📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 রাসূলূল্লাহ (সাঃ) যেভাবে তাবলীগ করেছেন

📄 রাসূলূল্লাহ (সাঃ) যেভাবে তাবলীগ করেছেন


রাসূলে করীম (সাঃ) তাঁর নবুওয়াতের প্রথম তেরটি বছর শুধু দ্বীনের তাবলীগ করেই কাটিয়ে ছিলেন এমনকি তাবলীগ ও তালীমকে তাঁর নবুওয়াতের প্রধান দায়িত্ব স্থির করে নিয়েছিলেন। দ্বীনের প্রচার কাজ করতে গিয়ে তাকে সম্মুখীন হতে হয়েছিল শত বাধা, জুলুম, নির্যাতন, ঠাট্টা, বিদ্রুপ আর বহুবিধ হুমকির। পাগল, কবি, জাদুকর এসব অপবাদও তাকে সইতে হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও দ্বীন প্রচারের মহান কাজ থেকে কেউ তাঁকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি অবলীলায় তাবলীগের কাজ আঞ্জাম দেয়ার ক্ষেত্রে কারো ভয়েই বিচলিত হননি। মক্কার জিন্দেগী পাড়ি দিয়ে যখন মদীনায় আসলেন তখনও জিহাদের পাশাপাশি তাবলীগের কাজ জারি রেখেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি তাবলীগের কাজ করতে ত্রুটি করেননি। রাসূলের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে তিনি বিভিন্ন ভাবে তাবলীগের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। যেমন-

☆ দীন প্রচারের প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে প্রতিকূল থাকায় নবী করীম (সাঃ) তিন বছর গোপনে দাওয়াতী কাজ আঞ্জাম দেন। এতে নিজ পরিবার আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের মধ্য হতে বাছাই করা কিছু লোকের নিকট দাওয়াত পেশ করেন। দাওয়াতের ফলে যারা ইসলাম কবুল করেন তাদেরকেও গোপনে দীন প্রচারের অনুমতি প্রদান করেন।
* প্রসঙ্গ ঘটনা- গোপনীয় দা'ওয়াতের প্রথম দিকে যারা ইসলাম কবুল করেন তারা "সাবেকীনে আওয়ালীন" নামে পরিচিত। এদের মধ্যে শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন- রাসূলুল্লাহর সহধর্মিনী উম্মুল মু'মিনীন খাদিজা (রা), তাঁর মুক্ত ক্রীতদাস যায়েদ বিন সাবিত, চাচাতো ভাই আলী বিন আবু তালেব, এবং আবু বকর সিদ্দিক (রা)। ইসলাম কবুলের পর আবু বকর সিদ্দিক (রা) ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন এবং তাঁর দা'ওয়াতে হযরত ওসমান (রা), যোবায়ের (রা), তালহা (রা), আবদুর রহমান বিন আওফ (রা), সাদ বিন আবী ওক্কাস (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন। এমনিভাবে, বেলাল (রা), আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ এবং অন্যান্যরাও একে একে ইসলাম কবুল করতে থাকেন। ইবনে হিসাম বলেন, এদের সংখ্যা ছিল চল্লিশের কিছু বেশি।

☆ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে দীন প্রচারের অনুমতি পাওয়ার পর নবী (সাঃ) প্রথম পদক্ষেপে নিজ আত্মীয়দের সমবেত করেন এবং তাদের প্রতি প্রকাশ্যে দাওয়াত পেশ করেন।
* প্রসঙ্গ ঘটনা- আত্মীয়দেরকে প্রকাশ্যে দাওয়াতের উক্ত মজলিসে সমবেত ছিল বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেব ইবনে আবদে মান্নাফের একটি দল। তারা সংখ্যায় ছিল পয়তাল্লিশ জন। সেখানে আবু লাহাবও ছিল। আবু লাহাবের বিরূপ মন্তব্যের কারণে নবী (সাঃ) সেখানে কিছুই বলেননি। পরবর্তীতে পুনরায় নবী (সা) তাদেরকে সমবেত করেন এবং তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। সেই মজলিসে নবী (সা) চাচা আবু তালেবের কাছ থেকে দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে সহায়তা লাভেরও আশ্বাস পান।

☆ প্রকাশ্য তাবলীগের দ্বিতীয় পদক্ষেপে নবী (সাঃ) একদিন (আরবের প্রচলিত প্রথানুসারে) সাফা পাহাড়ের ওপর উঠে "ইয়া সাবাহ, ইয়া সাবাহ" অর্থাৎ 'হায় সকাল, হায় সকাল' বলে আওয়াজ দিয়ে কুরাইশ গোত্রদের সমবেত করেন এবং তাদের নিকট তাওহীদ, রিসালাত ও কিয়ামতের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের দাওয়াত পেশ করেন।
* প্রসঙ্গ ঘটনা- সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-"হে নবী, তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন কর" পবিত্র কুরআনের এই আয়াত নাযিল হবার পর নবী করীম (সাঃ) সাফা পাহাড়ে আরোহন করে আওয়াজ দিলেন, হে বনি ফিহর, হে বনি আদী, এই আওয়াজ শোনার পর কুরাইশদের সকল নেতৃস্থানীয় লোক একত্রিত হলো। নবী (সাঃ) বললেন, তোমরা বলো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, পাহাড়ের ওদিকের প্রান্তরে একদল ঘোড় সওয়ার তোমাদের ওপর হামলা করার জন্য আত্মগোপন করে আছে, তোমরা কি সে কথা বিশ্বাস করবে? সবাই বললো, হ্যাঁ বিশ্বাস করবো, কারণ আমরা আপনাকে কখনো মিথ্যা বলতে শুনেনি। নবী (সাঃ) বললেন, তাহলে শুন, আমি তোমাদের এক ভয়াবহ আযাবের ব্যাপারে সাবধান করার জন্য প্রেরিত হয়েছি। আবু লাহাব বলল, তুমি ধ্বংস হও। একথা বলার জন্যই কি আমাদেরকে এখানে ডেকেছ? আবু লাহাবের একথার প্রেক্ষিতে আল্লাহ সূরা লাহাব নাযিল করে তাতে বলেন, আবু লাহাবের দু'হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।

☆ পরবর্তী পদক্ষেপে নবী করীম (সাঃ) প্রকাশ্যে যাবতীয় শিরকের বিরুদ্ধে জোড়ালো যুক্তি প্রমাণ সহকারে বক্তব্য প্রদান করেন। ফলে মক্কার অধিবাসীরা ক্রোধে দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং নবীর (সাঃ) বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে উঠে দাঁড়ায়।
* প্রসঙ্গ ঘটনা- ক) সহীহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে-"নিকটাত্মীয়দের আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করো" এই আয়াত নাযিলের পর নবী (সাঃ) আওয়াজ দিলেন। বিশেষভাবে তিনি (সাঃ) বললেন, হে কুরায়েশ দল, তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনি কা'ব, নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে মোহাম্মদের মেয়ে ফাতেমা, নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। খ) উক্ত বক্তব্যে নবী (সাঃ) পৌত্তলিকতার নোংরামি, মূর্তিগুলো যে শক্তিহীন, নিরর্থক তা উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে থাকেন।

☆ প্রকাশ্যে তাবলীগ করার কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর হজ্জের মৌসুম সমাগত হলে রাসূলের কাছে দীন প্রচারের এক সুবর্ণ সুযোগ এসে যায়। হাজ্জ মৌসুমের সুযোগে রাসূল (সাঃ) দীনের দা'ওয়াত পৌছিয়ে দেন। ফলে আরব জাহানের বিভিন্ন গোত্রপ্রধান, প্রতিনিধি, ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট ইসলামের দা'ওয়াত ছড়িয়ে পড়ে।

☆ কোথাও কোন সফরে রওয়ানা হলে, যাওয়ার পথে এবং প্রত্যাবর্তনকালেও পথে পথে যেসব লোকের সাক্ষাত মিলতো তাদের নিকট দীনের দাওয়াত প্রদান করেছেন। (যেমন তায়েফ সফরকালে)।

☆ পরিস্থিতি নাজুকতার কারণে রাতের অন্ধকারে দাওয়াতী কাজ পরিচালনা করেছেন। (যেমন আবু বকর ও ওমর (রা) কে সাথে নিয়ে বনু যুহাল ও বনু শাইবান গোত্রের কাছে দা’ওয়াত পেশ)।

☆ বিভিন্ন গোত্র, প্রতিনিধিদল ও ব্যক্তির নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ। (যেমন খাজরায গোত্রের ৬ জন যুবক, তোফায়েল বিন আমর দাওসী প্রমুখের নিকট দা’ওয়াত)।

☆ স্থানীয় গোত্রপতি যারা ইসলাম কবুল করতেন তাদের দিয়ে নিজ গোত্র ও তার আশেপাশের লোকদের নিকট দীন প্রচার। (যেমন আবু যর গিফারী ও আবু ইমাম বাহেলী (রা) এর মাধ্যমে দা’ওয়াত)।

☆ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভের পর প্রশাসনিক পদে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাবলীগ। (যেমন মুআয বিন জাবাল ও আবু মূসা আল আশআরী (রা) কে ইয়ামেনে প্রেরণকালে নির্দেশ প্রদান)।

☆ দাওয়াতী পত্র দিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের নিকট দূত প্রেরণ। যেমন- হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশী, মিশরের বাদশাহ মুকাওকিস, পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ, রোমক সম্রাট কায়সার, ইয়ামামার শাসনকর্তা, দামেশকের শাসনকর্তা এবং আম্মানের বাদশাহের নিকট পত্র প্রেরণ।

☆ ভিন্ন দেশে ও অঞ্চলে সাহাবাদের তাবলীগী দল প্রেরণ। যেমন- আবিসিনিয়ায় জাফরের নেতৃত্বে দল প্রেরণ, মদীনায় মুসআব বিন উমারের নেতৃত্বে দল প্রেরণ এবং নজদবাসীদের নিকট ৭০ জন সাহাবীর দল প্রেরণ।

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 রাসূলূল্লাহ (সাঃ) তাবলীগ থেকে শিক্ষা, প্রকৃত তাবলীগ জামা'আত চেনার উপায়

📄 রাসূলূল্লাহ (সাঃ) তাবলীগ থেকে শিক্ষা, প্রকৃত তাবলীগ জামা'আত চেনার উপায়


রাসূলুল্লাহ (সা) এর দা'ওয়াত ও তাবলীগী কার্যক্রম থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায় তার প্রধান কতক নিম্নরূপ:

১. দীনের দা'ওয়াত সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার জন্য নির্ভয়ে কাজ করে যেতে হবে এবং এজন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।
২. প্রত্যেক যুগের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার জাহেলী প্রথার সাথে আপোষহীন নীতি অবলম্বন করতে হবে।
৩. সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার যাবতীয় শিরকী কর্মকাণ্ড সমূহ চিহ্নিত করে জন সম্মুখে স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরতে হবে। শিরকের ক্ষতিকারক দিক সমূহ উপস্থাপন করে তা পরিহার করার জন্য সমাজের লোকদের আহ্বান জানাতে হবে।
৪. কোন ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তাধারা বা কারোর স্বপ্নে প্রাপ্ত নীতি (হোক সে ব্যক্তি কোন ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে খ্যাত বা বুযুর্গানে দীন) বা কারোর মনগড়া পদ্ধতির ভিত্তিতে তাবলীগ করা চলবে না। বরং দাওয়াত ও তাবলীগী কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে অহী ব্যবস্থাপনার আলোকে। অর্থাৎ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে।
৫. দা'ওয়াত ও তাবলীগী সংগঠন পরিচালনাকারী তথা প্রতিটি দাঈ-মুবাল্লিগ ও দায়িত্বশীলকে অবশ্যই তাগুত মুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে তাগুত রাষ্ট্র প্রধানের আনুগত্য পরিহার করতে হবে, তারা বিজাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের জড়াবে না। আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রশাসনিক তাগুতী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

রাসূলুল্লাহর তাবলীগী কার্যক্রম থেকে উপরোল্লেখিত যে শিক্ষাগুলো পাওয়া গেল তা মূলত একটি প্রকৃত তাবলীগ জামা'আতের বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে তাবলীগী জামা'আতের নামে বহু দল গঠিত হয়েছে। কিন্তু সে সবের মাঝে কোনটি প্রকৃত ও সঠিক জামা'আত তা চিনতে হলে আমাদের দেখতে হবে তাদের মাঝে কাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর তাবলীগী কার্যক্রমের মিল রয়েছে।

﴿ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ﴾
"রাসুলের জীবনেই তোমাদের উত্তম আদর্শ বিদ্যমান।” (সূরা আহযাব-২১)

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوٓا۟ أَعْمَٰلَكُمْ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর আর আনুগত্য কর রাসূলের। আর (আল্লাহর ও রাসূলের দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ না করে) তোমাদের আমলগুলোকে বরবাদ করে দিও না।” (সূরা মুহাম্মদ-৩৩)

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 দাঈ ও মুবাল্লিগের প্রয়োজনীয় গুণাবলী

📄 দাঈ ও মুবাল্লিগের প্রয়োজনীয় গুণাবলী


যারা দা'ওয়াত ও তাবলীগের মহৎ কাজ আঞ্জাম দিবেন তাদের বিশেষ কতগুলো গুণের অধিকারী হতে হবে। নিম্নে সংক্ষেপে এরূপ কিছু গুণাবলী উল্লেখ করা হলো।

১. আল্লাহভীরু হওয়া: الَّذِينَ يُبَلِّغُونَ رِسَٰلَٰتِ ٱللَّهِ وَيَخْشَوْنَهُۥ وَلَا يَخْشَوْنَ أَحَدًا إِلَّا ٱللَّهَ যারা আল্লাহর পয়গাম সমূহ পৌছে দেয় তারা তাকেই ভয় করে আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করেনা। (আহযাব-৩৯)

২. আলেমে দ্বীন তথা কুরআন সুন্নাহর যথার্থ জ্ঞানের অধিকারী হওয়া: وَمَا كَانَ ٱلْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُوا۟ كَآفَّةً ۚ فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا۟ فِى ٱلدِّينِ وَلِيُنذِرُوا۟ قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوٓا۟ إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ "তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হল না যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং পরে তারা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রত্যাবর্তন করে তাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে সতর্ক করে, যাতে করে তারা (সম্প্রদায়ের লোকেরা) ভয় করে, সতর্ক হয়।” (সূরাঃ আত-তওবা-১২২)

৩. ধৈর্যশীল হওয়া। আল্লাহ তা'আলা সূরা আসরে বলেছেন- إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ "তারা ক্ষতিগ্রস্ত নয়-যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যধারণে পরস্পরকে উদ্বুদ্ধ করে থাকে।"।

৪. নিজের জন্যে যা পছন্দ করে অপরের জন্যও তাই পছন্দ করা। সুবিচারক হওয়া তথা প্রতিটি ব্যাপারে ইনসাফ কায়েম করা। কারো প্রতি জুলুম বা অবিচার না করা। সদাচরণ করা। নরম ও মিষ্টি ভাষী হওয়া। আল্লাহ তাঁর নবীকে উদ্দেশ্য করে বলছেন- وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ - "হে নবী! তুমি যদি রুঢ় ও কঠোর স্বভাবের হতে তবে লোকেরা তোমার ধারের কাছেও আসতো না।” (সূরাঃ আল ইমরান-১৫৯)

৫. স্পষ্ট ভাষী হওয়া এবং স্পষ্টভাষী হওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করা। যেমন মূসা (আঃ) করেছিলেন - قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي - "হে রব। তুমি আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও, আমার কাজ সহজ করে দাও এবং আমার জিহবার জড়তা দূর করে দাও। (সূরাঃ তোহা ২৫-২৮)

৬. আমীরের আনুগত্য করা। দলবদ্ধভাবে তাবলীগ করার ক্ষেত্রে নির্বাচিত আমিরের কথা মেনে চলা। এছাড়াও আমলদার হওয়া, কৌশলী হওয়া, নম্র ভদ্র ও সহানুভূতিশীল হওয়া, বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার হওয়া, আত্মত্যাগী হওয়া, ক্ষমা করার নীতি অবলম্বন করা ইত্যাদি।

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 দাঈ ও মুবাল্লিগদের পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করার উপায়

📄 দাঈ ও মুবাল্লিগদের পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করার উপায়


১. মান ইজ্জতের নিরাপত্তা : একজন মুসলমানের যদি একতা নিশ্চিত রূপে বিশ্বাস হয় যে, তার ভাইয়ের বা সাথীর কাছে তার মান ইজ্জত নিরাপদ তবেই তার ভাইয়ের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

২. দুঃখ কষ্টে অংশ গ্রহণ : একজনের দুঃখ ব্যথা অপরের দুঃখ ব্যথায় পরিণত হওয়া। রাসূল (সাঃ) বলেছেন : তোমরা মুমিনদেরকে পারস্পরিক সহৃদয়তা, বন্ধুত্ব, ভালবাসা এবং পারস্পরিক দুঃখ কষ্টের অনুভূতিতে এমনি দেখতে পাবে, যেমন একটি দেহ, যদি তার একটি অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয় তবে তার সাথে গোটা দেহ, জ্বর ও রাত্রি জাগরণের মাধ্যমে তাতে অংশ গ্রহণ করে। (বুখারী ও মুসলিম)

৩. গঠন মূলক সমালোচনা : "তোমরা প্রত্যেকেই নিজ ভাইয়ের আয়না স্বরূপ। সুতরাং কেউ যদি তার ভাইয়ের মধ্যে কোন খারাপ দেখে তাহলে তা দূর করে দিবে।" (জামে আত-তিরমিযী)

৪. আবেগের বহিঃপ্রকাশ : মুচকি হাসি, কুশল বিনিময়, ইত্যাদির মাধ্যমে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।

৫. দেখা সাক্ষাত : বারবার মুলাকাত, সহচার্য গ্রহণ এবং কাছে এসে কথাবার্তা বলে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা যায়।

৬. সালামের আদান প্রদান করা : রাসূল (সাঃ) বলেন, আমি তোমাদেরকে এমন একটি কাজের কথা বলে দেব কি যখন তোমরা তা করবে, পরস্পরের ভালবাসা স্থাপিত হবে? (তা হল) তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের প্রসার কর। (মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

৭. মুসাফাহা করা : এর দ্বারা শত্রুতা দূরীভূত হয় এবং আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়। রুগ্ন ভাইকে দেখতে যাওয়া এবং পরিচর্যা করা : "যখন সে রোগাক্রান্ত হয় তার পরিচর্যা কর। (সহীহ মুসলিম)

৮. একত্রে বসে আহার করা : একে অপরকে নিজগৃহে খাবারের দাওয়াত দেয়া এটা আন্তরিকতা ও ভালবাসা বহিঃ প্রকাশের চমৎকার দৃষ্টান্ত। এছাড়াও - সামর্থ অনুযায়ী উপহার উপঢৌকন প্রদানের চেষ্টা করা, শোকর গোজারী হওয়া, ভাইয়ের সাথে মিলিত হলে তার ব্যক্তিগত অবস্থা জিজ্ঞেস করা, সুন্দর ভাবে কথার বা প্রশ্নের জবাব দেয়া, পরস্পরের জন্য দু'আ করা ইত্যাদি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00