📄 চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করার মু‘জিযা
প্রশ্ন-১৪০. মু'জিযা কী?
উত্তর: মু'জিযা হচ্ছে এক অলৌকিক বিষয় যা শুধুমাত্র নবীগণই করতে সক্ষম। তারা নিজেরা তা করতে পারে না বরং আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তখন তাদেরকে মু'জিযা প্রদর্শনের শক্তি দান করেন। মু'জিযা হচ্ছে নবুওয়াতের একটি নিদর্শন।
প্রশ্ন-১৪১. রাসূল এর প্রধান মু'জিযা কী?
উত্তর: আল কুরআন হচ্ছে রাসূল এর প্রধান মু'জিযা, যা মানবজাতির জন্য চিরন্তন ঐশী বাণী।
প্রশ্ন-১৪২. রাসূল অন্য কোন মু'জিযা দেখিয়েছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি আরো অনেক মু'জিযা দেখিয়েছেন, কখনও প্রয়োজনে আবার কখনও মানুষের দাবিতে।
প্রশ্ন-১৪৩. মক্কার কাফিররা রাসূলের কাছে কোন মু'জিযার দাবি করেছিল?
উত্তর: তারা রাসূলকে চাঁদ দ্বি-খণ্ডিত করার দাবি করেছিল।
প্রশ্ন-১৪৪. কাফিরদের নিয়মিত পীড়াপীড়িতে রাসূল কী করলেন?
উত্তর: তিনি তাদেরকে মু'জিযা প্রদর্শনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন।
প্রশ্ন-১৪৫. রাসূল চাঁদকে দু'টুকরো করলেন কীভাবে?
উত্তর: তিনি তাঁর অঙ্গুলি চাঁদের দিকে নির্দেশ করলেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই এটি দ্বি-খণ্ডিত হয়ে গেল। এরপর পুনরায় এটিকে আল্লাহ আগের মতো মিলিয়ে দিলেন।
প্রশ্ন-১৪৬. কাফিররা কী এটি দেখেছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, শুধু মক্কার লোকেরাই তা দেখেনি বরং বিশ্বের অনেক লোকই এটি দেখেছিল।
প্রশ্ন-১৪৭. মক্কার পৌত্তলিকগণ কি ইসলাম গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: না, তারা তাদের অজ্ঞতা ও অহংকারের কারণে ক্রমাগত অবিশ্বাসের মধ্যেই পড়েছিল।
📄 কোরাইশদের অত্যাচার-নির্যাতন
প্রশ্ন-১৪৮. রাসূল এর নবুওয়াতের চতুর্থ বছরের শুরুর দিকে তার দাওয়াতী কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য কোরাইশরা কী সিদ্ধান্ত নেয়?
উত্তর: তারা রাসূল এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ এবং নওমুসলিমদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার নির্যাতন করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এ জন্য আবু লাহাবের নেতৃত্বে তারা ২৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন এবং আপোষ-মীমাংসার জন্য তারা রাসূলকে পার্থিব-সুখের প্রলোভন দেখায়।
প্রশ্ন-১৪৯. মক্কার কোরাইশ নেতারা হজ্ব যাত্রীদের কাছে কী প্রচার করে বেড়াচ্ছিল?
উত্তর: হজ্বের মৌসুমে রাসূল কে তার দাওয়াতী কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য তারা হজ্জযাত্রীদের মাঝে প্রচার করতে লাগল যে, মুহাম্মদ হলেন একজন যাদুকর, সে পিতা-পুত্রে, ভাইয়ে-বোনে এবং স্বামী-স্ত্রীতে বিচ্ছেদ ঘটাতে খুবই পারদর্শী।
প্রশ্ন-১৫০. ইসলাম গ্রহণের পর ওসমান বিন আফফানের চাচা তার সাথে কী করল?
উত্তর: সে তাকে খেজুর পাতার মাদুরে মুড়িয়ে তার নিচে আগুন লাগিয়ে দিল।
প্রশ্ন-১৫১. ইসলাম গ্রহণের কারণে মুসআব বিন উমাইর (রা)-এর মা তার সাথে কেমন আচরণ করেছিল?
উত্তর: সে তাকে অনাহারে রাখত এবং অবশেষে বাড়ি থেকেই বের করে দিল।
প্রশ্ন-১৫২. উমাইয়া বিন খালফ বিলাল (রা)-এর উপর কীভাবে নির্যাতন করত?
উত্তর: বিলাল (রা) ছিলেন উমাইয়া বিন খালফের ক্রীতদাস। তাই সে প্রায়ই বিলালকে মারধর করত। অনেক সময় সে তার গলায় রশি বেঁধে উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদেরকে দিয়ে মক্কার গলিতে গলিতে তাকে নিয়ে টানা-হেঁছড়া করে ঘুরে বেড়াতো। আবার অনেক সময় তার হাত-পা বেঁধে উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে দিয়ে তার বুকের উপর ভারি পাথর দিয়ে রাখত।
প্রশ্ন-১৫৩. ইয়াসির এবং তার পরিবারবর্গকে কীভাবে নির্যাতন করা হতো?
উত্তর: ইয়াসির, সুমাইয়া এবং আম্মার (রা)-কে জ্বলন্ত অংগারের উপর এবং উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে তাদেরকে মারধর করা হতো।
প্রশ্ন-১৫৪. ইয়াসির কীভাবে শহীদ হন?
উত্তর: নির্মম নির্যাতনের ফলে তিনি শহীদ হন।
প্রশ্ন-১৫৫. সুমাইয়া কীভাবে শহীদ হন?
উত্তর: আবু জেহেল স্বয়ং বর্শার আঘাতে সুমাইয়াকে হত্যা করে। আর এভাবে তিনি ইসলামের প্রথম মহিলা শহীদ হওয়ার উপাধি অর্জন করেন।
প্রশ্ন-১৫৬. আম্মার বিন ইয়াসিরও কি নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনিও নানা ধরনের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন।
প্রশ্ন-১৫৭. ইসলাম গ্রহণ করার কারণে যেসব মহিলারা নির্যাতিত হয়েছিলেন তারা কারা?
উত্তর: তারা হলেন- যানাইরা, নাদিয়া এবং তার মেয়ে উম্মে উবাইস (রা) সহ আরো অনেকে।
প্রশ্ন-১৫৮. খাব্বাব বিন আরাত (রা)-এর সঙ্গে মক্কার মুশরিকরা কী করত?
উত্তর: তারা খাব্বাবের চুল ধরে টানত এবং তার গলায় রশি বেঁধে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর শুইয়ে রাখত এবং সে যেন পালাতে না পারে সে জন্য তার বুকের উপর পাথর চাপা দিয়ে রাখত।
📄 ইসলামের চরম শত্রু
প্রশ্ন-১৫৯. আবু জাহেল কে?
উত্তর: আবু জাহেল ছিলেন কুরাইশদের বড় নেতা।
প্রশ্ন-১৬০. তার প্রকৃত নাম কি ছিল? তাকে কেন আবু জাহেল বলা হত?
উত্তর: তার প্রকৃত নাম ছিল ওমর বিন হিশাম, আর উপনাম ছিল আবুল হাকাম। কিন্তু ইসলামের প্রতি তার শত্রুতাপূর্ণ আচরণের জন্য তাকে আবু জাহেল বলা হত।
প্রশ্ন-১৬১. আবু জাহেল কেন রাসূল এর বিরোধিতা করতেন?
উত্তর: কারণ, রাসূল মূর্তিপূজাকে ঘৃণা করতেন এবং আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিতেন।
প্রশ্ন-১৬২: রাসূল এর সাথে তার আচরণ কেমন ছিল?
উত্তর: সে রাসূল এর সাথে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করত। অধিকাংশ সময়ে সে রাসূলকে অপমান করত, গালি-গালাজ করত, এমনকি মৃত্যুর হুমকি দিত। রাসূলকে বিরক্ত করার জন্য সে মানুষকে উস্কানি দিত। আর সে একমাত্র ব্যক্তি যে বিভিন্ন গোত্রের লোকজনকে একত্রিত করে রাসূল কে হত্যার প্রস্তাব করেছিল।
প্রশ্ন-১৬৩. কোথায় তাকে হত্যা করা হয়?
উত্তর: বদর যুদ্ধে দু'জন আনসার তরুণ তাকে হত্যা করে।
প্রশ্ন-১৬৪. পরবর্তীতে তার যে ছেলে ইসলাম গ্রহণ করেন তার নাম কী?
উত্তর: ইকরিমা বিন আবু জাহেল।
প্রশ্ন-১৬৫. নওমুসলিমদের সাথে আবু জাহেল কী করত?
উত্তর: সে যখন শুনত, কোন সম্ভ্রান্ত বংশের উচ্চ পদমর্যাদা সম্পন্ন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তখনই সে তাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করত, গোপনে তার বদনাম করত এবং তাকে কঠিন পরিণতির ভয় দেখাত। আর নওমুসলিম যদি সামাজিকভাবে দুর্বল হত, সে তাকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করত এবং তাকে কঠোর নির্যাতনের উপর রাখত।
প্রশ্ন-১৬৬. আবু জাহেল কীভাবে রাসূল এর জীবননাশের চেষ্টা করেছিল?
উত্তর: একবার আবু জাহেল কোরাইশদের সম্বোধন করে বললেন, “হে কোরাইশগণ! মুহাম্মদ যেভাবে আমাদের ধর্মের ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, আমাদের পূর্বপুরুষদের অবমাননা করে, আমাদেরকে বিপথগামী বলে এবং আমাদের দেবতাদের গালি দেয়, মনে হচ্ছে এ জন্য সে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। আমি শপথ করছি তার এ অপকর্ম থেকে তোমাদের মুক্তি দেয়ার জন্য আমি ভারি পাথর নিয়ে সে যখন সালাত পড়বে তখন তার মাথায় ঐ পাথর নিক্ষেপ করব। তার আনিত ধর্মের ব্যাপারে আমি মোটেও শঙ্কিত নই। আশা করি বনী আবদে মানাফের লোকেরা আমার সাথে একমত।" সবাই তার কথায় রাজি হয়ে গেল এবং তার কথানুযায়ী কাজ করার জন্য তাকে উৎসাহিত করল।
পরের দিন সকালবেলা আবু জাহেল রাসূল এর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। রাসূল সালাতে দাঁড়ানোর পর তাকে হত্যা করার জন্য আবু জাহেল পাথর নিয়ে অগ্রসর হতে লাগল। রাসূল এর নিকটে আসতে না আসতেই পাথরটি তার হাত থেকে পড়ে যায় এবং সে বিবর্ণ চেহারা নিয়ে ফিরে আসে। লোকেরা এ দৃশ্য দেখে তাড়াতাড়ি তার কাছে এসে ব্যাপারটি সম্পর্কে জানতে চায়। সে বলল, "যখন আমি তার নিকটবর্তী হলাম, বিশাল একটি উট ভয়ংকর দাঁত নিয়ে গতিরোধ করল এবং আমাকে প্রায় খেয়ে ফেলেছিল।" পরে রাসূল বললেন, এটা ছিল জিবরাঈল! আবু জাহেল যদি আরেকটু অগ্রসর হত তাহলে সে তাকে মেরে ফেলত।
প্রশ্ন-১৬৭. রাসূল যখন মানুষদের কাছে দাওয়াত দিচ্ছিলেন তখন আবু জাহেল কী করলেন?
উত্তর: সে রাসূল এর মাথায় ময়লা নিক্ষেপ করল এবং মানুষদেরকে বলল, "তোমরা তার কথা শুনবে না। সে তোমাদেরকে লাত, মানাত এবং উযযার পূজা থেকে বিরত রাখতে চায়"। এ কারণে রাসূল এর চলার পথে পাথর ও ময়লা নিক্ষেপ করত।
প্রশ্ন-১৬৮. রাসূলকে হত্যার জন্য আবু জাহেল অন্য আরেকটি দিনে কী করেছিল?
উত্তর: একবার সে শপথ করল যে, সে রাসূল এর মুখমণ্ডলে ময়লা নিক্ষেপ করবে এবং পা দিয়ে তার গলা চেপে ধরবে। এ কাজ করার জন্য সে সামনে অগ্রসর হয়ে হঠাৎ ফিরে আসল এবং হাত দিয়ে নিজেকে কোন জিনিস থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলল, "আমি একটি আগুনের পরিখা ও কিছু ডানা দেখতে পেলাম।" পরবর্তীতে রাসূল বললেন, "সে যদি আরেকটু অগ্রসর হত তাহলে জিবরাঈল তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো একের পর এক ছিন্ন ভিন্ন করে দিত।"
📄 আবু লাহাব
প্রশ্ন-১৬৯. আবু লাহাব কে?
উত্তর: আবু লাহাব ছিল রাসূল এর চাচা এবং মক্কার একজন নেতৃস্থানীয় নেতা।
প্রশ্ন-১৭০. আবু লাহাবের স্ত্রী ছিল কে?
উত্তর: তার স্ত্রী ছিল আবু সুফিয়ানের বোন আওরায়া বিনতে হারব। তার উপনাম ছিল উম্মে জামীল।
প্রশ্ন-১৭১. আবু লাহাবের প্রকৃত নাম ছিল কী?
উত্তর: তার প্রকৃত নাম ছিল আব্দুল উযযা বিন আব্দুল মুত্তালিব।
প্রশ্ন-১৭২. রাসূল এর সাথে তার ব্যবহার কেমন ছিল?
উত্তর: রাসূল এর চাচা হওয়া সত্ত্বেও সে ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের চরম শত্রু। মুসলমানদের উপর নির্যাতন তীব্রতর করার প্রস্তাব সে ই রেখেছিল।
প্রশ্ন-১৭৩. তার স্ত্রী উম্মে জামীল রাসূল এর সাথে কেমন আচরণ করত?
উত্তর: স্বামীর মতো সেও রাসূল এর সাথে ঘৃণা ও শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করত। রাসূলকে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে সে রাসূল এর বাড়ির সামনে প্রায়ই ময়লা-আবর্জনা ও কাটা বিছিয়ে রাখত।
প্রশ্ন-১৭৪. রাসূল সম্পর্কে মানুষের কাছে আবু লাহাব কী বলত?
উত্তর: ইসলামের প্রকাশ্য দুশমন আবু লাহাব প্রকাশ্যে বলত, “হে মানুষেরা! তোমরা তার কথা শুনবে না কারণ সে একজন মিথ্যাবাদী ও ধর্মত্যাগী।”
প্রশ্ন-১৭৫. রাসূল এর বিরুদ্ধে আবু লাহাব কী করল?
উত্তর: রাসূলকে অপমান করার জন্য সে কৌশল বের করল। সে রাসূলকে পাথর ছুড়ে মারল, তার দুই ছেলে উতবা ও উতাইবাকে রাসূল এর দুই মেয়ে রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুমকে তালাক প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এমন কি রাসূল এর দ্বিতীয় ছেলের ইন্তিকালে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ল এবং রাসূলকে নির্ব্বংশ বলে বেড়াতে লাগল।
প্রশ্ন-১৭৬. তার ছেলে উতাইবা রাসূল এর সাথে কীরূপ ব্যবহার করেছিল?
উত্তর: একদিন উতাইবা রাসূল এর কাছে এগিয়ে আসল এবং কর্কশভাবে চিৎকার করে বলতে লাগল, “আমি আপনার শিক্ষায় বিশ্বাসী নই। এরপর সে রাসূল এর উপর হিংস্র হাত উঠাল এবং তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করল। কিন্তু রাসূল এর পবিত্র মুখে থুথু পড়েনি। তার এমন আচরণে রাসূল আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, “হে আল্লাহ! তোমার কুকুরদের মধ্য থেকে একটি কুকুর তার উপর নাযিল কর।"
প্রশ্ন-১৭৭. উতাইবার কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর: একবার উতাইবা তার দেশের কিছু লোকের সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল এবং 'যারাকা' নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করল। হঠাৎ একটি সিংহ তাদের কাছে এসে তাদের মাঝখান থেকে উতাইবাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল এবং তার মাথা ছিন্ন ভিন্ন করে খেয়েছিল।
প্রশ্ন-১৭৮. উকবা বিন আবি মুয়ীত কে?
উত্তর: সেও মক্কার একজন নেতা যে রাসূল এবং মুসলিমদের উপর অত্যাচার করত।
প্রশ্ন-১৭৯. সে রাসূল এর সাথে কী আচরণ করত?
উত্তর: সে উটনীর নাড়ি-ভুড়ির ময়লা-আবর্জনা এনে রাসূল এর পিঠের উপর রাখত। এ নিকৃষ্ট কাজে কাফিরদের মধ্যে হাসির বন্যা বয়ে যেত।
প্রশ্ন-১৮০. রাসূল এর পিঠ থেকে নোংরা আবর্জনাগুলো কে পরিষ্কার করত?
উত্তর: ফাতিমা (রা) এসে তার বাবার পিঠ থেকে এ নোংরা আবর্জনাগুলো পরিষ্কার করত।
প্রশ্ন-১৮১. রাসূল এরপর কী করতেন?
উত্তর: তিনি উকবার উপর আল্লাহর গযবের বা আযাবের প্রার্থনা করতেন।
প্রশ্ন-১৮২. সালাত পড়ার সময় রাসূল এর সাথে উকবা কী করত?
উত্তর: একবার রাসূল সালাত পড়ছিলেন এমন সময় উকবা এসে তার গলায় পা রাখল এবং তার চোখগুলো সামনের দিকে বেরিয়ে আসার আগ পর্যন্ত ধরেই রাখল।
প্রশ্ন-১৮৩. পরবর্তীতে রাসূল যখন সালাতের সেজদায় যেতেন তখন উকবা তার মাথায় কী নিক্ষেপ করত?
উত্তর: সে ভেড়ার নাড়ি-ভূড়ি এনে রাসূল এর মাথায় নিক্ষেপ করত।
প্রশ্ন-১৮৪. কে রাসূল এর মাথা থেকে এগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করতেন?
উত্তর: রাসূল এর মেয়ে ফাতিমা (রা)।
প্রশ্ন-১৮৫. উকবা কি রাসূলকে মারার চেষ্টা করেছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, সে রাসূল এর গলায় কাপড় পেঁছিয়ে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করেছিল।
প্রশ্ন-১৮৬. রাসূলকে বাঁচানোর জন্য কে এগিয়ে এসেছিল?
উত্তর: আবু বকর (রা) রাসূলকে বাঁচাতে এলেন। তিনি উকবাকে শক্তভাবে ধরে ধাক্কা মেরে রাসূল থেকে তাকে আলাদা করে দিলেন।
প্রশ্ন-১৮৭. আবু বকর (রা) তাকে কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "তুমি কি এ কারণে এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে, যে বলে তার পালনকর্তা আল্লাহ।"
প্রশ্ন-১৮৮. উকবার কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর: বদর যুদ্ধে তাকে বন্দী করা হয়। পরে রাসূল এর নির্দেশে সাফরা নামক স্থানে আলী বিন আবি তালিব তাকে হত্যা করে।