📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 যারা দীনের দাওয়াতে সাড়া দেয় না তাদের পরিণতি

📄 যারা দীনের দাওয়াতে সাড়া দেয় না তাদের পরিণতি


وَمَنْ لَّا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَى بِمُعْجِزِ فِي الْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ أَوْلَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেয় না সে পৃথিবীতে আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যর্থ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না। এ ধরণের লোকেরাই প্রকাশ্য পথভ্রষ্ঠতায় লিপ্ত।” (সূরাঃ আহকাফ-৩২)

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِايَاتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ
"যে ব্যক্তিকে তাঁর পালনকর্তার আয়াত সমূহ দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে? আমি অবশ্যই অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে থাকি।” (সূরাঃ সাজদা-২২)

وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنُ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْফুরْ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَبِهِمْ سُرَادِقُهَا
"এবং বলো, হক্ক তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকেই আসে, অতএব তোমাদের যার ইচ্ছে তাতে বিশ্বাস করুক আর যার ইচ্ছে অস্বীকার করুক, আমি অত্যাচারীদের জন্য আগুন তৈরি করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের প্ররিবেষ্টীত করতে থাকবে।” (সূরাঃ বনী ইসরাঈল-২৯)

كَلَّا إِنَّهَا لَظَى ، نَزَاعَةً لِلشَّوَى تَدْعُوا مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى
কখনোই নয়, নিশ্চয় এটা লেলিহান শিখা যা চামড়া তুলে দিবে। সে তো সেই ব্যক্তিকে ডাকবে যে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল এবং (তা জানিয়ে দেওয়ার পরও) বিমূখ হয়েছিল। (সূরা মাআরিজ: ১৫-১৭)

إِلَّا بَلْغَا مِّنَ اللَّهِ وَرِسْلُتِهِ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَلِدِينَ فِيهَا
আল্লাহর বাণী পৌছানো ও তাঁর পয়গাম প্রচার করাই আমার কাজ। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। সেখানে সে চিরকাল থাকবে। (সূরা জিন - ২৩)

يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ
হে মুমিনগন! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমরা তাঁর অনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নিও না। তোমরা তাঁর কথা শুন আর ঐসব লোকের মত হয়ো না, যারা বলে আমরা আপনার কথা শুনেছি বস্তুত তারা কিছুই শুনেনি। (সূরা আল আনফাল ২০-২১)

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّনْ ذُكِّরَ بِأَيَاتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدُهُ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةٌ أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي أَذَانِهِمْ وَقُرًا وَإِنْ تَدْعُهُمْ إِلَى الْهَدَى فَلَنْ يَهْتَدُوا إِذًا أَبَدًا
তার চেয়ে অধিক জালিম কে, যাকে তার রবের বাণী দ্বারা বোঝানো হয়, অতপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্ম সমূহ ভুলে যায়? (তাইতো) আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন না বুঝে, এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন তবে কখনোই তারা সৎপথে আসবে না। (সূরা কাহাফ-৫৭)

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 দীনের দা'ওয়াত হক প্রত্যাশীদের হারানো ধন

📄 দীনের দা'ওয়াত হক প্রত্যাশীদের হারানো ধন


মানুষ ও জীনদের মাঝে অনেকে এমনও রয়েছে যাদের অন্তর সত্যের জন্য সদা উদগ্রীব। সত্যের সন্ধান তাদের কাছে এক অমূল্য হারানো ধন তুল্য। তাইতো দীন ইসলামের তাওহীদের বাণী যখন তাদের নিকট পৌছে যায় তখন তারা আর নিজেদেরকে মিথ্যার জালে আটকে রাখতে সক্ষম হয় না। বরং তারা মহা সত্যের পথযাত্রী হতে ব্যাকুল হয়ে উঠে। কুরআনুল কারীমে এদেরই অবস্থা ও অনুভূতি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে,

رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيْمَانِ أَنْ أُمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَأَمَنَّا

“(তারা বলে) হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক আহবানকারীর ডাক শুনেছি তিনি ঈমানের দাওয়াত দিচ্ছেন যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ওপর ঈমান আন। অতএব আমরা ঈমান এনেছি।" (সূরা আল-ইমরান-১৯৩)

وَإِذَا سَمِعُوا مَا أَنْزَلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُن مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عُرفُوا مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ -

"রাসুলের প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে, যখন তা শুনতে পায়, তখন তোমরা দেখতে পাও যে, সত্যকে (হককে) চিনতে পারার আবেগে তাদের চোখ অশ্রুসজল হয়ে যায়। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব আমাদেরকেও হক প্রকাশকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন।" (সূরা আল-মায়েদা-৮৩)

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 রাসূলূল্লাহ (সাঃ) যেভাবে তাবলীগ করেছেন

📄 রাসূলূল্লাহ (সাঃ) যেভাবে তাবলীগ করেছেন


রাসূলে করীম (সাঃ) তাঁর নবুওয়াতের প্রথম তেরটি বছর শুধু দ্বীনের তাবলীগ করেই কাটিয়ে ছিলেন এমনকি তাবলীগ ও তালীমকে তাঁর নবুওয়াতের প্রধান দায়িত্ব স্থির করে নিয়েছিলেন। দ্বীনের প্রচার কাজ করতে গিয়ে তাকে সম্মুখীন হতে হয়েছিল শত বাধা, জুলুম, নির্যাতন, ঠাট্টা, বিদ্রুপ আর বহুবিধ হুমকির। পাগল, কবি, জাদুকর এসব অপবাদও তাকে সইতে হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও দ্বীন প্রচারের মহান কাজ থেকে কেউ তাঁকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি অবলীলায় তাবলীগের কাজ আঞ্জাম দেয়ার ক্ষেত্রে কারো ভয়েই বিচলিত হননি। মক্কার জিন্দেগী পাড়ি দিয়ে যখন মদীনায় আসলেন তখনও জিহাদের পাশাপাশি তাবলীগের কাজ জারি রেখেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি তাবলীগের কাজ করতে ত্রুটি করেননি। রাসূলের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে তিনি বিভিন্ন ভাবে তাবলীগের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। যেমন-

☆ দীন প্রচারের প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে প্রতিকূল থাকায় নবী করীম (সাঃ) তিন বছর গোপনে দাওয়াতী কাজ আঞ্জাম দেন। এতে নিজ পরিবার আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের মধ্য হতে বাছাই করা কিছু লোকের নিকট দাওয়াত পেশ করেন। দাওয়াতের ফলে যারা ইসলাম কবুল করেন তাদেরকেও গোপনে দীন প্রচারের অনুমতি প্রদান করেন।
* প্রসঙ্গ ঘটনা- গোপনীয় দা'ওয়াতের প্রথম দিকে যারা ইসলাম কবুল করেন তারা "সাবেকীনে আওয়ালীন" নামে পরিচিত। এদের মধ্যে শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন- রাসূলুল্লাহর সহধর্মিনী উম্মুল মু'মিনীন খাদিজা (রা), তাঁর মুক্ত ক্রীতদাস যায়েদ বিন সাবিত, চাচাতো ভাই আলী বিন আবু তালেব, এবং আবু বকর সিদ্দিক (রা)। ইসলাম কবুলের পর আবু বকর সিদ্দিক (রা) ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন এবং তাঁর দা'ওয়াতে হযরত ওসমান (রা), যোবায়ের (রা), তালহা (রা), আবদুর রহমান বিন আওফ (রা), সাদ বিন আবী ওক্কাস (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন। এমনিভাবে, বেলাল (রা), আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ এবং অন্যান্যরাও একে একে ইসলাম কবুল করতে থাকেন। ইবনে হিসাম বলেন, এদের সংখ্যা ছিল চল্লিশের কিছু বেশি।

☆ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে দীন প্রচারের অনুমতি পাওয়ার পর নবী (সাঃ) প্রথম পদক্ষেপে নিজ আত্মীয়দের সমবেত করেন এবং তাদের প্রতি প্রকাশ্যে দাওয়াত পেশ করেন।
* প্রসঙ্গ ঘটনা- আত্মীয়দেরকে প্রকাশ্যে দাওয়াতের উক্ত মজলিসে সমবেত ছিল বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেব ইবনে আবদে মান্নাফের একটি দল। তারা সংখ্যায় ছিল পয়তাল্লিশ জন। সেখানে আবু লাহাবও ছিল। আবু লাহাবের বিরূপ মন্তব্যের কারণে নবী (সাঃ) সেখানে কিছুই বলেননি। পরবর্তীতে পুনরায় নবী (সা) তাদেরকে সমবেত করেন এবং তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। সেই মজলিসে নবী (সা) চাচা আবু তালেবের কাছ থেকে দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে সহায়তা লাভেরও আশ্বাস পান।

☆ প্রকাশ্য তাবলীগের দ্বিতীয় পদক্ষেপে নবী (সাঃ) একদিন (আরবের প্রচলিত প্রথানুসারে) সাফা পাহাড়ের ওপর উঠে "ইয়া সাবাহ, ইয়া সাবাহ" অর্থাৎ 'হায় সকাল, হায় সকাল' বলে আওয়াজ দিয়ে কুরাইশ গোত্রদের সমবেত করেন এবং তাদের নিকট তাওহীদ, রিসালাত ও কিয়ামতের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের দাওয়াত পেশ করেন।
* প্রসঙ্গ ঘটনা- সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-"হে নবী, তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন কর" পবিত্র কুরআনের এই আয়াত নাযিল হবার পর নবী করীম (সাঃ) সাফা পাহাড়ে আরোহন করে আওয়াজ দিলেন, হে বনি ফিহর, হে বনি আদী, এই আওয়াজ শোনার পর কুরাইশদের সকল নেতৃস্থানীয় লোক একত্রিত হলো। নবী (সাঃ) বললেন, তোমরা বলো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, পাহাড়ের ওদিকের প্রান্তরে একদল ঘোড় সওয়ার তোমাদের ওপর হামলা করার জন্য আত্মগোপন করে আছে, তোমরা কি সে কথা বিশ্বাস করবে? সবাই বললো, হ্যাঁ বিশ্বাস করবো, কারণ আমরা আপনাকে কখনো মিথ্যা বলতে শুনেনি। নবী (সাঃ) বললেন, তাহলে শুন, আমি তোমাদের এক ভয়াবহ আযাবের ব্যাপারে সাবধান করার জন্য প্রেরিত হয়েছি। আবু লাহাব বলল, তুমি ধ্বংস হও। একথা বলার জন্যই কি আমাদেরকে এখানে ডেকেছ? আবু লাহাবের একথার প্রেক্ষিতে আল্লাহ সূরা লাহাব নাযিল করে তাতে বলেন, আবু লাহাবের দু'হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।

☆ পরবর্তী পদক্ষেপে নবী করীম (সাঃ) প্রকাশ্যে যাবতীয় শিরকের বিরুদ্ধে জোড়ালো যুক্তি প্রমাণ সহকারে বক্তব্য প্রদান করেন। ফলে মক্কার অধিবাসীরা ক্রোধে দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং নবীর (সাঃ) বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে উঠে দাঁড়ায়।
* প্রসঙ্গ ঘটনা- ক) সহীহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে-"নিকটাত্মীয়দের আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করো" এই আয়াত নাযিলের পর নবী (সাঃ) আওয়াজ দিলেন। বিশেষভাবে তিনি (সাঃ) বললেন, হে কুরায়েশ দল, তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনি কা'ব, নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে মোহাম্মদের মেয়ে ফাতেমা, নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। খ) উক্ত বক্তব্যে নবী (সাঃ) পৌত্তলিকতার নোংরামি, মূর্তিগুলো যে শক্তিহীন, নিরর্থক তা উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে থাকেন।

☆ প্রকাশ্যে তাবলীগ করার কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর হজ্জের মৌসুম সমাগত হলে রাসূলের কাছে দীন প্রচারের এক সুবর্ণ সুযোগ এসে যায়। হাজ্জ মৌসুমের সুযোগে রাসূল (সাঃ) দীনের দা'ওয়াত পৌছিয়ে দেন। ফলে আরব জাহানের বিভিন্ন গোত্রপ্রধান, প্রতিনিধি, ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট ইসলামের দা'ওয়াত ছড়িয়ে পড়ে।

☆ কোথাও কোন সফরে রওয়ানা হলে, যাওয়ার পথে এবং প্রত্যাবর্তনকালেও পথে পথে যেসব লোকের সাক্ষাত মিলতো তাদের নিকট দীনের দাওয়াত প্রদান করেছেন। (যেমন তায়েফ সফরকালে)।

☆ পরিস্থিতি নাজুকতার কারণে রাতের অন্ধকারে দাওয়াতী কাজ পরিচালনা করেছেন। (যেমন আবু বকর ও ওমর (রা) কে সাথে নিয়ে বনু যুহাল ও বনু শাইবান গোত্রের কাছে দা’ওয়াত পেশ)।

☆ বিভিন্ন গোত্র, প্রতিনিধিদল ও ব্যক্তির নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ। (যেমন খাজরায গোত্রের ৬ জন যুবক, তোফায়েল বিন আমর দাওসী প্রমুখের নিকট দা’ওয়াত)।

☆ স্থানীয় গোত্রপতি যারা ইসলাম কবুল করতেন তাদের দিয়ে নিজ গোত্র ও তার আশেপাশের লোকদের নিকট দীন প্রচার। (যেমন আবু যর গিফারী ও আবু ইমাম বাহেলী (রা) এর মাধ্যমে দা’ওয়াত)।

☆ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভের পর প্রশাসনিক পদে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাবলীগ। (যেমন মুআয বিন জাবাল ও আবু মূসা আল আশআরী (রা) কে ইয়ামেনে প্রেরণকালে নির্দেশ প্রদান)।

☆ দাওয়াতী পত্র দিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের নিকট দূত প্রেরণ। যেমন- হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশী, মিশরের বাদশাহ মুকাওকিস, পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ, রোমক সম্রাট কায়সার, ইয়ামামার শাসনকর্তা, দামেশকের শাসনকর্তা এবং আম্মানের বাদশাহের নিকট পত্র প্রেরণ।

☆ ভিন্ন দেশে ও অঞ্চলে সাহাবাদের তাবলীগী দল প্রেরণ। যেমন- আবিসিনিয়ায় জাফরের নেতৃত্বে দল প্রেরণ, মদীনায় মুসআব বিন উমারের নেতৃত্বে দল প্রেরণ এবং নজদবাসীদের নিকট ৭০ জন সাহাবীর দল প্রেরণ।

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 রাসূলূল্লাহ (সাঃ) তাবলীগ থেকে শিক্ষা, প্রকৃত তাবলীগ জামা'আত চেনার উপায়

📄 রাসূলূল্লাহ (সাঃ) তাবলীগ থেকে শিক্ষা, প্রকৃত তাবলীগ জামা'আত চেনার উপায়


রাসূলুল্লাহ (সা) এর দা'ওয়াত ও তাবলীগী কার্যক্রম থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায় তার প্রধান কতক নিম্নরূপ:

১. দীনের দা'ওয়াত সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার জন্য নির্ভয়ে কাজ করে যেতে হবে এবং এজন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।
২. প্রত্যেক যুগের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার জাহেলী প্রথার সাথে আপোষহীন নীতি অবলম্বন করতে হবে।
৩. সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার যাবতীয় শিরকী কর্মকাণ্ড সমূহ চিহ্নিত করে জন সম্মুখে স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরতে হবে। শিরকের ক্ষতিকারক দিক সমূহ উপস্থাপন করে তা পরিহার করার জন্য সমাজের লোকদের আহ্বান জানাতে হবে।
৪. কোন ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তাধারা বা কারোর স্বপ্নে প্রাপ্ত নীতি (হোক সে ব্যক্তি কোন ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে খ্যাত বা বুযুর্গানে দীন) বা কারোর মনগড়া পদ্ধতির ভিত্তিতে তাবলীগ করা চলবে না। বরং দাওয়াত ও তাবলীগী কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে অহী ব্যবস্থাপনার আলোকে। অর্থাৎ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে।
৫. দা'ওয়াত ও তাবলীগী সংগঠন পরিচালনাকারী তথা প্রতিটি দাঈ-মুবাল্লিগ ও দায়িত্বশীলকে অবশ্যই তাগুত মুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে তাগুত রাষ্ট্র প্রধানের আনুগত্য পরিহার করতে হবে, তারা বিজাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের জড়াবে না। আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রশাসনিক তাগুতী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

রাসূলুল্লাহর তাবলীগী কার্যক্রম থেকে উপরোল্লেখিত যে শিক্ষাগুলো পাওয়া গেল তা মূলত একটি প্রকৃত তাবলীগ জামা'আতের বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে তাবলীগী জামা'আতের নামে বহু দল গঠিত হয়েছে। কিন্তু সে সবের মাঝে কোনটি প্রকৃত ও সঠিক জামা'আত তা চিনতে হলে আমাদের দেখতে হবে তাদের মাঝে কাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর তাবলীগী কার্যক্রমের মিল রয়েছে।

﴿ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ﴾
"রাসুলের জীবনেই তোমাদের উত্তম আদর্শ বিদ্যমান।” (সূরা আহযাব-২১)

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوٓا۟ أَعْمَٰلَكُمْ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর আর আনুগত্য কর রাসূলের। আর (আল্লাহর ও রাসূলের দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ না করে) তোমাদের আমলগুলোকে বরবাদ করে দিও না।” (সূরা মুহাম্মদ-৩৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00