে আবু তালিব” নামক উপত্যকায় বন্দী করা হয়। সেখানে তাকে দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ থাকতে হয়েছিল।

প্রশ্ন-৩৫৫. 'শি'আবে আবু তালিব' উপত্যকায় মুসলমানদের কী দশা হয়েছিল?
উত্তর: তারা উপত্যকায় মারাত্মক কষ্ট ভোগ করেছেন। তাদেরকে সেখানে গাছের পাতা খেতে হয়েছিল এবং পশুর শুকনো চামড়া রান্না করে ঝোল বানিয়ে খেতে হয়েছিল।

প্রশ্ন-৩৫৬. রাসূল -এর নিরাপত্তার জন্য আবু তালিব কেমন নজর রাখতেন?
উত্তর: যখনই লোকেরা ঘুমাতে যেতেন, তখনই তিনি মুহাম্মদ-এর বিপদ হতে পারে এ আশংকায় বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য তাকে বলতেন তুমি তোমার বিছানা পরিবর্তন করে ঘুমাও।

প্রশ্ন-৩৫৭. রাসূল কীভাবে তার মিশন চালিয়ে গেলেন?
উত্তর: তিনি বুকে সাহস রেখেছিলেন এবং দৃঢ়সংকল্প ছিলেন আর কখনো তিনি দাওয়াতী কাজ থেকে পিছু হটেননি। হজ্বের মৌসুমে এবং বিভিন্ন উৎসবে তিনি হজ্জ্বযাত্রীদের কাছে যেতেন এবং বিভিন্ন বণিকদের কাছে গিয়ে তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন।

প্রশ্ন-৩৫৮. কখন এবং কে প্রথম বয়কট চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেন?
উত্তর: নবুওয়াতের দশম বছরের মুহাররম মাসে হিশাম বিন আমর সর্বপ্রথম বয়কট চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেন। এছাড়া তিনি প্রায় সময় 'আবু তালিব' উপত্যকায় আটক লোকদের জন্য খাবার সরবরাহ করতেন। একরাতে তিনি গোপনে যুহাইর বিন আবু উমাইয়া মাখযুমীর নিকট গেলেন এবং বয়কট চুক্তি তুলে নেয়ার জন্য পাঁচ জনের একটি দল গঠন করলেন।

প্রশ্ন-৩৫৯. ঐ পাঁচ ব্যক্তি ছিলেন কারা?
উত্তর: তারা ছিলেন, ১. হিশাম বিন আমর, ২. যুহাইর বিন আবু উমাইয়া, ৩. মুত'ইম বিন আদি আবুল বোখতারি এবং ৫. যামা বিন আসওয়াদ।

প্রশ্ন-৩৬০. তারা কী সিদ্ধান্ত নিলেন?
উত্তর: তারা সিদ্ধান্ত নিলেন তাদের সভাস্থলে মিলিত হয়ে সামাজিক বয়কটের বিরুদ্ধে তারা তাদের মিশন অভিযান শুরু করবেন।

প্রশ্ন-৩৬১. সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকদের উদ্দেশ্যে যুহাইর কী বললেন?
উত্তর: তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, "তোমরা কি সন্তুষ্ট যে, তোমরা খাবার, পানি, পোশাক এবং বিয়ে শাদী করতে পারছ। অপরদিকে সামাজিক বয়কটের কারণে তোমাদের আত্মীয়-স্বজনেরা কত কষ্ট ভোগ করছে?”

প্রশ্ন-৩৬২. আবু জাহেল কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, চুক্তিনামা কখনো বাতিল করা হবে না।

প্রশ্ন-৩৬৩. যামাহ কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, চুক্তিনামাটি জনগণের সমর্থন ছাড়াই লিখা হয়েছে। তাই ঐ চুক্তিনামা আমরা মানি না।

প্রশ্ন-৩৬৪. আবু তালিব ঐ সময়ে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, এ মর্মে তার ভাতিজার কাছে ওহী এসেছে যে, 'বিসমিল্লাহ' بسم الله ছাড়া চুক্তিনামার সকল শব্দ উইপোকা খেয়ে ফেলেছে।

প্রশ্ন-৩৬৫. মক্কার নেতাগণ কি ঐ প্রস্তাবে রাজি ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তারা ঐ প্রস্তাবে রাজি ছিলেন এবং মুত'ইম বিন আদি কাবার দেয়াল থেকে চুক্তিনামাটি নিয়ে আসলেন।

প্রশ্ন-৩৬৫. মক্কার নেতাগণ কি বয়কট চুক্তি বাতিলের পক্ষে ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তারা সবাই বয়কট চুক্তি বাতিলের পক্ষে ছিলেন। এমনকি মুত'ইম বিন আদি নিজে গিয়ে চুক্তিনামাটি এনে ছিঁড়ে ফেললেন।

প্রশ্ন-৩৬৬. তারা কী উদঘাটন করল?
উত্তর: তারা উদঘাটন করল যে, "বিসমিল্লাহ" শব্দটি ছাড়া চুক্তিনামার বাকি সকল শব্দ উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 দুঃখের বছর

📄 দুঃখের বছর


প্রশ্ন-৩৬৭. কেন নবুওয়াতের দশম বছরকে 'আমুল হুযন "দুঃখের বছর" বলা হয়ে থাকে?
উত্তর: কারণ এ বছর আবু তালিব ও খাদিজা (রা) উভয়ই ইন্তিকাল করেন, যারা রাসূলকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তিনিও তাদেরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাদের মৃত্যু রাসূল এর জন্য ছিল অত্যন্ত দুঃখ ও হতাশার কারন।

প্রশ্ন-৩৬৮. আবু তালিব কখন ইন্তিকাল করেন?
উত্তর: সামাজিক বয়কট চুক্তি তুলে নেয়ার ছয় মাস পর ৬১৯ খ্রিস্টাব্দে নবুওয়াতের দশম বছরের রজব মাসে তিনি ইন্তিকাল করেন।

প্রশ্ন-৩৬৯. তার মূল নাম কী ছিল?
উত্তর: তার আসল নাম ছিল 'আবদ মানাফ' কিন্তু তার বড় ছেলে তালিবের নামেই তিনি আবু তালিব (তালিবের বাবা) নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

প্রশ্ন-৩৭০. রাসূল শেষ মুহূর্তেও কি তাকে ইসলাম গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি বলেছিলেন, "চাচাজান! আপনি শুধুমাত্র একবার বলুন যা ل الله। 'আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই' তাহলে আমি আল্লাহর কাছে শপথ করে সাক্ষ্য দিব আপনি একজন মু'মিন।"

প্রশ্ন-৩৭১. আবু তালিবের মৃত্যু শয্যায় আবু জাহেল ও আব্দুল্লাহ বিন আবু উমাইয়া তাকে কী বললেন?
উত্তর: তারা তাকে আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের ওপর অটল থেকে ইসলাম পরিত্যাগ করতে বললেন।

প্রশ্ন-৩৭২. আবু তালিব কি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: না, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি।

প্রশ্ন-৩৭৩. কাফির হিসেবে আবু তালিবের মৃত্যুতে রাসূল কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম! আমি নাছোড়বান্দার মত আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে যাব, যে পর্যন্ত আমাকে তা করতে নিষেধ করা না হয়।"

প্রশ্ন-৩৭৪. এ সম্পর্কে রাসূল এর প্রতি কুরআনের কোন আয়াতটি নাযিল হয়?
উত্তর: আয়াতটি হল- مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يُسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَبُ الْجَحِيمِ .
অর্থ- আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মু'মিনদের জন্য সংগত নয় যখন এটি সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, নিশ্চয়ই তারা জাহান্নামী। (সূরা-৯ তাওবা, আয়াত-১১৩)

প্রশ্ন-৩৭৫. এ সম্পর্কে রাসূল-এর কাছে অন্য কোন আয়াতটি নাযিল হয়?
উত্তর: আয়াতটি হলো- إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ .
অর্থ- তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেও তাকে সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎপথ অনুসারীদেরকে। (সূরা-২৮ কাসাস, আয়াত-৫৬)

প্রশ্ন-৩৭৬. আবু তালিব রাসূল কে কত বছর আশ্রয় দিয়েছিলেন?
উত্তর: রাসূল এর বাল্যকাল থেকে শুরু করে আবু তালিবের মৃত্যুর পূর্বে পর্যন্ত প্রায় ৪২ বছর তিনি রাসূলকে আশ্রয় দেন।

প্রশ্ন-৩৭৭. আবু তালিবের মৃত্যুর পর কোরাইশরা কী করল?
উত্তর: তারা রাসূল এর প্রচণ্ড বিরোধিতা শুরু করে দিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে তাদের অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিল।

প্রশ্ন-৩৭৮. খাদিজা (রা) কখন ইনতিকাল করেন?
উত্তর: রাসূল এর চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর মাত্র দুই মাস পর নবুওয়াতের দশম বছরের রমজান মাসে তিনি ইনতিকাল করেন।

প্রশ্ন-৩৭৯. রাসূল এর দাওয়াতি মিশনের সময় কি তিনি কোনো দুঃখ-কষ্টের শরীক হয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছেন এবং সবসময় ধৈর্যধারণ করতেন।

প্রশ্ন-৩৮০. খাদিজা (রা)-এর প্রতি রাসূল। এর প্রশংসার উক্তি কেমন ছিল?
উত্তর: নিম্নোক্ত ভাষায় তিনি খাদিজা (রা)-এর প্রশংসা করতেন, রাসূল বলতেন "যখন সবাই আমাকে প্রত্যাখ্যান করল, তখন খাদিজাই আমার একমাত্র বিশ্বাসী ছিল; যখন অন্যরা আমাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করল, তখন সে আমাকে নবী হিসেবে মেনে নিল; যখন লোকেরা আমাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করল তখন সে আমাকে তার সমস্ত সম্পদ দিয়ে সাহায্য করল।"

প্রশ্ন-৩৮১. ঐ একই বছরে অন্য যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল তা কী?
উত্তর: ঘটনাটি হল- রাসূল এর সাথে সাওদাহ বিনতে যাম'আহ (রা)-এর বিবাহ।

প্রশ্ন-৩৮২. কখন তিনি সাওদাহ (রা)-কে বিয়ে করেন?
উত্তর: খাদিজা (রা)-এর মৃত্যুর ছয় মাস পর নবুওয়াতের দশম বছরের শাওয়াল মাসে তিনি তাকে বিয়ে করেন।

প্রশ্ন-৩৮৩. সাওদাহ (রা) কি বিধবা ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ছিলেন একজন বিধবা।

প্রশ্ন-৩৮৪. তার পূর্ববর্তী স্বামী কে ছিলেন এবং তিনি কখন ইনতিকাল করেন?
উত্তর: তার পূর্ববর্তী স্বামী ছিলেন, সাকরান বিন আমর (রা)। তিনি দ্বিতীয়বার সাওদাহর সঙ্গে আবিসিনিয়া থেকে ফেরার সময় ইনতিকال করেন।

প্রশ্ন-৩৮৫. ইসলামের কারণে সাওদাহ (রা)-কেও কি দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, তাকেও অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল।

প্রশ্ন-৩৮৬. তিনি কখন ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: দাওয়াতের সূচনালগ্নেই সাওদাহ ইসলাম গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩৮৭. তার পূর্বের স্বামীও কি ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, সাওদাহর অনুপ্রেরণায় তিনি স্বাচ্ছ্যন্দে ইসলাম গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৩৮৮. ঐ একই মাসে ঘটে যাওয়া অন্য ঘটনাটি কী ছিল?
উত্তর: তাহলো, রাসূল এর সাথে আয়েশা (রা)-এর বিবাহ চুক্তি।

প্রশ্ন-৩৮৯. তখন আয়েশার বয়স কত ছিল?
উত্তর: তখন তার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর।
নোট: এ বয়স নিয়ে মতনৈক্য আছে।

প্রশ্ন-৩৯০. কখন রাসূল এর সাথে আয়েশা (রা)-এর বাসর হয়?
উত্তর: হিজরী প্রথম বছরের শাওয়াল মাসে মদিনায় হিজরতের পর তাদের বাসর হয়। তখন আয়েশা (রা)-এর বয়স ছিল নয় বছর।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00