📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 দা'ওয়াতের পরে দাঈর লক্ষণীয় বিষয়

📄 দা'ওয়াতের পরে দাঈর লক্ষণীয় বিষয়


যাকে দা'ওয়াত দেয়া হয়েছে তার পরবর্তী অবস্থার প্রতি নজর না রেখে বা খোঁজ না নিয়ে শুধু দাওয়াত দিয়ে চলে আসা একজন সচেতন দাঈর কাজ নয়। তাই একজন দাঈর কাজ হবে, সে যে অমুসলিমকে দা’ওয়াত দিয়েছে সে ইসলামের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছে কিনা তার খোঁজ নেয়া। যদি দূর্বল হয়ে থাকে তাহলে তাকে আবারও ভাল করে দাওয়াত দিতে হবে এবং পুরোপুরিভাবে যেন ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়ে সে পন্থা অবলম্বন করতে হবে। আর যদি ইসলাম কবুল করে তাহলে তার আমল গঠনের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি কোন মুসলমান ভাইকে আমল সংশোধনের জন্য দীনী বিধান অবহিত করা হলে পরবর্তীতে সে সংশোধন হয়েছে কিনা তার খোঁজ নিতে হবে। তবেই দা'ওয়াত ও তাবলীগ সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে।

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 আল্লাহর পথে আহ্বানের ফযীলত

📄 আল্লাহর পথে আহ্বানের ফযীলত


وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
* কথার দিক দিয়ে ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কে, যে আল্লাহ দীনের দিকে মানুষকে আহ্বান করে, নেক আমল করে এবং বলে যে, আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরাঃ হা-মিম আস-সাজদা-৩৩)

قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَغَدُوهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْرَوْحَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
* রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন- "আল্লাহর পথে একটি সকাল বা সন্ধ্যা (ব্যয় করা) দুনিয়া এবং দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম"। (সহী বুখারী ও মুসলিম- অধ্যায়ঃ জিহাদ)

قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا
* আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি হিদায়েতের পথে ডাকবে সে তার অনুসারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে তবে অনুসারীর সওয়াব থেকে মোটেও কমানো হবে না। (সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমীযী, ইমাম তিরমীযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন, দারেমী, ইবনে মাজাহ, আহমদ, সিলসিলাহ সহিহা)

وَاللَّهِ لِأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حمرِ الغَنَمِ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন-আল্লাহর শপথ! যদি তোমার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা একজন লোককে হিদায়াত দান করেন তবে তোমার জন্য সেটা একটি (উন্নতমানের) লাল উট কুরবাণী করার চেয়েও উত্তম। (সহীহ বুখারী, মুসলিম, সহীহ আবী দাউদ- আলবানী)

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : نَضَّرَ اللهُ إِمْرًا سَمِعَ مِنَّا شَيْئًا فَبَلَغَهُ كَمَا سَمِعَهُ فَرُبَّ مُبَلِّغ أَوْ عُلى لَهُ مِنْ سَامِع
* আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তালা সেই ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন হাদীস শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে, সেভাবেই তা অপরের নিকট পৌঁছিয়েছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয়, সে ব্যক্তি শ্রোতা অপেক্ষা অধিক রক্ষণাবেক্ষণকারী বা জ্ঞানী হয়ে থাকে। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমদ, আবু দাউদ, ইমাম তিরমীযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন)

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 তাবলীগ না করার পরিণতি

📄 তাবলীগ না করার পরিণতি


إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّعِنُونَ
"আমি যে সুষ্পষ্ট বিধান নাযিল করেছি, জনগণের জন্য হিদায়েতের যে বাণী প্রেরণ করেছি এবং আমি যার ব্যাখ্যাও কিতাবের মধ্যে করে দিয়েছি, তারপর যারা তা গোপন করে রাখবে (প্রচার করবে না) তাদের উপর আল্লাহ এবং সকল অভিশাপ বর্ষণকারীর অভিশাপ রয়েছে। (সূরাঃ আল বাকারা-১৫৯)

مَنْ سَئِلَ عَنْ عِلْمٍ ثُمَّ كَتَمَهُ أَلْجِمَ يَوْمَ الْقِيمَةِ بِلِجَامٍ مِنَ النَّارِ
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন- “দ্বীন সম্পর্কিত কোন বিষয়ে কাউকে যদি কিছু জিজ্ঞাসা করা হয় এবং সে তা (জানা সত্ত্বেও) গোপন করে, কিয়ামতের দিন তাকে জাহান্নামের আগুনের লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে।” (মুসনাদে আহমাদ, হাকিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আলবানী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন)

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 আল্লাহর পথ ব্যতীত অন্য পথে ডাকার পরিণতি

📄 আল্লাহর পথ ব্যতীত অন্য পথে ডাকার পরিণতি


إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُوا حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ
নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু অতএব তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ কর। কেননা সে তার দলবলকে (ভ্রান্ত পথে) আহবান করে, যেন তারা জাহান্নামী হয়ে যায়। (সূরা আল ফাতির-৬)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- مَنْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةَ فَهُوَ مِنْ جُتَى جَهَنَّمَ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ “যে ব্যক্তি মানুষকে (আল্লাহর পথ ব্যতীত) জাহেলিয়্যাতের দিকে (তথা মানুষের তৈরি করা পথের দিকে) আহ্বান জানায় সে জাহান্নামী। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)- যদি সে নামায পড়ে এবং রোযা রাখে তবুও? রাসূল (সাঃ) উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, যদি সে নামায পড়ে, রোযা রাখে এমনকি নিজকে সে একজন মুসলমান মনে করে তবুও সে জাহান্নামী।” (মুসনাদে আহমদ)

وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ لِاثْمِ مِثْلُ أَثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا
যে ব্যক্তি বিপথের দিকে ডাকে সে তার অনুসারীদের পাপের সমপরিমাণ পাপের ভাগী হবে, তবে তাদের পাপ থেকে মোটেও কমানো হবে না। (আবু দাউদ, তিরমিযী, দারেমী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, সিলসিলা সহীহা, আহমদ, ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00