📄 বিলাল বিন রাবাহ (রা)
প্রশ্ন-২৩৯. বিলাল বিন রাবাহ কে ছিলেন?
উত্তর : বিলাল (রা) ছিলেন উমাইয়া বিন খালফ এর ক্রীতদাস।
প্রশ্ন-২৪০. উমাইয়া কীভাবে বিলাল (রা) কে কষ্ট দিত?
উত্তর : সে তাকে প্রখর রোদ্রের মধ্যে এনে উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে তার বুকের উপর ভারি পাথর দিয়ে রাখত। এরপর সে তাকে বলত, “তুমি তোমার নতুন ধর্ম ত্যাগ কর নইলে এভাবেই মৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে থাকতে হবে।”
প্রশ্ন-২৪১. বিলাল (রা) তখন কী বলতেন?
উত্তর : তিনি বলতেন, “আহাদ, আহাদ” (আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়)।
প্রশ্ন-২৪২. আবু বকর (রা) তার জন্য কী করলেন?
উত্তর : একবার আবু বকর (রা) দেখলেন যে, বেলালকে নির্যাতন করা হচ্ছে। তখন তিনি উমাইয়া বিন খালফ থেকে বিলালকে কিনে নিয়ে তাকে মুক্ত করলেন।
প্রশ্ন-২৪৩. বিলালের মায়ের নাম কী ছিল?
উত্তর : হামামা।
প্রশ্ন-২৪৪. তার বংশ সূত্র কী ছিল?
উত্তর : তিনি ছিলেন আবিসিনিয়ার বংশধর।
প্রশ্ন-২৪৫. মদীনায় হিজরতের পর তিনি কী করতেন?
উত্তর : যখন মুসলমানরা মদিনায় বসবাস শুরু করলেন এবং আযান দানের মর্যাদা লাভ করলেন, তখন বিলাল ছিলেন রাসুল এর মুয়াজ্জিন।
প্রশ্ন-২৪৬. বিলাল (রা) কী কোন যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন?
উত্তর : হ্যাঁ, তিনি ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা। রাসুল এর জীবদ্দশায় প্রায় সবগুলো যুদ্ধেই তিনি শরীক হয়ে যুদ্ধ করেছেন।
প্রশ্ন-২৪৭. তার মালিকের কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর : বদর যুদ্ধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। আব্দুর রহমান বিন আওফ (রা) তাকে বন্দী করে। কিন্তু বেলাল যখন দেখল তার অত্যাচারী নিষ্ঠুর মনিব তখন তিনি লোকদেরকে বললেন কে তাকে হত্যা করেছে-
📄 ইয়াসির (রা)
প্রশ্ন-২৪৮. ইয়াসির (রা) কে?
উত্তর: ইয়াসির (রা) ছিলেন আবু জাহেলের ক্রীতদাস।
প্রশ্ন-২৪৯. সুমাইয়া (রা) কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন ইয়াসিরের স্ত্রী।
প্রশ্ন-২৫০. আম্মার (রা) কে?
উত্তর: আম্মার ছিলেন ইয়াসির ও সুমাইয়ার একমাত্র ছেলে।
প্রশ্ন-২৫১. আবু জাহেল তাদের সাথে কী করত?
উত্তর: সে দিনের বেলায় তাদেরকে উত্তেজনার মধ্যে রাখত এবং নিষ্ঠুরভাবে মারধর করতেন।
প্রশ্ন-২৫২. যখন রাসূল তাদের পাশ দিয়ে যেতেন এবং দেখতেন যে তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে মারা হচ্ছে তখন তিনি তাদেরকে কী বলতেন?
উত্তর: তিনি বলতেন, "হে ইয়াসিরের পরিবার! ধৈর্যধারণ কর, জান্নাত তোমাদের জন্য অবধারিত।
প্রশ্ন-২৫৩. ইয়াসির এবং সুমাইয়ার (রা)-এর উপর নির্যাতনের ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর: আবু জাহেলের নিষ্ঠুর মারধরের কারণে তারা শহীদ হয়েছিলেন।
প্রশ্ন-২৫৪. সুমাইয়া (রা) কি ইসলামের প্রথম মহিলা শহীদ ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম মহিলা শহীদ।
প্রশ্ন-২৫৫. তিনি কীভাবে শহীদ হন?
উত্তর: আবু জাহেলের বল্লমের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
📄 যাবির বিন হারেছাহ (রা)
প্রশ্ন-২৫৬. যায়িদ বিন হারিছাহ কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন একজন ক্রীতদাস।
প্রশ্ন-২৫৭. কে তাকে ক্রয় করেছিল?
উত্তর: খাদিজা (রা)-এর ভাগিনা হাকিম বিন হিশাম তাকে ক্রয় করেন এবং খাদিজা (রা)-কে হাদিয়া দেন।
প্রশ্ন-২৫৮. খাদিজা (রা) তাকে কী করলেন?
উত্তর: পরবর্তীতে খাদিজা (রা) তাকে রাসূল এর সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য তাকে হাদিয়া হিসেবে দান করেন।
প্রশ্ন-২৫৯. রাসূল কী করলেন?
উত্তর: তিনি তাকে মুক্ত করে দিলেন।
প্রশ্ন-২৬০. যায়িদ (রা) কি তার বাবা-মায়ের কাছে যেতে চাইতেন?
উত্তর: না, তিনি রাসূল এর কাছে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন, তিনি তার মা-বাবার চেয়ে রাসূলকেই বেশি ভালবাসতেন।
প্রশ্ন-২৬১. যায়িদ (রা) কাকে বিয়ে করেছিলেন?
উত্তর: তিনি উম্মে আইমান (রা)-কে বিয়ে করেছিলেন। ওসামা (রা) ছিলেন তার গর্ভের সন্তান।
প্রশ্ন-২৬১. যায়িদ (রা) কি কোনো যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি রাসূল এর অনেকগুলো যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
প্রশ্ন-২৬৩. তিনি কি শাহাদাত বরণ করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মুতার যুদ্ধে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। আর তিনিই সে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
📄 জাফর বিন আবু তালিব (রা)
প্রশ্ন-২৬৪. জাফর (রা) কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন আলী বিন আবু তালিবের ভাই। তিনি আলী (রা)-এর চেয়ে দশ বছরের বড় ছিলেন।
প্রশ্ন-২৬৫. তিনি কোথায় হিজরত করেন?
উত্তর: তিনি আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন।
প্রশ্ন-২৬৬. আবিসিনিয়ার রাজার সঙ্গে তিনি কেন কথা বললেন এবং মুসলমানরা যা বিশ্বাস করত তা কেন ব্যাখ্যা করলেন?
উত্তর: কারণ তিনি ছিলেন আবিসিনিয়ায় মুহাজিরদের নেতা। তিনি ইসলাম সম্পর্কে রাজার সঙ্গে কথা বললেন এবং তাকে ইসলাম সম্পর্কে ধারণা দিলেন।
প্রশ্ন-২৬৭. জাফর (রা) কখন মদিনায় ফিরে আসলেন?
উত্তর: তিনি ৭ম হিজরীতে খায়বার বিজয়ের পর মদিনায় ফিরে আসেন।
প্রশ্ন-২৬৮. তার মদিনায় প্রত্যাবর্তনে রাসূল কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "আমি জানি না খায়বারের বিজয় বেশি আনন্দের নাকি জাফরের প্রত্যাবর্তন"।
প্রশ্ন-২৬৯. কখন তিনি শাহাদাত বরণ করেন?
উত্তর: তিনি ৮ম হিজরীতে মুতার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।
প্রশ্ন-২৭০. তাকে কী উপাধী দেয়া হয়েছিল?
উত্তর: তাকে 'তাইয়ার' উপাধী দেয়া হয়েছিল। কেননা যুদ্ধে তিনি তার দুটি হাতই হারিয়েছিলেন। রাসূল বললেন, এ দুটি হাতের বদলে জান্নাতে জাফরকে দুটি ডানা দান করা হয়েছে।