📄 বিতরের নামাযে কুনূত
রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও কখনও বিতরের নামাযে দোআ কুনূত পড়তেন। ৪৩২
তিনি রুকুর আগে কুনূত পড়তেন। ৪৩৩
তিনি সর্বদা বিতরে কুনূত পড়েননি। (আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমদ, বায়হাকী শায়বা, তাবরানী-সনদ সহীহ)
বিতরের নামাযে কেরাআত শেষ হলে নিম্নোক্ত কুনূত (দোআ') পড়ার জন্য তিনি হাসান বিন আলী (রাঃ)-কে শিক্ষা দিয়েছেন:
اَللّٰهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّمَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ لَا مُنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ .
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি যাদেরকে হেদায়াত করেছ আমাকে হেদায়াত দিয়ে তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কর। আমাকে সুস্থতা ও শান্তি দিয়ে ঐ জাতীয় সুস্থতা ও শান্তিপ্রাপ্ত লোকদের মধ্যে গণ্য কর। তুমি যাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছ, আমাকে তাদের মধ্যে শুমার কর। তুমি যা দান করেছ তাতে আমাকে বরকত দাও। ভাগ্যের মন্দ লিখন থেকে আমাকে মুক্তি দাও। তুমিই ফয়সালাকারী, তোমার উপর কোন ফয়সালাকারী নেই। তুমি যাকে বন্ধু বানিয়েছ, সে কখনও লাঞ্ছিত হয় না এবং তুমি যার সাথে শত্রুতা কর সে সম্মান লাভ করতে পারে না। হে আমাদের রব! তুমি বরকতময় ও সুমহান, তুমি ছাড়া মুক্তির কোন স্থান নেই। ৪৩৪
টিকাঃ
৪৩২. ইবনু নসর, দার কুতনী- সনদ সহীহ。
আমরা বলেছি, রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও কখনও বিতরের নামাযে কুনুত পড়েছেন। যদি তিনি সর্বদা কুনুত পড়তেন, তাহলে সাহাবায়ে কেরাম তা দেখতেন এবং বর্ণনা করতেন। একমাত্র উবাই বিন কা'ব একা এক বর্ণনায় তা বলেছেন। সর্বদা করলে অন্যান্য সহাবায়ে কেরামও তা দেখে বর্ণনা করতেন। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তিনি কখনও কখনও তা করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, কুনুত ওয়াজিব নয়। অধিকাংশ ওলামার মত এটাই। তাই ইবনুল হাম্মাম তাঁর ফাতহুল কাদীরে লিখেছেন, যারা বলেন, এটা ওয়াজিব, তাদের একথা দুর্বল। তিনি নিজ মাযহাবের বিপরীত কথাকে নিরপেক্ষভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছেন。
৪৩৩. ইবনু আবী শায়বা, আবু দাউদ, নাসাঈ- সুনানে কোবরা, আহমদ, তাবারানী, বায়হাকী, ইবনু আসাকির- সনদ সহীহ。
৪৩৪. ইবনু খোযায়মাহ, ইবনু আবী শায়বা。
📄 শেষ তাশাহ্হুদ
তাশাহ্হুদ ওয়াজিব। রসূলুল্লাহ (সঃ) চার রাকআতের পর শেষ তাশাহহুদের জন্য বসতেন। তিনি এতে প্রথম তাশাহহুদের অনুরূপ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রথমটিতে যা করেছেন শেষটাতেও তা করেছেন। তবে পার্থক্য এতটুকু যে, তিনি শেষ বৈঠকে পাছার উপর বসেছেন। ৪৩৫
তিনি মাটির উপর বাম নিতম্ব বা পাছা বিছিয়ে দুই পা একদিকে বের করতেন। ৪৩৬
এবং বাম পা ডান রান ও পায়ের নলার নীচে রেখে৪৩৭
ডান পা দাঁড় করাতেন। ৪৩৮
কখনও ডান পা বিছিয়ে দিতেন। ৪৩৯
তিনি বাম হাতের তালু দিয়ে হাঁটু ধরতেন এবং এর মাধ্যমে শক্তি লাভ করতেন। ৪৪০
প্রথম তাশাহহুদের মত শেষ তাশাহুদেও দুরূদ পড়া সুন্নাত। দুরূদের ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসে বিস্তারিত বাক্য ও শব্দাবলীর আলোচনা করা হয়েছে।
টিকাঃ
৪৩৫. বোখারী। ফজরের নামাযের মত দুই রাকআত বিশিষ্ট নামাযে পা বিছিয়ে দিতেন। ইমাম আহমদের মত তাই。
৪৩৬. আবু দাউদ, বায়হাকী-সনদ সহীহ。
৪৩৭. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ。
৪৩৮. বোখারী। ফজরের মত দুই রাকআত বিশিষ্ট নামাযে পা বিছিয়ে দেয়া সুন্নত。
৪৩৯. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ。
৪৪০. ঐ。
📄 রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করা ওয়াজিব
রসূলুল্লাহ (সঃ) নামাযে এক ব্যক্তিকে আল্লাহর প্রশংসা এবং রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর দুরূদ না পড়ে দোআ করতে শুনে বলেন, তাড়াতাড়ি শেষ কর। তারপর তিনি তাকে ডাকেন এবং তাকে ও অন্যদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, তোমাদের কেউ নামায পড়লে সে যেন প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা (প্রশংসা) আদায় করে, নবীর উপর দুরূদ পড়ে এবং পরে যা ইচ্ছা চেয়ে যেন দোআ করে। ৪৪১
তিনি এক ব্যক্তিকে নামাযে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, প্রশংসা এবং নবীর উপর দূরূদ পড়তে শুনে বলেন, দোআ কর কবুল হবে এবং চাও দেয়া হবে। ৪৪২
টিকাঃ
৪৪১. আহমদ, আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন কেেছন। এ হাদীস প্রমাণ করে, দুরূদ পড়ার আদেশের কারণে এই তাশাহহুদে দুরূদ পড়া ওয়াজিব। ইমাম শাফেঈ ও আহমদের মতে দুরূদ ওয়াজিব। একদল সাহাবায়ে কেরামের মতেও তা ওয়াজিব। আল্লামা আজরী তাঁর শরীয়াহ গ্রন্থে লিখেছেন, যে শেষ তাশাহহুদের দুরূদ পড়েনি তার উপর নামায পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব。
৪৪২. নাসাঈ-সনদ সহীহ。
📄 দো‘আর আগে ৪টি বিষয় থেকে আশ্রয় চাওয়া ওয়াজিব
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন: তোমাদের কেউ যখন শেষ তাশাহহুদ থেকে অবসর হবে, তখন সে যেন ৪টি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ مَسِيحِ الدَّجَّالِ -
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব, কবরের আযাব, জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা এবং দাজ্জালের মন্দ ফেতনা থেকে। তারপর সে যেন নিজের জন্য যা ইচ্ছা দোয়া করে। ৪৪৩
রসূলুল্লাহ (সঃ) নিজেও এ তাশাহহুদের মধ্যে দোআ করতেন। ৪৪৪
তিনি সাহাবায়ে কেরামকে এই দোআটি এমনভাবে শিক্ষা দিয়েছেন যেমন করে তিনি তাদের কোরআন শিক্ষা দিতেন। ৪৪৫
টিকাঃ
৪৪৩. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ, নাসাঈ, মোস্তাকা-ইবনে জারূদ。
৪৪৪. আবু দাউদ, আহমদ। সনদ সহীহ。
৪৪৫. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ。