📄 যাবির বিন হারেছাহ (রা)
প্রশ্ন-২৫৬. যায়িদ বিন হারিছাহ কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন একজন ক্রীতদাস।
প্রশ্ন-২৫৭. কে তাকে ক্রয় করেছিল?
উত্তর: খাদিজা (রা)-এর ভাগিনা হাকিম বিন হিশাম তাকে ক্রয় করেন এবং খাদিজা (রা)-কে হাদিয়া দেন।
প্রশ্ন-২৫৮. খাদিজা (রা) তাকে কী করলেন?
উত্তর: পরবর্তীতে খাদিজা (রা) তাকে রাসূল এর সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য তাকে হাদিয়া হিসেবে দান করেন।
প্রশ্ন-২৫৯. রাসূল কী করলেন?
উত্তর: তিনি তাকে মুক্ত করে দিলেন।
প্রশ্ন-২৬০. যায়িদ (রা) কি তার বাবা-মায়ের কাছে যেতে চাইতেন?
উত্তর: না, তিনি রাসূল এর কাছে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন, তিনি তার মা-বাবার চেয়ে রাসূলকেই বেশি ভালবাসতেন।
প্রশ্ন-২৬১. যায়িদ (রা) কাকে বিয়ে করেছিলেন?
উত্তর: তিনি উম্মে আইমান (রা)-কে বিয়ে করেছিলেন। ওসামা (রা) ছিলেন তার গর্ভের সন্তান।
প্রশ্ন-২৬১. যায়িদ (রা) কি কোনো যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি রাসূল এর অনেকগুলো যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
প্রশ্ন-২৬৩. তিনি কি শাহাদাত বরণ করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মুতার যুদ্ধে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। আর তিনিই সে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
📄 জাফর বিন আবু তালিব (রা)
প্রশ্ন-২৬৪. জাফর (রা) কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন আলী বিন আবু তালিবের ভাই। তিনি আলী (রা)-এর চেয়ে দশ বছরের বড় ছিলেন।
প্রশ্ন-২৬৫. তিনি কোথায় হিজরত করেন?
উত্তর: তিনি আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন।
প্রশ্ন-২৬৬. আবিসিনিয়ার রাজার সঙ্গে তিনি কেন কথা বললেন এবং মুসলমানরা যা বিশ্বাস করত তা কেন ব্যাখ্যা করলেন?
উত্তর: কারণ তিনি ছিলেন আবিসিনিয়ায় মুহাজিরদের নেতা। তিনি ইসলাম সম্পর্কে রাজার সঙ্গে কথা বললেন এবং তাকে ইসলাম সম্পর্কে ধারণা দিলেন।
প্রশ্ন-২৬৭. জাফর (রা) কখন মদিনায় ফিরে আসলেন?
উত্তর: তিনি ৭ম হিজরীতে খায়বার বিজয়ের পর মদিনায় ফিরে আসেন।
প্রশ্ন-২৬৮. তার মদিনায় প্রত্যাবর্তনে রাসূল কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "আমি জানি না খায়বারের বিজয় বেশি আনন্দের নাকি জাফরের প্রত্যাবর্তন"।
প্রশ্ন-২৬৯. কখন তিনি শাহাদাত বরণ করেন?
উত্তর: তিনি ৮ম হিজরীতে মুতার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।
প্রশ্ন-২৭০. তাকে কী উপাধী দেয়া হয়েছিল?
উত্তর: তাকে 'তাইয়ার' উপাধী দেয়া হয়েছিল। কেননা যুদ্ধে তিনি তার দুটি হাতই হারিয়েছিলেন। রাসূল বললেন, এ দুটি হাতের বদলে জান্নাতে জাফরকে দুটি ডানা দান করা হয়েছে।
📄 আলী বিন আবু তালিব (রা)
প্রশ্ন-২৭১. আলী (রা) কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন আবু তালিবের ছেলে এবং রাসূল এর চাচাতো ভাই।
প্রশ্ন-২৭২. আলী (রা) কখন ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: ইসলামের দাওয়াতের প্রথম দিনই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি তখন একেবারে কিশোর ছিলেন।
প্রশ্ন-২৭৩. তিনি কি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি অনেক যুদ্ধেই অংশ নিয়েছেন।
প্রশ্ন-২৭৪. তার সাহসিকতার জন্য তাকে কী বলা হত?
উত্তর: তাকে বলা হত, 'আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ)।
প্রশ্ন-২৭৫. তিনি কীভাবে জীবন যাপন করতেন?
উত্তর: তিনি সাদাসিদে সাধারণ জীবন যাপন করতেন।
প্রশ্ন-২৭৬. প্রথমে তিনি কাকে বিয়ে করেছিলেন?
উত্তর: বদর যুদ্ধের পর তিনি সর্বপ্রথম রাসূল এর কন্যা ফাতিমাকে বিয়ে করেন। ফাতিমার ইন্তেকালের পর তিনি আরো বেশ কয়েকটি বিয়ে করেন। যেমন- ১. খাওলা বিনত জা'ফার, ২. উম্মুল বানীন বিনত হিযাম, ৩. উম্মু হাবীব বিনত রাবী'আ, ৪. লায়লা বিনত মাস'উদ, ৫. আসমা বিনত খাছ'আমিয়ায়, ৬. সা'ঈদা বিনত উরওয়া বিনত মাস'উদ।
প্রশ্ন-২৭৭. ফাতিমা (রা)-এর গর্ভে তার কয়জন ছেলে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ৩ জন ছেলে হাসান, হুসাইন ও মুহসিন। তবে মুহসিন ছোট বয়সেই ইন্তেকাল করেন। আর উম্মে কুলছুম ও যয়নব নামে ২ জন কন্যা ছিল। উম্মে কুলছুমও ছোট বয়সে ইন্তেকাল করেন।
📄 খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা)
প্রশ্ন-২৭৮. খাদিজা (রা) কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন রাসূল এর প্রথমা স্ত্রী এবং প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী মহিলা।
প্রশ্ন-২৭৯. রাসূল এর চেয়ে তিনি কত বছরের বড় ছিলেন?
উত্তর: রাসূল এর চেয়ে তিনি ১৫ বছরের বড় ছিলেন।
প্রশ্ন-২৮০. রাসূলকে তিনি কখন বিয়ে করেন?
উত্তর: তার বয়স যখন চল্লিশ বছর তখন তিনি রাসূলকে বিয়ে করেন।
প্রশ্ন-২৮১. তখন রাসূল এর বয়স ছিল কত এবং খাদিজা (রা)-এর কত তম স্বামী ছিলেন রাসূল?
উত্তর: তার বয়স ছিল মাত্র পঁচিশ বছর। রাসূল খাদিজা (রা)-এর তৃতীয় স্বামী ছিলেন।
নোট, খাজিদা (রা)-এর প্রথম স্বামীর নাম আবু হালা হিন্দ ইবনে যুরারা এবং দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আতিক ইবনে আ'ইয।
প্রশ্ন-২৮২. তার কত জন সন্তান ছিল?
উত্তর: তার ছয়জন সন্তান ছিল- দুইজন ছেলে এবং চারজন মেয়ে।
প্রশ্ন-২৮৩. কত বছর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন?
উত্তর: ষাট বছর বয়সে তখন তিনি ইন্তিকাল করেন।
প্রশ্ন-২৮৪. তিনি কি রাসূলকে সাহায্য করতেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি তাকে সাহায্য করতেন এবং তার বিপদে তাকে শান্তনা দিতেন।
প্রশ্ন-২৮৫. তিনি কি ইসলামের জন্য দুঃখ-কষ্টের অংশীদার হয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ইসলামের পথে দুঃখ-কষ্টের অংশীদার হয়েছিলেন। বিশেষ করে 'আবু তালিব উপত্যকায়' যেখানে কোরাইশদের সামাজিক বয়কটের ফলে প্রতিকূল অবস্থায় তাকে ৩ বছর যাবৎ রাসূল সহ বনী হাশিম ও বনী মুত্তালিব গোত্রদ্বয়ের লোকদের সাথে থাকতে হয়েছিল।