📄 আল্লাহর পথে আহ্বানের ফযীলত
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
* কথার দিক দিয়ে ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কে, যে আল্লাহ দীনের দিকে মানুষকে আহ্বান করে, নেক আমল করে এবং বলে যে, আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরাঃ হা-মিম আস-সাজদা-৩৩)
قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَغَدُوهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْرَوْحَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
* রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন- "আল্লাহর পথে একটি সকাল বা সন্ধ্যা (ব্যয় করা) দুনিয়া এবং দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম"। (সহী বুখারী ও মুসলিম- অধ্যায়ঃ জিহাদ)
قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا
* আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি হিদায়েতের পথে ডাকবে সে তার অনুসারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে তবে অনুসারীর সওয়াব থেকে মোটেও কমানো হবে না। (সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমীযী, ইমাম তিরমীযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন, দারেমী, ইবনে মাজাহ, আহমদ, সিলসিলাহ সহিহা)
وَاللَّهِ لِأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حمرِ الغَنَمِ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন-আল্লাহর শপথ! যদি তোমার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা একজন লোককে হিদায়াত দান করেন তবে তোমার জন্য সেটা একটি (উন্নতমানের) লাল উট কুরবাণী করার চেয়েও উত্তম। (সহীহ বুখারী, মুসলিম, সহীহ আবী দাউদ- আলবানী)
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : نَضَّرَ اللهُ إِمْرًا سَمِعَ مِنَّا شَيْئًا فَبَلَغَهُ كَمَا سَمِعَهُ فَرُبَّ مُبَلِّغ أَوْ عُلى لَهُ مِنْ سَامِع
* আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তালা সেই ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন হাদীস শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে, সেভাবেই তা অপরের নিকট পৌঁছিয়েছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয়, সে ব্যক্তি শ্রোতা অপেক্ষা অধিক রক্ষণাবেক্ষণকারী বা জ্ঞানী হয়ে থাকে। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমদ, আবু দাউদ, ইমাম তিরমীযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন)
📄 তাবলীগ না করার পরিণতি
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّعِنُونَ
"আমি যে সুষ্পষ্ট বিধান নাযিল করেছি, জনগণের জন্য হিদায়েতের যে বাণী প্রেরণ করেছি এবং আমি যার ব্যাখ্যাও কিতাবের মধ্যে করে দিয়েছি, তারপর যারা তা গোপন করে রাখবে (প্রচার করবে না) তাদের উপর আল্লাহ এবং সকল অভিশাপ বর্ষণকারীর অভিশাপ রয়েছে। (সূরাঃ আল বাকারা-১৫৯)
مَنْ سَئِلَ عَنْ عِلْمٍ ثُمَّ كَتَمَهُ أَلْجِمَ يَوْمَ الْقِيمَةِ بِلِجَامٍ مِنَ النَّارِ
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন- “দ্বীন সম্পর্কিত কোন বিষয়ে কাউকে যদি কিছু জিজ্ঞাসা করা হয় এবং সে তা (জানা সত্ত্বেও) গোপন করে, কিয়ামতের দিন তাকে জাহান্নামের আগুনের লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে।” (মুসনাদে আহমাদ, হাকিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আলবানী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন)
📄 আল্লাহর পথ ব্যতীত অন্য পথে ডাকার পরিণতি
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُوا حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ
নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু অতএব তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ কর। কেননা সে তার দলবলকে (ভ্রান্ত পথে) আহবান করে, যেন তারা জাহান্নামী হয়ে যায়। (সূরা আল ফাতির-৬)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- مَنْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةَ فَهُوَ مِنْ جُتَى جَهَنَّمَ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ “যে ব্যক্তি মানুষকে (আল্লাহর পথ ব্যতীত) জাহেলিয়্যাতের দিকে (তথা মানুষের তৈরি করা পথের দিকে) আহ্বান জানায় সে জাহান্নামী। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)- যদি সে নামায পড়ে এবং রোযা রাখে তবুও? রাসূল (সাঃ) উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, যদি সে নামায পড়ে, রোযা রাখে এমনকি নিজকে সে একজন মুসলমান মনে করে তবুও সে জাহান্নামী।” (মুসনাদে আহমদ)
وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ لِاثْمِ مِثْلُ أَثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا
যে ব্যক্তি বিপথের দিকে ডাকে সে তার অনুসারীদের পাপের সমপরিমাণ পাপের ভাগী হবে, তবে তাদের পাপ থেকে মোটেও কমানো হবে না। (আবু দাউদ, তিরমিযী, দারেমী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, সিলসিলা সহীহা, আহমদ, ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন)
📄 যে ভ্রান্ত পথের আহ্বানে সাড়া দেয় তার পরিণতি
وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُإِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِى فَلَا تَلُومُونِي وَلُوْমُوا أَنْفُসَكُمْ مَا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنْتُمْ بِمُصْرِخِيَّ
'যখন সব কাজের ফয়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে : নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং আমি তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছি, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর তো আমার কোন ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু এতটুকু যে, আমি তোমাদেরকে (ভ্রান্ত পথে) আহবান করেছি। অতঃপর তোমরা আমার কথা মেনে নিয়েছ। এতএব তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না এবং নিজেদেরকেই ভৎর্সনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্যকারী নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্যকারী নও।' (সূরা ইবরাহীম-২২)