📄 সালাম
তারপর রসূলুল্লাহ (সঃ) 'আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ' বলে সালাম ফিরাতেন। তখন তাঁর ডান গালের সাদা অংশ দেখা যেত। তারপর বামদিকে সালাম ফিরাতেন। তখনও গালের বাম অংশের শুভ্রতা দেখা যেত। ৪৫৯
তিনি কখনও কখনও প্রথম সালামে 'ওয়া বারাকাতুহু' যোগ করতেন। ৪৬০
তিনি কখনও কখনও ডানদিকে সালাম ফিরানোর সময় বামদিকের আসসালামু আলাইকুমের তুলনায় সংক্ষিপ্তভাবে আস্সালাमु আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলতেন, ৪৬১
কখনও তিনি মাত্র একটি সালাম বলতেন। তখন মুখ সোজা থাকত, তবে সামান্য ডানদিকে ঝুঁকে যেত। ৪৬২
সাহাবায়ে কেরাম ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরাবার সময় হাত দিয়ে ইশারা করতেন। রসূলুল্লাহ (সঃ) তা লক্ষ্য করে বলেন, তোমরা পলায়নকারী তেজী ঘোড়ার লেজের (নড়াচড়ার) মত হাত দিয়ে ইশারা কর কেন? তোমাদের কেউ সালাম ফিরালে সে যেন তার সাথীর দিকে তাকায় এবং হাত দিয়ে ইশারা না করে। তারপর তাঁরা যখন রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে নামায পড়েছেন, তখন আর ঐরূপ করেননি।
অন্য এক বর্ণনা এসেছে, তোমাদের যে কোন লোকের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে রানের উপর হাত রাখবে, তারপর ডান ও বাম দিকে নিজ ভাইয়ের সালাম দেবে। ৪৬৩
টিকাঃ
৪৫৯. আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী এটিকে সহীহ বলেছেন。
৪৬০. আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ- সনদ সহীহ। আবদুল হক তাঁর আহকাম গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন। অনুরূপভাবে, ইমাম নববী এবং হাফেয ইবনু হাজারও একে সহীহ বলেছেন। মোসান্নাফ- আবদুর রায্যাক, মোসনাদ আবূ ইয়ালী আল কবীর- তাবারানী, আল আওসাত দারু কুতনী。
৪৬১. নাসাঈ, আহমদ, আস- সেরাজ- সনদ সহীহ。
৪৬২. ইবনু খোযায়মাহ, বায়হাকী, আল মোখতারাহ- আযযিয়াহ্, আস সুনান-আবদুল গনী মাকদেসী- সনদ সহীহ। আহমদ, আল-আওসাত- তাবারানী, হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী ও ইবনুল মোলাক্কান তা সমর্থন করেছেন。
📄 সালাম ফিরানো ওয়াজিব
রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: 'পবিত্রতা হচ্ছে, নামাযের চাবি, তাকবীরের মাধ্যমে নামাযে অন্যান্য কাজ হারাম হয়ে যায় এবং সালামের মাধ্যমে নামায থেকে হালাল হয়ে বের হতে হয়। ৪৬৪
টিকাঃ
৪৬৩. মুসলিম, আবূ আওয়ানাহ, আস্-সিরাজ, ইবনু খোযায়মাহ, তাবারানী。
৪৬৪. আবু দাউদ, তিরমিযী। হাকেম এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
📄 নামাযে নারী-পুরুষের পদ্ধতিগত কোনো পার্থক্য নেই
উপরে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নামাযের পদ্ধতি নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান। হাদীসে পুরুষদের নামায থেকে মহিলাদের নামাযের কোন ব্যতিক্রম বর্ণনা করা হয়নি। বরং 'তোমরা আমাকে যে পদ্ধতিতে নামায পড়তে দেখ সে পদ্ধতিতে নামায পড়' রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর এই হাদীস নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান।
ইবরাহীম নাখঈ এই মত পোষণ করেন। তিনি বলেছেন: পুরুষরা নামাযে যা করে মহিলারাও তাই করবে। (ইবনে শায়বাহ-সনদ সহীহ)
বোখারী আত্তারীখ আস্-সাগীর গ্রন্থের ৯৫ পৃষ্ঠায় সহীহ সনদ সহকারে প্রখ্যাত মহিলা সাহাবী উন্মুদ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, 'তিনি নামাযে পুরুষের মত বসতেন এবং তিনি ছিলেন ফকীহ্।' অর্থাৎ ফিক সম্পর্কিত জ্ঞানের অধিকারিণী।
আবু দাউদ 'আল-মারাসীল' গ্রন্থে ইয়াযীদ বিন আবী হাবীব থেকে বর্ণনা করছেন, 'সাজদায় মহিলারা পাঁজরের সাথে হাত মিলিয়ে রাখবে এবং এ ক্ষেত্রে তারা পুরুষদের মত নয়' এটি মোরসাল হাদীস এবং তা সহীহ নয়। (তাই এর উপর আমল না করা ভাল)
ইমাম আহমদ মাসায়েল গ্রন্থের ৭১ পৃষ্ঠায় ইবনে উমার থেকে নিজ স্ত্রীদের এক পায়ের উপর অন্য পা আড়াআড়ি করে বসার আদেশসূচক যে বর্ণনা উল্লেখ করেছেন সেটির সনদ সহীহ নয়। কেননা, ঐ সনদের মধ্যে আবদুল্লাহ বিন উমরী নামক বর্ণনাকারী দুর্বল। তাই এর উপরও আমল করা ঠিক নয়।
📄 সমাপ্তি
তাকবীর তাহরীমা থেকে সালাম ফিরানো পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নামায পদ্ধতি সম্পর্কে আমার পক্ষে শেষ পর্যন্ত যা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে তা হচ্ছে এইটুকু।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন এই বইকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ইখলাস ও নিষ্ঠাপূর্ণ করেন এবং রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সুন্নাতের দিকে পথ প্রদর্শনকারী বানান।
মজলিশ শেষে হাদীসে বর্ণিত নিম্নোক্ত দোআ এবং পরে দূরূদ পড়ে শেষ করছি।:
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحْمَدِهِ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحْمَدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَاتُوبُ إِلَيْكَ .