📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 বিশ্রামের বৈঠক

📄 বিশ্রামের বৈঠক


তিনি দ্বিতীয় সাজদাহ থেকে সোজা হয়ে বাম পায়ের উপর বসতেন এবং প্রত্যেক হাড় তার স্ব স্ব স্থানে বহাল হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নিতেন। ৩৬৯

টিকাঃ
৩৬৩. আবু দাউদ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
৩৬৪. আবু আওয়ানাহ, আবু দাউদ, সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ, মালেক এবং শাফেঈ (রঃ)-ও একই মত পোষণ করেন。
৩৬৫. মুসলিম, বোখারী。
৩৬৬. আবু দাউদ, হাকেম。
৩৬৭. আহমদ, তিরমিযী- সনদ সহীহ。
৩৬৮. আবু আওয়ানা, আবু দাউদ, - সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ, শাফেঈ ও মালেক এই মতের সমর্থক。
৩৬৯. বোখারী, আবু দাউদ। ইমাম শাফেঈ ও আহমদ এই সুন্নতের উপর আমল করেছেন। এটাই সঠিক, সুন্নত পালনের আগ্রহ থাকা দরকার। নবী (সঃ) বৃদ্ধ ও যৌবনকালে হাতের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 পরবর্তী রাকাআতের উদ্দেশ্যে উঠার জন্য দুই হাতের উপর ভর দেয়া

📄 পরবর্তী রাকাআতের উদ্দেশ্যে উঠার জন্য দুই হাতের উপর ভর দেয়া


রসূলুল্লাহ (সঃ) দ্বিতীয় রাকআতের উদ্দেশ্যে উঠার সময় মাটিতে ভর দিয়ে উঠতেন। ৩৭০
তিনি উপরে উঠার সময় দুই হাতের উপর ভর দিয়ে উঠতেন। ৩৭১

টিকাঃ
৩৭০. বোখারী, শাফেঈ。
৩৭১. আবু ইসহাক আল হারবী, - সনদ সহীহ। এক হাদীসে এসেছে যে, তিনি তীরের মত সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, দু'হাতের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন না। এটি জাল হাদীস。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব

📄 প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব


তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথম রাকআত শেষ হলে তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছেন, 'তুমি তোমার প্রত্যেক নামাযে এভাবে করবে। '৩৭৩
অন্য এক রেওয়ায়াতে এসেছে, 'প্রত্যেক রাকআতে'। ৩৭৪
তিনি বলেছেন, 'প্রত্যেক রাকআতে কেরাআত পড়তে হবে। '৩৭৫

টিকাঃ
৩৭২. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ। অর্থাৎ প্রথম রাকআতের মতো সোবহানাকা পড়ার জন্য চুপ থাকতেন না। বরং সূরা ফাতেহা পড়া শুরু করতেন। তবে আউযুবিল্লাহ পড়তেন না। প্রথম রাকআত ব্যতীত অন্যান্য রাকআতে আউযুবিল্লাহ পড়ার বিষয়ে ওলামাদের ২টি মত আছে। আমার মতে, তা প্রত্যেক রাকআতে পড়া বৈধ。
৩৭৩. বোখারী, মুসলিম。
৩৭৪. আহমদ- সনদ ভাল。
৩৭৫. ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান, আহমদ। জাবের বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাযের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা না পড়ে তার নামায হয়নি, তবে ইমামের পেছনে নামায পড়া এর ব্যতিক্রম (মোআত্তা মালেক)。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 প্রথম তাশাহ্‌হুদ

📄 প্রথম তাশাহ্‌হুদ


দ্বিতীয় রাকআত শেষে নবী (সঃ) তাশাহ্হুদ পড়ার জন্য বসতেন। তিনি ফজরের মত দুই রাকআত বিশিষ্ট নামাযের শেষ বৈঠক৩৭৬ কিংবা তিন ও চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে পা বিছিয়ে বসতেন৩৭৭ যেমন করে দুই সাজদার মাঝে বসতেন। তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ আদেশ দিয়ে বলছিলেন, তুমি যখন নামাযের মাঝামাঝি বসবে, তখন প্রশান্তি সহকারে বসবে এবং বাম উরু বিছিয়ে দেবে ও পরে তাশাহ্হুদ পড়বে। ৩৭৮
আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে কুকুরের মত বসতে নিষেধ করেছেন। ৩৭৯
অন্য এক হাদীসে এসেছে, তিনি শয়তানের মত পায়ের গোড়ালির উপর বসতে নিষেধ করেছেন। ৩৮০
তিনি তাশাহহুদের জন্য বসলে উরুর উপর ডান হাতের তালু রাখতেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ডান হাঁটুর উপর রাখতেন এবং বাম হাতের তালু নিজ উরুর উপর রাখতেন। অন্য আরেক বর্ণনায় এসেছে, বাম হাঁটুর উপর রাখতেন। ৩৮১
নবী (সঃ) ডান কনুইর নীচ অংশ ডান উরুর উপর রাখতেন। ৩৮২
এক ব্যক্তি বাম হাতের উপর ভর করে নামাযে বসা ছিল। রসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে অনুরূপ করতে নিষেধ করে বলেছেন, এটা ইহুদীদের নামায (পদ্ধতি)। ৩৮৩
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, 'এরকম বস না, এটা হচ্ছে শাস্তিযোগ্য লোকদের নামায। ৩৮৪
অন্য আরেক হাদীসে এসেছে, এটা অভিশপ্তদের নামায। ৩৮৫

টিকাঃ
৩৭৬. নাসাঈ- সনদ সহীহ。
৩৭৭. বোখারী, আবু দাউদ。
৩৭৮. আবু দাউদ, বায়হাকী- সনদ ভাল。
৩৭৯. আহমদ, ইবনু আবী শায়বাহ, আত-তায়ালিসী। আবু ওবায়দাহসহ অন্যরা বলেছেন, কুকুরের মত বসার অর্থ হল, মাটিতে দুই পাছা বিছিয়ে হাঁটু দাঁড় করিয়ে দুই হাত মাটিতে রাখা। দুই সাজদার মাঝে উল্লিখিত বসা বর্তমান বসা থেকে ভিন্ন。
৩৮০, ৩৮১. মুসলিম, আবু আওয়ানা, ইত্যাদি。
৩৮২. আবু দাউদ, নাসাঈ সনদ সহীহ। এ কথার অর্থ হল, তিনি নিজ কনুই দুই পাঁজর থেকে দূরে রাখতেন না。
৩৮৩. বায়হাকী, হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী একে সমর্থন করেছেন。
৩৮৪. আহমদ, আবু দাউদ- সনদ ভাল。
৩৮৫. আবদুর রাযযাক। আবদুল হক একে সহীহ বলেছেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00