📄 তাবলীগের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
ক) এ দায়িত্ব নিয়েই নবী রাসূলগণের আগমন সকল নবী রাসূল দা'ওয়াত ও তাবলীগের দায়িত্ব নিয়েই দুনিয়ার বুকে আগমন করেছিলেন এবং তারা তা সম্পাদনও করেছিলেন যথাযথ ভাবে। এ ব্যাপারে কুরআনুল কারীম থেকে কিছু উদ্ধৃতি পেশ করা হল।
* নবী হুদ (আঃ) কে আদ জাতির নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। তাঁর দা'ওয়াতী কার্যক্রম সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-
وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هَوْدًا قَالَ يُقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَالَكُمْ مِنْ إِلَهِ غَيْرَهُ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ
'আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি, সে বললো হে আমার জাতি! আল্লাহর বন্দেগী করো, তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তোমরা তো সবাই মিথ্যা আরোপ করছো।' (সূরা হুদ-৫০)
وَقَالَ يُقَوْমِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةً وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِّنْ رَّبِّ الْعَالَمِينَ * أُبَلِّغُكُمْ رِسُلَتِ رَبِّي وَأَنَا লَكُمْ نَاصِحُ أَمِينٌ
"হুদ বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! আমি মোটেই নির্বোধ নই বরং আমি বিশ্ব প্রতিপালকের প্রেরিত পয়গম্বর। তোমাদের কাছে প্রতিপালকের পয়গাম পৌছাই এবং আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী বিশ্বস্ত"। (সূরাঃ আল-আরাফ-৬৭-৬৮)
* সালিহ (আঃ) প্রেরিত হয়েছিলেন সামুদ জাতির নিকট। তাঁর উম্মতের নিকট সালিহ (আঃ)-এর পেশকৃত বক্তব্য সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-
وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَلِحًا قَالَ يُقَوْমِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَالَكُمْ مِنْ إِلَهِ غَيْرَهُ هَوَانْشَأَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ
'আর সামুদ জাতির প্রতি তাদের ভাই সালেহকে প্রেরণ করেছি, সে বললো- হে আমার জাতি! আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তিনিই জমিন থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন।' (সূরা হুদ - ৬১)
وَقَالَ يُقَوْমِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَةَ رَبِّي وَنَصَحْتُ لَكُمْ وَلَكِنَّ لَا تُحِبُّوْনَ النَّصِحِينَ
"সালিহ বলল : হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো তোমাদের কাছে প্রভূর পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদেরকে উপদেশও দিয়েছি কিন্তু তোমরা কল্যাণ কামনাকারীদের ভালবাস না"। (সূরাঃ আল আরাফ-৭৯)
* মাদায়নের অধিবাসীদের নিকট প্রেরিত নবী শোয়ায়েব (আঃ) সম্পর্কেও আল্লাহ বলেন-
وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يُقَوْমِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَالَكُمْ مِّنْ إِلَهِ غَيْرُهُ وَلَا تَنْقُصُوا الْمِيْكَالَ وَالْمِيزَانَ ....
'আর মাদায়েন বাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েব কে প্রেরণ করেছি, সে বললো, হে আমার সম্পাদায়! আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই। আর তোমরা পরিমাপে এবং ওজনে কম দিওনা,...।' (সূরা হুদ - ৮৪)
وَقَالَ يُقَوْমِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسُلَتِ رَبِّي
"শোয়ায়েব বলল: হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের নিকট প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি।” (সূরাঃ আল-আরাফ-১৩)
* নূহ (আঃ) সম্পর্কেও আল্লাহ বলেন-
لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوْحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يُقَوْمِ اعْبُدُو اللَّهَ مَالَكُمْ مِّنْ إِلَهِ غَيْرَهُ إِنِي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ - قَالَ الْمَلَاء مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي ضَلَلٍ مُّبِينٍ - قَالَ يُقَوْমِ لَيْسَ بِي ضَلَلَةٌ وَلَكِنْ رَسُولُ مِنْ رَبِّ الْعَلَمِينَ - أَبَلِّغُكُمْ رسُلَاتِ رَبِّي وَانْصَحَ لَكُمْ
'নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠিয়েছি, সে বললো; হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর বন্দেগী করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নেই। আমি তোমাদের জন্য এক মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করছি। তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বললো: আমরা তোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ঠতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি। নূহ বললোঃ হে আমার সম্প্রদায় আমি কখনোও ভ্রান্ত নই। কিন্তু আমি বিশ্ব প্রতিপালকের রাসূল। তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌছাই এবং তোমাদের সদুপদেশ দেই।' (সূরা আল আরাফ: ৫৯-৬২)
قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْতُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا * فَلَمْ يَزِدُهُمْ دُعَاءِ إِلَّا فِرَارًا * ثُمَّ إِنِّي دَعَوْতُهُمْ جِهَارًا * ثُمَّ إِنِّي أَعْلَنْتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْرَارًا
“নূহ বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্র দা'ওয়াত দিয়েছি; কিন্তু আমার দা'ওয়াত তাদের পলায়নকেই বৃদ্ধি করেছে। অতঃপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে দা'ওয়াত দিয়েছি। অতঃপর আমি ঘোষনা সহকারে প্রচার করেছি এবং গোপনে চুপিসারেও বলেছি।” (সূরাঃ নূহ- ৫, ৬, ৮, ৯)
অবশেষে শেষ নবী মুহাম্মদ (সাঃ)- কে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেন -
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا
"হে নবী (মুহাম্মদ)। আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তার দিকে দা'ওয়াত দাতা ও সমুজ্জল প্রদীপ রূপে।” (সূরা আল আহযাব ৪৫-৪৬)
إِذْ أُنْزِلَتْ إِلَيْكَ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
“(আল্লাহর আয়াত সমূহ) আপনার প্রতি নাযিল হবার পর আপনি আপনার রব্বেপ্রতি দা'ওয়াত দিন এবং কিছুতেই মুশরিকদের অর্ন্তভুক্ত হবেন না।” (সূরাঃ আল কাসাস-৮৭)
নবী (সাঃ) কে এও জানিয়ে দেন যে-
سَنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِيْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَكَانَ أَمْرُ الله قَدَرًا مُّقْدُورًا * الَّذِينَ يُبَلِّغُوْনَ رِسَلَتِ اللَّهِ وَيَخْشُونَهُ وَلَا يَخْشَوْنَ أَحَدًا إِلَّا اللَّهَ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا
"পূর্বে যেসব নবী অতীত হয়ে গেছে তাদের ক্ষেত্রেও এটাই ছিল আল্লাহর বিধান। আর আল্লাহর বিধান সুনির্ধারিত। তাঁরা আল্লাহর বাণী প্রচার করত এবং তাকে ভয় করত। আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করত না। হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরাঃ আলআহযাব ৩৮-৩৯)
আল্লাহ আরো বলেন;
فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا لِيَعْلَمَ أَنْ قَدْ أَبْلَغَوْا رِسْلَتِ رَبِّهِمْ
"নিশ্চয় তিনি (তাঁর মনোনিত রাসূলের) সামনে ও পিছনে প্রহরী নিযুক্ত করে থাকেন, এটা জানার জন্য যে, রাসূলগণ তাদের প্রতিপালকের বাণী পৌছিয়েছেন কিনা।” (সূরা-জিন-২৮)
তাবলীগের ব্যাপারে এরূপ গুরুত্ববহ নির্দেশনার কারনেই মুহাম্মদ (সাঃ) তাবলীগের গুরু দায়িত্ব যথাযথ পালনের ব্যাপারে আল্লাহপাক ও সাহাবায়ে কেরামের সাক্ষ্য রেখে শংকা মুক্ত হওয়ার জন্য বিদায় হজ্জের ভাষণে জনতাকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন- "হে মানব মণ্ডলী! কিয়ামতের দিন আমার সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে (আমি আল্লাহর পয়গাম পৌছিয়েছি কিনা) তখন তোমরা কি বলবে? সকলে সমস্বরে বলে উঠল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আপনি আল্লাহর পয়গাম পৌছিয়েছেন। আমানত পূর্ণ করেছেন এবং উপদেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, আমি কি তোমাদের নিকট দীন পৌছিয়েছি? সাহাবাগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বললেন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন তারা সাক্ষ্য দিচ্ছে, আমি আমার রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেছি।”
খ) উম্মতে মুহাম্মদীর কাধে দায়িত্ব হস্তান্তর
وَأُوحِيَ إِلَى هَذَا الْقُرْآنَ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَমَنْ بَلَغَ
'আর এই কুরআন অহীর মাধ্যমে আমার কাছে পাঠানো হয়েছে, যেন আমি তোমাদেরকে এবং যাদের কাছে তা পৌছাবে তাদের সবাইকে সর্তক করে দিতে পারি।' (সূরা আনআম-১৯)
আল্লাহ জানেন তাঁর রাসূল চিরকাল দুনিয়ায় থাকবেন না। তাঁর অমোঘ বিধান অনুযায়ী অন্যান্য সৃষ্টির মত তাকেও মৃত্যু বরণ করতে হবে। বিদায় হজ্জ পর্যন্ত কোটি কোটি মানব অধ্যুষিত এ পৃথিবীর মাত্র কয়েক লক্ষ লোক দীন ইসলামের আলো পেয়েছিল। অথচ কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানব জাতির নিকট দীনের এ দা'ওয়াত পৌছাতে হবে। তাই আল্লাহ তা'আলা উম্মতে মুহাম্মদীর উপর রিসালাতের গুরু দায়িত্ব অপন করলেন এবং ঘোষণা করেন- "তোমাদের মাঝে এমন একটি দল থাকতে হবে যারা মানুষকে কল্যাণের পথে আহবান করবে...."।
* ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
تَسْمَعُوْনَ وَيُسْمَعُ مِنْكُمْ وَيُسْمَعُ مَنْ سَمِعَ مِنْكُمْ.
"আজ তোমরা (আমার নিকট দীনের কথা) শুনছ, তোমাদের কাছ থেকে তা শুনানো হবে (অন্য লোকেরা শুনবে) আর তোমাদের নিকট থেকে যারা শুনবে তাদের কাছ থেকেও আবার এই কথা অন্যদের শুনানো হবে।” (আবু দাউদ, ইবনু হিব্বান, আহমদ, হাকিম- ইমাম হাকিম এটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন, ইমাম যাহাবীর মতও তাই, আল্লামা আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন)
* রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, "আমার মৃত্যুর পরে লোকেরা তোমাদের নিকট হাদীস শুনতে চাইবে, যখন তারা তোমাদের নিকট এই উদ্দেশ্যে আসবে, তখন তোমরা যেন তাদের প্রতি অনুগ্রহশীল হও এবং তাদের নিকট আমার হাদীস বর্ণনা কর”। (মুসনাদে আহমদ)
রসূলে করীম (সাঃ) বিদায় হজ্জের ভাষণে উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করে এটাও বলেছিলেন- "যে ব্যক্তি এখানে উপস্থিত রয়েছ তারা অনুপস্থিতদের নিকট আমার বাণী পৌঁছে দেবে। কেননা উপস্থিত অনেকের চেয়ে অনেক অনুপস্থিত ব্যক্তি আমার এ বক্তব্যের অধিক গুরুত্ব দেবে এবং সত্য বলে মনে করবে।" (সহীহ বুখারী)
অতএব বোঝা গেল, দাওয়াতের এ কাজ উম্মতের কোন বিশেষ শ্রেণীর হাতে ন্যস্ত করা হয়নি বরং নির্বিশেষে গোটা উম্মতের উপরই ন্যাস্ত করা হয়েছে। ধন-গরীব, যুবক-বৃদ্ধ শিক্ষিত, নর-নারী সবাই এর অন্তর্ভুক্ত। এই দায়িত্ব থেকে কেউই মুক্ত নয়।
তবে তাবলীগের এ নির্দেশ যথাযথ পালন করার জন্য নবুওয়াতী পন্থায় ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলেই এ কাজ সহজ হয়ে আসবে। মুসলিম রাষ্ট্র প্রধান তথা ইসলামী খিলাফত একটি সাংগঠনিক সংস্থা হিসেবে রাষ্ট্রের সকল মুসলিম নাগরিকের প্রতিনিধি হিসেবে এ দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যাবেন এবং এমতাবস্থায় তাবলীগের দায়িত্ব পালন সাধারণ মুসলমানদের জন্য ফরযে কিফায়ার অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু মুসলমানরা যদি ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়মে ব্যর্থ হয় বা ইসলামী হুকুমাত কায়েম না থাকে তাহলে এ দায়িত্ব সমাজের প্রতিটি মুসলমানের ওপর এসে পড়বে এবং তা সঠিক ভাবে পালন না হলে তার গুনাহও তাদের ওপর বর্তাবে।
📄 দা'ওয়াত ও তাবলীগের মূল ভিত্তি
দাওয়াত ও তাবলীগ শুধুমাত্র দুটি জিনিসের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। (১) মহাগ্রন্থ আল কুরআন। (২) সুন্নাতে রাসূল (সাঃ)। নবী করীম (সাঃ) বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেছেন-
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابُ اللَّهِ وَسُنَّة رَسُولِهِ
"আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি যা আকঁড়ে ধরতে পারলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। তা হল- আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাত। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক)
📄 কাদের নিকট তাবলীগ করতে হবে
১। পরিবার পরিজন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَوْا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِكُمْ نَارًا.
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা কর।" (সূরাঃ আত তাহরীম- ৬)
২। নিকট আত্মীয় স্বজনদেরকে
وَأَنْذِرُ عَشِيرَتَكَ اَلْاَ قُرَبِينَ
“(হে রাসূল)! আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করুন।" (সূরাঃ আশ শুআরা-২১৪)
৩। সমাজের লোকদের নিকট
وَ لِتُنْذِرَ أَمَ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا
“(এ কুরআন আমি অবতীর্ণ করেছি) যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পার্শ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন।" (সূরাঃ আল আনআম ৯২)।
৪। বিশ্বের সকল মানুষের নিকট
﴿ وَلْتَكُمْ مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ ﴾
তোমাদের মাঝে এমন একটি দল থাকতে হবে যারা মানব জাতিকে কল্যাণের পথে আহবান জানাবে। (সূরা আল-ইমরান-১০৪)
﴿ كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ ﴾
"তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতি, মানব জাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। (সূরাঃ আল ইমরান-১১০)
📄 তাবলীগ একাকী হবে, না জামা'আতবদ্ধভাবে
দাওয়াত ও তাবলীগে দ্বীন কয়েক ভাবে হতে পারে-
ক) ব্যক্তিগত উদ্যোগ অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে মানুষের নিকট দাওয়াত পৌছে দেয়া ও দ্বীনের বিধি বিধান সমূহ অবহিত করা।
খ) জামা'আতবদ্ধভাবে জামা'আত তথা দলবদ্ধভাবে দ্বীন প্রচার। যেমন, তাবলীগী টীম গঠন করে প্রতিটি মহল্লায়, পাড়ায়, দোকানে, বিভিন্ন স্থানে দ্বীনের তাবলীগ করা।
গ) রাষ্ট্রীয়ভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে বা সরকারী উদ্যোগে তাবলীগী দল গঠন করে দেশের অভ্যন্তর সহ বিভিন্ন দেশে প্রেরণ ইত্যাদি।
এখানে লক্ষণীয় যে, তাবলীগের জন্য ঘর সংসার ত্যাগ করা অপরিহার্য নয়। সুতরাং প্রতিটি মুসলিম চাই সে চাকরীজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, দিনমজুর যে পর্যায়ের হোন না কেন তিনি স্বস্থানে থেকে সর্বাবস্থায় এ পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। আর এভাবে তাবলীগ করাটা সকলের জন্য সম্ভব এবং সহজতর।