📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দো‘আ কুনূত বা কুনূতে নাজেলা

📄 পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দো‘আ কুনূত বা কুনূতে নাজেলা


রসূলুল্লাহ (সঃ) যখন করোর উপর বদ দোআ কিংবা কারোর জন্য দোআ করার ইচ্ছা করতেন, তখন শেষ রাকআতে রুকু থেকে মাথা উঠাবার এবং সামি-আল্লাহু লিমান হামিদাহ ও আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ বলার পর তা করতেন। ৪২৪
তিনি আওয়াজ করে দোআ করতেন, ৪২৫
দু'হাত তুলতেন ৪২৬
এবং পেছনের লোকেরা আমীন বলতেন। ৪২৭
তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযেই দোআ কুনূত পড়েছেন। ৪২৮
তিনি কারো জন্য নেক দোআ কিংবা বদ দোআ করার উদ্দেশ্যেই নামাযে দোআ কুনূত বা দোআ করেছেন। ৪২৯
তিনি কখনও কখনও বলেছেন:
اللَّهُمَّ انْجِ الْوَلِيدَ وَسَلَمَةَ بْنَ هَاشِمٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ اللهمَّ الْعِنْ لِحْيَانَ وَرَعْلاً وَذَكْوَانَ وَعَصِيَّةَ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ -
অর্থঃ হে আল্লাহ! ওয়ালিদ, সালামাহ বিন হাশেম এবং আইয়াশ বিন আবী রাবীআ'হকে রক্ষা কর। হে আল্লাহ! তুমি মোযার সম্প্রদায়কে শক্ত করে পাকড়াও কর এবং তাদের উপর ইউসুফ (আঃ)-এর কাওমের মত বছরের পর বছর দুর্ভিক্ষ দাও। হে আল্লাহ! লেহইয়ান, রা'ল, যাকওয়ান এবং আ'সিয়্যা সম্প্রদায়ের উপর অভিশাপ নাযিল কর। তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করেছে। ৪৩০
তিনি দোআ শেষ করে আল্লাহু আকবার বলে সাজদায় যেতেন। ৪৩১

টিকাঃ
৪২৪. বোখারী আবু দাউদ。
৪২৫. ঐ。
৪২৬. আহমদ, তাবারানী- সনদ সহীহ। এটা ইমাম আহমদ ও ইসহাকের মাযহাব। আল-মাসায়েল- আল-মুরুজী, পৃঃ ২৩। তবে দু'হাত দিয়ে মুখ মোছার সপক্ষে কোন বর্ণনা নেই। তাই এতে হাত দিয়ে মুখ মোছা বিদআত। নামাযের বাইরেও হাত দিয়ে মুখ মোছা ঠিক নয়। মুখ মোছার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলো দুর্বল এবং কিছু আছে অত্যধিক দুর্বল। আমি আবু দাউদের দুর্বল হাদীস (২৬২) এবং সহীহ হাদীসে (৫৯৭) তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। ইযয বিন আবদুস সালাম এক ফতোয়ায় বলেছেন, অজ্ঞ লোকেরা ব্যতীত তা কেউ করে না。
৪২৭. আবু দাউদ, আস-সেরাজ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
৪২৮. আবু দাউদ, আস-সেরাজ, দারু কুতনী-সনদ দু'টোই সহীহ。
৪২৯. ইবনু খোযায়মাহ, কিতাবুল কুনুত-আল খাতীব-সনদ সহীহ。
৪৩০. বোখারী, আহমদ, মুসলিম。
৪৩১. নাসাঈ, আহমদ, আস-সেরাজ, মোসনাদে আবু ইয়ালী-সনদ ভাল。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 বিতরের নামাযে কুনূত

📄 বিতরের নামাযে কুনূত


রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও কখনও বিতরের নামাযে দোআ কুনূত পড়তেন। ৪৩২
তিনি রুকুর আগে কুনূত পড়তেন। ৪৩৩
তিনি সর্বদা বিতরে কুনূত পড়েননি। (আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমদ, বায়হাকী শায়বা, তাবরানী-সনদ সহীহ)
বিতরের নামাযে কেরাআত শেষ হলে নিম্নোক্ত কুনূত (দোআ') পড়ার জন্য তিনি হাসান বিন আলী (রাঃ)-কে শিক্ষা দিয়েছেন:
اَللّٰهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّمَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ لَا مُنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ .
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি যাদেরকে হেদায়াত করেছ আমাকে হেদায়াত দিয়ে তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কর। আমাকে সুস্থতা ও শান্তি দিয়ে ঐ জাতীয় সুস্থতা ও শান্তিপ্রাপ্ত লোকদের মধ্যে গণ্য কর। তুমি যাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছ, আমাকে তাদের মধ্যে শুমার কর। তুমি যা দান করেছ তাতে আমাকে বরকত দাও। ভাগ্যের মন্দ লিখন থেকে আমাকে মুক্তি দাও। তুমিই ফয়সালাকারী, তোমার উপর কোন ফয়সালাকারী নেই। তুমি যাকে বন্ধু বানিয়েছ, সে কখনও লাঞ্ছিত হয় না এবং তুমি যার সাথে শত্রুতা কর সে সম্মান লাভ করতে পারে না। হে আমাদের রব! তুমি বরকতময় ও সুমহান, তুমি ছাড়া মুক্তির কোন স্থান নেই। ৪৩৪

টিকাঃ
৪৩২. ইবনু নসর, দার কুতনী- সনদ সহীহ。
আমরা বলেছি, রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও কখনও বিতরের নামাযে কুনুত পড়েছেন। যদি তিনি সর্বদা কুনুত পড়তেন, তাহলে সাহাবায়ে কেরাম তা দেখতেন এবং বর্ণনা করতেন। একমাত্র উবাই বিন কা'ব একা এক বর্ণনায় তা বলেছেন। সর্বদা করলে অন্যান্য সহাবায়ে কেরামও তা দেখে বর্ণনা করতেন। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তিনি কখনও কখনও তা করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, কুনুত ওয়াজিব নয়। অধিকাংশ ওলামার মত এটাই। তাই ইবনুল হাম্মাম তাঁর ফাতহুল কাদীরে লিখেছেন, যারা বলেন, এটা ওয়াজিব, তাদের একথা দুর্বল। তিনি নিজ মাযহাবের বিপরীত কথাকে নিরপেক্ষভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছেন。
৪৩৩. ইবনু আবী শায়বা, আবু দাউদ, নাসাঈ- সুনানে কোবরা, আহমদ, তাবারানী, বায়হাকী, ইবনু আসাকির- সনদ সহীহ。
৪৩৪. ইবনু খোযায়মাহ, ইবনু আবী শায়বা。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 শেষ তাশাহ্‌হুদ

📄 শেষ তাশাহ্‌হুদ


তাশাহ্হুদ ওয়াজিব। রসূলুল্লাহ (সঃ) চার রাকআতের পর শেষ তাশাহহুদের জন্য বসতেন। তিনি এতে প্রথম তাশাহহুদের অনুরূপ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রথমটিতে যা করেছেন শেষটাতেও তা করেছেন। তবে পার্থক্য এতটুকু যে, তিনি শেষ বৈঠকে পাছার উপর বসেছেন। ৪৩৫
তিনি মাটির উপর বাম নিতম্ব বা পাছা বিছিয়ে দুই পা একদিকে বের করতেন। ৪৩৬
এবং বাম পা ডান রান ও পায়ের নলার নীচে রেখে৪৩৭
ডান পা দাঁড় করাতেন। ৪৩৮
কখনও ডান পা বিছিয়ে দিতেন। ৪৩৯
তিনি বাম হাতের তালু দিয়ে হাঁটু ধরতেন এবং এর মাধ্যমে শক্তি লাভ করতেন। ৪৪০
প্রথম তাশাহহুদের মত শেষ তাশাহুদেও দুরূদ পড়া সুন্নাত। দুরূদের ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসে বিস্তারিত বাক্য ও শব্দাবলীর আলোচনা করা হয়েছে।

টিকাঃ
৪৩৫. বোখারী। ফজরের নামাযের মত দুই রাকআত বিশিষ্ট নামাযে পা বিছিয়ে দিতেন। ইমাম আহমদের মত তাই。
৪৩৬. আবু দাউদ, বায়হাকী-সনদ সহীহ。
৪৩৭. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ。
৪৩৮. বোখারী। ফজরের মত দুই রাকআত বিশিষ্ট নামাযে পা বিছিয়ে দেয়া সুন্নত。
৪৩৯. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ。
৪৪০. ঐ。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করা ওয়াজিব

📄 রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করা ওয়াজিব


রসূলুল্লাহ (সঃ) নামাযে এক ব্যক্তিকে আল্লাহর প্রশংসা এবং রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর দুরূদ না পড়ে দোআ করতে শুনে বলেন, তাড়াতাড়ি শেষ কর। তারপর তিনি তাকে ডাকেন এবং তাকে ও অন্যদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, তোমাদের কেউ নামায পড়লে সে যেন প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা (প্রশংসা) আদায় করে, নবীর উপর দুরূদ পড়ে এবং পরে যা ইচ্ছা চেয়ে যেন দোআ করে। ৪৪১
তিনি এক ব্যক্তিকে নামাযে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, প্রশংসা এবং নবীর উপর দূরূদ পড়তে শুনে বলেন, দোআ কর কবুল হবে এবং চাও দেয়া হবে। ৪৪২

টিকাঃ
৪৪১. আহমদ, আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন কেেছন। এ হাদীস প্রমাণ করে, দুরূদ পড়ার আদেশের কারণে এই তাশাহহুদে দুরূদ পড়া ওয়াজিব। ইমাম শাফেঈ ও আহমদের মতে দুরূদ ওয়াজিব। একদল সাহাবায়ে কেরামের মতেও তা ওয়াজিব। আল্লামা আজরী তাঁর শরীয়াহ গ্রন্থে লিখেছেন, যে শেষ তাশাহহুদের দুরূদ পড়েনি তার উপর নামায পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব。
৪৪২. নাসাঈ-সনদ সহীহ。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00