📄 আবু বকর সিদ্দীক (রা)
প্রশ্ন-২৯৩. আবু বকরের পিতা কে ছিলেন?
উত্তর: তার নাম ছিল উসমান (রা) কিন্তু তার ডাক নাম আবু কুহাফা। এ নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন।
প্রশ্ন-২৯৪. তার বাবা কখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: মক্কা বিজয়ের সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তিনি অন্ধ ও বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন।
প্রশ্ন-২৯৫. আবু বকরের কী নাম ছিল?
উত্তর: আব্দুল্লাহ বিন উসমান (রা)। আবু বকর হলো তার ডাকনাম আর 'সিদ্দীক' (সত্যবাদী) হলো তার উপাধী।
প্রশ্ন-২৯৬. রাসূল এর সাথে তার কী সম্পর্ক ছিল?
উত্তর: তিনি ছিলেন রাসূল এর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।
প্রশ্ন-২৯৭. আবু বকর কখন ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: দাওয়াতের প্রথম দিনেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-২৯৮. তিনি কি অন্যান্যদেরকেও ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি উসমান বিন আফফান, যুবাইর বিন আওয়াম, আব্দুর রহমান বিন আওফ, সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং সাঈদ বিন যায়িদ (রা) এদের সকলকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন-২৯৯. তার স্ত্রীর কী নাম ছিল?
উত্তর: আসমা বিনতে উমাইয়া (রা)। কিন্তু তিনি তার ডাকনাম উম্মে রুম্মান নামেই পরিচিত ছিলেন।
প্রশ্ন-৩০০. তার কন্যাদের নাম কী?
উত্তর: আসমা ও আয়েশা (রা)
প্রশ্ন-৩০১. রাসূল এর মদিনায় হিজরতের সময় আবু বকর কি তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ।
প্রশ্ন-৩০২. রাসূল এর যুদ্ধে তিনি কি অংশ নিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি প্রায় সবগুলো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
📄 উসমান বিন আফফান (রা)
প্রশ্ন-৩০৩. উসমান (রা) কখন ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করেন?
উত্তর: শুরুতেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-৩০৪. প্রথমে তিনি কোথায় হিজরত করেন?
উত্তর: প্রথমে তিনি আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন।
প্রশ্ন-৩০৫. রাসূল এর সাথে তার কি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল?
উত্তর: তিনি ছিলেন রাসূল এর জামাতা। প্রথমে তিনি রুকাইয়াকে বিয়ে করেন, যিনি আবিসিনিয়া ও মদিনায় তার হিজরত সঙ্গী হয়েছিলেন। রুকাইয়ার মৃত্যুর পর রাসূল উম্মে কুলসুমকে ওসমান (রা)-এর সঙ্গে বিয়ে দেন। আর এ জন্যই তাকে "যুননুরাইন" বলা হয়।
প্রশ্ন-৩০৬. তিনি কি ইসলামের জন্য সম্পদ ব্যয় করতেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ইসলামের পথে পর্যাপ্ত পরিমাণে তার সম্পদ ব্যয় করতেন।
প্রশ্ন-৩০৭. রাসূল এর যুদ্ধে তিনি কি অংশ নিয়েছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি অনেক যুদ্ধেই অংশ নিয়েছেন।
📄 হামযাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা)
প্রশ্ন-৩০৮. হামযাহ (রা)-কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন রাসূল এর চাচা।
প্রশ্ন-৩০৯. তার ডাক নাম ছিল কী?
উত্তর: তার ডাক নাম ছিল আবু উমারাহ।
প্রশ্ন-৩১০. তিনি কি রাসূলকে ভালোবাসতেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।
প্রশ্ন-৩১১. তিনি কখন ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: তিনি নবুওয়াতের ৬ষ্ঠ বছরের যিলহজ্জ মাসে ইসলাম গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-৩১২. ইসলাম গ্রহণের সংক্ষিপ্ত কারণ কী?
উত্তর: একদিন রাসূল সাফা পাহাড়ে বসা ছিলেন। তখন আবু জাহেল তার পাশ দিয়ে পথ চলল। সে সত্য ধর্মকে ও রাসূলকে গালিগালাজ করতে লাগল কিন্তু রাসূল কিছুই বলেননি। এরপর আবু জাহেল একটি পাথর নিয়ে রাসূল এর মাথায় নিক্ষেপ করল। যার কারণে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। অল্প কিছুক্ষণ পরেই হামযাহ তার শিকার অভিযান থেকে কাঁধে ঝুলন্ত ধনুক নিয়ে ফিরে আসেন। আব্দুল্লাহ বিন জাদানের এক ক্রীতদাসী তাকে মুহাম্মদ এর সাথে আবু জাহেলের এমন নিষ্ঠুর আচরণের কথা বলে দিলেন। এ ঘটনা শুনে হামযাহ অত্যন্ত রেগে গেলেন। তিনি দ্রুত কা'বার দিকে রওয়ানা হলেন, আবু জাহেল সেখানে কোরাইশের এক লোকের সাথে বসেছিলেন এবং বললেন, "এই! তুমি নাকি মুহাম্মদকে অপমান করেছ? আমিও তো তার ধর্ম অনুসরণ করি এবং সে যা প্রচার করছে তাও মেনে নিচ্ছি।"
প্রশ্ন-৩১৩. হামযার ইসলাম গ্রহণ মুসলমানদের জন্য কেমন উপকারী ছিল?
উত্তর: ইসলামের প্রতি বিশ্বাসী এবং এর অনুসারীদের জন্য তিনি বিশাল শক্তির উৎস হিসেবে প্রকাশিত হলেন।
প্রশ্ন-৩১৪. বদর যুদ্ধে তিনি কি অংশ নিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
প্রশ্ন-৩১৫. কোন যুদ্ধে তিনি শহীদ হন?
উত্তর: উহুদ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।
প্রশ্ন-৩১৬. কে তাকে শহীদ করেছিল?
উত্তর: "ওয়াহশী” পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
📄 মক্কী জীবনে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
প্রশ্ন-৩১৭. মক্কী জীবনে ইসলামের ক্রমোন্নতির পর্যায়ে, ইসলামের মৌলিক নীতিমালাগুলো কী ছিল?
উত্তর: নীতিমালাগুলো হল, 'তাওহীদ' (আল্লাহর একত্ববাদ) "সৎ কাজ করা" এবং "অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকা।” (পরিত্যাগ করা)।
প্রশ্ন-৩১৮. ইসলাম বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ইসলাম হলো আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।
প্রশ্ন-৩১৯. ঈমান কী?
উত্তর: ঈমান হলো- ১. অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করা, ২. মুখে স্বীকার করা এবং ৩. বাস্তবে তা প্রয়োগ করা।
প্রশ্ন-৩২০. ঈমানের দফা কয়টি? কোন কোন বিষয়ের প্রতি ঈমান আনতে হয়?
উত্তর: ঈমানের ছয়টি দফা রয়েছে- ১. আল্লাহর প্রতি ঈমান; ২. ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান; ৩. আল্লাহর রাসূলগণের প্রতি ঈমান; ৪. আল্লাহর রাসূলদের ওপর প্রেরিত কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান; ৫. শেষ দিনের প্রতি ঈমান; ৬. তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান।
প্রশ্ন-৩২১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বলতে বোঝায়, আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং তিনিই একমাত্র রব যার হাতে রয়েছে সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ। সবকিছু তার মুখাপেক্ষী কিন্তু তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। সবচেয়ে উত্তম নামসমূহ এবং যাবতীয় সকল গুণাবলীর মালিক তিনি।
প্রশ্ন-৩২২. ফেরেশতা কারা?
উত্তর : ফেরেশতারা নূরের তৈরি। তারা আল্লাহর অনুগত দাস। তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই পালন করেন। তাদের দৈহিক কোন চাহিদা যেমন, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিবাহের প্রয়োজন হয় না।
প্রশ্ন-৩২৩. কিতাবসমূহের প্রতি এবং রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক জাতির কাছেই নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। মুহাম্মাদ হলেন শেষ নবী ও সর্বশেষ রাসূল। আল্লাহ তা'আলা ধর্মগ্রন্থও পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআন হল সর্বশেষ গ্রন্থ।
প্রশ্ন-৩২৪. শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর : শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস বলতে বুঝায়, এ পৃথিবীর জন্য আল্লাহ তা'আলা নির্দিষ্ট মেয়াদকাল নির্ধারণ করেছেন। এমন একটি সময় আসবে যখন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা সকল মৃতদের জীবিত করবেন এবং পৃথিবীতে তারা কী কাজ করেছে তার হিসাব নিবেন। এরপর সবাইকে যার যার কাজ অনুযায়ী পুরস্কৃত করবেন, আবার কাউকে শাস্তি প্রদান করবেন।
প্রশ্ন-৩২৫. বিচার দিবসের শাস্তি থেকে বাঁচার উপায় কী?
উত্তর : আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইসলামের শিক্ষার প্রতি আনুগত্য করা।
প্রশ্ন-৩২৬. ঈমানের মর্মকথা কী? ঈমানের সাক্ষ্য প্রমাণস্বরূপ বাক্য কী?
উত্তর : বাক্যটি হল- لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ ٱللَّٰهِ (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল)
প্রশ্ন-৩২৭. ঈমানের সাক্ষ্য প্রমাণের শর্তাবলী কী কী?
উত্তর : ঈমানের সাক্ষ্যপ্রমাণের শর্তাবলী হলো সাতটি যেমন- ১. জ্ঞান যা অজ্ঞতা দূর করে, ২. নিশ্চয়তা বা নিঃসন্দেহতা যা সন্দেহ দূরীভূত করে, ৩. আন্তরিকতা ও বিশুদ্ধতা যা শিরক থেকে দূরে রাখে ৪. সত্যবাদিতা যা কপটতা থেকে বাঁচায়, ৫. ভালোবাসা ও ভক্তি যা আল্লাহর দ্বীনের অবাধ্যতা থেকে বাঁচায়, ৬. পরিতৃপ্ত থাকা যা পার্থিব আনন্দের জন্য লোভ ও অতিরিক্ত ধন লোভের হাত থেকে বাঁচায়, ৭. আত্মসমর্পণ যা অবাধ্যতা থেকে বাঁচায়।
প্রশ্ন-৩২৮. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী যা আল্লাহ হুকুম করেছেন?
উত্তর: তা হলো তাওহীদ, আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন।
প্রশ্ন-৩২৯. তাওহীদ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: তাওহীদ হলো একথা ঘোষণা করা যে, আল্লাহই হচ্ছেন একমাত্র রব। মূলত তিনি ইবাদতের যোগ্য এবং তাঁর নিজস্ব গুণাবলী ও রাসূলের প্রতি তাঁর দেয়া গুণাবলীর মালিক হিসেবে ঘোষণা করা।
প্রশ্ন-৩৩০. কখন সালাত ফরয হয়?
উত্তর: ওহীর সূচনালগ্নে সালাত ফরয হয়।
প্রশ্ন-৩৩১. শুরুতে সালাত কত রাকাত ছিল?
উত্তর: শুরুতে সালাত ছিল দুই রাক'আত করে যা সকাল ও সন্ধ্যায় যথাসময়ে আদায় করা হতো।
প্রশ্ন-৩৩৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন?
উত্তর: তাহলো, 'শিরক' (আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা)।
প্রশ্ন-৩৩৩. মুশরিকদের ভালো কাজগুলো কি আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে?
উত্তর: কখনো না, যখন কোনো ভালো কাজের সাথে শিরক মিশ্রিত হয় তখন তা গ্রহণ করা হয় না।