📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 শৈশব এবং যৌবন

📄 শৈশব এবং যৌবন


প্রশ্ন-৩০. বাল্যকালে মুহাম্মদ কী করতেন?
উত্তর: বাল্যকালে তিনি অধিকাংশ সময় ভেড়া চড়াতেন।

প্রশ্ন-৩১. তিনি কি কখনও তাঁর বয়সী কোন ছেলে-মেয়েদের সাথে কোন বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন?
উত্তর: তিনি দুষ্টামিপূর্ণ কোন কিছুই কখনও করেননি এবং তাঁর বয়সী ছেলে-মেয়েরা যেসব খেলাধুলা করত তাতেও তিনি অংশ নিতেন না।

প্রশ্ন-৩২. আব্দুল মুত্তালিবের ইন্তিকালের পর কে মুহাম্মদ-এর দেখাশুনা করেন?
উত্তর: তাঁর চাচা আবু তালিব।

প্রশ্ন-৩৩. কখন এবং কার সাথে মুহাম্মদ সিরিয়া ভ্রমণ করেন?
উত্তর: যখন তাঁর বয়স বার বছর তখন তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সঙ্গে সিরিয়া ভ্রমণ করেন।

প্রশ্ন-৩৪. সফরকালে কোন বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর: কাফেলা যখন বুসরা নামক জায়গায় পৌঁছলো তখন বুহাইরা নামক এক সন্ন্যাসী তাদেরকে গাছের নিচে আশ্রয় নিতে দেখল। এরপর বুহাইরা আবু তালিবকে বলল তোমার ভাতিজা সকল মানবজাতির নেতা হবে। তাঁকে আল্লাহ এমন এক ঐশী বাণী দান করবেন, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য হবে পথ ও পাথেয়। বুহাইরা আবু তালিবকে আরো বললেন যে, আপনি মুহাম্মদের ভালোভাবে দেখাশুনা করবেন কারণ ইহুদিরা তার ক্ষতি করতে পারে। এজন্য আবু তালিব তাঁকে মক্কায় পাঠিয়ে দেন।

প্রশ্ন-৩৫. দ্বিতীয়বার কখন মুহাম্মদ সিরিয়া সফর করেন এবং কেন?
উত্তর: যখন তার বয়স ২৫ বছর তখন তিনি খাদিজা (রা)-এর ব্যবসায়িক কাজে দ্বিতীয়বারের মতো সিরিয়া যান।

প্রশ্ন-৩৬. খাদিজা (রা)-কে ছিলেন?
উত্তর: খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ ছিলেন আরবের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী।

প্রশ্ন-৩৭. মুহাম্মদ-এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে খাদিজার পক্ষ থেকে কে এসেছিল?
উত্তর: তার বান্ধবী নাফিসা।

প্রশ্ন-৩৮. বিয়ের জন্য খাদিজা (রা) কেন মুহাম্মদ-কে বেশি পছন্দ করলেন?
উত্তর: মুহাম্মদ-এর সত্যবাদিতা এবং সদ্ব্যবহারই খাদিজা (রা) কে আকৃষ্ট করেছে।

প্রশ্ন-৩৯. মুহাম্মদ-কে তিনি কখন বিয়ে করেন?
উত্তর: যখন তাঁর বয়স চল্লিশ তখন তিনি মুহাম্মদ-কে বিয়ে করেন।

প্রশ্ন-৪০. মুহাম্মদ-যখন খাদিজা (রা) কে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স কত ছিল?
উত্তর: তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র পঁচিশ বছর।

প্রশ্ন-৪১. 'মোহর' হিসেবে খাদিজাকে তিনি কী দিলেন?
উত্তর: বিশটি উট।

প্রশ্ন-৪২. খাদিজা (রা) কি বিধবা ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি একজন বিধবা নারী ছিলেন। মুহাম্মদ ছিলেন তাঁর তৃতীয় স্বামী।

প্রশ্ন-৪৩. যখন খাদিজা ইন্তিকাল করেন তখন তাঁর বয়স কত ছিল?
উত্তর: মৃত্যুকালে খাদিজার বয়স ছিল পয়ষট্টি (৬৫) অপরদিকে মুহাম্মদ-এর বয়স তখন পঞ্চাশ।

প্রশ্ন-৪৪. খাদিজা (রা) এবং মুহাম্মদ-এর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন ছিল?
উত্তর: তাদের পঁচিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে তারা পরস্পর একটি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়েছিলেন।

প্রশ্ন-৪৫. মুহাম্মদ-এর জন্য তিনি কী করতেন?
উত্তর: তিনি মুহাম্মদ-কে সাধ্যানুযায়ী সাহায্য করতেন এবং বিপদে তাকে সান্ত্বনা দিতেন।

প্রশ্ন-৪৬. বিয়ের পর মুহাম্মদ-কি ব্যবসায়িক সফরে গিয়েছেন?
উত্তর: না, বিয়ের পর তিনি কোন ব্যবসায়িক সফরে যাননি।

প্রশ্ন-৪৭. খাদিজা (রা) জীবিত থাকাকালীন মুহাম্মদ আর কাউকে বিয়ে করেছিলেন?
উত্তর: না, খাদিজা (রা) জীবিত থাকাকালে তিনি আর কোন মহিলাকে বিয়ে করেননি।

প্রশ্ন-৪৮. সমাজে মুহাম্মদ কে তখন মানুষ কী বলে জানত?
উত্তর: সমাজে তাকে সবাই আল-আমীন (বিশ্বস্ত) বলে জানত।

প্রশ্ন-৪৯. তিনি কি কোন ধরনের শিক্ষা পেয়েছেন? কিংবা তিনি কি পড়াশুনা করেছেন?
উত্তর: তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা পাননি। তিনি ছিলেন নিরক্ষর।

প্রশ্ন-৫০. কিশোর বয়সে রাসূল যে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, সেটির নাম কী?
উত্তর: রাসূল এর বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর তখন তিনি 'ফিজর' নামক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যা সংঘটিত হয়েছিল কোরাইশ ও বানু কিনানাহ এবং কোরাইশ আইলানের মাঝে।

প্রশ্ন-৫১. কেন ঐ যুদ্ধকে ফিজর বা ধর্মদ্রোহিতাপূর্ণ যুদ্ধ বলা হয়?
উত্তর: কারণ পবিত্র মাসসমূহকে অবমাননা ও অপবিত্র করার কারণে ঐ যুদ্ধকে ফিজর বা ধর্মদ্রোহিতাপূর্ণ ও মর্যাদাহানিকর যুদ্ধ বলা হয়।

প্রশ্ন-৫২. খাদিজার গর্ভে মুহাম্মদ এর কতজন ছেলেমেয়ে জন্ম লাভ করেছিলো?
উত্তর: খাদিজার গর্ভে মুহাম্মদ এর দু'জন ছেলে ও চারজন মেয়ে জন্মলাভ করেন।
নিম্নে তাদের নাম উল্লেখ করা হল-
১. কাসিম, তিনি শৈশবে ইন্তিকাল করেন।
২. আব্দুল্লাহ, যাকে তাইয়্যেব ও তাহির বলা হতো, তিনিও শৈশবে ইন্তিকাল করেন।
৩. যাইনাব, আবুল আসের সঙ্গে যার বিয়ে হয়েছিল।
৪. রুকাইয়া, প্রথমে আবু লাহাবের ছেলে উতবার সঙ্গে বিয়ে হয়, পরবর্তীতে উসমান বিন আফফান (রা)-এর সঙ্গে বিয়ে হয়।
৫. উম্মে কুলসুম, প্রথমে আবু লাহাবের ছেলে উতাইবার সঙ্গে বিয়ে হয়, পরবর্তীতে রুকাইয়ার ইন্তিকালের পর উসমান বিন আফফানের সঙ্গে বিয়ে হয়।
৬. ফাতিমা আয-যাহারা, আলী বিন আবু তালিবের সঙ্গে যার বিয়ে হয়।

প্রশ্ন-৫৩. রাসূল এর চাচাদের নাম কী?
উত্তর: তারা হলেন: হারিস, যুবাইর, আবু তালিব, হামযাহ (রা), আবু লাহাব, খিযাক, যাকওয়ান, সাফার ও আব্বাস (রা)।

প্রশ্ন-৫৪. নবুওয়াতের পূর্বে রাসূল "হিলফুল ফুযুল" নামক যে সংগঠনে যোগদান করেন সেটির লক্ষ্য উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: হিলফুল ফুযুলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিল অসহায়দের অধিকার সংরক্ষণ করা এবং অবিচার ও সহিংসতা দমন করা।

প্রশ্ন-৫৫. যৌবনে মুহাম্মদ কেমন ছিলেন?
উত্তর: যৌবনকালে তাঁর সামাজিক গুণাবলিতে সবচেয়ে ভালো সমন্বয় ছিল। তাঁর ধ্যান মগ্নতার অভ্যাস ছিল। তিনি মদপান ও আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করা পশুর গোশত খাওয়া এবং পূজা উৎসবে যাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতেন।

প্রশ্ন-৫৬. রাসূল এর মা আমিনার ইন্তিকালের পর তিনি যাদের "মা" বলে ডাকতেন তারা কারা?
উত্তর: তারা হলেন: ১. হালিমা আস-সাদিয়া, যিনি তাকে দুধ পান করিয়েছেন। ২. উম্মে আইমান, যিনি ছিলেন তার বাবার ক্রীতদাসী আর তিনিই রাসূলের বেশি দেখাশুনা করতেন। ৩. ফাতিমা বিনতে আসাদ, যিনি ছিলেন তার চাচী। আবু তালিবের স্ত্রী এবং আলী (রা)-এর মা।

প্রশ্ন-৫৭. কুরআনে 'মুহাম্মদ' শব্দটি কতবার এসেছে?
উত্তর: সর্বমোট চারবার।

প্রশ্ন-৫৮. ইঞ্জিলে (বাইবেল পুরাতনে) রাসূল কে কি নামে উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: "ফারকালীত" "পারাক্লীত” নামে। (পারাক্লীত শব্দটির অর্থ সহায়, পয়গম্বর, দিশারী আত্মা, নবী, রাসূল।)

প্রশ্ন-৫৯. রাসূল এর মামা ছিলেন কারা?
উত্তর: তারা হলেন: বনী যুহরা ও বনী আদি বিন নাজ্জার।

প্রশ্ন-৬০. নবুওয়াতের পূর্বে মুহাম্মদ কার পথ অনুসরণ করতেন?
উত্তর: তিনি নবী 'ইবরাহীম'-এর পথ অনুসরণ করতেন।

প্রশ্ন-৬১. তাঁর চাচা আবু তালিব কি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: না, তিনি ইসলাম কবুল করেননি। তিনি একজন মুশরিক হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন-৬২. রাসূল এর ডাক নাম কী ছিল?
উত্তর: তার ডাক নাম ছিল "আবুল কাসিম"। আরবের রীতি অনুযায়ী তার বড় ছেলে "কাসিম" এর নামানুসারে তাকে এ নামে ডাকা হতো।

প্রশ্ন-৬৩. কে বলেছিল: "আমি হলাম দু'জন জবাই করা ব্যক্তির সন্তান"?
উত্তর: এ কথাটি বলেছিলেন রাসূল কারণ; ইবরাহীম -এর পুত্র ইসমাঈল এবং আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আব্দুল্লাহ এ দুজনকে আল্লাহর পথে কোরবানী (জবাই) করার হুকুম করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে তাদেরকে এ কঠিন পরীক্ষা থেকে উদ্ধার করলেন।

প্রশ্ন-৬৪. যখন কারো সামনে "মুহাম্মদ" এর উল্লেখ করা হয় তখন কী বলা উচিত?
উত্তর: তখন, 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' বলা উচিত।

টিকাঃ
আহমদ অর্থ অধিক প্রশংসাকারী মুহাম্মদ অর্থ প্রশংসিত

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 কা‘বা সংস্কার ও সালিশ-নিষ্পত্তি

📄 কা‘বা সংস্কার ও সালিশ-নিষ্পত্তি


প্রশ্ন-৬৫. কোরাইশরা যখন কা'বা সংস্কারের উদ্যোগ নেন তখন রাসূল এর বয়স কত ছিল?
উত্তর: তখন তাঁর বয়স প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর।

প্রশ্ন-৬৬. কা'বা মানে কী?
উত্তর: কা'বা শব্দের অর্থ হল উঁচু স্থান, এটি পৃথিবীর প্রাচীন সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ।

প্রশ্ন-৬৭. পবিত্র কা'বার আর কী কী নাম রয়েছে?
উত্তর: বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর), বায়তুল আতীক (পুরনো ঘর), মাসজিদুল হারাম (পবিত্র মসজিদ) হারামে ইবরাহীম (ইবরাহীম-এর তৈরি ইবাদাত গৃহ)

প্রশ্ন-৬৮. কাবা শরীফ কে নির্মাণ করেন?
উত্তর: নবী ইবরাহীম এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল আল্লাহর হুকুমে তাঁর ইবাদতের জন্য এটি নির্মাণ করেন।

প্রশ্ন-৬৯. কোরাইশরা কেন কা'বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিল?
উত্তর: কারণ কা'বা ঘর যে পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলো বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় এবং ছাদশূন্য হয়ে ভিতরের সবকিছু প্রকাশ হয়ে যাচ্ছিল বলেই কোরাইশরা কা'বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রশ্ন-৭০. কা'বা ঘরের উচ্চতা কত ছিল?
উত্তর: ইহার উচ্চতা ছিল ৬.৩০ মিটার।

প্রশ্ন-৭১. কা'বা সংস্কারের জন্য কোন ধরনের টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা?
উত্তর: শুধুমাত্র হালাল বা বৈধ অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া অন্যান্য সকল অর্থ যেমন- অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ, সুদের টাকা এবং বেশ্যাবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা প্রত্যাহার করা হয়।

প্রশ্ন-৭২. কা'বার দেওয়াল ভাঙ্গার কাজটি শুরু করেন কে?
উত্তর: ওয়ালীদ বিন মুগীরাহ মাখযুমি।

প্রশ্ন-৭৩. কোরাইশরা দেয়াল ভাঙ্গতে ভয় পাচ্ছিল কেন?
উত্তর: তাদের ভয় পাওয়ার কারণ হচ্ছে- তারা ভেবেছিল কোন অলৌকিক আযাব এসে তাদের গ্রাস করবে। সে জন্যই তারা ভয় পেয়েছিল।

প্রশ্ন-৭৪. সংস্কারের কাজটি তারা কীভাবে ব্যবস্থা করলেন?
উত্তর: তারা বিভিন্ন গোত্রের মাঝে কাজ ভাগ করে দিলেন। তাই কা'বা সংস্কারে প্রতিটি গোত্রেরই বিশেষ ভূমিকা ছিল।

প্রশ্ন-৭৫. যিনি পাথর গেথেছিলেন তার নাম কী?
উত্তর: তার নাম ছিল 'বাকুম'। তিনি ছিলেন একজন রোমান স্থপতি বা রাজমিস্ত্রী।

প্রশ্ন-৭৬. কীভাবে কাজ চলছিল?
উত্তর: 'হাজরে আসওয়াদ' বা কালো পাথরের কাছে আসা পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবেই সবাই কাজ করেছিল।

প্রশ্ন-৭৭. 'হাজরে আসওয়াদ' বা কালো পাথর কী? কা'বা শরীফের দেয়ালে এটি কে স্থাপন করেন?
উত্তর: এটি হল একটি বিশেষ এবং চমৎকার পাথর। কতিপয় ঐতিহাসিকদের মতে, এ পাথরটি জান্নাত থেকে আনা হয়, আর এটি প্রথমে ছিল সাদা পরবর্তীতে কোন এক পাপিষ্ঠ লোকের স্পর্শে এটি কালো হয়ে যায়। এ পবিত্র পাথরটি কা'বার দেয়ালে স্থাপন করেন নবী 'ইবরাহীম'।

প্রশ্ন-৭৮. এটি কেন কা'বা শরীফের দেয়ালে লাগানো হল?
উত্তর: এটি কা'বা শরীফের দেয়ালে লাগানোর কারণ হল- হজ্ব যাত্রীরা যেন এখান থেকে তাদের 'তাওয়াফ' শুরু এবং এখানে এসে শেষ করতে পারে। তাদের জন্য এটি একটি নিদর্শনস্বরূপ।

প্রশ্ন-৭৯. বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে কী বিরোধ দেখা দিল এবং কেন?
উত্তর: 'হাজরে আসওয়াদ' বা কালো পাথরকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে রাখা হয়েছিল আর প্রত্যেক গোত্রই চেয়েছিল এটিকে উত্তোলন করে যথাস্থানে স্থাপনের গৌরব অর্জন করতে।

প্রশ্ন-৮০. বিরোধটি কতদিন পর্যন্ত চলছিল?
উত্তর: চার-পাঁচ দিন যাবৎ বিরোধটি বিদ্যমান ছিল।

প্রশ্ন-৮১. সামাজিক এ বিরোধ সমাধানের জন্য কে পরামর্শ দেন?
উত্তর: আবু উমাইয়াহ, তিনি ছিলেন কোরাইশদের একজন প্রবীণ নেতা।

প্রশ্ন-৮২. তিনি কী পরামর্শ দিলেন এবং অন্যান্য গোত্রপ্রধানরা কী তার পরামর্শে একমত ছিল?
উত্তর: তিনি বললেন, আগামী দিন সকাল বেলা সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কাবা প্রাঙ্গনে আসবে, তাকে দিয়েই এ গোলযোগ সমাধা করা হবে। তার এ পরামর্শে অন্যান্য গোত্র প্রধানরাও রাজি হয়ে গেল। এরপর সবাই সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে অপেক্ষা করেছিল।

প্রশ্ন-৮৩. পরের দিন সকাল বেলা সর্বপ্রথম কা'বা প্রাঙ্গনে কে প্রবেশ করেন?
উত্তর: বিশ্বনবী মুহাম্মদ ছিলেন সে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি।

প্রশ্ন-৮৪. মুহাম্মদকে দেখে লোকেরা কী বলাবলি করতে লাগল?
উত্তর: লোকেরা বলল, এ তো দেখছি আমাদের মুহাম্মদ সেতো সত্যবাদী এবং বিশ্বাসভাজন, তাকে আমরা বিশ্বাস করি। সুতরাং তাকেই সমস্যাটি সমাধান করতে দেয়া হোক।

প্রশ্ন-৮৫. মুহাম্মদ কীভাবে বিরোধটি মীমাংসা করলেন?
উত্তর: তিনি বড় এক টুকরো কাপড়ের উপর 'হাজরে আসওয়াদ' বা কালো পাথরটি রাখলেন। তারপর তিনি সকল গোত্র প্রধানদের ডাকলেন এবং পাথরসহ কাপড়টি নিয়ে যথাস্থানে নিয়ে যেতে বললেন। এরপর বিশ্বনবী মুহাম্মদ নিজ হাতে পাথরটি তুলে যথাস্থানে স্থাপন করলেন।

প্রশ্ন-৮৬. মুহাম্মদ কেন 'হাজরে আসওয়াদ' বা কালো পাথর চুম্বন করতেন?
উত্তর: ইবরাহীম ও ইসমাঈল-এর পবিত্র হাত ঐ পাথর স্পর্শ করেছিল বলেই তিনি যখন কা'বা ঘর 'তাওয়াফ' করতেন তখনই ঐ পাথর চুম্বন করতেন।

প্রশ্ন-৮৭. 'হাজরে আসওয়াদ' বা কালো পাথর চুম্বন অথবা স্পর্শ করা কি ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: না, এটি কোন ইবাদত নয় বরং আল্লাহর ঐশ্বিক আদেশানুযায়ী এটি একটি বিশেষ ভক্তি প্রদর্শনমাত্র।

প্রশ্ন-৮৮. 'হাজরে আসওয়াদ' বা কালো পাথর চুম্বন করতে গিয়ে ওমর বিন খাত্তাব (রা) কী বলেছিলেন?
উত্তর: আমি জানি, তুমি একটি পাথরমাত্র আর কিছুই নও। কারো কোনো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা তোমার নেই। আমি যদি রাসূলুল্লাহ-কে তোমাকে স্পর্শ করতে (এবং চুম্বন করতে) না দেখতাম তাহলে আমি কখনো তোমাকে স্পর্শ (এবং চুম্বন) করতাম না। (সহীহ বুখারী দ্বিতীয় খণ্ড-এর হজ্জ পর্ব, অধ্যায় ৫৬, হাদীস নং ৬৭৫)

প্রশ্ন. ৮৯. হজ্জযাত্রী বা হাজীদের জন্য 'কালো পাথর' চুম্বন করা কী বাধ্যতামূলক?
উত্তর: না, হজ্জ যাত্রীদের জন্য 'কালো পাথর' চুম্বন বাধ্যতামূলক নয়। প্রচণ্ড ভীড়ের সময় অন্যের অসুবিধা সৃষ্টি না করে বরং দূর থেকে হাতে নির্দেশ করা বা স্পর্শ করাই যথেষ্ট।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 ওহী নাযিল

📄 ওহী নাযিল


প্রশ্ন-৯০. ওহীর সূচনালগ্নে রাসূল কোথায় যেতেন?
উত্তর: তিনি হেরা গুহায় নির্জন স্থানে গিয়ে ইবাদতের মধ্যে সময় কাটাতেন।

প্রশ্ন-৯১. 'হেরা গুহা' কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: এটি মক্কা থেকে দুই মাইল দূরে হেরা পর্বতে অবস্থিত। এ হেরা পর্বতকে নূরের পাহাড়ও বলা হয়।

প্রশ্ন-৯২. হেরা গুহার আয়তন কত?
উত্তর: এটির দৈর্ঘ্য ৪ গজ এবং প্রস্থ ১.৭৫ গজ।

প্রশ্ন-৯৩, তিনি কেন সেখানে গমন করতেন?
উত্তর: সৃষ্টি জগতের ওপর ধ্যান করতে যেতেন। অর্থাৎ সেখানে গিয়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন।

প্রশ্ন-৯৪. তিনি সেখানে কতদিন ছিলেন?
উত্তর: কয়েক রাত তিনি সেখানে অতিবাহিত করেন।

প্রশ্ন-৯৫. ওহীর সূচনা হয় কীসের মাধ্যমে?
উত্তর: সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, দিনের বেলা তা সত্য হয়ে দেখা দিত।

প্রশ্ন-৯৬. এ অবস্থা কতদিন চলছিল?
উত্তর: প্রায় ছয় মাস যাবৎ এভাবে চলছিল।

প্রশ্ন-৯৭. কখন সর্বপ্রথম রাসূল এর ওপর ওহী নাযিল হয়?
উত্তর: ৬১০ খ্রিস্টাব্দের ১০ আগস্ট, ২১ রমযান সোমবার রাতে সর্বপ্রথম ওহী নাযিল হয়। তখন রাসূল এর বয়স ছিল ৪০ বছর।

প্রশ্ন-৯৮. কে ওহী নিয়ে এসেছিলেন?
উত্তর: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম।

প্রশ্ন-৯৯. জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-কে?
উত্তর: তিনি হচ্ছেন প্রধান ফেরেশতা, তিনি নবীদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিতেন। তাকে রুহুল কুদ্দুস এবং রুহুল আমীনও বলা হয়।

প্রশ্ন-১০০. জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসুল কে কী বললেন এবং রাসূল কী উত্তর দিলেন?
উত্তর: তিনি বললেন, “পড়”। তারপর মুহাম্মদ বললেন, "আমি তো পড়তে জানি না"।

প্রশ্ন-১০১. অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম কি করলেন?
উত্তর: জিবরাঈল মুহাম্মদ কে ধরে বুকের সাথে খুব জোরে চেপে ধরলেন। এমনকি মুহাম্মদ ঐ চাপ সহ্য করার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছিল। এরপর তিনি তাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পড়” এভাবে তিনি তিনবার মুহাম্মদ কে ধরলেন এবং বললেন, “পড়”।

প্রশ্ন-১০২. এরপর মুহাম্মদ কি পড়তে পেরেছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি পড়তে লাগলেন-
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ - خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ - اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأكرم .
অর্থ- ১. পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। ২. যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন রক্তপিণ্ড থেকে। ৩. পড় এবং তোমার প্রভু অত্যন্ত মেহেরবান। (সূরা ৯৬-আলাক :আয়াত-১-৩)

প্রশ্ন-১০৩. অতঃপর রাসূল এর অবস্থা কী হয়েছিল?
উত্তর: তিনি ভয়ে কাঁপতে লাগলেন।

প্রশ্ন-১০৪. সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি খাদিজা (রা)-কে কী বললেন?
উত্তর: তিনি খাদিজাকে বললেন, "আমাকে (কম্বল দিয়ে) জড়িয়ে দাও, আমাকে (কম্বল দিয়ে) জড়িয়ে দাও"।

প্রশ্ন-১০৫. খাদিজা (রা) কী করলেন?
উত্তর: কাঁপুনি বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি কম্বল দিয়ে তাকে জড়িয়ে রাখলেন।

প্রশ্ন-১০৬. মুহাম্মদ কি খাদিজাকে ঘটনাটি বলেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি খাদিজাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন এবং বললেন, খাদিজা! আমি এখন আমার জীবন নিয়ে শঙ্কিত।

প্রশ্ন-১০৭. খাদিজা (রা) কী বলে রাসূলকে সান্ত্বনা দিলেন?
উত্তর: খাদিজা বললেন, "আল্লাহ কখনো আপনাকে অপমানিত করবেন না। কারণ আপনি একজন সৎ লোক, আপনি আত্মীয়-স্বজনদের হক আদায় করেন, অসহায়দের আশ্রয় দেন, গরিব, নিঃস্ব ও অভাবীদের সাহায্য করেন। আপনি অতিথিপরায়ণ"। (বুখারী: প্রথম ওয়াহী অধ্যায়)

প্রশ্ন-১০৮. এরপর তিনি তাকে নিয়ে কোথায় গেলেন?
উত্তর: এরপর তিনি রাসূলকে নিয়ে তার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নওফেলের কাছে গেলেন। অত্যন্ত বৃদ্ধ ও অন্ধ হয়ে পড়েছিলেন ওয়ারাকা। তিনি ছিলেন ধর্মশাস্ত্রের একজন পণ্ডিত।

প্রশ্ন-১০৯. ওয়ারাকা বিন নওফেল কী বললেন?
উত্তর: ওয়ারাকা বিন নওফেল সবকিছু শুনে বললেন, এতো সেই ওহী বহনকারী ফেরেশতা যাকে আল্লাহ তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের কাছেও পাঠিয়েছেন। হায়! আমি যদি শক্তিশালী যুবক হতাম। হায়! আমি যদি তখন জীবিত থাকতে পারতাম। যখন আপনার গোত্রের লোকেরা আপনাকে মক্কা থেকে তাড়িয়ে দিবে তখন আমি অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করতাম।

প্রশ্ন-১১০. রাসূল তখন তাকে কী বললেন?
উত্তর: মুহাম্মদ অবাক হয়ে বললেন, "তারা আমাকে কেন বের করে দিবে"?

প্রশ্ন-১১১. ওয়ারাকা কী উত্তর দিলেন?
উত্তর: ওয়ারাকা বললেন, আপনি যা নিয়ে এসেছেন অনুরূপ আপনার পূর্বে যারা এমন কিছু নিয়ে এসেছিলেন তাদের প্রত্যেকের সাথেই এমন শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। আমি যদি সেদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তাহলে আপনাকে সর্বশক্তি দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করব।

প্রশ্ন-১১২. ওয়ারাকা কখন ইস্তিকাল করেন?
উত্তর: অল্প কয়েকদিন পরেই তিনি ইস্তিকাল করেন।

প্রশ্ন-১১৩: কতদিন যাবৎ ওহী নাযিল বন্ধ ছিল?
উত্তর: দীর্ঘ ছয় মাস যাবৎ ওহী নাযিল বন্ধ ছিল।

প্রশ্ন-১১৪. হঠাৎ ওহীর সাময়িক বিরতিতে রাসূল কী অনুভব করলেন?
উত্তর: তিনি এতটাই কষ্ট অনুভব করলেন যে, অনেক সময় তিনি নিজে নিজেকে পাহাড়ের উপর থেকে নিক্ষেপ করার ইচ্ছা পোষণ করতেন। কিন্তু সবসময়ই জিবরাঈল এসে হাজির হত এবং বলত: "হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর সত্যিকার রাসূল।" এর ফলে তার আত্মা প্রশান্ত হত এবং তিনি শান্তিতে বাড়ি ফিরে যেতেন।

প্রশ্ন-১১৫. দ্বিতীয়বার কি ওহী নাযিল হল?
উত্তর: তা হল-
يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِرُ . قُمْ فَانْذِرْ - وَرَبِّكَ فَكَبِّرْ - وَتَبَابَكَ فَطَهِّرْ . وَالرِّجْزَ فَاهْجُرْ - وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ - وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ .
অর্থ- ১. (হে মুহাম্মদ কম্বল আবৃতকারী! ২. উঠুন এবং সতর্ক করুন! ৩. আর আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন! ৪. এবং আপনার পোশাক পবিত্র করুন! ৫. পৌত্তলিকতা পরিহার করে চল, ৬. অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করিও না। ৭. এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ কর। (সূরা ৭৪- মুদ্দাছছির, আয়াত-১-৭)

প্রশ্ন-১১৬. ওহীর প্রকারভেদগুলো অথবা ওহীর নিদর্শনগুলো কী?
উত্তর: ওহীর সাতটি নিদর্শন রয়েছে, নিম্নে তা উল্লেখ করা হল-
১. সত্য স্বপ্ন।
২. জিবরাঈল রাসূল এর হৃদয়মনে অদৃশ্যভাবে ওহী নিক্ষেপ করতেন।
৩. জিবরাঈল অনেক সময় মানুষের আকৃতিতে রাসূল এর কাছে এসে সরাসরি কথা বলতেন।
৪. জিবরাঈল রাসূল এর নিকট ক্রমাগত ঘণ্টা বাজার ধ্বনির মতো আসতেন। আর এটা ছিল সবচেয়ে কঠিন আকৃতি। কারণ জিবরাঈল এসে রাসূলকে এমন শক্তভাবে ধরতেন যে অত্যন্ত প্রচণ্ড শীতের দিনেও তার কপাল থেকে ঘাম ঝরত।
৫. রাসূল জিবরাঈলকে তার নিজস্ব আকৃতিতে দেখতেন। আর তিনি রাসূলের কাছে আল্লাহর বাণী নাযিল করতেন।
৬. রাসূল যখন মিরাজে গেলেন তখন আল্লাহ সরাসরি তার ওপর সালাতের নির্দেশ জারি করেন। অর্থাৎ, সালাত ফরয করেন।
৭. ফেরেশতার মধ্যস্থতা ছাড়াই সর্বপ্রথম আল্লাহর বাণী তাঁর রাসূলের কাছে পৌঁছানো হয়।

প্রশ্ন-১১৭. দ্বিতীয়বার ওহী নাযিলের পর রাসূল কী করলেন?
উত্তর: তিনি তার পরিবারবর্গ ও বন্ধুদের মাঝে ইসলাম প্রচার শুরু করলেন।

প্রশ্ন-১২০. সর্বপ্রথম কারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: চার জন ব্যক্তি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন, তারা হলেন-
১. রাসূল এর স্ত্রী খাদিজা (রা)
২. রাসূল এর ক্রীতদাস যায়িদ বিন হারিছাহ।
৩. রাসূল এর চাচাতো ভাই আলী বিন আবু তালিব।
৪. রাসূল এর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু আবু বকর (রা)

প্রশ্ন-১২১. আবু বকর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের সাথে সাথে আর কারা ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: তারা হলেন, উসমান বিন আফফান, যুবাইর বিন আওয়াম, আব্দুর রহমান বিন আওফ, সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস, তালহা বিন ওবায়দুলাহ এবং সাঈদ বিন যায়িদ (রা)।

প্রশ্ন-১২২. সর্বপ্রথম মহিলাদের মধ্যে কারা ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: তারা হলেন, আব্বাসের স্ত্রী উম্মুল ফজল, আবু বকরের স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস এবং তার মেয়ে আসমা বিনতে আবু বকর এবং ফাতিমা বিনতে খাত্তাব (ওমরের বোন)।

প্রশ্ন-১২৩. অন্যান্য আর যারা ইসলাম গ্রহণ করেন তাদের নাম কী?
উত্তর: তারা হলেন, বিলাল বিন রাবাহ এবং খাব্বাব বিন আরাত (রা)।

📘 রাসূল সাঃ সম্পর্কে ১০০০ প্রশ্ন > 📄 গোপনে ইসলাম প্রচার

📄 গোপনে ইসলাম প্রচার


প্রশ্ন-১২৪. শুরুতে ইসলামের প্রচার কীভাবে চলতে লাগল?
উত্তর: মক্কায় কাফিররা যেন প্রথমেই ইসলামের প্রতি ক্রুদ্ধ না হয়, সেজন্য শুরুতে ইসলামের প্রচার গোপনেই চলছিল।

প্রশ্ন-১২৫. ঐ সময় কয় ওয়াক্ত সালাত আদায় করা হতো?
উত্তর: প্রাথমিক অবস্থায় দুই রাক'আত করে সকাল ও সন্ধ্যায় সালাত আদায় করা হত।

প্রশ্ন-১২৬. রাসূল -কে সালাত শিক্ষা দিলেন কে?
উত্তর: জিবরাঈল রাসূলকে অযু ও সালাত শিখালেন।

প্রশ্ন-১২৭. ইসলামের সূচনালগ্নে সর্বমোট কতজন লোক ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তর: প্রায় চল্লিশ জন লোক প্রাথমিক অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-১২৮. গোপনে ইসলাম প্রচার কত বছর চলেছিল?
উত্তর: তিন বছর গোপনে ইসলাম প্রচার চলেছিল।

প্রশ্ন-১২৯. গোপনে ইসলাম প্রচার চলাকালে মুসলমানরা কোথায় মিলিত হতো?
উত্তর: মুসলমানরা "দারুল আরকাম” নামক স্থানে গিয়ে মিলিত হতো। সেখানে তারা রাসূল এর কাছে ওহীর শিক্ষা গ্রহণ করতেন।

প্রশ্ন-১৩০. রাসূল কীভাবে দাওয়াতী কাজ করতেন?
উত্তর: তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমের সাথে প্রাণপণে ইসলাম প্রচার করতেন এবং ইসলামী মতাদর্শে মানুষের ভ্রান্ত ধারণাসমূহ দূর করার চেষ্টা করতেন।

প্রশ্ন-১৩১. ঐ সময় ঘোষিত ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো কী কী?
উত্তর: সেগুলো হল-
১. আল্লাহর একত্ববাদ, ও মুহাম্মদ কে আল্লাহর নবী বলে সাক্ষ্য প্রদান করা;
২. আল্লাহর নবীদের প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবের প্রতি, তাকদীরের প্রতি এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান আনা।
৩. সৎকাজ করা এবং চুরি ও ব্যভিচারের মতো অসৎ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

প্রশ্ন-১৩২. যারা প্রাথমিক অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছিল তারা কী সমাজের সকল স্তরের প্রতিনিধি স্থানীয় ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তারা সমাজের সকল স্তরের প্রতিনিধি স্থানীয় ছিলেন, তাদের কেউ ছিলেন ক্ষমতাবান আবার কেউ ছিলেন দুর্বল, অন্যদিকে কেউ ছিলেন ধনী, আবার কেউ ছিলেন গরিব ও অসহায়, কেউ ছিলেন ব্যবসায়ী, আবার কেউ কেউ ছিলেন দাস-দাসী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00