📄 ইসলামের চরম শত্রু
প্রশ্ন-১৫৯. আবু জাহেল কে?
উত্তর: আবু জাহেল ছিলেন কুরাইশদের বড় নেতা।
প্রশ্ন-১৬০. তার প্রকৃত নাম কি ছিল? তাকে কেন আবু জাহেল বলা হত?
উত্তর: তার প্রকৃত নাম ছিল ওমর বিন হিশাম, আর উপনাম ছিল আবুল হাকাম। কিন্তু ইসলামের প্রতি তার শত্রুতাপূর্ণ আচরণের জন্য তাকে আবু জাহেল বলা হত।
প্রশ্ন-১৬১. আবু জাহেল কেন রাসূল এর বিরোধিতা করতেন?
উত্তর: কারণ, রাসূল মূর্তিপূজাকে ঘৃণা করতেন এবং আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিতেন।
প্রশ্ন-১৬২: রাসূল এর সাথে তার আচরণ কেমন ছিল?
উত্তর: সে রাসূল এর সাথে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করত। অধিকাংশ সময়ে সে রাসূলকে অপমান করত, গালি-গালাজ করত, এমনকি মৃত্যুর হুমকি দিত। রাসূলকে বিরক্ত করার জন্য সে মানুষকে উস্কানি দিত। আর সে একমাত্র ব্যক্তি যে বিভিন্ন গোত্রের লোকজনকে একত্রিত করে রাসূল কে হত্যার প্রস্তাব করেছিল।
প্রশ্ন-১৬৩. কোথায় তাকে হত্যা করা হয়?
উত্তর: বদর যুদ্ধে দু'জন আনসার তরুণ তাকে হত্যা করে।
প্রশ্ন-১৬৪. পরবর্তীতে তার যে ছেলে ইসলাম গ্রহণ করেন তার নাম কী?
উত্তর: ইকরিমা বিন আবু জাহেল।
প্রশ্ন-১৬৫. নওমুসলিমদের সাথে আবু জাহেল কী করত?
উত্তর: সে যখন শুনত, কোন সম্ভ্রান্ত বংশের উচ্চ পদমর্যাদা সম্পন্ন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তখনই সে তাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করত, গোপনে তার বদনাম করত এবং তাকে কঠিন পরিণতির ভয় দেখাত। আর নওমুসলিম যদি সামাজিকভাবে দুর্বল হত, সে তাকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করত এবং তাকে কঠোর নির্যাতনের উপর রাখত।
প্রশ্ন-১৬৬. আবু জাহেল কীভাবে রাসূল এর জীবননাশের চেষ্টা করেছিল?
উত্তর: একবার আবু জাহেল কোরাইশদের সম্বোধন করে বললেন, “হে কোরাইশগণ! মুহাম্মদ যেভাবে আমাদের ধর্মের ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, আমাদের পূর্বপুরুষদের অবমাননা করে, আমাদেরকে বিপথগামী বলে এবং আমাদের দেবতাদের গালি দেয়, মনে হচ্ছে এ জন্য সে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। আমি শপথ করছি তার এ অপকর্ম থেকে তোমাদের মুক্তি দেয়ার জন্য আমি ভারি পাথর নিয়ে সে যখন সালাত পড়বে তখন তার মাথায় ঐ পাথর নিক্ষেপ করব। তার আনিত ধর্মের ব্যাপারে আমি মোটেও শঙ্কিত নই। আশা করি বনী আবদে মানাফের লোকেরা আমার সাথে একমত।" সবাই তার কথায় রাজি হয়ে গেল এবং তার কথানুযায়ী কাজ করার জন্য তাকে উৎসাহিত করল।
পরের দিন সকালবেলা আবু জাহেল রাসূল এর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। রাসূল সালাতে দাঁড়ানোর পর তাকে হত্যা করার জন্য আবু জাহেল পাথর নিয়ে অগ্রসর হতে লাগল। রাসূল এর নিকটে আসতে না আসতেই পাথরটি তার হাত থেকে পড়ে যায় এবং সে বিবর্ণ চেহারা নিয়ে ফিরে আসে। লোকেরা এ দৃশ্য দেখে তাড়াতাড়ি তার কাছে এসে ব্যাপারটি সম্পর্কে জানতে চায়। সে বলল, "যখন আমি তার নিকটবর্তী হলাম, বিশাল একটি উট ভয়ংকর দাঁত নিয়ে গতিরোধ করল এবং আমাকে প্রায় খেয়ে ফেলেছিল।" পরে রাসূল বললেন, এটা ছিল জিবরাঈল! আবু জাহেল যদি আরেকটু অগ্রসর হত তাহলে সে তাকে মেরে ফেলত।
প্রশ্ন-১৬৭. রাসূল যখন মানুষদের কাছে দাওয়াত দিচ্ছিলেন তখন আবু জাহেল কী করলেন?
উত্তর: সে রাসূল এর মাথায় ময়লা নিক্ষেপ করল এবং মানুষদেরকে বলল, "তোমরা তার কথা শুনবে না। সে তোমাদেরকে লাত, মানাত এবং উযযার পূজা থেকে বিরত রাখতে চায়"। এ কারণে রাসূল এর চলার পথে পাথর ও ময়লা নিক্ষেপ করত।
প্রশ্ন-১৬৮. রাসূলকে হত্যার জন্য আবু জাহেল অন্য আরেকটি দিনে কী করেছিল?
উত্তর: একবার সে শপথ করল যে, সে রাসূল এর মুখমণ্ডলে ময়লা নিক্ষেপ করবে এবং পা দিয়ে তার গলা চেপে ধরবে। এ কাজ করার জন্য সে সামনে অগ্রসর হয়ে হঠাৎ ফিরে আসল এবং হাত দিয়ে নিজেকে কোন জিনিস থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলল, "আমি একটি আগুনের পরিখা ও কিছু ডানা দেখতে পেলাম।" পরবর্তীতে রাসূল বললেন, "সে যদি আরেকটু অগ্রসর হত তাহলে জিবরাঈল তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো একের পর এক ছিন্ন ভিন্ন করে দিত।"
📄 আবু লাহাব
প্রশ্ন-১৬৯. আবু লাহাব কে?
উত্তর: আবু লাহাব ছিল রাসূল এর চাচা এবং মক্কার একজন নেতৃস্থানীয় নেতা।
প্রশ্ন-১৭০. আবু লাহাবের স্ত্রী ছিল কে?
উত্তর: তার স্ত্রী ছিল আবু সুফিয়ানের বোন আওরায়া বিনতে হারব। তার উপনাম ছিল উম্মে জামীল।
প্রশ্ন-১৭১. আবু লাহাবের প্রকৃত নাম ছিল কী?
উত্তর: তার প্রকৃত নাম ছিল আব্দুল উযযা বিন আব্দুল মুত্তালিব।
প্রশ্ন-১৭২. রাসূল এর সাথে তার ব্যবহার কেমন ছিল?
উত্তর: রাসূল এর চাচা হওয়া সত্ত্বেও সে ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের চরম শত্রু। মুসলমানদের উপর নির্যাতন তীব্রতর করার প্রস্তাব সে ই রেখেছিল।
প্রশ্ন-১৭৩. তার স্ত্রী উম্মে জামীল রাসূল এর সাথে কেমন আচরণ করত?
উত্তর: স্বামীর মতো সেও রাসূল এর সাথে ঘৃণা ও শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করত। রাসূলকে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে সে রাসূল এর বাড়ির সামনে প্রায়ই ময়লা-আবর্জনা ও কাটা বিছিয়ে রাখত।
প্রশ্ন-১৭৪. রাসূল সম্পর্কে মানুষের কাছে আবু লাহাব কী বলত?
উত্তর: ইসলামের প্রকাশ্য দুশমন আবু লাহাব প্রকাশ্যে বলত, “হে মানুষেরা! তোমরা তার কথা শুনবে না কারণ সে একজন মিথ্যাবাদী ও ধর্মত্যাগী।”
প্রশ্ন-১৭৫. রাসূল এর বিরুদ্ধে আবু লাহাব কী করল?
উত্তর: রাসূলকে অপমান করার জন্য সে কৌশল বের করল। সে রাসূলকে পাথর ছুড়ে মারল, তার দুই ছেলে উতবা ও উতাইবাকে রাসূল এর দুই মেয়ে রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুমকে তালাক প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এমন কি রাসূল এর দ্বিতীয় ছেলের ইন্তিকালে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ল এবং রাসূলকে নির্ব্বংশ বলে বেড়াতে লাগল।
প্রশ্ন-১৭৬. তার ছেলে উতাইবা রাসূল এর সাথে কীরূপ ব্যবহার করেছিল?
উত্তর: একদিন উতাইবা রাসূল এর কাছে এগিয়ে আসল এবং কর্কশভাবে চিৎকার করে বলতে লাগল, “আমি আপনার শিক্ষায় বিশ্বাসী নই। এরপর সে রাসূল এর উপর হিংস্র হাত উঠাল এবং তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করল। কিন্তু রাসূল এর পবিত্র মুখে থুথু পড়েনি। তার এমন আচরণে রাসূল আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, “হে আল্লাহ! তোমার কুকুরদের মধ্য থেকে একটি কুকুর তার উপর নাযিল কর।"
প্রশ্ন-১৭৭. উতাইবার কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর: একবার উতাইবা তার দেশের কিছু লোকের সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল এবং 'যারাকা' নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করল। হঠাৎ একটি সিংহ তাদের কাছে এসে তাদের মাঝখান থেকে উতাইবাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল এবং তার মাথা ছিন্ন ভিন্ন করে খেয়েছিল।
প্রশ্ন-১৭৮. উকবা বিন আবি মুয়ীত কে?
উত্তর: সেও মক্কার একজন নেতা যে রাসূল এবং মুসলিমদের উপর অত্যাচার করত।
প্রশ্ন-১৭৯. সে রাসূল এর সাথে কী আচরণ করত?
উত্তর: সে উটনীর নাড়ি-ভুড়ির ময়লা-আবর্জনা এনে রাসূল এর পিঠের উপর রাখত। এ নিকৃষ্ট কাজে কাফিরদের মধ্যে হাসির বন্যা বয়ে যেত।
প্রশ্ন-১৮০. রাসূল এর পিঠ থেকে নোংরা আবর্জনাগুলো কে পরিষ্কার করত?
উত্তর: ফাতিমা (রা) এসে তার বাবার পিঠ থেকে এ নোংরা আবর্জনাগুলো পরিষ্কার করত।
প্রশ্ন-১৮১. রাসূল এরপর কী করতেন?
উত্তর: তিনি উকবার উপর আল্লাহর গযবের বা আযাবের প্রার্থনা করতেন।
প্রশ্ন-১৮২. সালাত পড়ার সময় রাসূল এর সাথে উকবা কী করত?
উত্তর: একবার রাসূল সালাত পড়ছিলেন এমন সময় উকবা এসে তার গলায় পা রাখল এবং তার চোখগুলো সামনের দিকে বেরিয়ে আসার আগ পর্যন্ত ধরেই রাখল।
প্রশ্ন-১৮৩. পরবর্তীতে রাসূল যখন সালাতের সেজদায় যেতেন তখন উকবা তার মাথায় কী নিক্ষেপ করত?
উত্তর: সে ভেড়ার নাড়ি-ভূড়ি এনে রাসূল এর মাথায় নিক্ষেপ করত।
প্রশ্ন-১৮৪. কে রাসূল এর মাথা থেকে এগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করতেন?
উত্তর: রাসূল এর মেয়ে ফাতিমা (রা)।
প্রশ্ন-১৮৫. উকবা কি রাসূলকে মারার চেষ্টা করেছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, সে রাসূল এর গলায় কাপড় পেঁছিয়ে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করেছিল।
প্রশ্ন-১৮৬. রাসূলকে বাঁচানোর জন্য কে এগিয়ে এসেছিল?
উত্তর: আবু বকর (রা) রাসূলকে বাঁচাতে এলেন। তিনি উকবাকে শক্তভাবে ধরে ধাক্কা মেরে রাসূল থেকে তাকে আলাদা করে দিলেন।
প্রশ্ন-১৮৭. আবু বকর (রা) তাকে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "তুমি কি এ কারণে এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে, যে বলে তার পালনকর্তা আল্লাহ।"
প্রশ্ন-১৮৮. উকবার কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর: বদর যুদ্ধে তাকে বন্দী করা হয়। পরে রাসূল এর নির্দেশে সাফরা নামক স্থানে আলী বিন আবি তালিব তাকে হত্যা করে।
📄 রাসূল ﷺ-এর সাহায্যকারী
প্রশ্ন-১৮৯. রাসূল কে মক্কার কোন কাফিররা সাহায্য করেছিল?
উত্তর: মক্কার কাফিরদের মধ্যে কয়েকজন কাফির রাসূল কে সাহায্য করেছিল।
প্রশ্ন-১৯০. শেষ পর্যন্ত যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি কিন্তু রাসূল কে সাহায্য করেছে তাদের নাম কী?
উত্তর: তারা হলেন- আবু তালিব, মুত'ইম বিন আদি এবং আবুল বু'খতারি।
প্রশ্ন-১৯১. আবু তালিব কে?
উত্তর: আবু তালিব ছিলেন রাসূল (সা)-এর চাচা।
প্রশ্ন-১৯২. শত্রুদের হাত থেকে তিনি কতদিন রাসূল কে রক্ষা করেছিলেন?
উত্তর: ইসলামের শুরু থেকে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর যাবৎ তিনি রাসূল কে রক্ষা করেছিলেন।
প্রশ্ন-১৯৩. মুত'ইম বিন আদি কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন মক্কার একজন নেতা।
প্রশ্ন-১৯৪. রাসূল কে তিনি কখন আশ্রয় দিয়েছিল?
উত্তর: রাসূল যখন তায়েফ থেকে ফিরে আসলেন এবং মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলেন, তখন মুত'ইম বিন আদি তাকে আশ্রয় দেন।
প্রশ্ন-১৯৫. তিনি কখন ইনতিকাল করেন?
উত্তর: তিনি বদর যুদ্ধে নিহত হন।
প্রশ্ন-১৯৬. আবুল বুখতারি কে?
উত্তর: তিনি ছিলেন একজন কবি।
প্রশ্ন-১৯৭. রাসূল কে তিনি কখন সাহায্য করেছিলেন?
উত্তর: তিনি সামাজিক বয়কটের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং বয়কট প্রত্যাহারের জন্য জনমত তৈরি করেন।
প্রশ্ন-১৯৮. তিনি কখন নিহত হন?
উত্তর: তিনি বদর যুদ্ধে নিহত হন।
📄 আবিসিনিয়ায় হিজরত
প্রশ্ন-১৯৯. কখন কোরাইশদের নির্যাতন শুরু হয়?
উত্তর: নবুওয়াতের চতুর্থ বছরের শেষ দিকে শুরু হয় কোরাইশদের নির্যাতনের ধারা।
প্রশ্ন-২০০. মুসলমানদের আবিসিনিয়ায় হিজরতের কারণ কী ছিল?
উত্তর: কোরাইশদের নিষ্ঠুরতা বৃদ্ধির কারণেই মুসলমানরা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন।
প্রশ্ন-২০১. মুসলমানরা কখন মক্কা থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন?
উত্তর: নবুওয়াতের পঞ্চম বছরের মাঝামাঝি সময়ে।
প্রশ্ন-২০২. সরাসরি হিজরতকে নির্দেশ করে কুরআনের কোন সূরা নাযিল হয়?
উত্তর: সূরা আয-যুমার।
প্রশ্ন-২০৩. রাসূল কেন মুসলমানদেরকে আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দিলেন?
উত্তর: রাসূল মুসলমানদেরকে আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দেয়ার কারণ হল তিনি জানতেন আবিসিনিয়ার (ইথিওপিয়া) রাজা একজন ন্যায়পরায়ণ, তিনি মুসলমানদের কোন ক্ষতি করবেন না।
প্রশ্ন-২০৪. আবিসিনিয়ার রাজার নাম ও উপাধি কী ছিল?
উত্তর: রাসূল এর সময়কালে আবিসিনিয়ার রাজা ছিলেন "আসহামা”। আর আবিসিনিয়ার রাজাদের উপাধি ছিল 'নাজ্জাশী'।
প্রশ্ন-২০৫. মুসলমানদের প্রথম দল কখন আবিসিনিয়ার অভিমুখে রওয়ানা হন?
উত্তর: নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে রজব মাসে।
প্রশ্ন-২০৬. প্রথম দলে কতজন লোক ছিলেন?
উত্তর: এ দলে ১২ জন পুরুষ ও চারজন মহিলা ছিলেন।
প্রশ্ন-২০৭. তাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তি ছিলেন কে?
উত্তর: উসমান বিন আফফান এবং তাঁর স্ত্রী রাসূল এর কন্যা রুকাইয়া (রা)
প্রশ্ন-২০৮. এ দম্পতি সম্পর্কে রাসূল কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, লূত ও ইবরাহীমের পর এরাই আল্লাহর পথে হিজরতকারী প্রথম দম্পতি।
প্রশ্ন-২০৯. মুসলমানদের চলে যাওয়ার খবর শুনে কোরাইশরা কী আবিসিনিয়ায় তাদের কোন লোক পাঠিয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, তারা খুব দ্রুত মুসলমানদের পিছনে তাদের লোক পাঠিয়েছিল। কিন্তু তারা মুহাজিরদেরকে অর্থাৎ মুসলমানদেরকে আটক করতে পারেনি।
প্রশ্ন-২১০. মুহাজিরদের দ্বিতীয় দল কখন আবিসিনিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন?
উত্তর: ঐ বছরেই (নবুওয়াতের ৫ম বছরে)।
প্রশ্ন-২১১. দ্বিতীয় দলে কতজন লোক ছিল?
উত্তর: ঐ দলে ৮৩ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
প্রশ্ন-২১২. ঐ দলে বিখ্যাত সাহাবী কে ছিলেন?
উত্তর: জাফর বিন আবু তালিব।
প্রশ্ন-২১৩. কোরাইশরা কী করল?
উত্তর: তারা অতি দ্রুত আমর বিন আল আস ও আব্দুল্লাহ বিন রাবি'আকে দূত হিসেবে আবিসিনিয়ায় মুহাজিরদেরকে ফেরত দেয়ার দাবি নিয়ে পাঠাল।
প্রশ্ন-২১৪. দূতেরা তাদের সাথে কী নিয়ে গেল?
উত্তর: তারা রাজা ও তার সভাসদদের জন্য মূল্যবান উপহার সামগ্রী নিয়ে গেল।
প্রশ্ন-২১৫. তারা কী দাবি করল?
উত্তর: তারা দাবি করল যে, মুসলিম শরণার্থীদের আবিসিনিয়া থেকে বহিস্কার করতে হবে এবং তাদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে আর এ আবেদন পেশ করার জন্য তাদের ধর্মীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাদের পাঠিয়েছেন।
প্রশ্ন-২১৬. নাজ্জাশী কী করলেন?
উত্তর: তিনি মুসলমানদেরকে তার দরবারে ডেকে আনলেন এবং তাদেরকে তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে বললেন।
প্রশ্ন-২১৭. মুসলমানদের পক্ষে কে কথা বললেন?
উত্তর: জাফর বিন আবু তালিব।
প্রশ্ন-২১৮. তিনি ইসলাম সম্পর্কে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, ইসলাম মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে বলে, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা এবং মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করে। ইসলাম মানুষদের সত্য কথা বলতে এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর অধিকারে মনোযোগী হতে নির্দেশ করে। ইসলাম খারাপ কাজ ও ভিক্ষা করতে মানুষকে নিষেধ করে এবং সালাত পড়তে আদেশ করে।
প্রশ্ন-২১৯. নাজ্জাশীর দেশে হিজরতের কারণ কি তিনি রাজাকে বলেছিলেন?
উত্তর: হ্যা, তিনি বললেন, সত্য ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করার কারণে কোরাইশরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। তারা চেয়েছিল মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদত বর্জন করে মূর্তিপূজায় ফিরে আসুক। কোরাইশদের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তারা মুসলমানদের উপর অনেক অত্যাচার করে। তাদের কাছে নিরাপত্তা খুঁজে না পেয়ে শান্তিতে নিরাপদে রাজার অধীনে থাকার আশায় তারা তার দেশে আসলেন।
প্রশ্ন-২২০. জাফরের কথাবার্তায় রাজার ওপর কী প্রভাব বিস্তার করেছিল?
উত্তর: তার বক্তৃতায় রাজার মনকে অনেক প্রভাবিত করেছিল এবং তিনি কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতে বললেন।
প্রশ্ন-২২১. জাফর (রা) কি কুরআন তিলাওয়াত করেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি সূরা মারইয়ামের প্রথম থেকে কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে রাজাকে শুনালেন। আর ঐ আয়াতগুলোতে ইয়াহিয়া ও ঈসার জন্মের কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-২২২. কুরআনের আয়াত শুনে নাজ্জাশী রাজা কী বললেন?
উত্তর: তিনি স্বতস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন, মনে হচ্ছে ঐ বাণী যেন ঈসা এর ওপর নাযিলকৃত বাণী যা একই উৎস থেকে আলোর কিরণ বিকিরণ করছে।
প্রশ্ন-২২৩. রাজা কোরাইশদের সে হতাশ দূতদ্বয়কে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, আমি শঙ্কিত তাই আমি এ শরণার্থীদের তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তারা আমার রাজ্যে স্বাধীন, তারা যেভাবে খুশি সেভাবে থাকতে পারে এবং ইবাদত করতে পারে।
প্রশ্ন-২২৪. পরের দিন রাজার কাছে ঐ দূতদ্বয় কী বললেন?
উত্তর: তারা বলল, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা ঈসাকে নিয়ে ঠাট্টা করে।
প্রশ্ন-২২৫. রাজা কী করলেন?
উত্তর: তিনি আবারও مسلمانوںকে তার দরবারে হাজির করলেন এবং ঈসার সম্পর্কে তাদের মন্তব্য জানতে চাইলেন।
প্রশ্ন-২২৬. মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কে এবং তিনি কী বললেন?
উত্তর: জাফর (রা) আবারও মুসলমানদের পক্ষ থেকে দাঁড়িয়ে বললেন, আমাদের রাসূল আমাদেরকে ঈসা সম্পর্কে যা বলেছেন আমরাও তাই বলি। তিনি বলেছেন ঈসা (আ) হলেন আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল তিনি তার আত্মা ও তার বাণী কুমারী মারইয়ামের মধ্যে সঞ্চারিত করেছেন।
প্রশ্ন-২২৭. একথা শুনে রাজা কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, আমরাও তাই বিশ্বাস করি। তোমাদের ওপর এবং তোমাদের রাসূলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রশ্ন-২২৮. মুসলমানদেরকে তিনি কী নিশ্চিত করলেন?
উত্তর: তিনি মুসলমানদেরকে তার পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলেন।
প্রশ্ন-২২৯. তারপর তিনি কী করলেন?
উত্তর: তারপর তিনি কোরাইশদের দূতদ্বয়ের আনা উপহার সামগ্রী ফিরিয়ে দিলেন।
প্রশ্ন-২৩০. আবিসিনিয়ায় মুসলমানরা কীভাবে বসবাস করেছিল?
উত্তর: খায়বার বিজয়ের সময় মদিনায় ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত তারা আবিসিনিয়ায় কয়েক বছর সুখে-শান্তিতে বসবাস করেছিল।