📄 উসমান বিন আফফান (রা)
প্রশ্ন-৩০৩. উসমান (রা) কখন ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করেন?
উত্তর: শুরুতেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-৩০৪. প্রথমে তিনি কোথায় হিজরত করেন?
উত্তর: প্রথমে তিনি আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন।
প্রশ্ন-৩০৫. রাসূল এর সাথে তার কি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল?
উত্তর: তিনি ছিলেন রাসূল এর জামাতা। প্রথমে তিনি রুকাইয়াকে বিয়ে করেন, যিনি আবিসিনিয়া ও মদিনায় তার হিজরত সঙ্গী হয়েছিলেন। রুকাইয়ার মৃত্যুর পর রাসূল উম্মে কুলসুমকে ওসমান (রা)-এর সঙ্গে বিয়ে দেন। আর এ জন্যই তাকে "যুননুরাইন" বলা হয়।
প্রশ্ন-৩০৬. তিনি কি ইসলামের জন্য সম্পদ ব্যয় করতেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ইসলামের পথে পর্যাপ্ত পরিমাণে তার সম্পদ ব্যয় করতেন।
প্রশ্ন-৩০৭. রাসূল এর যুদ্ধে তিনি কি অংশ নিয়েছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি অনেক যুদ্ধেই অংশ নিয়েছেন।
📄 হামযাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা)
প্রশ্ন-৩০৮. হামযাহ (রা)-কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন রাসূল এর চাচা।
প্রশ্ন-৩০৯. তার ডাক নাম ছিল কী?
উত্তর: তার ডাক নাম ছিল আবু উমারাহ।
প্রশ্ন-৩১০. তিনি কি রাসূলকে ভালোবাসতেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।
প্রশ্ন-৩১১. তিনি কখন ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: তিনি নবুওয়াতের ৬ষ্ঠ বছরের যিলহজ্জ মাসে ইসলাম গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-৩১২. ইসলাম গ্রহণের সংক্ষিপ্ত কারণ কী?
উত্তর: একদিন রাসূল সাফা পাহাড়ে বসা ছিলেন। তখন আবু জাহেল তার পাশ দিয়ে পথ চলল। সে সত্য ধর্মকে ও রাসূলকে গালিগালাজ করতে লাগল কিন্তু রাসূল কিছুই বলেননি। এরপর আবু জাহেল একটি পাথর নিয়ে রাসূল এর মাথায় নিক্ষেপ করল। যার কারণে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। অল্প কিছুক্ষণ পরেই হামযাহ তার শিকার অভিযান থেকে কাঁধে ঝুলন্ত ধনুক নিয়ে ফিরে আসেন। আব্দুল্লাহ বিন জাদানের এক ক্রীতদাসী তাকে মুহাম্মদ এর সাথে আবু জাহেলের এমন নিষ্ঠুর আচরণের কথা বলে দিলেন। এ ঘটনা শুনে হামযাহ অত্যন্ত রেগে গেলেন। তিনি দ্রুত কা'বার দিকে রওয়ানা হলেন, আবু জাহেল সেখানে কোরাইশের এক লোকের সাথে বসেছিলেন এবং বললেন, "এই! তুমি নাকি মুহাম্মদকে অপমান করেছ? আমিও তো তার ধর্ম অনুসরণ করি এবং সে যা প্রচার করছে তাও মেনে নিচ্ছি।"
প্রশ্ন-৩১৩. হামযার ইসলাম গ্রহণ মুসলমানদের জন্য কেমন উপকারী ছিল?
উত্তর: ইসলামের প্রতি বিশ্বাসী এবং এর অনুসারীদের জন্য তিনি বিশাল শক্তির উৎস হিসেবে প্রকাশিত হলেন।
প্রশ্ন-৩১৪. বদর যুদ্ধে তিনি কি অংশ নিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
প্রশ্ন-৩১৫. কোন যুদ্ধে তিনি শহীদ হন?
উত্তর: উহুদ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।
প্রশ্ন-৩১৬. কে তাকে শহীদ করেছিল?
উত্তর: "ওয়াহশী” পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
📄 মক্কী জীবনে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
প্রশ্ন-৩১৭. মক্কী জীবনে ইসলামের ক্রমোন্নতির পর্যায়ে, ইসলামের মৌলিক নীতিমালাগুলো কী ছিল?
উত্তর: নীতিমালাগুলো হল, 'তাওহীদ' (আল্লাহর একত্ববাদ) "সৎ কাজ করা" এবং "অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকা।” (পরিত্যাগ করা)।
প্রশ্ন-৩১৮. ইসলাম বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ইসলাম হলো আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।
প্রশ্ন-৩১৯. ঈমান কী?
উত্তর: ঈমান হলো- ১. অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করা, ২. মুখে স্বীকার করা এবং ৩. বাস্তবে তা প্রয়োগ করা।
প্রশ্ন-৩২০. ঈমানের দফা কয়টি? কোন কোন বিষয়ের প্রতি ঈমান আনতে হয়?
উত্তর: ঈমানের ছয়টি দফা রয়েছে- ১. আল্লাহর প্রতি ঈমান; ২. ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান; ৩. আল্লাহর রাসূলগণের প্রতি ঈমান; ৪. আল্লাহর রাসূলদের ওপর প্রেরিত কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান; ৫. শেষ দিনের প্রতি ঈমান; ৬. তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান।
প্রশ্ন-৩২১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বলতে বোঝায়, আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং তিনিই একমাত্র রব যার হাতে রয়েছে সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ। সবকিছু তার মুখাপেক্ষী কিন্তু তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। সবচেয়ে উত্তম নামসমূহ এবং যাবতীয় সকল গুণাবলীর মালিক তিনি।
প্রশ্ন-৩২২. ফেরেশতা কারা?
উত্তর : ফেরেশতারা নূরের তৈরি। তারা আল্লাহর অনুগত দাস। তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই পালন করেন। তাদের দৈহিক কোন চাহিদা যেমন, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিবাহের প্রয়োজন হয় না।
প্রশ্ন-৩২৩. কিতাবসমূহের প্রতি এবং রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জাতির কাছেই নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। মুহাম্মাদ হলেন শেষ নবী ও সর্বশেষ রাসূল। আল্লাহ তা'আলা ধর্মগ্রন্থও পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআন হল সর্বশেষ গ্রন্থ।
প্রশ্ন-৩২৪. শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস বলতে বুঝায়, এ পৃথিবীর জন্য আল্লাহ তা'আলা নির্দিষ্ট মেয়াদকাল নির্ধারণ করেছেন। এমন একটি সময় আসবে যখন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা সকল মৃতদের জীবিত করবেন এবং পৃথিবীতে তারা কী কাজ করেছে তার হিসাব নিবেন। এরপর সবাইকে যার যার কাজ অনুযায়ী পুরস্কৃত করবেন, আবার কাউকে শাস্তি প্রদান করবেন।
প্রশ্ন-৩২৫. বিচার দিবসের শাস্তি থেকে বাঁচার উপায় কী?
উত্তর : আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইসলামের শিক্ষার প্রতি আনুগত্য করা।
প্রশ্ন-৩২৬. ঈমানের মর্মকথা কী? ঈমানের সাক্ষ্য প্রমাণস্বরূপ বাক্য কী?
উত্তর : বাক্যটি হল- لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ ٱللَّٰهِ (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল)
প্রশ্ন-৩২৭. ঈমানের সাক্ষ্য প্রমাণের শর্তাবলী কী কী?
উত্তর : ঈমানের সাক্ষ্যপ্রমাণের শর্তাবলী হলো সাতটি যেমন- ১. জ্ঞান যা অজ্ঞতা দূর করে, ২. নিশ্চয়তা বা নিঃসন্দেহতা যা সন্দেহ দূরীভূত করে, ৩. আন্তরিকতা ও বিশুদ্ধতা যা শিরক থেকে দূরে রাখে ৪. সত্যবাদিতা যা কপটতা থেকে বাঁচায়, ৫. ভালোবাসা ও ভক্তি যা আল্লাহর দ্বীনের অবাধ্যতা থেকে বাঁচায়, ৬. পরিতৃপ্ত থাকা যা পার্থিব আনন্দের জন্য লোভ ও অতিরিক্ত ধন লোভের হাত থেকে বাঁচায়, ৭. আত্মসমর্পণ যা অবাধ্যতা থেকে বাঁচায়।
প্রশ্ন-৩২৮. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী যা আল্লাহ হুকুম করেছেন?
উত্তর: তা হলো তাওহীদ, আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন।
প্রশ্ন-৩২৯. তাওহীদ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: তাওহীদ হলো একথা ঘোষণা করা যে, আল্লাহই হচ্ছেন একমাত্র রব। মূলত তিনি ইবাদতের যোগ্য এবং তাঁর নিজস্ব গুণাবলী ও রাসূলের প্রতি তাঁর দেয়া গুণাবলীর মালিক হিসেবে ঘোষণা করা।
প্রশ্ন-৩৩০. কখন সালাত ফরয হয়?
উত্তর: ওহীর সূচনালগ্নে সালাত ফরয হয়।
প্রশ্ন-৩৩১. শুরুতে সালাত কত রাকাত ছিল?
উত্তর: শুরুতে সালাত ছিল দুই রাক'আত করে যা সকাল ও সন্ধ্যায় যথাসময়ে আদায় করা হতো।
প্রশ্ন-৩৩৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন?
উত্তর: তাহলো, 'শিরক' (আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা)।
প্রশ্ন-৩৩৩. মুশরিকদের ভালো কাজগুলো কি আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে?
উত্তর: কখনো না, যখন কোনো ভালো কাজের সাথে শিরক মিশ্রিত হয় তখন তা গ্রহণ করা হয় না।
📄 আবু তালিব ও রাসূল ﷺ-এর সাথে কোরাইশদের বৈঠক
প্রশ্ন-৩৩৪. কোরাইশরা কেন মুহাম্মদ এর দাওয়াতী কাজে বিরোধিতা করত?
উত্তর: কারণ তিনি মূর্তিপূজা অপছন্দ করতেন এবং মানুষদেরকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে হুকুম করতেন। তিনি বিচার দিবসের প্রতিও মানুষদেরকে সতর্ক করতেন যেদিন সকল মানুষকে তাদের স্বীয় কাজের হিসাব দিতে হবে।
প্রশ্ন-৩৩৫. রাসূলকে দাওয়াতী কাজ থেকে বিরত রাখতে প্রথমে তারা কী করল?
উত্তর: তারা রাসূল এর চাচা আবু তালিবের কাছে আসল এবং বলল, “হে আবু তালিব! আমাদের মধ্যে আপনি একজন সম্মানিত লোক। আল্লাহর কসম! মুহাম্মদ আমাদের পূর্বপুরুষ, বাপদাদা ও আমাদের দেবতাদেরকে গালিগালাজ করবে এবং আমাদেরকে বিপথগামী করবে আমরা তা মোটেও সহ্য করতে পারব না। তাকে এ কাজ থেকে বিরত রাখুন না হয় আমাদের নিকট হস্তান্তর করুন। আমরা আপনাকে তার থেকে মুক্ত করে দেব। কেননা আমরা যেমন তার বিরোধী আপনিও তেমনি তার বিরোধী।
প্রশ্ন-৩৩৬. আবু তালিব কী করলেন?
উত্তর: তিনি ভদ্রভাবে তাদের সাথে কথা বলে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন।
প্রশ্ন-৩৩৭. মক্কার পৌত্তলিকগণ দ্বিতীয় বৈঠকে আবু তালিবের কাছে কী চাইলেন?
উত্তর: তারা চাইলেন তার ভাতিজার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে। নইলে তারা তার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে শক্তি প্রয়োগ করবে।
প্রশ্ন-৩৩৮. আবু তালিব কী করলেন?
উত্তর: তিনি মুহাম্মদকে ডেকে আনলেন এবং কাফিররা যা বলে গেল তা বললেন। তিনি তাকে এ কথাও বললেন, আমার উপর এমন কঠিন বোঝা চাপিয়ে দিয়ো না যা আমি সইতে পারব না।
প্রশ্ন-৩৩৯. রাসূল কী জবাব দিলেন?
উত্তর: তিনি জবাব দিলেন, "চাচাজান! আল্লাহর কসম, তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চাঁদ এনে দেয় আর এ কাজ পরিত্যাগ করতে বলে, তবুও আমি আমার কাজ পরিত্যাগ করতে পারব না। যে পর্যন্ত না বিজয় আসে প্রয়োজনে সে প্রচেষ্টায় আমি আমার প্রাণ বিসর্জন দিব।" এরপর তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে উঠে চলে গেলেন। কিন্তু আবু তালিব তাকে ডাকলেন এবং বললেন, "যাও এবং তুমি যা ভালো মনে কর তা প্রচার কর। আল্লাহর কসম আমি কখনো তোমাকে কোনো অবস্থায় পরিত্যাগ করব না।
প্রশ্ন-৩৪০. কোরাইশরা তৃতীয় বৈঠকে আবু তালিবকে কী প্রস্তাব করেছিল?
উত্তর: তারা আবু তালিবের কাছে প্রস্তাব করল. ওমর বিন ওয়ালিদের বিনিময়ে মুহাম্মদকে তাদের হাতে অর্পণ করতে এবং গোপনে তারা মুহাম্মদকে হত্যা করে ফেলবে।
প্রশ্ন-৩৪১. আবু তালিব জবাবে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "এটা আসলেই একটি অন্যায় চুক্তি যে, তোমরা তোমাদের ছেলেকে লালন পালন করতে আমাকে দিবে, আর আমি আমার ভাতিজাকে হত্যা করতে তোমাদেরকে দিব।" আল্লাহর কসম! এটা কখনো সম্ভব নয়। এটা বিস্ময়কর ব্যাপার।"
প্রশ্ন-৩৪২. কোরাইশদের পক্ষ থেকে কে রাসূল এর কাছে আপোষের প্রস্তাব নিয়ে সাক্ষাত করেছিল?
উত্তর: উতবা বিন রাবি'আহ।
প্রশ্ন-৩৪৩. রাসূলকে তিনি কী প্রস্তাব করলেন?
উত্তর: তিনি মুহাম্মদ কে বললেন, “হে মুহাম্মদ! সমগ্র গোত্রের মধ্যে তুমি হচ্ছ উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তুমি তোমার জাতিকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছ। তুমি তাদেরকে বিপথগামী ও নির্বোধ বলে আখ্যায়িত করেছ। তুমি তাদের দেবতাদের অপমান করেছ। সে জন্য আমার কথা শোন যা আমি তোমাকে পরামর্শ দিচ্ছি এবং ভেবে দেখ, যদি তার কোন একটা তোমার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। তুমি যা চাও তা যদি ধন-সম্পদ হয়ে থাকে, আমরা তোমার জন্য ধন-সম্পদ সংগ্রহ করে তোমার ভাগ্য খুলে দিব, যাতে তুমি আমাদের সকলের চেয়ে ধনবান হতে পার। আর যদি তুমি সম্মান চাও, আমরা তোমাকে আমাদের নেতা বানিয়ে দিব। আর যদি তুমি ক্ষমতা চাও, আমরা তোমাকে আমাদের বাদশাহ বানিয়ে দিবো; আর তোমাকে যদি কোন জ্বীন বা ভূত ধরে থাকে তাহলে বল আমরা আমাদের সম্পদ দিয়ে তোমার চিকিৎসা চালিয়ে যাব, যে পর্যন্ত না তুমি পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠ।
প্রশ্ন-৩৪৪. রাসূল কীভাবে উত্তর দিলেন?
উত্তর: তিনি পবিত্র কুরআনের হা-মীম-আস সাজদার ১ থেকে ১৩ নং আয়াত পর্যন্ত উতবার কাছে তিলাওয়াত করলেন।
প্রশ্ন-৩৪৫. কুরআনের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উতবার মন কি প্রভাবিত হয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি কুরআনের ভাষার সৌন্দর্যে অবাক হয়ে গেলেন।
প্রশ্ন-৩৪৬. তার মুখমণ্ডলের ভাব প্রকাশে পরিবর্তন দেখে তার সাথীরা কী বলল?
উত্তর: তারা অবাক হয়ে বলতে লাগল, “মুহাম্মদ তোমার ওপর যাদু-মন্ত্র নিক্ষেপ করেছে।”
প্রশ্ন-৩৪q. উতবা পুনরায় কী বললেন?
উত্তর: তিনি পুনরায় বললেন, “আমি এমন এক বাণী শুনে এলাম যা আমি আর কখনো শুনিনি। এটি কবিতাও নয়, যাদুও নয়, জ্যোতিষীর কথাও নয়। এখন আমি যা বলি তা কর। তাকে তার পথে অগ্রসর হতে দাও। যদি অন্য আরবরা তাকে হত্যা করে, তাহলে তোমরা তার থেকে রেহাই পেয়ে যাবে। আর সে যদি ক্ষমতা লাভ করে, তাহলে তার ক্ষমতা মানে আমাদের শক্তি।”