📄 গোপনে ইসলাম প্রচার
প্রশ্ন-১২৪. শুরুতে ইসলামের প্রচার কীভাবে চলতে লাগল?
উত্তর: মক্কায় কাফিররা যেন প্রথমেই ইসলামের প্রতি ক্রুদ্ধ না হয়, সেজন্য শুরুতে ইসলামের প্রচার গোপনেই চলছিল।
প্রশ্ন-১২৫. ঐ সময় কয় ওয়াক্ত সালাত আদায় করা হতো?
উত্তর: প্রাথমিক অবস্থায় দুই রাক'আত করে সকাল ও সন্ধ্যায় সালাত আদায় করা হত।
প্রশ্ন-১২৬. রাসূল -কে সালাত শিক্ষা দিলেন কে?
উত্তর: জিবরাঈল রাসূলকে অযু ও সালাত শিখালেন।
প্রশ্ন-১২৭. ইসলামের সূচনালগ্নে সর্বমোট কতজন লোক ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: প্রায় চল্লিশ জন লোক প্রাথমিক অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-১২৮. গোপনে ইসলাম প্রচার কত বছর চলেছিল?
উত্তর: তিন বছর গোপনে ইসলাম প্রচার চলেছিল।
প্রশ্ন-১২৯. গোপনে ইসলাম প্রচার চলাকালে মুসলমানরা কোথায় মিলিত হতো?
উত্তর: মুসলমানরা "দারুল আরকাম” নামক স্থানে গিয়ে মিলিত হতো। সেখানে তারা রাসূল এর কাছে ওহীর শিক্ষা গ্রহণ করতেন।
প্রশ্ন-১৩০. রাসূল কীভাবে দাওয়াতী কাজ করতেন?
উত্তর: তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমের সাথে প্রাণপণে ইসলাম প্রচার করতেন এবং ইসলামী মতাদর্শে মানুষের ভ্রান্ত ধারণাসমূহ দূর করার চেষ্টা করতেন।
প্রশ্ন-১৩১. ঐ সময় ঘোষিত ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো কী কী?
উত্তর: সেগুলো হল-
১. আল্লাহর একত্ববাদ, ও মুহাম্মদ কে আল্লাহর নবী বলে সাক্ষ্য প্রদান করা;
২. আল্লাহর নবীদের প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবের প্রতি, তাকদীরের প্রতি এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান আনা।
৩. সৎকাজ করা এবং চুরি ও ব্যভিচারের মতো অসৎ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
প্রশ্ন-১৩২. যারা প্রাথমিক অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছিল তারা কী সমাজের সকল স্তরের প্রতিনিধি স্থানীয় ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তারা সমাজের সকল স্তরের প্রতিনিধি স্থানীয় ছিলেন, তাদের কেউ ছিলেন ক্ষমতাবান আবার কেউ ছিলেন দুর্বল, অন্যদিকে কেউ ছিলেন ধনী, আবার কেউ ছিলেন গরিব ও অসহায়, কেউ ছিলেন ব্যবসায়ী, আবার কেউ কেউ ছিলেন দাস-দাসী।
📄 প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার
প্রশ্ন-১৩৩: রাসূল কখন প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত শুরু করেন?
উত্তর: তিন বছর পর যখন নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়- وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ. ) অর্থ- আর তুমি (হে মুহাম্মদ!) তোমার পরিবার-পরিজনকে সতর্ক করে দাও। (সূরা-২৬ শু'আরা, আয়াত-২১৪)
প্রশ্ন-১৩৪. তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে দাওয়াত শুরু করলেন?
উত্তর: একদিন বানকৃত নামক স্থানে তিনি তার গোত্রের সকলকে এনে হাজির করলেন। কিন্তু আবু লাহাবের প্রচণ্ড বিরোধিতার কারণে সেদিন তিনি কিছুই বলতে পারেননি। পরে তিনি তাদের প্রায় ৪৫ জনের জন্য খাওয়ার আয়োজন করে আবার তাদের দাওয়াত করলেন। রাসূল তাদের সামনে আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর নবুওয়াতের ব্যাপারে আলোচনা করেন। তিনি তাদেরকে সতর্ক করে বলেন, মানুষের কাজ কর্মের হিসাবের জন্য একদিন সবাইকে একত্রিত করা হবে এবং হিসাবের পর সবাইকে জান্নাত ও জাহান্নামে প্রেরণ করা হবে।
প্রশ্ন-১৩৫. রাসূল এর ঐতিহাসিক দ্বিতীয়বার প্রকাশ্যে দাওয়াতের পদ্ধতি কী ছিল?
উত্তর: তিনি সাফা পাহাড়ের উঠে সকল লোকদের ডেকে একত্রিত করলেন এবং শেষ বিচার দিবসের কঠিন আযাব আসার ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করলেন।
প্রশ্ন-১৩৬. আবু লাহাব এ কথা শুনে কী বললেন?
উত্তর: সে বলল, "তোমার ধ্বংস হউক! তুমি কি এজন্য আমাদের ডেকেছিলে"? আর একথা বলেই আবু লাহাব চলে গেল।
প্রশ্ন-১৩৭. কোরাইশরা রাসূল এর ওপর রাগান্বিত হল কেন?
উত্তর: রাসূল যখন মূর্তিপূজাকে অপছন্দ করতে লাগলেন তখনই কোরাইশরা তাঁর প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন।
প্রশ্ন-১৩৮. রাসূল তার আন্দোলনকে তথা মিশনকে গতিশীল করার জন্য কী কী করতেন?
উত্তর: তিনি মক্কার জনগণকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতেন, বিশেষ করে নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর তিনি বেশি আন্তরিক হয়ে গেলেন-
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ .
অর্থ- অতএব প্রকাশ্যে ঘোষণা কর যা তোমাকে নির্দেশ দেয়া হয়, আর মুশরিকদের থেকে দূরে থেকো। (সূরা-১৫ হিজর : আয়াত-৯৪)
তিনি দাওয়াতী কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। এমনকি তিনি মানুষদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বানের জন্য বাজারে যেতেন এবং বিভিন্ন মেলা যেমন, উকায এবং যুল মাজাযের মত বড় বড় মেলায়ও যেতেন।
প্রশ্ন-১৩৯. জনসম্মুখে দাওয়াতের প্রভাব কী ছিল?
উত্তর: লোকেরা ধীরে ধীরে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল এবং কোরাইশদের নির্মম নির্যাতন সত্ত্বেও তারা ইসলামের ওপর অটল ছিল।
📄 চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করার মু‘জিযা
প্রশ্ন-১৪০. মু'জিযা কী?
উত্তর: মু'জিযা হচ্ছে এক অলৌকিক বিষয় যা শুধুমাত্র নবীগণই করতে সক্ষম। তারা নিজেরা তা করতে পারে না বরং আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তখন তাদেরকে মু'জিযা প্রদর্শনের শক্তি দান করেন। মু'জিযা হচ্ছে নবুওয়াতের একটি নিদর্শন।
প্রশ্ন-১৪১. রাসূল এর প্রধান মু'জিযা কী?
উত্তর: আল কুরআন হচ্ছে রাসূল এর প্রধান মু'জিযা, যা মানবজাতির জন্য চিরন্তন ঐশী বাণী।
প্রশ্ন-১৪২. রাসূল অন্য কোন মু'জিযা দেখিয়েছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি আরো অনেক মু'জিযা দেখিয়েছেন, কখনও প্রয়োজনে আবার কখনও মানুষের দাবিতে।
প্রশ্ন-১৪৩. মক্কার কাফিররা রাসূলের কাছে কোন মু'জিযার দাবি করেছিল?
উত্তর: তারা রাসূলকে চাঁদ দ্বি-খণ্ডিত করার দাবি করেছিল।
প্রশ্ন-১৪৪. কাফিরদের নিয়মিত পীড়াপীড়িতে রাসূল কী করলেন?
উত্তর: তিনি তাদেরকে মু'জিযা প্রদর্শনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন।
প্রশ্ন-১৪৫. রাসূল চাঁদকে দু'টুকরো করলেন কীভাবে?
উত্তর: তিনি তাঁর অঙ্গুলি চাঁদের দিকে নির্দেশ করলেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই এটি দ্বি-খণ্ডিত হয়ে গেল। এরপর পুনরায় এটিকে আল্লাহ আগের মতো মিলিয়ে দিলেন।
প্রশ্ন-১৪৬. কাফিররা কী এটি দেখেছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, শুধু মক্কার লোকেরাই তা দেখেনি বরং বিশ্বের অনেক লোকই এটি দেখেছিল।
প্রশ্ন-১৪৭. মক্কার পৌত্তলিকগণ কি ইসলাম গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: না, তারা তাদের অজ্ঞতা ও অহংকারের কারণে ক্রমাগত অবিশ্বাসের মধ্যেই পড়েছিল।
📄 কোরাইশদের অত্যাচার-নির্যাতন
প্রশ্ন-১৪৮. রাসূল এর নবুওয়াতের চতুর্থ বছরের শুরুর দিকে তার দাওয়াতী কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য কোরাইশরা কী সিদ্ধান্ত নেয়?
উত্তর: তারা রাসূল এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ এবং নওমুসলিমদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার নির্যাতন করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এ জন্য আবু লাহাবের নেতৃত্বে তারা ২৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন এবং আপোষ-মীমাংসার জন্য তারা রাসূলকে পার্থিব-সুখের প্রলোভন দেখায়।
প্রশ্ন-১৪৯. মক্কার কোরাইশ নেতারা হজ্ব যাত্রীদের কাছে কী প্রচার করে বেড়াচ্ছিল?
উত্তর: হজ্বের মৌসুমে রাসূল কে তার দাওয়াতী কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য তারা হজ্জযাত্রীদের মাঝে প্রচার করতে লাগল যে, মুহাম্মদ হলেন একজন যাদুকর, সে পিতা-পুত্রে, ভাইয়ে-বোনে এবং স্বামী-স্ত্রীতে বিচ্ছেদ ঘটাতে খুবই পারদর্শী।
প্রশ্ন-১৫০. ইসলাম গ্রহণের পর ওসমান বিন আফফানের চাচা তার সাথে কী করল?
উত্তর: সে তাকে খেজুর পাতার মাদুরে মুড়িয়ে তার নিচে আগুন লাগিয়ে দিল।
প্রশ্ন-১৫১. ইসলাম গ্রহণের কারণে মুসআব বিন উমাইর (রা)-এর মা তার সাথে কেমন আচরণ করেছিল?
উত্তর: সে তাকে অনাহারে রাখত এবং অবশেষে বাড়ি থেকেই বের করে দিল।
প্রশ্ন-১৫২. উমাইয়া বিন খালফ বিলাল (রা)-এর উপর কীভাবে নির্যাতন করত?
উত্তর: বিলাল (রা) ছিলেন উমাইয়া বিন খালফের ক্রীতদাস। তাই সে প্রায়ই বিলালকে মারধর করত। অনেক সময় সে তার গলায় রশি বেঁধে উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদেরকে দিয়ে মক্কার গলিতে গলিতে তাকে নিয়ে টানা-হেঁছড়া করে ঘুরে বেড়াতো। আবার অনেক সময় তার হাত-পা বেঁধে উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে দিয়ে তার বুকের উপর ভারি পাথর দিয়ে রাখত।
প্রশ্ন-১৫৩. ইয়াসির এবং তার পরিবারবর্গকে কীভাবে নির্যাতন করা হতো?
উত্তর: ইয়াসির, সুমাইয়া এবং আম্মার (রা)-কে জ্বলন্ত অংগারের উপর এবং উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে তাদেরকে মারধর করা হতো।
প্রশ্ন-১৫৪. ইয়াসির কীভাবে শহীদ হন?
উত্তর: নির্মম নির্যাতনের ফলে তিনি শহীদ হন।
প্রশ্ন-১৫৫. সুমাইয়া কীভাবে শহীদ হন?
উত্তর: আবু জেহেল স্বয়ং বর্শার আঘাতে সুমাইয়াকে হত্যা করে। আর এভাবে তিনি ইসলামের প্রথম মহিলা শহীদ হওয়ার উপাধি অর্জন করেন।
প্রশ্ন-১৫৬. আম্মার বিন ইয়াসিরও কি নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনিও নানা ধরনের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন।
প্রশ্ন-১৫৭. ইসলাম গ্রহণ করার কারণে যেসব মহিলারা নির্যাতিত হয়েছিলেন তারা কারা?
উত্তর: তারা হলেন- যানাইরা, নাদিয়া এবং তার মেয়ে উম্মে উবাইস (রা) সহ আরো অনেকে।
প্রশ্ন-১৫৮. খাব্বাব বিন আরাত (রা)-এর সঙ্গে মক্কার মুশরিকরা কী করত?
উত্তর: তারা খাব্বাবের চুল ধরে টানত এবং তার গলায় রশি বেঁধে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর শুইয়ে রাখত এবং সে যেন পালাতে না পারে সে জন্য তার বুকের উপর পাথর চাপা দিয়ে রাখত।