📄 আল্লাহর পথ ব্যতীত অন্য পথে ডাকার পরিণতি
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُوا حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ
নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু অতএব তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ কর। কেননা সে তার দলবলকে (ভ্রান্ত পথে) আহবান করে, যেন তারা জাহান্নামী হয়ে যায়। (সূরা আল ফাতির-৬)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- مَنْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةَ فَهُوَ مِنْ جُتَى جَهَنَّمَ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ “যে ব্যক্তি মানুষকে (আল্লাহর পথ ব্যতীত) জাহেলিয়্যাতের দিকে (তথা মানুষের তৈরি করা পথের দিকে) আহ্বান জানায় সে জাহান্নামী। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)- যদি সে নামায পড়ে এবং রোযা রাখে তবুও? রাসূল (সাঃ) উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, যদি সে নামায পড়ে, রোযা রাখে এমনকি নিজকে সে একজন মুসলমান মনে করে তবুও সে জাহান্নামী।” (মুসনাদে আহমদ)
وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ لِاثْمِ مِثْلُ أَثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا
যে ব্যক্তি বিপথের দিকে ডাকে সে তার অনুসারীদের পাপের সমপরিমাণ পাপের ভাগী হবে, তবে তাদের পাপ থেকে মোটেও কমানো হবে না। (আবু দাউদ, তিরমিযী, দারেমী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, সিলসিলা সহীহা, আহমদ, ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন)
📄 যে ভ্রান্ত পথের আহ্বানে সাড়া দেয় তার পরিণতি
وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُإِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِى فَلَا تَلُومُونِي وَلُوْমُوا أَنْفُসَكُمْ مَا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنْتُمْ بِمُصْرِخِيَّ
'যখন সব কাজের ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে : নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং আমি তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছি, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর তো আমার কোন ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু এতটুকু যে, আমি তোমাদেরকে (ভ্রান্ত পথে) আহবান করেছি। অতঃপর তোমরা আমার কথা মেনে নিয়েছ। এতএব তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না এবং নিজেদেরকেই ভৎর্সনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্যকারী নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্যকারী নও।' (সূরা ইবরাহীম-২২)
📄 যারা দীনের দা'ওয়াতে সাড়া দেয় তাদের পুরস্কার
يُقَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَأَمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مّিনْ ذُنُوْبِكُمْ وَيُجِرُكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
“(জিনেরা বলল) হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর প্রতি সাড়া দাও এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। আল্লাহ তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হতে তোমাদেরকে রক্ষা করবেন।” (সূরাঃ আহক্বাফ-৩১)
إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
"মুমিনদের বক্তব্য কেবল এ কথাই যে যখন তাদের মধ্যে ফায়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং আদেশ মেনে নিলাম। আর তারাইতো সফল কাম।" (সূরাঃ আন-নূর-৫১)
📄 যারা দীনের দাওয়াতে সাড়া দেয় না তাদের পরিণতি
وَمَنْ لَّا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَى بِمُعْجِزِ فِي الْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ أَوْلَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেয় না সে পৃথিবীতে আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যর্থ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না। এ ধরণের লোকেরাই প্রকাশ্য পথভ্রষ্ঠতায় লিপ্ত।” (সূরাঃ আহকাফ-৩২)
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِايَاتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ
"যে ব্যক্তিকে তাঁর পালনকর্তার আয়াত সমূহ দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে? আমি অবশ্যই অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে থাকি।” (সূরাঃ সাজদা-২২)
وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنُ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْফুরْ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَبِهِمْ سُرَادِقُهَا
"এবং বলো, হক্ক তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকেই আসে, অতএব তোমাদের যার ইচ্ছে তাতে বিশ্বাস করুক আর যার ইচ্ছে অস্বীকার করুক, আমি অত্যাচারীদের জন্য আগুন তৈরি করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের প্ররিবেষ্টীত করতে থাকবে।” (সূরাঃ বনী ইসরাঈল-২৯)
كَلَّا إِنَّهَا لَظَى ، نَزَاعَةً لِلشَّوَى تَدْعُوا مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى
কখনোই নয়, নিশ্চয় এটা লেলিহান শিখা যা চামড়া তুলে দিবে। সে তো সেই ব্যক্তিকে ডাকবে যে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল এবং (তা জানিয়ে দেওয়ার পরও) বিমূখ হয়েছিল। (সূরা মাআরিজ: ১৫-১৭)
إِلَّا بَلْغَا مِّنَ اللَّهِ وَرِسْلُتِهِ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَلِدِينَ فِيهَا
আল্লাহর বাণী পৌছানো ও তাঁর পয়গাম প্রচার করাই আমার কাজ। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। সেখানে সে চিরকাল থাকবে। (সূরা জিন - ২৩)
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ
হে মুমিনগন! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমরা তাঁর অনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নিও না। তোমরা তাঁর কথা শুন আর ঐসব লোকের মত হয়ো না, যারা বলে আমরা আপনার কথা শুনেছি বস্তুত তারা কিছুই শুনেনি। (সূরা আল আনফাল ২০-২১)
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّনْ ذُكِّরَ بِأَيَاتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدُهُ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةٌ أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي أَذَانِهِمْ وَقُرًا وَإِنْ تَدْعُهُمْ إِلَى الْهَدَى فَلَنْ يَهْتَدُوا إِذًا أَبَدًا
তার চেয়ে অধিক জালিম কে, যাকে তার রবের বাণী দ্বারা বোঝানো হয়, অতপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্ম সমূহ ভুলে যায়? (তাইতো) আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন না বুঝে, এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন তবে কখনোই তারা সৎপথে আসবে না। (সূরা কাহাফ-৫৭)