📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার

📄 প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার


প্রশ্ন-১৩৩: রাসূল কখন প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত শুরু করেন?
উত্তর: তিন বছর পর যখন নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়- وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ. ) অর্থ- আর তুমি (হে মুহাম্মদ!) তোমার পরিবার-পরিজনকে সতর্ক করে দাও। (সূরা-২৬ শু'আরা, আয়াত-২১৪)

প্রশ্ন-১৩৪. তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে দাওয়াত শুরু করলেন?
উত্তর: একদিন বানকৃত নামক স্থানে তিনি তার গোত্রের সকলকে এনে হাজির করলেন। কিন্তু আবু লাহাবের প্রচণ্ড বিরোধিতার কারণে সেদিন তিনি কিছুই বলতে পারেননি। পরে তিনি তাদের প্রায় ৪৫ জনের জন্য খাওয়ার আয়োজন করে আবার তাদের দাওয়াত করলেন। রাসূল তাদের সামনে আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর নবুওয়াতের ব্যাপারে আলোচনা করেন। তিনি তাদেরকে সতর্ক করে বলেন, মানুষের কাজ কর্মের হিসাবের জন্য একদিন সবাইকে একত্রিত করা হবে এবং হিসাবের পর সবাইকে জান্নাত ও জাহান্নামে প্রেরণ করা হবে।

প্রশ্ন-১৩৫. রাসূল এর ঐতিহাসিক দ্বিতীয়বার প্রকাশ্যে দাওয়াতের পদ্ধতি কী ছিল?
উত্তর: তিনি সাফা পাহাড়ের উঠে সকল লোকদের ডেকে একত্রিত করলেন এবং শেষ বিচার দিবসের কঠিন আযাব আসার ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করলেন।

প্রশ্ন-১৩৬. আবু লাহাব এ কথা শুনে কী বললেন?
উত্তর: সে বলল, "তোমার ধ্বংস হউক! তুমি কি এজন্য আমাদের ডেকেছিলে"? আর একথা বলেই আবু লাহাব চলে গেল।

প্রশ্ন-১৩৭. কোরাইশরা রাসূল এর ওপর রাগান্বিত হল কেন?
উত্তর: রাসূল যখন মূর্তিপূজাকে অপছন্দ করতে লাগলেন তখনই কোরাইশরা তাঁর প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন।

প্রশ্ন-১৩৮. রাসূল তার আন্দোলনকে তথা মিশনকে গতিশীল করার জন্য কী কী করতেন?
উত্তর: তিনি মক্কার জনগণকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতেন, বিশেষ করে নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর তিনি বেশি আন্তরিক হয়ে গেলেন-
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ .
অর্থ- অতএব প্রকাশ্যে ঘোষণা কর যা তোমাকে নির্দেশ দেয়া হয়, আর মুশরিকদের থেকে দূরে থেকো। (সূরা-১৫ হিজর : আয়াত-৯৪)
তিনি দাওয়াতী কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। এমনকি তিনি মানুষদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বানের জন্য বাজারে যেতেন এবং বিভিন্ন মেলা যেমন, উকায এবং যুল মাজাযের মত বড় বড় মেলায়ও যেতেন।

প্রশ্ন-১৩৯. জনসম্মুখে দাওয়াতের প্রভাব কী ছিল?
উত্তর: লোকেরা ধীরে ধীরে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল এবং কোরাইশদের নির্মম নির্যাতন সত্ত্বেও তারা ইসলামের ওপর অটল ছিল।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করার মু‘জিযা

📄 চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করার মু‘জিযা


প্রশ্ন-১৪০. মু'জিযা কী?
উত্তর: মু'জিযা হচ্ছে এক অলৌকিক বিষয় যা শুধুমাত্র নবীগণই করতে সক্ষম। তারা নিজেরা তা করতে পারে না বরং আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তখন তাদেরকে মু'জিযা প্রদর্শনের শক্তি দান করেন। মু'জিযা হচ্ছে নবুওয়াতের একটি নিদর্শন।

প্রশ্ন-১৪১. রাসূল এর প্রধান মু'জিযা কী?
উত্তর: আল কুরআন হচ্ছে রাসূল এর প্রধান মু'জিযা, যা মানবজাতির জন্য চিরন্তন ঐশী বাণী।

প্রশ্ন-১৪২. রাসূল অন্য কোন মু'জিযা দেখিয়েছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি আরো অনেক মু'জিযা দেখিয়েছেন, কখনও প্রয়োজনে আবার কখনও মানুষের দাবিতে।

প্রশ্ন-১৪৩. মক্কার কাফিররা রাসূলের কাছে কোন মু'জিযার দাবি করেছিল?
উত্তর: তারা রাসূলকে চাঁদ দ্বি-খণ্ডিত করার দাবি করেছিল।

প্রশ্ন-১৪৪. কাফিরদের নিয়মিত পীড়াপীড়িতে রাসূল কী করলেন?
উত্তর: তিনি তাদেরকে মু'জিযা প্রদর্শনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন।

প্রশ্ন-১৪৫. রাসূল চাঁদকে দু'টুকরো করলেন কীভাবে?
উত্তর: তিনি তাঁর অঙ্গুলি চাঁদের দিকে নির্দেশ করলেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই এটি দ্বি-খণ্ডিত হয়ে গেল। এরপর পুনরায় এটিকে আল্লাহ আগের মতো মিলিয়ে দিলেন।

প্রশ্ন-১৪৬. কাফিররা কী এটি দেখেছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, শুধু মক্কার লোকেরাই তা দেখেনি বরং বিশ্বের অনেক লোকই এটি দেখেছিল।

প্রশ্ন-১৪৭. মক্কার পৌত্তলিকগণ কি ইসলাম গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: না, তারা তাদের অজ্ঞতা ও অহংকারের কারণে ক্রমাগত অবিশ্বাসের মধ্যেই পড়েছিল।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 কোরাইশদের অত্যাচার-নির্যাতন

📄 কোরাইশদের অত্যাচার-নির্যাতন


প্রশ্ন-১৪৮. রাসূল এর নবুওয়াতের চতুর্থ বছরের শুরুর দিকে তার দাওয়াতী কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য কোরাইশরা কী সিদ্ধান্ত নেয়?
উত্তর: তারা রাসূল এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ এবং নওমুসলিমদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার নির্যাতন করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এ জন্য আবু লাহাবের নেতৃত্বে তারা ২৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন এবং আপোষ-মীমাংসার জন্য তারা রাসূলকে পার্থিব-সুখের প্রলোভন দেখায়।

প্রশ্ন-১৪৯. মক্কার কোরাইশ নেতারা হজ্ব যাত্রীদের কাছে কী প্রচার করে বেড়াচ্ছিল?
উত্তর: হজ্বের মৌসুমে রাসূল কে তার দাওয়াতী কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য তারা হজ্জযাত্রীদের মাঝে প্রচার করতে লাগল যে, মুহাম্মদ হলেন একজন যাদুকর, সে পিতা-পুত্রে, ভাইয়ে-বোনে এবং স্বামী-স্ত্রীতে বিচ্ছেদ ঘটাতে খুবই পারদর্শী।

প্রশ্ন-১৫০. ইসলাম গ্রহণের পর ওসমান বিন আফফানের চাচা তার সাথে কী করল?
উত্তর: সে তাকে খেজুর পাতার মাদুরে মুড়িয়ে তার নিচে আগুন লাগিয়ে দিল।

প্রশ্ন-১৫১. ইসলাম গ্রহণের কারণে মুসআব বিন উমাইর (রা)-এর মা তার সাথে কেমন আচরণ করেছিল?
উত্তর: সে তাকে অনাহারে রাখত এবং অবশেষে বাড়ি থেকেই বের করে দিল।

প্রশ্ন-১৫২. উমাইয়া বিন খালফ বিলাল (রা)-এর উপর কীভাবে নির্যাতন করত?
উত্তর: বিলাল (রা) ছিলেন উমাইয়া বিন খালফের ক্রীতদাস। তাই সে প্রায়ই বিলালকে মারধর করত। অনেক সময় সে তার গলায় রশি বেঁধে উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদেরকে দিয়ে মক্কার গলিতে গলিতে তাকে নিয়ে টানা-হেঁছড়া করে ঘুরে বেড়াতো। আবার অনেক সময় তার হাত-পা বেঁধে উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে দিয়ে তার বুকের উপর ভারি পাথর দিয়ে রাখত।

প্রশ্ন-১৫৩. ইয়াসির এবং তার পরিবারবর্গকে কীভাবে নির্যাতন করা হতো?
উত্তর: ইয়াসির, সুমাইয়া এবং আম্মার (রা)-কে জ্বলন্ত অংগারের উপর এবং উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে তাদেরকে মারধর করা হতো।

প্রশ্ন-১৫৪. ইয়াসির কীভাবে শহীদ হন?
উত্তর: নির্মম নির্যাতনের ফলে তিনি শহীদ হন।

প্রশ্ন-১৫৫. সুমাইয়া কীভাবে শহীদ হন?
উত্তর: আবু জেহেল স্বয়ং বর্শার আঘাতে সুমাইয়াকে হত্যা করে। আর এভাবে তিনি ইসলামের প্রথম মহিলা শহীদ হওয়ার উপাধি অর্জন করেন।

প্রশ্ন-১৫৬. আম্মার বিন ইয়াসিরও কি নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনিও নানা ধরনের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন।

প্রশ্ন-১৫৭. ইসলাম গ্রহণ করার কারণে যেসব মহিলারা নির্যাতিত হয়েছিলেন তারা কারা?
উত্তর: তারা হলেন- যানাইরা, নাদিয়া এবং তার মেয়ে উম্মে উবাইস (রা) সহ আরো অনেকে।

প্রশ্ন-১৫৮. খাব্বাব বিন আরাত (রা)-এর সঙ্গে মক্কার মুশরিকরা কী করত?
উত্তর: তারা খাব্বাবের চুল ধরে টানত এবং তার গলায় রশি বেঁধে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর শুইয়ে রাখত এবং সে যেন পালাতে না পারে সে জন্য তার বুকের উপর পাথর চাপা দিয়ে রাখত।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 ইসলামের চরম শত্রু

📄 ইসলামের চরম শত্রু


প্রশ্ন-১৫৯. আবু জাহেল কে?
উত্তর: আবু জাহেল ছিলেন কুরাইশদের বড় নেতা।

প্রশ্ন-১৬০. তার প্রকৃত নাম কি ছিল? তাকে কেন আবু জাহেল বলা হত?
উত্তর: তার প্রকৃত নাম ছিল ওমর বিন হিশাম, আর উপনাম ছিল আবুল হাকাম। কিন্তু ইসলামের প্রতি তার শত্রুতাপূর্ণ আচরণের জন্য তাকে আবু জাহেল বলা হত।

প্রশ্ন-১৬১. আবু জাহেল কেন রাসূল এর বিরোধিতা করতেন?
উত্তর: কারণ, রাসূল মূর্তিপূজাকে ঘৃণা করতেন এবং আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিতেন।

প্রশ্ন-১৬২: রাসূল এর সাথে তার আচরণ কেমন ছিল?
উত্তর: সে রাসূল এর সাথে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করত। অধিকাংশ সময়ে সে রাসূলকে অপমান করত, গালি-গালাজ করত, এমনকি মৃত্যুর হুমকি দিত। রাসূলকে বিরক্ত করার জন্য সে মানুষকে উস্কানি দিত। আর সে একমাত্র ব্যক্তি যে বিভিন্ন গোত্রের লোকজনকে একত্রিত করে রাসূল কে হত্যার প্রস্তাব করেছিল।

প্রশ্ন-১৬৩. কোথায় তাকে হত্যা করা হয়?
উত্তর: বদর যুদ্ধে দু'জন আনসার তরুণ তাকে হত্যা করে।

প্রশ্ন-১৬৪. পরবর্তীতে তার যে ছেলে ইসলাম গ্রহণ করেন তার নাম কী?
উত্তর: ইকরিমা বিন আবু জাহেল।

প্রশ্ন-১৬৫. নওমুসলিমদের সাথে আবু জাহেল কী করত?
উত্তর: সে যখন শুনত, কোন সম্ভ্রান্ত বংশের উচ্চ পদমর্যাদা সম্পন্ন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তখনই সে তাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করত, গোপনে তার বদনাম করত এবং তাকে কঠিন পরিণতির ভয় দেখাত। আর নওমুসলিম যদি সামাজিকভাবে দুর্বল হত, সে তাকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করত এবং তাকে কঠোর নির্যাতনের উপর রাখত।

প্রশ্ন-১৬৬. আবু জাহেল কীভাবে রাসূল এর জীবননাশের চেষ্টা করেছিল?
উত্তর: একবার আবু জাহেল কোরাইশদের সম্বোধন করে বললেন, “হে কোরাইশগণ! মুহাম্মদ যেভাবে আমাদের ধর্মের ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, আমাদের পূর্বপুরুষদের অবমাননা করে, আমাদেরকে বিপথগামী বলে এবং আমাদের দেবতাদের গালি দেয়, মনে হচ্ছে এ জন্য সে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। আমি শপথ করছি তার এ অপকর্ম থেকে তোমাদের মুক্তি দেয়ার জন্য আমি ভারি পাথর নিয়ে সে যখন সালাত পড়বে তখন তার মাথায় ঐ পাথর নিক্ষেপ করব। তার আনিত ধর্মের ব্যাপারে আমি মোটেও শঙ্কিত নই। আশা করি বনী আবদে মানাফের লোকেরা আমার সাথে একমত।" সবাই তার কথায় রাজি হয়ে গেল এবং তার কথানুযায়ী কাজ করার জন্য তাকে উৎসাহিত করল।
পরের দিন সকালবেলা আবু জাহেল রাসূল এর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। রাসূল সালাতে দাঁড়ানোর পর তাকে হত্যা করার জন্য আবু জাহেল পাথর নিয়ে অগ্রসর হতে লাগল। রাসূল এর নিকটে আসতে না আসতেই পাথরটি তার হাত থেকে পড়ে যায় এবং সে বিবর্ণ চেহারা নিয়ে ফিরে আসে। লোকেরা এ দৃশ্য দেখে তাড়াতাড়ি তার কাছে এসে ব্যাপারটি সম্পর্কে জানতে চায়। সে বলল, "যখন আমি তার নিকটবর্তী হলাম, বিশাল একটি উট ভয়ংকর দাঁত নিয়ে গতিরোধ করল এবং আমাকে প্রায় খেয়ে ফেলেছিল।" পরে রাসূল বললেন, এটা ছিল জিবরাঈল! আবু জাহেল যদি আরেকটু অগ্রসর হত তাহলে সে তাকে মেরে ফেলত।

প্রশ্ন-১৬৭. রাসূল যখন মানুষদের কাছে দাওয়াত দিচ্ছিলেন তখন আবু জাহেল কী করলেন?
উত্তর: সে রাসূল এর মাথায় ময়লা নিক্ষেপ করল এবং মানুষদেরকে বলল, "তোমরা তার কথা শুনবে না। সে তোমাদেরকে লাত, মানাত এবং উযযার পূজা থেকে বিরত রাখতে চায়"। এ কারণে রাসূল এর চলার পথে পাথর ও ময়লা নিক্ষেপ করত।

প্রশ্ন-১৬৮. রাসূলকে হত্যার জন্য আবু জাহেল অন্য আরেকটি দিনে কী করেছিল?
উত্তর: একবার সে শপথ করল যে, সে রাসূল এর মুখমণ্ডলে ময়লা নিক্ষেপ করবে এবং পা দিয়ে তার গলা চেপে ধরবে। এ কাজ করার জন্য সে সামনে অগ্রসর হয়ে হঠাৎ ফিরে আসল এবং হাত দিয়ে নিজেকে কোন জিনিস থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলল, "আমি একটি আগুনের পরিখা ও কিছু ডানা দেখতে পেলাম।" পরবর্তীতে রাসূল বললেন, "সে যদি আরেকটু অগ্রসর হত তাহলে জিবরাঈল তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো একের পর এক ছিন্ন ভিন্ন করে দিত।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00