📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 দা'ওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্য

📄 দা'ওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্য


১) খলিফা হিসেবে নিজ দায়িত্ব পালন করা।
আল্লাহ পাকের খলিফা হিসেবে প্রতিটি মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য এই যে, তারা নিজেরা যেমন আল্লাহর দাসত্ব করবে তেমনি অন্যান্য দেরকেও আল্লাহর হুকুম মেনে চলার জন্য আল্লাহর রাহের দাওয়াত পৌছাবে। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: 'তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সর্ম্পকে জিজ্ঞাসিত হবে।'
অতএব বলা যায়, দাওয়াত ও তাবলীগ করার মাধ্যমে একজন দায়ী বা মুবাল্লিগ কেবল নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যই পালন করছেন। তিনি এর দ্বারা কারোর প্রতি দয়া করছেন না। খোদ তাবলীগের প্রতিও নয় এবং যারা দাওয়াতের মাধ্যমে হেদায়াত প্রাপ্ত হচ্ছেন তাদের প্রতিও নয়।

২) মানুষকে গোমরাহীর অন্ধকার থেকে হেদায়েতের আলোকে নিয়ে আসা।
الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسِ مِنَ الظُّلُمَاتِ إلَى النُّوْরِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ
“আলিফ-লাম-রা; (হে নবী!) এটি একটি কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি- যাতে আপনি লোকদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে নিয়ে আসেন-পরাক্রান্ত প্রশংসার যোগ্য পালন কর্তার নির্দেশে তারই পথের দিকে”। (সূরাঃ ইব্রাহিম-১)

اللهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوْরِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاءَ هُمُ الطَّاغُوْতَ
“আল্লাহ হচ্ছেন তাদের বন্ধু যারা ঈমান এনেছে। তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান। অপরদিকে যারা কুফরী করে, তাদের বন্ধু হল শয়তান। সে তাদেরকে আলোক থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়।” (সূরাঃ আল বাকারা-২৫৭)

৩) আকীদা ও আমলসমূহ বিশুদ্ধ করা।
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيْعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُব্টিলُوا أَعْمَالَكُمْ
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রাসূলের। আর এরূপ না করে তোমাদের আমলগুলো বরবাদ করো না।" (সূরাঃ মুহাম্মদ-৩৩)
ব্যক্তির আমল কবুল হওয়ার জন্য যেমন আক্বিদা বিশ্বাসের পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য তেমনি অপরিহার্য আমল সমূহ রাসূলের সুন্নতে মোতাবেক সম্পন্ন হওয়া। তাই দাওয়াত ও তাবলীগের একটি বৃহৎ উদ্দেশ্য এই যে, এর মাধ্যমে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে মানুষের আকীদা ও আমল সমূহ পরিশুদ্ধ করা হবে।

৪) সকল প্রকার তাগুতকে বর্জন করে চলা।
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا الله وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
"আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট এজন্যই রাসূল প্রেরণ করেছি যাতে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা হয় এবং যাবতীয় তাগুতকে অস্বীকার করা হয়।" (সূরা আন-নাহাল-৩৬)

৫) হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করা।
وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهَدَأَى وَالْفُرْقَانِ
"এই কুরআন সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্যকারী।” (সূরাঃ আল বাকারা-১৮৫)

৬) জাহান্নামের পথ থেকে জান্নাতের পথে নিয়ে আসা।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقَوْدَهَا النَّاسَ وَالْحِجَارَةُ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং নিজ পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুণ হতে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর"। (সূরা: তাওবা-৬)

৭) মানুষের অন্তরে আল্লাহ ও কিয়ামত সম্পর্কে ভয় সৃষ্টি করা।
يَاتِهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْ يَوْمًا لَا يَجْজি وَالِدٌ عَنْ وَلَدِهِ وَلَا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَالِدِهِ شَيْئًا إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقُّ فَلَا تَغْرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ ডুনিয়া وَলা يَغُرَّنَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ
"হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো এবং ভয় কর এমনি এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত করতে না পারে।' (সূরাঃ লুকমান-৩৩)

৮) ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা।
জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম পূর্ণরূপে নির্ভয়ে মেনে চলার জন্য প্রয়োজন কুরআন শাসিত সমাজ ব্যবস্থা। এরূপ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং ইসলামের দুশমনদের ষড়যন্ত্রের কবল থেকে দীন ও ঈমান রক্ষার জন্য জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা দা'ওয়াত ও তাবলীগের বৃহৎ উদ্দেশ্য। মুবাল্লিগগণ তাবলীগের মাধ্যমে প্রতিটি মুসলমানের কাছে খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদের গুরুত্ব তুলে ধরবেন এবং প্রয়োজন মূহূর্তে সকল মুমিনকে জিহাদের অংশ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাবেন। আল্লাহ বলেন- ﴿ يَأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرْضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ ﴾ "হে নবী! তুমি মুমিনদেরকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ কর”। (সূরা-আনফাল)

৯. আল্লাহর নিকট ওযর পেশ করা।
দাওয়াত ও তাবলীগের আমানত সাধ্যমত আদায় করার মাধ্যমে কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর নিকট ওযর পেশ করা এবং কৈফিয়ত প্রদান থেকে রক্ষা পাওয়াও উদ্দেশ্য। যেমন বণী ইসরাঈল জাতির একদল শনি বারের মাছ ধরার অমান্য করলে অন্য দল যখন তাদেরকে সীমা লঙ্ঘন করতে বারণ করল এবং ভয় দেখালো তখন আরেক দল বলেছিল তোমরা কেন তাদেরকে অযথা ভয় দেখাচ্ছ যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেবেন। তখন (মুমিনদল) জবাবে বলেছিল – مَعْذِرَة إِلى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُوْنَ “রবের নিকট ওযর পেশ করার জন্য এবং তারা যেন সর্তক হয়।" (আরাফ ১৬৩-১৬৪)

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 জিহাদ আগে, না তাবলীগ লাগে?

📄 জিহাদ আগে, না তাবলীগ লাগে?


প্রশ্নটি যদিও মূর্খতা প্রসূত, তথাপিও আজকাল অনেক বিজ্ঞ লোকের মুখে এটি শোনা যাচ্ছে। একথা চিরন্তন যে, তাবলীগ ব্যতীত দুনিয়ার বুকে কোন উদ্দেশ্যই সফলতা লাভ করতে পারেনি।

তাবলীগের মাধ্যমে জিহাদের দাওয়াত না পৌঁছার দরুন শয়তান খুব অনায়াসেই তার কুমন্ত্রনার মিশন চালিয়ে এবং নক্স তার রকমারি ধোঁকার জাল বিস্তার করে মানুষকে জিহাদের ন্যায় মহৎ কাজ হতে বিরত রাখার চেষ্টা করে থাকে। কাজেই জিহাদের পূর্বে অতীব গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সাথে জিহাদের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া চাই, যাতে মানুষের মাঝে এ মহৎ কাজের চেতনা ও উদ্দীপনা চিরজাগরুক হয়ে থাকে। আজকে বিশ্বের আনাচে-কানাচে বিভিন্ন জনপদে যে ইসলামী জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে তার পিছনে রয়েছে দাওয়াত ও তাবলীগের অবদান। সুতরাং এসব ফায়দাহীন উদ্ভট প্রশ্নে সময় নষ্ট করার মতো সময় এখন আর মুসলমানদের হাতে নেই। কারণ দুশমনদের অত্যাচার, জোর, জুলুম, আগ্রাসনের চতুর্মুখী আক্রমনে পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই এরূপ পেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ (সা) ও সাহাবাদের সুন্নাত মোতাবেক দাওয়াত ও জিহাদ দুটোই একযোগে চলবে।

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 জিহাদের পূর্ব মুহূর্তে দা'ওয়াত প্রসঙ্গ

📄 জিহাদের পূর্ব মুহূর্তে দা'ওয়াত প্রসঙ্গ


১) রাসূলুল্লাহ (সা) ইসলামের দাওয়াত না দিয়ে কোন সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করেননি। (বাইহাকী, আহমাদ, তাবারাণী-কাবীর, সিলসিলা সহীহা, হাদীসের সনদ বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহীহ)

২) ইবনে আওন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফে (রা) কে এই মর্মে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে কাফিরদের দীনের দাওয়াত দিতে হবে কি না? তিনি বলেন, অতঃপর তিনি আমার প্রতি লিখলেন যে, এই নিয়ম ইসলামের প্রথম যুগে প্রযোজ্য ছিল। রাসূলুল্লাহ (স) বনূ মুসতালিকের উপর আক্রমন করেছিলেন এমতাবস্থায় যে, তারা জানতেই পারেনি (অর্থাৎ তারা গাফেল ছিল)। তারা তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছিল তখন তিনি তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করেছেন এবং অবশিষ্টদের বন্দী করেছেন।... বর্ণনাকারী বলেন, এই হাদীস আমার নিকট আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা) বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তখন সেই সেনাদলেই ছিলেন। (সহীহ মুসলিম)

৩) একদা হাসান বসরী (রা) কে জিজ্ঞেস করা হলো, কাফিরদের কি যুদ্ধের পূর্বে দাওয়াত দিতে হবে? তিনি উত্তরে বললেন- قَدْ بَلَغَهُمُ الْإِسْلَامَ مِّنْذُ بَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّدٌ (ص) "আল্লাহ তাআলা যখন থেকে মুহাম্মদ (সা) কে প্রেরণ করেছেন তখন থেকেই তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছে গেছে (অর্থাৎ নতুন করে দা'ওয়াত দেওয়ার প্রয়োজন নেই)।” (এটি বর্ণিত হয়েছে-ইবনু আবী শায়বা (১২/৩৬৫), সাঈদ বিন মানসুর (৩/২/২০৬ ২৪৮৬), সিলসিলা সহীহা ২৬৪১)

আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ) এর মতে- প্রথমোক্ত হাদীসটি দ্বিতীয় হাদীসের বিপরীত নয়। কেননা তাতে এ বলা হয়নি যে তাদের নিকট ইসলামের দাওয়াতই পৌছেনি। আর তা হতেই পারে কিভাবে যেখানে আরব পাড়ি দিয়ে রোম পারস্যে ইসলামে প্রচার লাভ করেছে! সমকালীন কতিপয় লেখক এ হাদীসের কারনে বোকামী বশতঃ এ বিষয়টিকেই অস্বীকার করে থাকেন।

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 দা'ওয়াতের পূর্বে দাঈর লক্ষণীয় বিষয়

📄 দা'ওয়াতের পূর্বে দাঈর লক্ষণীয় বিষয়


(১) দাওয়াতের পূর্বে সর্বপ্রথম দাঈকে তার নিয়াত বিশুদ্ধ করে নিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ "প্রত্যেক কাজের প্রতিদান তার নিয়তের উপর নির্ভরশীল।” (সহীহ বুখারী)

(২) যে বিষয়ে দা'ওয়াত দেয়া হবে সে বিষয়ে মৌলিক ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা অবশ্যই অর্জন করে নেয়া। অর্থাৎ দৃঢ় বিশ্বাস ও পূর্ণ আস্থা নিয়েই অন্যকে দা'ওয়াত দিতে হবে, অস্পষ্ট ধারণার বশবর্তী হয়ে নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন- قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُوا إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي . “(হে নবী)! বল, ইহাই আমার পথ। আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করি সজ্ঞানে, আমি এবং আমার অনুসারীগণও”। (সূরাঃ ইউসুফ-১০৮)

(৩) মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ।

(৪) যে বিষয়ে দা'ওয়াত দেয়া হবে সে বিষয়ে নিজের আমল থাকা।

(৫) যে স্থানে দা'ওয়াত দেয়া হবে তা ঝুকিপূর্ণ না নিরাপদ তা পর্যবেক্ষণ করে নেয়া।

(৬) দা'ওয়াতী কাজের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ না করা। কেননা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দা'ওয়াতী কাজ করলে লোকে ভাববে চাকুরীর খাতিরে বা মজুরীর লোভে এ কাজ করা হচ্ছে। তাই তাবলীগের কাজ আল্লাহর ওয়াস্তেই করতে হয়। আল্লাহ বলেন-
قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَى لِلْعَالَمِينَ ﴾ “(হে মুহাম্মদ!) আপনি বলে দিন, আমি এ কাজের জন্য তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না, এটা তো সারা বিশ্বের জন্য একটি উপদেশ মাত্র।” (সূরাঃ আনআম-৯০)
يَقُوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِنْ أَجْرِى إِلَّا عَلَى الَّذِي فَطَرَنِي ﴾ (হুদ বললো) হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাইনা, আমার মজুরী তো তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা হুদ-৫১)
اتَّبِعُوْا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ ﴾ "অনুসরণ করো তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চায় না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।” (সূরা ইয়াসীন-২১)
অতএব এতে বোঝা যায় যে, দীনী দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হলে তা ফলপ্রসূ হয় না। বাস্তব অভিজ্ঞতাও সাক্ষ্য দেয় যে, যারা ওয়াজ নসিহত করে পারিশ্রমিক গ্রহণ করে তাদের কথায় শ্রোতাদের অন্তরে কোন তাসীর করতে পারে না। (তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন)

(৭) যার কাছে দাওয়াত পৌছানো হবে সে কি তার আহ্বান শুনতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত কিনা তা জেনে নেয়া। কারণ অসময়ে, কর্ম ব্যস্ততায় বা দাওয়াত দেয়ার পরিবেশ নয় এমন পরিস্থিতিতে দাওয়াত পৌছালে তা কার্যকর হয় না! ইকরীমা থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস (রা) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে এমন অবস্থায় যেন না দেখি যে, তুমি কোন দলের কাছ দিয়ে যাচ্ছ তখন তারা নিজেদের কোন কাজে ব্যস্ত রয়েছে, আর এই অবস্থায় তুমি তাদেরকে নিজের ওয়াজ শুনানো আরম্ভ করে দিলে। বরং তোমার তখন চুপ থাকা উচিৎ। যখন তারা তোমাকে বলার সুযোগ দেবে তখন তুমি তাদের কাছে নিজের বক্তব্য পেশ করবে। তাহলে তারা আগ্রহ সহকারে তোমার কথা শুনবে। (সহীহ বুখারী)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00