📄 সাজদাহ থেকে উঠা
তিনি তাকবীর বলে সাজদাহ থেকে মাথা তুলতেন৩৪৭ এবং এভাবে করার জন্য ভুল নামায আদায়কারীকে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: কোন মানুষের নামায পরিপূর্ণ হয় না যে পর্যন্ত না সে সাজদাহ করে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়াগুলো প্রশান্ত হয়, তারপর আল্লাহু আকবার বলে মাথা তোলে এবং সোজা হয়ে বসে। ৩৪৮
তিনি কোন কোন সময় এই তাকবীরের সাথে দু'হাত উপরে তুলতেন। ৩৪৯
ইমাম আহমদ এ তাকবীরসহ সকল তাকবীরে হাত তোলার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। ইবনুল কাইয়েম আল বাদায়ে গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডের ৮৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ইবনু আসরাম বর্ণনা করেছেন, একবার তাকে দু'হাত তোলার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। তিনি উত্তরে বলেন, প্রত্যেক বার উঠা-নামার সময় দু'হাত তুলতে হবে। ইবনু আসরাম বলেন, আমি নামাযে আবু আবদুল্লাহকে প্রত্যেক উঠা-নামায় দু' হাত তুলতে দেখেছি। ইবনুল মোনযের এবং শাফেঈ' মাযহাবের আবু আলীসহ ইমাম মালেক ও শাফেঈর (রঃ)-ও একই মত। (তারহুত্ তাসরীব)। আনাস, ইবনে উমার, নাফে, তাউস, হাসান বসরী, ইবনে সিরীন এবং আইউব সাখতিয়ানীও হাত তোলার পক্ষে ছিলেন। সহীহ সনদ সহকারে মোসান্নাফে ইবনে আবী শায়বায় তা বর্ণিত আছে।
তারপর তিনি বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর প্রশান্তির সাথে বসতেন। ৩৫০
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ আদেশ দিয়ে বলেছেন, তুমি যখন সাজদায় যাবে, মযবুতভাবে সাজদাহ করবে এবং যখন সাজদাহ থেকে উঠবে, তখন বাম রানের উপর বসবে। ৩৫১
তিনি ডান পা দাঁড় করিয়ে৩৫২ আঙ্গুলকে কেবলামুখী রাখতেন। ৩৫৩
টিকাঃ
৩৪৭. বোখারী, মুসলিম。
৩৪৮. আবু দাউদ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
৩৪৯. আহমদ, আবু দাউদ- সনদ সহীহ。
📄 দুই সাজদার মাঝে দুই পায়ের গোড়ালি দাঁড় করানো
রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও দু' সাজদার মাঝে দু' পায়ের গোড়ালি ও দু' পায়ের আঙ্গুল দাঁড় করিয়ে বসতেন। ৩৫৪
টিকাঃ
৩৫০. বোখারী, রাফউল ইয়াদাইন অধ্যায়, আবু দাউদ- সনদ সহীহ, মুসলিম, আওয়ানাহ。
৩৫১. আহমদ, আবু দাউদ- সনদ ভাল。
৩৫২. বোখারী, বায়হাকী。
৩৫৩. নাসাঈ- সনদ সহীহ。
৩৫৪. মুসলিম, আবু আওয়ানা, আবুশ শেখ, বায়হাকী। ইবনুল কাইয়েম দুই সাজদার মাঝে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পা বিছানোর বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, তিনি এই একটি মাত্র বৈঠক ছাড়া আর কোথাও পায়ের গোড়ালি দাঁড় করিয়ে বসার বর্ণনা দেখতে পাননি। এটা ইবনুল কাইয়েমের ভুল। কেননা, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী সহ অন্যারা ইবনে আব্বাস থেকে পায়ের গোড়ালির উপর বসার বর্ণনা দিয়েছেন। বায়হাকী ইবনে উমার থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার তাকে সমর্থন করেছেন। তাউস বলেছেন, তিনি ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমারকে অনুরূপ বসতে দেখেছেন। একদল সাহাবী ও তাবেঈ পায়ের গোড়ালির উপর বসেছেন。
📄 দুই সাজদার মধ্যবর্তী সময় প্রশান্তি ওয়াজিব
রসূলুল্লাহ (সঃ) দু' সাজদার মধ্যবর্তী সময় এমনভাবে সোজা হয়ে প্রশান্তভাবে বসতেন যে, সকল হাড় নিজ নিজ স্থানে বহাল হত। ৩৫৫
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ করার আদেশ দিয়ে বলেছেন, তোমাদের কেউ অনুরূপ না করলে তার নামায পরিপূর্ণ হবে না। ৩৫৬
তিনি দুই সাজদার মাঝখানে প্রায় সাজদার সমপরিমাণ সময় বসতেন। ৩৫৭
কখনও কখনও তিনি এত দীর্ঘ সময় বসে থাকতেন যে, কেউ কেউ বলত, তিনি ভুলে গেছেন। ৩৫৮
টিকাঃ
৩৫৫. আবু দাউদ, বায়হাকী সনদ সহীহ。
৩৫৬. আবু দাউদ, হাকেম。
৩৫৭. বোখারী, মুসলিম。
৩৫৮. ঐ。
📄 দুই সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দো‘আ ও যিকর
তিনি এই বৈঠকে বলতেন:
اَللّٰهُمَّ رَبِّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاجْبُرْنِيْ وَارْفَعْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ -
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, দয়া কর, আমার অবস্থা পরিশুদ্ধ করে দাও, আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও, আমাকে হেদায়াত দাও, সুস্থতা দাও, রিযক দাও।
তিনি কখনও বলতেন:
رَبِّ اغْفِرْ لِي اغْفِرْ لِي
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, আমাকে মাফ কর।
তিনি রাতের নামাযেও এই দুই দোআ পড়েছেন। ৩৬১
তারপর তিনি তাকবীর বলে দ্বিতীয় সাজদায় যেতেন। ৩৬২
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ করার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তুমি আল্লাহু আকবার বলবে এবং সাজদায় যাবে যেন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়াগুলো প্রশান্ত হয়। সকল নামাযে এভাবেই করবে। ৩৬৩
তিনি কখনও কখনও তাকবীরের সাথে হাত তুলতেন। ৩৬৪
তিনি প্রথম সাজদায় যা করতেন দ্বিতীয় সাজদায়ও অনুরূপ করতেন। তারপর তাকবীর বলে মাথা তুলতেন। ৩৬৫
তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে আদেশ দিয়ে বলেছেন, তারপর মাথা তুলবে ও তাকবীর বলবে ৩৬৬
এবং প্রত্যেক রাকআত ও সাজদায় এরূপ করবে। এভাবে করলে তোমার নামায পরিপূর্ণ হবে। যদি তা থেকে কিছু কম হয়, তাহলে তোমার নামায অপূর্ণ হবে। ৩৬৭
তিনি কখনও সাজদাহ থেকে উঠার সময় দু'হাত তুলতেন। ৩৬৮
টিকাঃ
৩৫৯. আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হাকেম。
৩৬০. ইবনু মাজাহ- সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ এই দোআটি মনোনীত করেছেন। ইসহাক বিন রাহওয়ায়হ বলেছেন, এটা তিনবার বলা যায় কিংবা 'আল্লাহুম্মাগফিরলি'ও বলা যায়। রসূলুল্লাহ (সঃ) উভয়টাই দুই সাজদার মাঝে পড়েছেন。
৩৬১. নফল নামাযের দোআ ফরয নামাযে পড়া যায়। ইমাম শাফেঈ, আহমদ ও ইসহাকের মত এটাই। তিরমিযীও তাই বর্ণনা করেছেন। ইমাম তাহাবীও তাই বলেছেন。
৩৬২. বোখারী, মুসলিম。