📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 তাবলীগ হতে হবে পূর্ণাঙ্গ দীনের

📄 তাবলীগ হতে হবে পূর্ণাঙ্গ দীনের


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَدْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّة
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণ ভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।" (সূরা আল-বাকারা-২০৮)

দাওয়াত ও তাবলীগ দীন ইসলামের কোন একটি দিক বা বিভাগকে কেন্দ্র করে নয় বরং তাবলীগ হতে হবে দ্বীনের সকল বিষয়ের। বেনামাযীর নিকট যেমন নামাযের তাবলীগ করতে হবে তেমনি নামাযীর নিকট করতে হবে সমাজকে ইসলামী ধাঁচে গড়ে তুলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার তাবলীগ। আবার যে ব্যক্তির ঐ বুঝ এসে গেছে তার নিকট করতে হবে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত হবার এবং এজন্য ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার তাবলীগ। এমনিভাবে যিনি ব্যবসায় ব্যবসার সুফল ও হারাম পন্থায় ব্যবসার কুফল এর তাবলীগ করতে হবে আবার যিনি কর্মচারী তার কাছে করতে হবে মালিকের হক সম্পর্কে তাবলীগ। অর্থাৎ মুবাল্লিগদের কাজ হবে ঈমান ও আমলের মানোন্নয়ন করা। এমনটি যেন না হয় যে, মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর শুধু একটি বিষয়েরই তাবলীগ করা হবে বা প্রতিজ্ঞা নিয়েছে যে, যত দিন বেঁচে থাকবে শুধু নামায বা রোযার তাবলীগই করে যাবে। দুঃখের বিষয় হল, আজকাল কিছু দীনী সংগঠনের মাঝে ঐরূপ স্বভাব লক্ষ্য করা যায়। সেজন্য কোন কোন হকপন্থী আলেমকে মনক্ষুন্ন হয়ে এরূপ মন্তব্য করতেও শুনা যায় যে, “যারা নিজেদের কার্যক্রমকে দু'একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ করে নিয়েছে তারা কি শায়তানের পথ অনুসরণ করতে চাচ্ছে? কারণ আল্লাহ তো শায়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ না করে দীনে ইসলামে পুরোপুরি দাখিল হওয়ার নির্দেশ করেছেন। সেই হিসেবে সুবিধা মত দীনের অংশ বিশেষ মেনে নেয়া বা বেছে নেয়া আর অন্যান্য বিধানকে মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করা বা অনীহা প্রর্দশন শায়তানের পদাঙ্গ অনুসরণের নামান্তর নয় কি?"

আসল কথা হল, প্রত্যেক মুবাল্লিগের এ বিষয়ে খেয়াল রাখা অতীব জরুরী যে, তারা যেন ধারাবাহিকভাবে দীনের প্রতিটি বিষয়েরই তাবলীগ করেন। কেননা এটাই হচ্ছে রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কিরামের সুন্নাত। এমনিভাবে অমুসলিমদের প্রতি দা'ওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা হাদীসে পাওয়া যায়। যেমন-

একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুআয (রা)- কে ইয়ামেনে প্রেরণ করে বললেন, (হে মুআয!) নিশ্চয় তুমি একটি কিতাবধারী কওমের নিকট যাচ্ছো। অতএব তুমি তাদেরকে সর্ব প্রথম কালেমা পাঠের দাওয়াত দেবে। "আল্লাহ ব্যতীত কোনই উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা) নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল" এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করতে বলবে। যখন তারা এটা মেনে নেবে তখন তাদেরকে জানাবে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যখন তারা এটাও মেনে নিবে, তখন তাদেরকে অবহিত করবে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি যাকাত ফরয করেছেন অতঃপর এটি মেনে নিলে ধনীদের নিকট থেকে যাকাত আদায় করে তা গরীবদের মাঝে বিতরণ করবে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 প্রকৃত মুবাল্লিগ বাতিল শক্তির চক্ষুশূল

📄 প্রকৃত মুবাল্লিগ বাতিল শক্তির চক্ষুশূল


একজন প্রকৃত মুবাল্লিগ কখনোই শিরক, কুফর বা আল্লাহর জমীনে গাইরুল্লাহর কতৃত্ব ও আনুগত্যকে মেনে নিতে পারে না। কারণ সে তো ঈমান এনেছে সেই মহান শক্তিধর এক আল্লাহর ওপর। সর্বক্ষেত্রে একমাত্র তাঁর আনুগত্যের জন্যই সে দুনিয়ার মানুষকে আহ্বান জানায় এবং তার দীন প্রতিষ্ঠার জন্যই যে মানুষের দ্বারে দ্বারে দীনে ইসলাম প্রচার করে বেড়ায়। আর সেজন্যই সে সর্বযুগের কাফির, মুশরিক ও মুনাফিক নামধারী বাতিল শক্তির পথের কাটা। কারণ কুফর ও শিরকের ওপর ভিত্তি করেই বাতিল শক্তির নেতৃত্ব, কতৃত্ব ও আগ্রাসি থাবা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিস্তৃত। এরূপ পেক্ষাপটে কেবলমাত্র আল্লাহর রাহের দাঈ ও মুবাল্লিগগণই জনসমাজের সামনে তাদের মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচন করেন, গাইরুল্লাহর আনুগত্য প্রত্যাখানের আহ্বান রাখেন এবং যাবতীয় শিরক ও কুফরের গায়ে পদাঘাত করে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। তাই বাতিল শক্তি সব সময়ই চেয়েছে তাওহীদের আওয়াজকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য মুমিনদেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে। যার বাস্তব চিত্র নবীগণের দা'ওয়াতী জীবনেও পরিলক্ষিত হয়েছে।

নবী ইবরাহীম (আঃ) যখন থেকে সমাজের প্রচলিত শিরকের বিরুদ্ধাচারণ এবং নমরুদের তাগুতী প্রশাসনের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাখান করে কালেমা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” কে একনিষ্টভাবে গ্রহণ করার দাওয়াত প্রদান করছিলেন তখনই তিনি নমরুদের শত্রুতে পরিণত হয়ে ছিলেন। তাঁর কালেমার আওয়াযে নমরুদ প্রশাসনের ভীত কেঁপে উঠেছিল। ফলে তাঁকে শিকার হতে হল নমরুদের নির্যাতনের। নবী মূসা (আঃ)ও যখনই ফেরাউনের মানব রচিত তাগুত শাসনের বিরোধীতা করলেন, ফেরাউনের আনুগত্য প্রত্যাখান করে নিলেন, এবং গাইরুল্লাহর কবর রচনার জন্য সকল প্রকার শিরক ও কুফরের গায়ে পদাঘাত করে তাওহীদকে বাস্তব জীবনে মেনে নেয়ার আহ্বান জানালেন এমনকি স্বয়ং ফেরাউনকেও আল্লাহর দাসত্ব করার দাওয়াত পৌছালেন-তখন ফেরাউনের সিংহাসন নবী মূসা (আ)-র কালেমার ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল। তাওহীদের আওয়াযে তার তাগুতি প্রশাসনের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে গেল। ফলে আল্লাহর দীনকে ফুৎকারে নিভিয়ে দিতে ফেরাউনও মরিয়া হয়ে উঠেছিল নাবী মূসা (আঃ)-কে হত্যার জন্য।

শেষ নবী মুহাম্মদ (সা)-এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। মক্কার কাফির নেতৃবৃন্দ প্রথমে ভেবেছিল মুহাম্মদ (সা) বুঝি বৈরাগ্যবাদ, সন্নাসী বা এ ধরনের কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব যা পালন করার কথা তিনি বলে থাকেন। তাই তারা মুহাম্মদ (সা)-এর গোপন তাবলীগী তৎপরতা সম্পর্কে খবর পাওয়া সত্ত্বেও তেমন গুরুত্বের চোখে দেখেনি। কিন্তু তিন বছর গোপন তাবলীগের মাধ্যমে যখন ঈমানদারদের একটি দল তৈরি হয়ে গেল আর আল্লাহর পক্ষ থেকেও শিরকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরার এবং বাতিল শক্তির সাথে সংঘাতের নির্দেশ এসে গেল তখন নবী মুহাম্মদ (সা) সমাজের প্রচলিত শিরকের বিরুদ্ধে যুক্তি প্রমাণ উপস্থান করে তা পরিত্যাগ করার এবং জনসাধারণ ও নেতৃস্থানীয় সকল ব্যক্তিকে জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে এক আল্লাহর গোলামী করার আহ্বান জানাতে লাগলেন। আর তখনই মক্কার কাফির নেতৃবর্গ নবীর বিরুদ্ধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠল। তাদের মাথায় যেন পাহাড় ভেঙ্গে পড়ল। নবী (সা) এর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণায় তারা সহজেই এটা বুঝে ফেলল যে, “লা ইলালা ইল্লাল্লাহ” পড়ার অর্থই হল মানুষের ওপর মানুষের কর্তৃত্ব থাকবে না, সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত সকলকেই এক আল্লাহর হুকুমে পরিচালিত হতে হবে। তাই তাওহীদের বিপ্লবী দাওয়াতকে সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য আবু জেহেল, আবু লাহাবরা উঠে পড়ে লাগল। আল্লাহর রাসূল (সা) ও মুমিন-দাঈ-মুবাল্লিগদের হত্যার জন্য তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেল। কিন্তু আল্লাহ তাদের ইচ্ছা পূরণ হতে দেননি। যেমন দেননি মূসা (আ)-এর বিরুদ্ধে ফেরাউনের এবং ইবরাহিমের (আ) বিরুদ্ধে নমরুদের অভিযানকে। আর এমনিভাবেই প্রত্যেক যুগের যেসব দাঈ ও মুবাল্লিগগণ সমাজ জীবনে গাইরুল্লাহর আনুগত্য ও প্রভৃত্বের বিরুদ্ধাচারণ এবং শিরকের মুখোশ উন্মোচন করে যাবেন আল্লাহ পাকও তাদেরকে সাহায্য করে যাবেন।

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 দা'ওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্য

📄 দা'ওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্য


১) খলিফা হিসেবে নিজ দায়িত্ব পালন করা।
আল্লাহ পাকের খলিফা হিসেবে প্রতিটি মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য এই যে, তারা নিজেরা যেমন আল্লাহর দাসত্ব করবে তেমনি অন্যান্য দেরকেও আল্লাহর হুকুম মেনে চলার জন্য আল্লাহর রাহের দাওয়াত পৌছাবে। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: 'তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সর্ম্পকে জিজ্ঞাসিত হবে।'
অতএব বলা যায়, দাওয়াত ও তাবলীগ করার মাধ্যমে একজন দায়ী বা মুবাল্লিগ কেবল নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যই পালন করছেন। তিনি এর দ্বারা কারোর প্রতি দয়া করছেন না। খোদ তাবলীগের প্রতিও নয় এবং যারা দাওয়াতের মাধ্যমে হেদায়াত প্রাপ্ত হচ্ছেন তাদের প্রতিও নয়।

২) মানুষকে গোমরাহীর অন্ধকার থেকে হেদায়েতের আলোকে নিয়ে আসা।
الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسِ مِنَ الظُّلُمَاتِ إلَى النُّوْরِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ
“আলিফ-লাম-রা; (হে নবী!) এটি একটি কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি- যাতে আপনি লোকদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে নিয়ে আসেন-পরাক্রান্ত প্রশংসার যোগ্য পালন কর্তার নির্দেশে তারই পথের দিকে”। (সূরাঃ ইব্রাহিম-১)

اللهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوْরِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاءَ هُمُ الطَّاغُوْতَ
“আল্লাহ হচ্ছেন তাদের বন্ধু যারা ঈমান এনেছে। তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান। অপরদিকে যারা কুফরী করে, তাদের বন্ধু হল শয়তান। সে তাদেরকে আলোক থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়।” (সূরাঃ আল বাকারা-২৫৭)

৩) আকীদা ও আমলসমূহ বিশুদ্ধ করা।
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيْعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُব্টিলُوا أَعْمَالَكُمْ
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রাসূলের। আর এরূপ না করে তোমাদের আমলগুলো বরবাদ করো না।" (সূরাঃ মুহাম্মদ-৩৩)
ব্যক্তির আমল কবুল হওয়ার জন্য যেমন আক্বিদা বিশ্বাসের পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য তেমনি অপরিহার্য আমল সমূহ রাসূলের সুন্নতে মোতাবেক সম্পন্ন হওয়া। তাই দাওয়াত ও তাবলীগের একটি বৃহৎ উদ্দেশ্য এই যে, এর মাধ্যমে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে মানুষের আকীদা ও আমল সমূহ পরিশুদ্ধ করা হবে।

৪) সকল প্রকার তাগুতকে বর্জন করে চলা।
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا الله وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
"আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট এজন্যই রাসূল প্রেরণ করেছি যাতে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা হয় এবং যাবতীয় তাগুতকে অস্বীকার করা হয়।" (সূরা আন-নাহাল-৩৬)

৫) হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করা।
وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهَدَأَى وَالْفُرْقَانِ
"এই কুরআন সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্যকারী।” (সূরাঃ আল বাকারা-১৮৫)

৬) জাহান্নামের পথ থেকে জান্নাতের পথে নিয়ে আসা।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقَوْدَهَا النَّاسَ وَالْحِجَارَةُ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং নিজ পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুণ হতে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর"। (সূরা: তাওবা-৬)

৭) মানুষের অন্তরে আল্লাহ ও কিয়ামত সম্পর্কে ভয় সৃষ্টি করা।
يَاتِهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْ يَوْمًا لَا يَجْজি وَالِدٌ عَنْ وَلَدِهِ وَلَا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَالِدِهِ شَيْئًا إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقُّ فَلَا تَغْرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ ডুনিয়া وَলা يَغُرَّنَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ
"হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো এবং ভয় কর এমনি এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত করতে না পারে।' (সূরাঃ লুকমান-৩৩)

৮) ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা।
জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম পূর্ণরূপে নির্ভয়ে মেনে চলার জন্য প্রয়োজন কুরআন শাসিত সমাজ ব্যবস্থা। এরূপ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং ইসলামের দুশমনদের ষড়যন্ত্রের কবল থেকে দীন ও ঈমান রক্ষার জন্য জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা দা'ওয়াত ও তাবলীগের বৃহৎ উদ্দেশ্য। মুবাল্লিগগণ তাবলীগের মাধ্যমে প্রতিটি মুসলমানের কাছে খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদের গুরুত্ব তুলে ধরবেন এবং প্রয়োজন মূহূর্তে সকল মুমিনকে জিহাদের অংশ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাবেন। আল্লাহ বলেন- ﴿ يَأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرْضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ ﴾ "হে নবী! তুমি মুমিনদেরকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ কর”। (সূরা-আনফাল)

৯. আল্লাহর নিকট ওযর পেশ করা।
দাওয়াত ও তাবলীগের আমানত সাধ্যমত আদায় করার মাধ্যমে কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর নিকট ওযর পেশ করা এবং কৈফিয়ত প্রদান থেকে রক্ষা পাওয়াও উদ্দেশ্য। যেমন বণী ইসরাঈল জাতির একদল শনি বারের মাছ ধরার অমান্য করলে অন্য দল যখন তাদেরকে সীমা লঙ্ঘন করতে বারণ করল এবং ভয় দেখালো তখন আরেক দল বলেছিল তোমরা কেন তাদেরকে অযথা ভয় দেখাচ্ছ যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেবেন। তখন (মুমিনদল) জবাবে বলেছিল – مَعْذِرَة إِلى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُوْنَ “রবের নিকট ওযর পেশ করার জন্য এবং তারা যেন সর্তক হয়।" (আরাফ ১৬৩-১৬৪)

📘 রাসুল সাঃ যেভাবে তাবলিগ করেছেন > 📄 জিহাদ আগে, না তাবলীগ লাগে?

📄 জিহাদ আগে, না তাবলীগ লাগে?


প্রশ্নটি যদিও মূর্খতা প্রসূত, তথাপিও আজকাল অনেক বিজ্ঞ লোকের মুখে এটি শোনা যাচ্ছে। একথা চিরন্তন যে, তাবলীগ ব্যতীত দুনিয়ার বুকে কোন উদ্দেশ্যই সফলতা লাভ করতে পারেনি।

তাবলীগের মাধ্যমে জিহাদের দাওয়াত না পৌঁছার দরুন শয়তান খুব অনায়াসেই তার কুমন্ত্রনার মিশন চালিয়ে এবং নক্স তার রকমারি ধোঁকার জাল বিস্তার করে মানুষকে জিহাদের ন্যায় মহৎ কাজ হতে বিরত রাখার চেষ্টা করে থাকে। কাজেই জিহাদের পূর্বে অতীব গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সাথে জিহাদের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া চাই, যাতে মানুষের মাঝে এ মহৎ কাজের চেতনা ও উদ্দীপনা চিরজাগরুক হয়ে থাকে। আজকে বিশ্বের আনাচে-কানাচে বিভিন্ন জনপদে যে ইসলামী জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে তার পিছনে রয়েছে দাওয়াত ও তাবলীগের অবদান। সুতরাং এসব ফায়দাহীন উদ্ভট প্রশ্নে সময় নষ্ট করার মতো সময় এখন আর মুসলমানদের হাতে নেই। কারণ দুশমনদের অত্যাচার, জোর, জুলুম, আগ্রাসনের চতুর্মুখী আক্রমনে পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই এরূপ পেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ (সা) ও সাহাবাদের সুন্নাত মোতাবেক দাওয়াত ও জিহাদ দুটোই একযোগে চলবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00