📄 দা'ওয়াত মুসলমানদের মাঝে হবে, নাকি অমুসলিমদের মাঝে?
দা'ওয়াতী কাজ কি মুসলমানদের মাঝে করা হবে, না অমুসলিমদের মাঝে এ ব্যাপারে দু'ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়।
* প্রথম বক্তব্য
দাওয়াত মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের প্রতিই প্রযোজ্য। অর্থাৎ দাওয়াতী কাজ যেমন অমুসলিমদের মাঝে করতে হবে তেমনি মুসলিমদের মাঝেও।
* দ্বিতীয় বক্তব্য
দাওয়াতী কাজ শুধু অমুসলিমদের মাঝে করতে হবে আর মুসলমানদের মাঝে যা করা হবে তা হলো ইসলাহ বা সংশোধন। রাসূলে করীম (সাঃ) ও সাহাবায়ে কিরাম অমুসলিমদেরকেই দাওয়াত দিয়েছেন। আর মুসলমানদের মাঝে যখন শরীয়তের কোন বিধানের উপর আমলের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে বা উহা পালনে কোনরূপ অবহেলা ও উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়েছে তখন তা সংশোধনের জন্য তাবলীগ ও তাগীদের মাধ্যমে শরীয়ত না মেনে চলার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। অর্থাৎ যখন কারোর ঈমান ও আমলে ত্রুটি দেখা গিয়েছে তা সংশোধন করে প্রকৃত মুমিনে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মুসলমানদের মাঝে সংশোধনমূলক কাজ করার ব্যপারে কুরআন ও হাদীসে প্রচুর দলিল বিদ্যমান যার কতিপয় নিম্নরুপ-
وَقَالَ مُوسَى لَا خِيْهِ هَرُونَ اخْلُقْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحُ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ
'মুসা তার ভাই হারূনকে বলল, আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, তাদের সংশোধন করতে থাকবে এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করবে না।' (সূরা আল-আরাফ-৪২)
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ
মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। অতএব, তোমাদের ভাইদের (দোষ ত্রুটি) সংশোধন করে দাও। (সূরা আল-হুজরাত-১০)
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَরَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
'অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মেনে চল-যদি ঈমানদার হয়ে থাক। (সূরা আল-আনফাল-১)
وَ إِنْ طَائِفَتْن من المؤمنين اقتتلوا فَأَصْلِحُوا بینهما
'মুমিনদের দুই দলে যদি দন্দে লিপ্ত হয় তাহলে তোমরা তাদেরকে সংশোধন করে দেবে।' (সূরা আল-হুজরাত-৯)
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন- ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় সূচনা লাভ করেছিল খুব শীগগীরই সেই অবস্থায় ফিরে যাবে। তবে তখনকার সেই 'গুরাবা' অপরিচিত লোকদের জন্য সুসংবাদ। একথা শুনে সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসূল! 'গুরাবা' বলতে আপনি কাদেরকে বুঝাচ্ছেন? জবাবে রাসূল (সা) বললেন:
الذين يصلحون اذا أفسد الناس من سنت
'তারা হলো সেই লোক, যারা জনগণ যখন আমার সুন্নাত হতে বিচ্যুত হয় তখন সংশোধন মূলক কাজ করে।' (তিরমীযী, ইমাম তিরমীযী এটিকে হাসান বলেছেন, আলবানী বলেছেন যঈফ।)
📄 দা'ওয়াত ও তাবলীগের মাধ্যম
মৌখিক ভাবে কথার মাধ্যমে: মৌখিক ভাবে কথার মাধ্যমে আল্লাহর বান্দাদেরকে দীনের দাওয়াত দেয়া যায়। এ ক্ষেত্রে লোকজন আমন্ত্রন জানিয়ে একত্রিত করে ইসলামী জলসা ও সম্মেলন করা যেতে পারে।
লিখনির মাধ্যমে: ইসলামী বই পুস্তক রচনা, বিনামূল্যে বা স্বল্প মূল্যে বই বিতরণ, পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখন, ইসলামী সাময়িকী প্রকাশ, অনারবদের আরবীতে লিখিত কুরআন, হাদীস ও ইসলামী বই অনুবাদ করে শিক্ষিত লোকের নিকট প্রচার, লিফলেট বিতরণ এবং পোষ্টার লিখনের মাধ্যমে দীনের তাবলীগ করা যায়।
শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে: আধুনিক শিক্ষার নামে ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্বীনিয়াত ও হাদীসের মৌলিক জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে শিক্ষক ও ছাত্র তথা শিক্ষিত মহলে আল্লাহর দ্বীনের তাবলীগ করা যায়। এতে করে শিক্ষিত সমাজকে নৈতিক ও চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা যাবে এবং তারা আল্লাহর দীন সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে।
মসজিদের খতিব ও ইমামের মাধ্যমে: মসজিদের খতিব বা ইমামের দ্বারা যদি সমবেত মুসল্লিদের নিকট দু'একটি আয়াত ও হাদীস বয়ান করা হয়, তবে এতে সহজেই কুরআন ও সুন্নাহর তাবলীগ হয়ে যায়।
বাহাস মুবাহাসার মাধ্যমে: বাহাস মুবাহাসার মাধ্যমে দ্বীনের সঠিক দিক নির্দেশনা পরিস্কার হয়ে ওঠে। যার ফলে ভ্রান্ত আকিদা বিশ্বাসের অবসান ঘটে এবং মানুষের নিকট ইসলামের সঠিক সিদ্ধান্ত পৌঁছে যায়।
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে: যাদের কাজ হবে দীন প্রচার করা ও ইসলামের সঠিক দিক মানুষের নিকট তুলে ধরা।
আধুনিক প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমে: বর্তমানে বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা এমন উন্নত হয়েছে যে, মুহুর্তের মধ্যে বিশ্বের সংবাদ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌঁছে দেয়া যায়। তাই রেডিও, টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমেও দ্বীনের তাবলীগ খুব সহজে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌছে দেয়া সম্ভব।
📄 তাবলীগ হতে হবে পূর্ণাঙ্গ দীনের
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَدْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّة
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণ ভাবে ইসলামে প্রবেশ কর।" (সূরা আল-বাকারা-২০৮)
দাওয়াত ও তাবলীগ দীন ইসলামের কোন একটি দিক বা বিভাগকে কেন্দ্র করে নয় বরং তাবলীগ হতে হবে দ্বীনের সকল বিষয়ের। বেনামাযীর নিকট যেমন নামাযের তাবলীগ করতে হবে তেমনি নামাযীর নিকট করতে হবে সমাজকে ইসলামী ধাঁচে গড়ে তুলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার তাবলীগ। আবার যে ব্যক্তির ঐ বুঝ এসে গেছে তার নিকট করতে হবে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত হবার এবং এজন্য ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার তাবলীগ। এমনিভাবে যিনি ব্যবসায় ব্যবসার সুফল ও হারাম পন্থায় ব্যবসার কুফল এর তাবলীগ করতে হবে আবার যিনি কর্মচারী তার কাছে করতে হবে মালিকের হক সম্পর্কে তাবলীগ। অর্থাৎ মুবাল্লিগদের কাজ হবে ঈমান ও আমলের মানোন্নয়ন করা। এমনটি যেন না হয় যে, মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর শুধু একটি বিষয়েরই তাবলীগ করা হবে বা প্রতিজ্ঞা নিয়েছে যে, যত দিন বেঁচে থাকবে শুধু নামায বা রোযার তাবলীগই করে যাবে। দুঃখের বিষয় হল, আজকাল কিছু দীনী সংগঠনের মাঝে ঐরূপ স্বভাব লক্ষ্য করা যায়। সেজন্য কোন কোন হকপন্থী আলেমকে মনক্ষুন্ন হয়ে এরূপ মন্তব্য করতেও শুনা যায় যে, “যারা নিজেদের কার্যক্রমকে দু'একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ করে নিয়েছে তারা কি শায়তানের পথ অনুসরণ করতে চাচ্ছে? কারণ আল্লাহ তো শায়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ না করে দীনে ইসলামে পুরোপুরি দাখিল হওয়ার নির্দেশ করেছেন। সেই হিসেবে সুবিধা মত দীনের অংশ বিশেষ মেনে নেয়া বা বেছে নেয়া আর অন্যান্য বিধানকে মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করা বা অনীহা প্রর্দশন শায়তানের পদাঙ্গ অনুসরণের নামান্তর নয় কি?"
আসল কথা হল, প্রত্যেক মুবাল্লিগের এ বিষয়ে খেয়াল রাখা অতীব জরুরী যে, তারা যেন ধারাবাহিকভাবে দীনের প্রতিটি বিষয়েরই তাবলীগ করেন। কেননা এটাই হচ্ছে রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কিরামের সুন্নাত। এমনিভাবে অমুসলিমদের প্রতি দা'ওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা হাদীসে পাওয়া যায়। যেমন-
একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুআয (রা)- কে ইয়ামেনে প্রেরণ করে বললেন, (হে মুআয!) নিশ্চয় তুমি একটি কিতাবধারী কওমের নিকট যাচ্ছো। অতএব তুমি তাদেরকে সর্ব প্রথম কালেমা পাঠের দাওয়াত দেবে। "আল্লাহ ব্যতীত কোনই উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা) নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল" এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করতে বলবে। যখন তারা এটা মেনে নেবে তখন তাদেরকে জানাবে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যখন তারা এটাও মেনে নিবে, তখন তাদেরকে অবহিত করবে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি যাকাত ফরয করেছেন অতঃপর এটি মেনে নিলে ধনীদের নিকট থেকে যাকাত আদায় করে তা গরীবদের মাঝে বিতরণ করবে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
📄 প্রকৃত মুবাল্লিগ বাতিল শক্তির চক্ষুশূল
একজন প্রকৃত মুবাল্লিগ কখনোই শিরক, কুফর বা আল্লাহর জমীনে গাইরুল্লাহর কতৃত্ব ও আনুগত্যকে মেনে নিতে পারে না। কারণ সে তো ঈমান এনেছে সেই মহান শক্তিধর এক আল্লাহর ওপর। সর্বক্ষেত্রে একমাত্র তাঁর আনুগত্যের জন্যই সে দুনিয়ার মানুষকে আহ্বান জানায় এবং তার দীন প্রতিষ্ঠার জন্যই যে মানুষের দ্বারে দ্বারে দীনে ইসলাম প্রচার করে বেড়ায়। আর সেজন্যই সে সর্বযুগের কাফির, মুশরিক ও মুনাফিক নামধারী বাতিল শক্তির পথের কাটা। কারণ কুফর ও শিরকের ওপর ভিত্তি করেই বাতিল শক্তির নেতৃত্ব, কতৃত্ব ও আগ্রাসি থাবা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিস্তৃত। এরূপ পেক্ষাপটে কেবলমাত্র আল্লাহর রাহের দাঈ ও মুবাল্লিগগণই জনসমাজের সামনে তাদের মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচন করেন, গাইরুল্লাহর আনুগত্য প্রত্যাখানের আহ্বান রাখেন এবং যাবতীয় শিরক ও কুফরের গায়ে পদাঘাত করে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। তাই বাতিল শক্তি সব সময়ই চেয়েছে তাওহীদের আওয়াজকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য মুমিনদেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে। যার বাস্তব চিত্র নবীগণের দা'ওয়াতী জীবনেও পরিলক্ষিত হয়েছে।
নবী ইবরাহীম (আঃ) যখন থেকে সমাজের প্রচলিত শিরকের বিরুদ্ধাচারণ এবং নমরুদের তাগুতী প্রশাসনের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাখান করে কালেমা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” কে একনিষ্টভাবে গ্রহণ করার দাওয়াত প্রদান করছিলেন তখনই তিনি নমরুদের শত্রুতে পরিণত হয়ে ছিলেন। তাঁর কালেমার আওয়াযে নমরুদ প্রশাসনের ভীত কেঁপে উঠেছিল। ফলে তাঁকে শিকার হতে হল নমরুদের নির্যাতনের। নবী মূসা (আঃ)ও যখনই ফেরাউনের মানব রচিত তাগুত শাসনের বিরোধীতা করলেন, ফেরাউনের আনুগত্য প্রত্যাখান করে নিলেন, এবং গাইরুল্লাহর কবর রচনার জন্য সকল প্রকার শিরক ও কুফরের গায়ে পদাঘাত করে তাওহীদকে বাস্তব জীবনে মেনে নেয়ার আহ্বান জানালেন এমনকি স্বয়ং ফেরাউনকেও আল্লাহর দাসত্ব করার দাওয়াত পৌছালেন-তখন ফেরাউনের সিংহাসন নবী মূসা (আ)-র কালেমার ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল। তাওহীদের আওয়াযে তার তাগুতি প্রশাসনের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে গেল। ফলে আল্লাহর দীনকে ফুৎকারে নিভিয়ে দিতে ফেরাউনও মরিয়া হয়ে উঠেছিল নাবী মূসা (আঃ)-কে হত্যার জন্য।
শেষ নবী মুহাম্মদ (সা)-এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। মক্কার কাফির নেতৃবৃন্দ প্রথমে ভেবেছিল মুহাম্মদ (সা) বুঝি বৈরাগ্যবাদ, সন্নাসী বা এ ধরনের কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব যা পালন করার কথা তিনি বলে থাকেন। তাই তারা মুহাম্মদ (সা)-এর গোপন তাবলীগী তৎপরতা সম্পর্কে খবর পাওয়া সত্ত্বেও তেমন গুরুত্বের চোখে দেখেনি। কিন্তু তিন বছর গোপন তাবলীগের মাধ্যমে যখন ঈমানদারদের একটি দল তৈরি হয়ে গেল আর আল্লাহর পক্ষ থেকেও শিরকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরার এবং বাতিল শক্তির সাথে সংঘাতের নির্দেশ এসে গেল তখন নবী মুহাম্মদ (সা) সমাজের প্রচলিত শিরকের বিরুদ্ধে যুক্তি প্রমাণ উপস্থান করে তা পরিত্যাগ করার এবং জনসাধারণ ও নেতৃস্থানীয় সকল ব্যক্তিকে জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে এক আল্লাহর গোলামী করার আহ্বান জানাতে লাগলেন। আর তখনই মক্কার কাফির নেতৃবর্গ নবীর বিরুদ্ধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠল। তাদের মাথায় যেন পাহাড় ভেঙ্গে পড়ল। নবী (সা) এর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণায় তারা সহজেই এটা বুঝে ফেলল যে, “লা ইলালা ইল্লাল্লাহ” পড়ার অর্থই হল মানুষের ওপর মানুষের কর্তৃত্ব থাকবে না, সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত সকলকেই এক আল্লাহর হুকুমে পরিচালিত হতে হবে। তাই তাওহীদের বিপ্লবী দাওয়াতকে সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য আবু জেহেল, আবু লাহাবরা উঠে পড়ে লাগল। আল্লাহর রাসূল (সা) ও মুমিন-দাঈ-মুবাল্লিগদের হত্যার জন্য তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেল। কিন্তু আল্লাহ তাদের ইচ্ছা পূরণ হতে দেননি। যেমন দেননি মূসা (আ)-এর বিরুদ্ধে ফেরাউনের এবং ইবরাহিমের (আ) বিরুদ্ধে নমরুদের অভিযানকে। আর এমনিভাবেই প্রত্যেক যুগের যেসব দাঈ ও মুবাল্লিগগণ সমাজ জীবনে গাইরুল্লাহর আনুগত্য ও প্রভৃত্বের বিরুদ্ধাচারণ এবং শিরকের মুখোশ উন্মোচন করে যাবেন আল্লাহ পাকও তাদেরকে সাহায্য করে যাবেন।