📄 প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী
ওমর বিন খাত্তাব (রা)
প্রশ্ন-২৩১. ওমর (রা) কখন ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: ২৭ বছর বয়সে।
প্রশ্ন-২৩২. তার ইসলাম গ্রহণের গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: একবার রাসূল হাত তুলে বিনীতভাবে প্রার্থনা করলেন, “হে আল্লাহ! ওমর বিন খাত্তাব অথবা আবু জাহেল বিন হিশাম এর মধ্য থেকে যাকে তোমার পছন্দ হয় তাকে দিয়ে ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করে দাও।” ওমর (রা) হলেন সে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। (আহমাদ ও তিরমিযী)
প্রশ্ন-২৩৩. ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি কেমন ছিলেন?
উত্তর: তিনি উগ্র মেজাজের একজন মানুষ ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি ছিলেন ইসলামের চরম শত্রু। তিনি প্রায়ই মুসলমানদেরকে নির্দয়ভাবে মারধর করতেন।
প্রশ্ন-২৩৪. ওমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের প্রেক্ষাপট কী?
উত্তর: একদিন ওমর রাসূলকে হত্যা করার জন্য তরবারী হাতে নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন। তিনি ছিলেন খুবই ক্ষিপ্ত। পথিমধ্যে নো'আইম বিন আব্দুল্লাহর সঙ্গে দেখা, তিনি বললেন, হে ওমর! এত উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছ কোথায়? ওমর ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, "মুহাম্মদকে হত্যা করতে সে কোরাইশদের একতাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে এবং তাদেরকে দুটি দলে বিভক্ত করে দিয়েছে।” এরপর নো'আইম বললেন, প্রথমে তোমার বোন ফাতিমা ও ভগ্নিপতি সাঈদের কাছে যাচ্ছ না কেন, তারাও তো ইসলাম গ্রহণ করেছে"? শোনা মাত্র ওমর তার বোনের বাড়িতে গেল। যখন সে বাড়ীর কাছাকাছি পৌছল তখন সে শুনতে পেল তার ভগ্নিপতি কুরআন তিলাওয়াত করছে। এরপর সে তার ভগ্নিপতিকে খুব মারতে লাগল।
ফাতিমা তার স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও প্রহার করল। এরপর স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই সাহস করে বললেন, "হ্যাঁ আমরা মুসলমান হয়েছি এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার যদি ইচ্ছা হয় তাহলে আমাদের হত্যা কর মেরে ফেল।” ফাতিমার আঘাত করা স্থান থেকে রক্ত ঝরছিল। ওমর যখন তার এ অবস্থা দেখল তখন তার মায়া লাগল এবং বলল, "তোমরা যা পড়ছিলে তা আমাকে দেখাও, আমি যেন যাচাই করতে পারি যে, মুহাম্মদ কী নিয়ে এসেছে?” ফাতিমা বললেন, ভাইয়া! মূর্তি পূজা করার কারণে তুমি অপবিত্র আর শুধুমাত্র পবিত্র লোকেরাই এটা (কুরআন) স্পর্শ করতে পারে। তাই প্রথমে তুমি পবিত্র হয়ে এসো।” তারপর ফাতিমা তাকে ঐ পাতাগুলো এনে দিলেন যেগুলোতে সূরা ত্ব-হার প্রথম কিছু আয়াত ছিল। ওমর পড়তে লাগলেন। পড়তে পড়তে যখন এ কথাগুলো সামনে এলো-
إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْ نِي وَأَقِمِ الصَّلوةَ لِذِكْرِي .
অর্থ- নিশ্চয় আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই, সুতরাং আমারই ইবাদত কর এবং আমার স্মরণেই সালাত আদায় কর। (সূরা-২০ ত্ব-হা. আয়াত-১৪)
মুহূর্তেই ওমর ইসলামের কাছে নত হয়ে গেল। তিনি বললেন, “কী চমৎকার! সুন্দর এ বাণী! আমাকে মুহাম্মদের কাছে নিয়ে চল।" ওমরের এ কথা শুনে আড়ালে লুকিয়ে থাকা খাব্বাব বেরিয়ে এসে বললেন, “হে ওমর! আমার মনে হয় আল্লাহ তাঁর রাসূল এর দোয়া কবুল করেছেন। কারণ আমি শুনেছি তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন, “হে আল্লাহ! ওমর বিন খাত্তাব অথবা আবু জাহেল বিন হিশামকে দিয়ে ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করে দাও।" ওমর দ্রুত দারুল আরকামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। সেখানে মুসলমানরা গোপনে দাওয়াতে তাবলীগের সমাবেশ করছিল। তিনি তার ঝুলন্ত তরবারী দিয়ে দরজায় আঘাত করলেন। সাহাবীদের একজন দরজার ছিদ্র দিয়ে উকি মেরে দেখলেন এবং বললেন, “এ তো দেখছি ওমর তরবারীসহ।”
হামযাহ তার মুসলিম সাথীদের ভয় দূর করে বললেন, “তাকে ভিতরে আসতে দাও। একজন বন্ধু হিসেবে তাকে স্বাগতম। আর শত্রু হলে তার তরবারী দিয়ে তার মাথা কেটে ফেলা হবে। সাহাবী উঠে দরজা খুললেন। যখন ওমর ভিতরে প্রবেশ করলেন, রাসূল তাকে ধরে বললেন, “হে ওমর বিন খাত্তাব! কী চাও তুমি এখানে?” ওমর বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে এসেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান গ্রহণ করতে এবং স্রষ্টার পক্ষ থেকে আসা মহান বাণীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে।" এ কথা শুনে রাসূল এবং তাঁর সাহাবীগণ আনন্দের সাথে জোরে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিতে লাগলেন।
প্রশ্ন-২৩৫. ওমর তার ইসলাম গ্রহণের কথা কি গোপন রেখেছিলেন?
উত্তর: না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। তিনি তার ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন রাখেননি। বরং তিনি কা'বা ঘরে গিয়ে প্রকাশ্যে সালাত আদায় করলেন। তিনি আবু জাহেলের বাড়িতেও গেলেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা জানিয়ে দিলেন।
প্রশ্ন-২৩৬. আবু জাহেল কী করলেন?
উত্তর: আবু জাহেল ক্ষেপে গেল। সে ওমর (রা)-কে অভিশাপ দিল এবং তার সামনে তাড়াতাড়ি করে দরজা বন্ধ করে দিল।
প্রশ্ন-২৩৭. ইসলামের জন্য ওমর (রা)-এর কেমন অবদান ছিল?
উত্তর: তিনি ইসলামের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন এবং আল্লাহর বাণী প্রচার করতে আন্তরিকভাবে কাজ করতেন। তিনি রাসূল এর জীবদ্দশায় প্রায় সবগুলো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রশ্ন-২৩৮. রাসুল তাকে কী উপাধি দিয়েছেন এবং কেন দিয়েছেন?
উত্তর : তাকে ‘ফারুক’ উপাধি দিয়েছেন কারণ তিনি সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতেন।
📄 বিলাল বিন রাবাহ (রা)
প্রশ্ন-২৩৯. বিলাল বিন রাবাহ কে ছিলেন?
উত্তর : বিলাল (রা) ছিলেন উমাইয়া বিন খালফ এর ক্রীতদাস।
প্রশ্ন-২৪০. উমাইয়া কীভাবে বিলাল (রা) কে কষ্ট দিত?
উত্তর : সে তাকে প্রখর রোদ্রের মধ্যে এনে উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে তার বুকের উপর ভারি পাথর দিয়ে রাখত। এরপর সে তাকে বলত, “তুমি তোমার নতুন ধর্ম ত্যাগ কর নইলে এভাবেই মৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে থাকতে হবে।”
প্রশ্ন-২৪১. বিলাল (রা) তখন কী বলতেন?
উত্তর : তিনি বলতেন, “আহাদ, আহাদ” (আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়)।
প্রশ্ন-২৪২. আবু বকর (রা) তার জন্য কী করলেন?
উত্তর : একবার আবু বকর (রা) দেখলেন যে, বেলালকে নির্যাতন করা হচ্ছে। তখন তিনি উমাইয়া বিন খালফ থেকে বিলালকে কিনে নিয়ে তাকে মুক্ত করলেন।
প্রশ্ন-২৪৩. বিলালের মায়ের নাম কী ছিল?
উত্তর : হামামা।
প্রশ্ন-২৪৪. তার বংশ সূত্র কী ছিল?
উত্তর : তিনি ছিলেন আবিসিনিয়ার বংশধর।
প্রশ্ন-২৪৫. মদীনায় হিজরতের পর তিনি কী করতেন?
উত্তর : যখন মুসলমানরা মদিনায় বসবাস শুরু করলেন এবং আযান দানের মর্যাদা লাভ করলেন, তখন বিলাল ছিলেন রাসুল এর মুয়াজ্জিন।
প্রশ্ন-২৪৬. বিলাল (রা) কী কোন যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন?
উত্তর : হ্যাঁ, তিনি ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা। রাসুল এর জীবদ্দশায় প্রায় সবগুলো যুদ্ধেই তিনি শরীক হয়ে যুদ্ধ করেছেন।
প্রশ্ন-২৪৭. তার মালিকের কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর : বদর যুদ্ধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। আব্দুর রহমান বিন আওফ (রা) তাকে বন্দী করে। কিন্তু বেলাল যখন দেখল তার অত্যাচারী নিষ্ঠুর মনিব তখন তিনি লোকদেরকে বললেন কে তাকে হত্যা করেছে-
📄 ইয়াসির (রা)
প্রশ্ন-২৪৮. ইয়াসির (রা) কে?
উত্তর: ইয়াসির (রা) ছিলেন আবু জাহেলের ক্রীতদাস।
প্রশ্ন-২৪৯. সুমাইয়া (রা) কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন ইয়াসিরের স্ত্রী।
প্রশ্ন-২৫০. আম্মার (রা) কে?
উত্তর: আম্মার ছিলেন ইয়াসির ও সুমাইয়ার একমাত্র ছেলে।
প্রশ্ন-২৫১. আবু জাহেল তাদের সাথে কী করত?
উত্তর: সে দিনের বেলায় তাদেরকে উত্তেজনার মধ্যে রাখত এবং নিষ্ঠুরভাবে মারধর করতেন।
প্রশ্ন-২৫২. যখন রাসূল তাদের পাশ দিয়ে যেতেন এবং দেখতেন যে তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে মারা হচ্ছে তখন তিনি তাদেরকে কী বলতেন?
উত্তর: তিনি বলতেন, "হে ইয়াসিরের পরিবার! ধৈর্যধারণ কর, জান্নাত তোমাদের জন্য অবধারিত।
প্রশ্ন-২৫৩. ইয়াসির এবং সুমাইয়ার (রা)-এর উপর নির্যাতনের ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর: আবু জাহেলের নিষ্ঠুর মারধরের কারণে তারা শহীদ হয়েছিলেন।
প্রশ্ন-২৫৪. সুমাইয়া (রা) কি ইসলামের প্রথম মহিলা শহীদ ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম মহিলা শহীদ।
প্রশ্ন-২৫৫. তিনি কীভাবে শহীদ হন?
উত্তর: আবু জাহেলের বল্লমের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
📄 যাবির বিন হারেছাহ (রা)
প্রশ্ন-২৫৬. যায়িদ বিন হারিছাহ কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন একজন ক্রীতদাস।
প্রশ্ন-২৫৭. কে তাকে ক্রয় করেছিল?
উত্তর: খাদিজা (রা)-এর ভাগিনা হাকিম বিন হিশাম তাকে ক্রয় করেন এবং খাদিজা (রা)-কে হাদিয়া দেন।
প্রশ্ন-২৫৮. খাদিজা (রা) তাকে কী করলেন?
উত্তর: পরবর্তীতে খাদিজা (রা) তাকে রাসূল এর সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য তাকে হাদিয়া হিসেবে দান করেন।
প্রশ্ন-২৫৯. রাসূল কী করলেন?
উত্তর: তিনি তাকে মুক্ত করে দিলেন।
প্রশ্ন-২৬০. যায়িদ (রা) কি তার বাবা-মায়ের কাছে যেতে চাইতেন?
উত্তর: না, তিনি রাসূল এর কাছে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন, তিনি তার মা-বাবার চেয়ে রাসূলকেই বেশি ভালবাসতেন।
প্রশ্ন-২৬১. যায়িদ (রা) কাকে বিয়ে করেছিলেন?
উত্তর: তিনি উম্মে আইমান (রা)-কে বিয়ে করেছিলেন। ওসামা (রা) ছিলেন তার গর্ভের সন্তান।
প্রশ্ন-২৬১. যায়িদ (রা) কি কোনো যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি রাসূল এর অনেকগুলো যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
প্রশ্ন-২৬৩. তিনি কি শাহাদাত বরণ করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মুতার যুদ্ধে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। আর তিনিই সে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।