📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 রাসূল ﷺ-এর সাহায্যকারী

📄 রাসূল ﷺ-এর সাহায্যকারী


প্রশ্ন-১৮৯. রাসূল কে মক্কার কোন কাফিররা সাহায্য করেছিল?
উত্তর: মক্কার কাফিরদের মধ্যে কয়েকজন কাফির রাসূল কে সাহায্য করেছিল।

প্রশ্ন-১৯০. শেষ পর্যন্ত যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি কিন্তু রাসূল কে সাহায্য করেছে তাদের নাম কী?
উত্তর: তারা হলেন- আবু তালিব, মুত'ইম বিন আদি এবং আবুল বু'খতারি।

প্রশ্ন-১৯১. আবু তালিব কে?
উত্তর: আবু তালিব ছিলেন রাসূল (সা)-এর চাচা।

প্রশ্ন-১৯২. শত্রুদের হাত থেকে তিনি কতদিন রাসূল কে রক্ষা করেছিলেন?
উত্তর: ইসলামের শুরু থেকে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর যাবৎ তিনি রাসূল কে রক্ষা করেছিলেন।

প্রশ্ন-১৯৩. মুত'ইম বিন আদি কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন মক্কার একজন নেতা।

প্রশ্ন-১৯৪. রাসূল কে তিনি কখন আশ্রয় দিয়েছিল?
উত্তর: রাসূল যখন তায়েফ থেকে ফিরে আসলেন এবং মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলেন, তখন মুত'ইম বিন আদি তাকে আশ্রয় দেন।

প্রশ্ন-১৯৫. তিনি কখন ইনতিকাল করেন?
উত্তর: তিনি বদর যুদ্ধে নিহত হন।

প্রশ্ন-১৯৬. আবুল বুখতারি কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন একজন কবি।

প্রশ্ন-১৯৭. রাসূল কে তিনি কখন সাহায্য করেছিলেন?
উত্তর: তিনি সামাজিক বয়কটের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং বয়কট প্রত্যাহারের জন্য জনমত তৈরি করেন।

প্রশ্ন-১৯৮. তিনি কখন নিহত হন?
উত্তর: তিনি বদর যুদ্ধে নিহত হন।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 আবিসিনিয়ায় হিজরত

📄 আবিসিনিয়ায় হিজরত


প্রশ্ন-১৯৯. কখন কোরাইশদের নির্যাতন শুরু হয়?
উত্তর: নবুওয়াতের চতুর্থ বছরের শেষ দিকে শুরু হয় কোরাইশদের নির্যাতনের ধারা।

প্রশ্ন-২০০. মুসলমানদের আবিসিনিয়ায় হিজরতের কারণ কী ছিল?
উত্তর: কোরাইশদের নিষ্ঠুরতা বৃদ্ধির কারণেই মুসলমানরা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন।

প্রশ্ন-২০১. মুসলমানরা কখন মক্কা থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন?
উত্তর: নবুওয়াতের পঞ্চম বছরের মাঝামাঝি সময়ে।

প্রশ্ন-২০২. সরাসরি হিজরতকে নির্দেশ করে কুরআনের কোন সূরা নাযিল হয়?
উত্তর: সূরা আয-যুমার।

প্রশ্ন-২০৩. রাসূল কেন মুসলমানদেরকে আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দিলেন?
উত্তর: রাসূল মুসলমানদেরকে আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দেয়ার কারণ হল তিনি জানতেন আবিসিনিয়ার (ইথিওপিয়া) রাজা একজন ন্যায়পরায়ণ, তিনি মুসলমানদের কোন ক্ষতি করবেন না।

প্রশ্ন-২০৪. আবিসিনিয়ার রাজার নাম ও উপাধি কী ছিল?
উত্তর: রাসূল এর সময়কালে আবিসিনিয়ার রাজা ছিলেন "আসহামা”। আর আবিসিনিয়ার রাজাদের উপাধি ছিল 'নাজ্জাশী'।

প্রশ্ন-২০৫. মুসলমানদের প্রথম দল কখন আবিসিনিয়ার অভিমুখে রওয়ানা হন?
উত্তর: নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে রজব মাসে।

প্রশ্ন-২০৬. প্রথম দলে কতজন লোক ছিলেন?
উত্তর: এ দলে ১২ জন পুরুষ ও চারজন মহিলা ছিলেন।

প্রশ্ন-২০৭. তাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তি ছিলেন কে?
উত্তর: উসমান বিন আফফান এবং তাঁর স্ত্রী রাসূল এর কন্যা রুকাইয়া (রা)

প্রশ্ন-২০৮. এ দম্পতি সম্পর্কে রাসূল কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, লূত ও ইবরাহীমের পর এরাই আল্লাহর পথে হিজরতকারী প্রথম দম্পতি।

প্রশ্ন-২০৯. মুসলমানদের চলে যাওয়ার খবর শুনে কোরাইশরা কী আবিসিনিয়ায় তাদের কোন লোক পাঠিয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, তারা খুব দ্রুত মুসলমানদের পিছনে তাদের লোক পাঠিয়েছিল। কিন্তু তারা মুহাজিরদেরকে অর্থাৎ মুসলমানদেরকে আটক করতে পারেনি।

প্রশ্ন-২১০. মুহাজিরদের দ্বিতীয় দল কখন আবিসিনিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন?
উত্তর: ঐ বছরেই (নবুওয়াতের ৫ম বছরে)।

প্রশ্ন-২১১. দ্বিতীয় দলে কতজন লোক ছিল?
উত্তর: ঐ দলে ৮৩ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

প্রশ্ন-২১২. ঐ দলে বিখ্যাত সাহাবী কে ছিলেন?
উত্তর: জাফর বিন আবু তালিব।

প্রশ্ন-২১৩. কোরাইশরা কী করল?
উত্তর: তারা অতি দ্রুত আমর বিন আল আস ও আব্দুল্লাহ বিন রাবি'আকে দূত হিসেবে আবিসিনিয়ায় মুহাজিরদেরকে ফেরত দেয়ার দাবি নিয়ে পাঠাল।

প্রশ্ন-২১৪. দূতেরা তাদের সাথে কী নিয়ে গেল?
উত্তর: তারা রাজা ও তার সভাসদদের জন্য মূল্যবান উপহার সামগ্রী নিয়ে গেল।

প্রশ্ন-২১৫. তারা কী দাবি করল?
উত্তর: তারা দাবি করল যে, মুসলিম শরণার্থীদের আবিসিনিয়া থেকে বহিস্কার করতে হবে এবং তাদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে আর এ আবেদন পেশ করার জন্য তাদের ধর্মীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাদের পাঠিয়েছেন।

প্রশ্ন-২১৬. নাজ্জাশী কী করলেন?
উত্তর: তিনি মুসলমানদেরকে তার দরবারে ডেকে আনলেন এবং তাদেরকে তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে বললেন।

প্রশ্ন-২১৭. মুসলমানদের পক্ষে কে কথা বললেন?
উত্তর: জাফর বিন আবু তালিব।

প্রশ্ন-২১৮. তিনি ইসলাম সম্পর্কে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, ইসলাম মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে বলে, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা এবং মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করে। ইসলাম মানুষদের সত্য কথা বলতে এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর অধিকারে মনোযোগী হতে নির্দেশ করে। ইসলাম খারাপ কাজ ও ভিক্ষা করতে মানুষকে নিষেধ করে এবং সালাত পড়তে আদেশ করে।

প্রশ্ন-২১৯. নাজ্জাশীর দেশে হিজরতের কারণ কি তিনি রাজাকে বলেছিলেন?
উত্তর: হ্যা, তিনি বললেন, সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করার কারণে কোরাইশরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। তারা চেয়েছিল মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদত বর্জন করে মূর্তিপূজায় ফিরে আসুক। কোরাইশদের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তারা মুসলমানদের উপর অনেক অত্যাচার করে। তাদের কাছে নিরাপত্তা খুঁজে না পেয়ে শান্তিতে নিরাপদে রাজার অধীনে থাকার আশায় তারা তার দেশে আসলেন।

প্রশ্ন-২২০. জাফরের কথাবার্তায় রাজার ওপর কী প্রভাব বিস্তার করেছিল?
উত্তর: তার বক্তৃতায় রাজার মনকে অনেক প্রভাবিত করেছিল এবং তিনি কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতে বললেন।

প্রশ্ন-২২১. জাফর (রা) কি কুরআন তিলাওয়াত করেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি সূরা মারইয়ামের প্রথম থেকে কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে রাজাকে শুনালেন। আর ঐ আয়াতগুলোতে ইয়াহিয়া ও ঈসার জন্মের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-২২২. কুরআনের আয়াত শুনে নাজ্জাশী রাজা কী বললেন?
উত্তর: তিনি স্বতস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন, মনে হচ্ছে ঐ বাণী যেন ঈসা এর ওপর নাযিলকৃত বাণী যা একই উৎস থেকে আলোর কিরণ বিকিরণ করছে।

প্রশ্ন-২২৩. রাজা কোরাইশদের সে হতাশ দূতদ্বয়কে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, আমি শঙ্কিত তাই আমি এ শরণার্থীদের তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তারা আমার রাজ্যে স্বাধীন, তারা যেভাবে খুশি সেভাবে থাকতে পারে এবং ইবাদত করতে পারে।

প্রশ্ন-২২৪. পরের দিন রাজার কাছে ঐ দূতদ্বয় কী বললেন?
উত্তর: তারা বলল, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা ঈসাকে নিয়ে ঠাট্টা করে।

প্রশ্ন-২২৫. রাজা কী করলেন?
উত্তর: তিনি আবারও مسلمانوںকে তার দরবারে হাজির করলেন এবং ঈসার সম্পর্কে তাদের মন্তব্য জানতে চাইলেন।

প্রশ্ন-২২৬. মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কে এবং তিনি কী বললেন?
উত্তর: জাফর (রা) আবারও মুসলমানদের পক্ষ থেকে দাঁড়িয়ে বললেন, আমাদের রাসূল আমাদেরকে ঈসা সম্পর্কে যা বলেছেন আমরাও তাই বলি। তিনি বলেছেন ঈসা (আ) হলেন আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল তিনি তার আত্মা ও তার বাণী কুমারী মারইয়ামের মধ্যে সঞ্চারিত করেছেন।

প্রশ্ন-২২৭. একথা শুনে রাজা কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, আমরাও তাই বিশ্বাস করি। তোমাদের ওপর এবং তোমাদের রাসূলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

প্রশ্ন-২২৮. মুসলমানদেরকে তিনি কী নিশ্চিত করলেন?
উত্তর: তিনি মুসলমানদেরকে তার পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলেন।

প্রশ্ন-২২৯. তারপর তিনি কী করলেন?
উত্তর: তারপর তিনি কোরাইশদের দূতদ্বয়ের আনা উপহার সামগ্রী ফিরিয়ে দিলেন।

প্রশ্ন-২৩০. আবিসিনিয়ায় মুসলমানরা কীভাবে বসবাস করেছিল?
উত্তর: খায়বার বিজয়ের সময় মদিনায় ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত তারা আবিসিনিয়ায় কয়েক বছর সুখে-শান্তিতে বসবাস করেছিল।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী

📄 প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী


ওমর বিন খাত্তাব (রা)

প্রশ্ন-২৩১. ওমর (রা) কখন ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: ২৭ বছর বয়সে।

প্রশ্ন-২৩২. তার ইসলাম গ্রহণের গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: একবার রাসূল হাত তুলে বিনীতভাবে প্রার্থনা করলেন, “হে আল্লাহ! ওমর বিন খাত্তাব অথবা আবু জাহেল বিন হিশাম এর মধ্য থেকে যাকে তোমার পছন্দ হয় তাকে দিয়ে ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করে দাও।” ওমর (রা) হলেন সে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। (আহমাদ ও তিরমিযী)

প্রশ্ন-২৩৩. ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি কেমন ছিলেন?
উত্তর: তিনি উগ্র মেজাজের একজন মানুষ ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি ছিলেন ইসলামের চরম শত্রু। তিনি প্রায়ই মুসলমানদেরকে নির্দয়ভাবে মারধর করতেন।

প্রশ্ন-২৩৪. ওমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের প্রেক্ষাপট কী?
উত্তর: একদিন ওমর রাসূলকে হত্যা করার জন্য তরবারী হাতে নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন। তিনি ছিলেন খুবই ক্ষিপ্ত। পথিমধ্যে নো'আইম বিন আব্দুল্লাহর সঙ্গে দেখা, তিনি বললেন, হে ওমর! এত উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছ কোথায়? ওমর ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, "মুহাম্মদকে হত্যা করতে সে কোরাইশদের একতাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে এবং তাদেরকে দুটি দলে বিভক্ত করে দিয়েছে।” এরপর নো'আইম বললেন, প্রথমে তোমার বোন ফাতিমা ও ভগ্নিপতি সাঈদের কাছে যাচ্ছ না কেন, তারাও তো ইসলাম গ্রহণ করেছে"? শোনা মাত্র ওমর তার বোনের বাড়িতে গেল। যখন সে বাড়ীর কাছাকাছি পৌছল তখন সে শুনতে পেল তার ভগ্নিপতি কুরআন তিলাওয়াত করছে। এরপর সে তার ভগ্নিপতিকে খুব মারতে লাগল।
ফাতিমা তার স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও প্রহার করল। এরপর স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই সাহস করে বললেন, "হ্যাঁ আমরা মুসলমান হয়েছি এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার যদি ইচ্ছা হয় তাহলে আমাদের হত্যা কর মেরে ফেল।” ফাতিমার আঘাত করা স্থান থেকে রক্ত ঝরছিল। ওমর যখন তার এ অবস্থা দেখল তখন তার মায়া লাগল এবং বলল, "তোমরা যা পড়ছিলে তা আমাকে দেখাও, আমি যেন যাচাই করতে পারি যে, মুহাম্মদ কী নিয়ে এসেছে?” ফাতিমা বললেন, ভাইয়া! মূর্তি পূজা করার কারণে তুমি অপবিত্র আর শুধুমাত্র পবিত্র লোকেরাই এটা (কুরআন) স্পর্শ করতে পারে। তাই প্রথমে তুমি পবিত্র হয়ে এসো।” তারপর ফাতিমা তাকে ঐ পাতাগুলো এনে দিলেন যেগুলোতে সূরা ত্ব-হার প্রথম কিছু আয়াত ছিল। ওমর পড়তে লাগলেন। পড়তে পড়তে যখন এ কথাগুলো সামনে এলো-
إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْ نِي وَأَقِمِ الصَّلوةَ لِذِكْرِي .
অর্থ- নিশ্চয় আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই, সুতরাং আমারই ইবাদত কর এবং আমার স্মরণেই সালাত আদায় কর। (সূরা-২০ ত্ব-হা. আয়াত-১৪)
মুহূর্তেই ওমর ইসলামের কাছে নত হয়ে গেল। তিনি বললেন, “কী চমৎকার! সুন্দর এ বাণী! আমাকে মুহাম্মদের কাছে নিয়ে চল।" ওমরের এ কথা শুনে আড়ালে লুকিয়ে থাকা খাব্বাব বেরিয়ে এসে বললেন, “হে ওমর! আমার মনে হয় আল্লাহ তাঁর রাসূল এর দোয়া কবুল করেছেন। কারণ আমি শুনেছি তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন, “হে আল্লাহ! ওমর বিন খাত্তাব অথবা আবু জাহেল বিন হিশামকে দিয়ে ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করে দাও।" ওমর দ্রুত দারুল আরকামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। সেখানে মুসলমানরা গোপনে দাওয়াতে তাবলীগের সমাবেশ করছিল। তিনি তার ঝুলন্ত তরবারী দিয়ে দরজায় আঘাত করলেন। সাহাবীদের একজন দরজার ছিদ্র দিয়ে উকি মেরে দেখলেন এবং বললেন, “এ তো দেখছি ওমর তরবারীসহ।”
হামযাহ তার মুসলিম সাথীদের ভয় দূর করে বললেন, “তাকে ভিতরে আসতে দাও। একজন বন্ধু হিসেবে তাকে স্বাগতম। আর শত্রু হলে তার তরবারী দিয়ে তার মাথা কেটে ফেলা হবে। সাহাবী উঠে দরজা খুললেন। যখন ওমর ভিতরে প্রবেশ করলেন, রাসূল তাকে ধরে বললেন, “হে ওমর বিন খাত্তাব! কী চাও তুমি এখানে?” ওমর বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে এসেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান গ্রহণ করতে এবং স্রষ্টার পক্ষ থেকে আসা মহান বাণীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে।" এ কথা শুনে রাসূল এবং তাঁর সাহাবীগণ আনন্দের সাথে জোরে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিতে লাগলেন।

প্রশ্ন-২৩৫. ওমর তার ইসলাম গ্রহণের কথা কি গোপন রেখেছিলেন?
উত্তর: না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। তিনি তার ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন রাখেননি। বরং তিনি কা'বা ঘরে গিয়ে প্রকাশ্যে সালাত আদায় করলেন। তিনি আবু জাহেলের বাড়িতেও গেলেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা জানিয়ে দিলেন।

প্রশ্ন-২৩৬. আবু জাহেল কী করলেন?
উত্তর: আবু জাহেল ক্ষেপে গেল। সে ওমর (রা)-কে অভিশাপ দিল এবং তার সামনে তাড়াতাড়ি করে দরজা বন্ধ করে দিল।

প্রশ্ন-২৩৭. ইসলামের জন্য ওমর (রা)-এর কেমন অবদান ছিল?
উত্তর: তিনি ইসলামের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন এবং আল্লাহর বাণী প্রচার করতে আন্তরিকভাবে কাজ করতেন। তিনি রাসূল এর জীবদ্দশায় প্রায় সবগুলো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রশ্ন-২৩৮. রাসুল তাকে কী উপাধি দিয়েছেন এবং কেন দিয়েছেন?
উত্তর : তাকে ‘ফারুক’ উপাধি দিয়েছেন কারণ তিনি সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতেন।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 বিলাল বিন রাবাহ (রা)

📄 বিলাল বিন রাবাহ (রা)


প্রশ্ন-২৩৯. বিলাল বিন রাবাহ কে ছিলেন?
উত্তর : বিলাল (রা) ছিলেন উমাইয়া বিন খালফ এর ক্রীতদাস।

প্রশ্ন-২৪০. উমাইয়া কীভাবে বিলাল (রা) কে কষ্ট দিত?
উত্তর : সে তাকে প্রখর রোদ্রের মধ্যে এনে উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে তার বুকের উপর ভারি পাথর দিয়ে রাখত। এরপর সে তাকে বলত, “তুমি তোমার নতুন ধর্ম ত্যাগ কর নইলে এভাবেই মৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে থাকতে হবে।”

প্রশ্ন-২৪১. বিলাল (রা) তখন কী বলতেন?
উত্তর : তিনি বলতেন, “আহাদ, আহাদ” (আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়)।

প্রশ্ন-২৪২. আবু বকর (রা) তার জন্য কী করলেন?
উত্তর : একবার আবু বকর (রা) দেখলেন যে, বেলালকে নির্যাতন করা হচ্ছে। তখন তিনি উমাইয়া বিন খালফ থেকে বিলালকে কিনে নিয়ে তাকে মুক্ত করলেন।

প্রশ্ন-২৪৩. বিলালের মায়ের নাম কী ছিল?
উত্তর : হামামা।

প্রশ্ন-২৪৪. তার বংশ সূত্র কী ছিল?
উত্তর : তিনি ছিলেন আবিসিনিয়ার বংশধর।

প্রশ্ন-২৪৫. মদীনায় হিজরতের পর তিনি কী করতেন?
উত্তর : যখন মুসলমানরা মদিনায় বসবাস শুরু করলেন এবং আযান দানের মর্যাদা লাভ করলেন, তখন বিলাল ছিলেন রাসুল এর মুয়াজ্জিন।

প্রশ্ন-২৪৬. বিলাল (রা) কী কোন যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন?
উত্তর : হ্যাঁ, তিনি ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা। রাসুল এর জীবদ্দশায় প্রায় সবগুলো যুদ্ধেই তিনি শরীক হয়ে যুদ্ধ করেছেন।

প্রশ্ন-২৪৭. তার মালিকের কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর : বদর যুদ্ধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। আব্দুর রহমান বিন আওফ (রা) তাকে বন্দী করে। কিন্তু বেলাল যখন দেখল তার অত্যাচারী নিষ্ঠুর মনিব তখন তিনি লোকদেরকে বললেন কে তাকে হত্যা করেছে-

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00