📄 পরবর্তী রাকাআতের উদ্দেশ্যে উঠার জন্য দুই হাতের উপর ভর দেয়া
রসূলুল্লাহ (সঃ) দ্বিতীয় রাকআতের উদ্দেশ্যে উঠার সময় মাটিতে ভর দিয়ে উঠতেন। ৩৭০
তিনি উপরে উঠার সময় দুই হাতের উপর ভর দিয়ে উঠতেন। ৩৭১
টিকাঃ
৩৭০. বোখারী, শাফেঈ。
৩৭১. আবু ইসহাক আল হারবী, - সনদ সহীহ। এক হাদীসে এসেছে যে, তিনি তীরের মত সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, দু'হাতের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন না। এটি জাল হাদীস。
📄 প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথম রাকআত শেষ হলে তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছেন, 'তুমি তোমার প্রত্যেক নামাযে এভাবে করবে। '৩৭৩
অন্য এক রেওয়ায়াতে এসেছে, 'প্রত্যেক রাকআতে'। ৩৭৪
তিনি বলেছেন, 'প্রত্যেক রাকআতে কেরাআত পড়তে হবে। '৩৭৫
টিকাঃ
৩৭২. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ। অর্থাৎ প্রথম রাকআতের মতো সোবহানাকা পড়ার জন্য চুপ থাকতেন না। বরং সূরা ফাতেহা পড়া শুরু করতেন। তবে আউযুবিল্লাহ পড়তেন না। প্রথম রাকআত ব্যতীত অন্যান্য রাকআতে আউযুবিল্লাহ পড়ার বিষয়ে ওলামাদের ২টি মত আছে। আমার মতে, তা প্রত্যেক রাকআতে পড়া বৈধ。
৩৭৩. বোখারী, মুসলিম。
৩৭৪. আহমদ- সনদ ভাল。
৩৭৫. ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান, আহমদ। জাবের বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাযের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা না পড়ে তার নামায হয়নি, তবে ইমামের পেছনে নামায পড়া এর ব্যতিক্রম (মোআত্তা মালেক)。
📄 প্রথম তাশাহ্হুদ
দ্বিতীয় রাকআত শেষে নবী (সঃ) তাশাহ্হুদ পড়ার জন্য বসতেন। তিনি ফজরের মত দুই রাকআত বিশিষ্ট নামাযের শেষ বৈঠক৩৭৬ কিংবা তিন ও চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে পা বিছিয়ে বসতেন৩৭৭ যেমন করে দুই সাজদার মাঝে বসতেন। তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ আদেশ দিয়ে বলছিলেন, তুমি যখন নামাযের মাঝামাঝি বসবে, তখন প্রশান্তি সহকারে বসবে এবং বাম উরু বিছিয়ে দেবে ও পরে তাশাহ্হুদ পড়বে। ৩৭৮
আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে কুকুরের মত বসতে নিষেধ করেছেন। ৩৭৯
অন্য এক হাদীসে এসেছে, তিনি শয়তানের মত পায়ের গোড়ালির উপর বসতে নিষেধ করেছেন। ৩৮০
তিনি তাশাহহুদের জন্য বসলে উরুর উপর ডান হাতের তালু রাখতেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ডান হাঁটুর উপর রাখতেন এবং বাম হাতের তালু নিজ উরুর উপর রাখতেন। অন্য আরেক বর্ণনায় এসেছে, বাম হাঁটুর উপর রাখতেন। ৩৮১
নবী (সঃ) ডান কনুইর নীচ অংশ ডান উরুর উপর রাখতেন। ৩৮২
এক ব্যক্তি বাম হাতের উপর ভর করে নামাযে বসা ছিল। রসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে অনুরূপ করতে নিষেধ করে বলেছেন, এটা ইহুদীদের নামায (পদ্ধতি)। ৩৮৩
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, 'এরকম বস না, এটা হচ্ছে শাস্তিযোগ্য লোকদের নামায। ৩৮৪
অন্য আরেক হাদীসে এসেছে, এটা অভিশপ্তদের নামায। ৩৮৫
টিকাঃ
৩৭৬. নাসাঈ- সনদ সহীহ。
৩৭৭. বোখারী, আবু দাউদ。
৩৭৮. আবু দাউদ, বায়হাকী- সনদ ভাল。
৩৭৯. আহমদ, ইবনু আবী শায়বাহ, আত-তায়ালিসী। আবু ওবায়দাহসহ অন্যরা বলেছেন, কুকুরের মত বসার অর্থ হল, মাটিতে দুই পাছা বিছিয়ে হাঁটু দাঁড় করিয়ে দুই হাত মাটিতে রাখা। দুই সাজদার মাঝে উল্লিখিত বসা বর্তমান বসা থেকে ভিন্ন。
৩৮০, ৩৮১. মুসলিম, আবু আওয়ানা, ইত্যাদি。
৩৮২. আবু দাউদ, নাসাঈ সনদ সহীহ। এ কথার অর্থ হল, তিনি নিজ কনুই দুই পাঁজর থেকে দূরে রাখতেন না。
৩৮৩. বায়হাকী, হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী একে সমর্থন করেছেন。
৩৮৪. আহমদ, আবু দাউদ- সনদ ভাল。
৩৮৫. আবদুর রাযযাক। আবদুল হক একে সহীহ বলেছেন。
📄 তাশাহ্হুদের মধ্যে আঙ্গুল নাড়ানো
রসূলুল্লাহ (সঃ) বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে দিতেন, ডান হাতের সকল আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে রেখে কেবল তর্জনী বা শাহাদত অঙ্গুলির দ্বারা কেবলার দিকে ইঙ্গিত দিতেন এবং এর দিকে চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকতেন। ৩৮৬
তিনি যখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন, তখন বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার উপর রাখতেন৩৮৭ এবং কখনও তাকে গোলাকার কুন্ডলীর মত করতেন। ৩৮৮
তিনি যখন আঙ্গুল (তর্জনী) উঠাতেন, তখন তা নাড়তে থাকতেন ও দোআ করতেন। ৩৮৯
তিনি আরও বলেন, এই আঙ্গুল অর্থাৎ তর্জনী শয়তানের জন্য লোহার চেয়েও কঠিন। ৩৯০
রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাহাবীগণ দোআয় ইশারা করার সময় এক আঙ্গুল দিয়ে অন্য আঙ্গুল ধরতেন। ৩৯১
রসূলুল্লাহ (সঃ) দুই তাশাহ্হুদেই অনুরূপ করতেন। ৩৯২
রসূলুল্লাহ (সঃ) এক ব্যক্তিকে দুই আঙ্গুল দিয়ে দোআ করতে দেখে নিজ তর্জনী দিয়ে ইশারা করে বলেন, এভাবে এক প্রকাশ কর, এক প্রকাশ কর। ৩৯৩
টিকাঃ
৩৮৬. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ, ইবনু খোযায়মাহ্。
৩৮৭. মুসলিম, আওয়ানah。
৩৮৮. আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু খোযায়মাহ, ইবনু হিব্বان。
৩৮৯. ইমাম তাহাবী বলেন, 'দোআ করেন' এ কথা দ্বারা বুঝা যায় যে, এটা তিনি নামাযের শেষে করতেন। কিন্তু আমি বলবো, আঙ্গুল নাড়া ও ইশারা অব্যাহত রাখা সুন্নত। কেননা, দোআ হচ্ছে, এর আগে। এটা ইমাম মালেকসহ অন্যদের মত। ইমাম আহমদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নামাযী কি আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করবে? তিনি বলেন, অবশ্যই। (মাসায়েল আনিল ইমাম আহমদ- ইবনু হানী)
আমি বলি, এর দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তাশাহহুদে আঙ্গুল নাড়ানো, রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছ থেকে প্রমাণিত সুন্নত। ইমাম আহমদসহ হাদীসের অন্যান্য ইমামরা তা আমল করেছেন। যারা এটাকে বেহুদা কাজ মনে করে, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে। তারা বেহুদা মনে করে আঙ্গুল নাড়ে না। অথচ তারা জানে না যে, এটা প্রমাণিত এবং তারা এর বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দেয়, যা আরবী ভাষার নিয়ম বিরোধী এবং ইমামদের বুঝ-জ্ঞানের পরিপন্থী। যারা এই জিনিসকে ঠাট্টা করে, তারা মূলত সুন্নতকেই ঠাট্টা করে এবং যা শেষ পর্যায়ে রসূলুল্লাহকে ঠাট্টা করার নামান্তর। কেননা, তিনিই তো এই সুন্নতটি চালু করেছেন। তিনি আঙ্গুল নাড়াতেন না মর্মে বর্ণিত, হাদীসের সনদ ভিত্তিহীন。
৩৯০. আহমদ, বায্যার, বায়হাকী。
৩৯১. ইবনু আবী শায়বা- সনদ উত্তম。
৩৯২. নাসাঈ, বায়হাকী- সনদ সহীহ。
৩৯৩. ইবনু আবী শায়বা, নাসাঈ, হাকেম。