📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 দা'ওয়াতের সময় দাঈর লক্ষণীয় বিষয়

📄 দা'ওয়াতের সময় দাঈর লক্ষণীয় বিষয়


১. অত্যন্ত নম্র ও বিনয়ের সাথে কথা বলা। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "নিশ্চয় আল্লাহ দয়াশীল, প্রতিটি বিষয়ে নম্র ব্যবহার তিনি পছন্দ করেন, নম্রতা অবলম্বনের ফলে তিনি যা দান করেন কঠোরতার কারণে তা দেন না।” (সহীহ মুসলিম)

২. যে জাতি বা সমাজের প্রতি আহ্বান করা হবে তাদের ভাষাতেই তা করতে হবে। এমনটি যেন না হয় যে, শ্রোতা বাংলাভাষী অথচ দাওয়াত দেয়া হচ্ছে আরবী বা ইংরেজী ভাষায়। আল্লাহ বলেন- وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ "আমি যখনই কোন রাসূল প্রেরণ করেছি- সে নিজ জাতির জনগণের ভাষায়ই পয়গাম পৌঁছিয়েছে যেন সে তাদের পরিষ্কার ভাবে বুঝাতে পারে।" (সূরাঃ ইব্রাহিম-৪)

৩. কোন গোঁজামিল না রেখে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা এবং প্রয়োজন বোধে উদাহরনের মাধ্যমে তথা বিভিন্ন কায়দায় বুঝানোর চেষ্টা করা।

৪. বক্তব্য সংক্ষেপ করা এবং শ্রোতা বিরক্ত হচ্ছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখা। রাসূল (সাঃ) বলেন "নামায দীর্ঘ কর এবং বক্তৃতা সংক্ষেপ কর” (সহীহ মুসলিম)।

৫. তাবেঈ শাকীক বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) প্রতি বৃহস্পতিবার লোকদের ওয়াজ নসীহত করতেন। এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আবু আব্দুর রহমান! আমার আকাঙ্খা ছিল, আপনি যদি প্রতি দিন আমাদের জন্য ওয়াজ নসীহত করতেন। তিনি উত্তরে বললেন, এরূপ করা থেকে আমাকে এ কথাই বাধা দেয় যে, আমি তোমাদের মাঝে বিরক্তি সৃষ্টি করা পছন্দ করিনা, তাই আমি বিরতি দিয়েই তোমাদের সামনে ওয়াজ করে থাকি। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের বিরক্তির ভয়ে মাঝে মধ্যে আমাদের ওয়াজ-নসীহত করতেন। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

৬. ইকরীমা বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাস (রা) আমাকে বললেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন লোকদের জন্য ওয়াজ নসীহত কর। এতে যদি রাজী না হও তাহলে (সপ্তাহে) দুই দিন, এতেও যদি সন্তুষ্ট না হও তাহলে (সপ্তাহে) তিনদিন। মোট কথা কুরআনকে মানুষের কাছে বিরক্তিকর করে তুল না। (সহীহ বুখারী)

৭. সহজ সরল ভাষায় কথা বলা। মূর্খ বা অল্প শিক্ষিত লোকের কাছে যেমন উচ্চাংগের কথা বলা বা কঠিন শব্দ ব্যবহার করা বোকামী তেমনি উচ্চ শিক্ষিতের সামনে সাদামাটা বা যেন দাওয়াতদাতার ভেতর ইলমই নেই এমনভাবে কথা বলাটাও বোকামী।

৮. আবেগ ও উদ্দীপনার সাথে হাসি মুখে আহ্বান করা। শ্রোতা অপমান বোধ বা খারাপ ধারণা পোষন করবে এমন কথা না বলা।

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 দা'ওয়াতের পরে দাঈর লক্ষণীয় বিষয়

📄 দা'ওয়াতের পরে দাঈর লক্ষণীয় বিষয়


যাকে দা'ওয়াত দেয়া হয়েছে তার পরবর্তী অবস্থার প্রতি নজর না রেখে বা খোঁজ না নিয়ে শুধু দাওয়াত দিয়ে চলে আসা একজন সচেতন দাঈর কাজ নয়। তাই একজন দাঈর কাজ হবে, সে যে অমুসলিমকে দা’ওয়াত দিয়েছে সে ইসলামের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছে কিনা তার খোঁজ নেয়া। যদি দূর্বল হয়ে থাকে তাহলে তাকে আবারও ভাল করে দাওয়াত দিতে হবে এবং পুরোপুরিভাবে যেন ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়ে সে পন্থা অবলম্বন করতে হবে। আর যদি ইসলাম কবুল করে তাহলে তার আমল গঠনের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি কোন মুসলমান ভাইকে আমল সংশোধনের জন্য দীনী বিধান অবহিত করা হলে পরবর্তীতে সে সংশোধন হয়েছে কিনা তার খোঁজ নিতে হবে। তবেই দা'ওয়াত ও তাবলীগ সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে।

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 আল্লাহর পথে আহ্বানের ফযীলত

📄 আল্লাহর পথে আহ্বানের ফযীলত


وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
* কথার দিক দিয়ে ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কে, যে আল্লাহ দীনের দিকে মানুষকে আহ্বান করে, নেক আমল করে এবং বলে যে, আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরাঃ হা-মিম আস-সাজদা-৩৩)

قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَغَدُوهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْرَوْحَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
* রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন- "আল্লাহর পথে একটি সকাল বা সন্ধ্যা (ব্যয় করা) দুনিয়া এবং দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম"। (সহী বুখারী ও মুসলিম- অধ্যায়ঃ জিহাদ)

قالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا
* আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি হিদায়েতের পথে ডাকবে সে তার অনুসারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে তবে অনুসারীর সওয়াব থেকে মোটেও কমানো হবে না। (সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমীযী, ইমাম তিরমীযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন, দারেমী, ইবনে মাজাহ, আহমদ, সিলসিলাহ সহিহা)

وَاللَّهِ لِأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حمرِ الغَنَمِ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন-আল্লাহর শপথ! যদি তোমার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা একজন লোককে হিদায়াত দান করেন তবে তোমার জন্য সেটা একটি (উন্নতমানের) লাল উট কুরবাণী করার চেয়েও উত্তম। (সহীহ বুখারী, মুসলিম, সহীহ আবী দাউদ- আলবানী)

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : نَضَّرَ اللهُ إِمْرًا سَمِعَ مِنَّا شَيْئًا فَبَلَغَهُ كَمَا سَمِعَهُ فَرُبَّ مُبَلِّغ أَوْ عُلى لَهُ مِنْ سَامِع
* আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তালা সেই ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন হাদীস শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে, সেভাবেই তা অপরের নিকট পৌঁছিয়েছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয়, সে ব্যক্তি শ্রোতা অপেক্ষা অধিক রক্ষণাবেক্ষণকারী বা জ্ঞানী হয়ে থাকে। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমদ, আবু দাউদ, ইমাম তিরমীযী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন)

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 তাবলীগ না করার পরিণতি

📄 তাবলীগ না করার পরিণতি


إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّعِنُونَ
"আমি যে সুষ্পষ্ট বিধান নাযিল করেছি, জনগণের জন্য হিদায়েতের যে বাণী প্রেরণ করেছি এবং আমি যার ব্যাখ্যাও কিতাবের মধ্যে করে দিয়েছি, তারপর যারা তা গোপন করে রাখবে (প্রচার করবে না) তাদের উপর আল্লাহ এবং সকল অভিশাপ বর্ষণকারীর অভিশাপ রয়েছে। (সূরাঃ আল বাকারা-১৫৯)

مَنْ سَئِلَ عَنْ عِلْمٍ ثُمَّ كَتَمَهُ أَلْجِمَ يَوْمَ الْقِيمَةِ بِلِجَامٍ مِنَ النَّارِ
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন- “দ্বীন সম্পর্কিত কোন বিষয়ে কাউকে যদি কিছু জিজ্ঞাসা করা হয় এবং সে তা (জানা সত্ত্বেও) গোপন করে, কিয়ামতের দিন তাকে জাহান্নামের আগুনের লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে।” (মুসনাদে আহমাদ, হাকিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আলবানী এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00