📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 দুই সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দো‘আ ও যিকর

📄 দুই সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দো‘আ ও যিকর


তিনি এই বৈঠকে বলতেন:
اَللّٰهُمَّ رَبِّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاجْبُرْنِيْ وَارْفَعْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ -
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, দয়া কর, আমার অবস্থা পরিশুদ্ধ করে দাও, আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও, আমাকে হেদায়াত দাও, সুস্থতা দাও, রিযক দাও।
তিনি কখনও বলতেন:
رَبِّ اغْفِرْ لِي اغْفِرْ لِي
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, আমাকে মাফ কর।
তিনি রাতের নামাযেও এই দুই দোআ পড়েছেন। ৩৬১
তারপর তিনি তাকবীর বলে দ্বিতীয় সাজদায় যেতেন। ৩৬২
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ করার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তুমি আল্লাহু আকবার বলবে এবং সাজদায় যাবে যেন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়াগুলো প্রশান্ত হয়। সকল নামাযে এভাবেই করবে। ৩৬৩
তিনি কখনও কখনও তাকবীরের সাথে হাত তুলতেন। ৩৬৪
তিনি প্রথম সাজদায় যা করতেন দ্বিতীয় সাজদায়ও অনুরূপ করতেন। তারপর তাকবীর বলে মাথা তুলতেন। ৩৬৫
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে আদেশ দিয়ে বলেছেন, তারপর মাথা তুলবে ও তাকবীর বলবে ৩৬৬
এবং প্রত্যেক রাকআত ও সাজদায় এরূপ করবে। এভাবে করলে তোমার নামায পরিপূর্ণ হবে। যদি তা থেকে কিছু কম হয়, তাহলে তোমার নামায অপূর্ণ হবে। ৩৬৭
তিনি কখনও সাজদাহ থেকে উঠার সময় দু'হাত তুলতেন। ৩৬৮

টিকাঃ
৩৫৯. আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হাকেম。
৩৬০. ইবনু মাজাহ- সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ এই দোআটি মনোনীত করেছেন। ইসহাক বিন রাহওয়ায়হ বলেছেন, এটা তিনবার বলা যায় কিংবা 'আল্লাহুম্মাগফিরলি'ও বলা যায়। রসূলুল্লাহ (সঃ) উভয়টাই দুই সাজদার মাঝে পড়েছেন。
৩৬১. নফল নামাযের দোআ ফরয নামাযে পড়া যায়। ইমাম শাফেঈ, আহমদ ও ইসহাকের মত এটাই। তিরমিযীও তাই বর্ণনা করেছেন। ইমাম তাহাবীও তাই বলেছেন。
৩৬২. বোখারী, মুসলিম。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 বিশ্রামের বৈঠক

📄 বিশ্রামের বৈঠক


তিনি দ্বিতীয় সাজদাহ থেকে সোজা হয়ে বাম পায়ের উপর বসতেন এবং প্রত্যেক হাড় তার স্ব স্ব স্থানে বহাল হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নিতেন। ৩৬৯

টিকাঃ
৩৬৩. আবু দাউদ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
৩৬৪. আবু আওয়ানাহ, আবু দাউদ, সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ, মালেক এবং শাফেঈ (রঃ)-ও একই মত পোষণ করেন。
৩৬৫. মুসলিম, বোখারী。
৩৬৬. আবু দাউদ, হাকেম。
৩৬৭. আহমদ, তিরমিযী- সনদ সহীহ。
৩৬৮. আবু আওয়ানা, আবু দাউদ, - সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ, শাফেঈ ও মালেক এই মতের সমর্থক。
৩৬৯. বোখারী, আবু দাউদ। ইমাম শাফেঈ ও আহমদ এই সুন্নতের উপর আমল করেছেন। এটাই সঠিক, সুন্নত পালনের আগ্রহ থাকা দরকার। নবী (সঃ) বৃদ্ধ ও যৌবনকালে হাতের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 পরবর্তী রাকাআতের উদ্দেশ্যে উঠার জন্য দুই হাতের উপর ভর দেয়া

📄 পরবর্তী রাকাআতের উদ্দেশ্যে উঠার জন্য দুই হাতের উপর ভর দেয়া


রসূলুল্লাহ (সঃ) দ্বিতীয় রাকআতের উদ্দেশ্যে উঠার সময় মাটিতে ভর দিয়ে উঠতেন। ৩৭০
তিনি উপরে উঠার সময় দুই হাতের উপর ভর দিয়ে উঠতেন। ৩৭১

টিকাঃ
৩৭০. বোখারী, শাফেঈ。
৩৭১. আবু ইসহাক আল হারবী, - সনদ সহীহ। এক হাদীসে এসেছে যে, তিনি তীরের মত সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, দু'হাতের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন না। এটি জাল হাদীস。

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব

📄 প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব


তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথম রাকআত শেষ হলে তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছেন, 'তুমি তোমার প্রত্যেক নামাযে এভাবে করবে। '৩৭৩
অন্য এক রেওয়ায়াতে এসেছে, 'প্রত্যেক রাকআতে'। ৩৭৪
তিনি বলেছেন, 'প্রত্যেক রাকআতে কেরাআত পড়তে হবে। '৩৭৫

টিকাঃ
৩৭২. মুসলিম, আবু আওয়ানাহ। অর্থাৎ প্রথম রাকআতের মতো সোবহানাকা পড়ার জন্য চুপ থাকতেন না। বরং সূরা ফাতেহা পড়া শুরু করতেন। তবে আউযুবিল্লাহ পড়তেন না। প্রথম রাকআত ব্যতীত অন্যান্য রাকআতে আউযুবিল্লাহ পড়ার বিষয়ে ওলামাদের ২টি মত আছে। আমার মতে, তা প্রত্যেক রাকআতে পড়া বৈধ。
৩৭৩. বোখারী, মুসলিম。
৩৭৪. আহমদ- সনদ ভাল。
৩৭৫. ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান, আহমদ। জাবের বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাযের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা না পড়ে তার নামায হয়নি, তবে ইমামের পেছনে নামায পড়া এর ব্যতিক্রম (মোআত্তা মালেক)。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00